এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 07 ডিসেম্বর 2015 15:22

‘মামসিয় ন্যাড়া’ (১)

‘মামসিয় ন্যাড়া’ (১)

বহুকাল আগে মামসিয় নামে এক ন্যাড়া ছিল। এই পৃথিবীর বুকে তার সহায় সম্পদ বলতে কিছুই ছিল না শুধুমাত্র তার বৃদ্ধা মা ছাড়া। সেই মাকে মামসিয় একদিন জিজ্ঞেস করলো: আচ্ছা মা! বাবাকে আল্লাহ বেহেশত নসিব করুন! উনি আমার জন্য কি কোনো মিরাসই রেখে যান নি মানে জায়গা-জমি, টাকা-পয়সা, মাল-সামানা ইত্যাদি?

বৃদ্ধা বললেন: ‘কেন, রেখে গেছেন তো! ওই যে দেয়ালে ঝুলছে একটা বন্দুক! ওটা তোমার বাবার ছিল’। মামসিয় দেয়াল থেকে বন্দুকটা পেড়ে তার কাঁধে নিলো এবং রাতের আঁধারে বাইরে বের হলো শিকার করতে।

 

সামান্য পথ যেতেই তার নজরে পড়লো অদ্ভুত একটা প্রাণী। ওই প্রাণীটার এক পাশে আলো জ্বলে অন্যপাশে মিউজিক বাজে। মামসিয় ওই প্রাণীকে লক্ষ্য করে গুলি করলো। একটু পরে সামনে এগিয়ে দেখলো প্রাণীটা মারা যায় নি তবে আহত হয়েছে। মনে মনে বললো: এই প্রাণীটাই আমাদের জন্য অনেক কিছু। ওকে বাসায় নিয়ে যাবো। তার শরীরের আলো ব্যবহার করবো আর মিউজিক উপভোগ করবো। এই বলে সে প্রাণীটাকে কাঁধে নিয়ে রওনা হলো বাড়ির দিকে। বাসায় পৌঁছে ঘরের দরোজায় ঠক ঠক শব্দ তুলতেই মা উঠে এসে জিজ্ঞেস করলো: এতো রাতে কে এল আবার। মামসিয় বললো: আমি তোমার ছেলে মা!

 

মা বললেন: এতো তাড়াতাড়ি ফিরে এলি যে! খাবারের ব্যবস্থা করে না এলে কিন্তু দরোজা খুলবো না আমি। মামসিয় বললো: খালি হাতে আসি নি মা! এমন এক প্রাণী শিকার করেছি পৃথিবীর কোনো বাদশাও এরকম প্রাণী শিকার করতে পারে নি কোনোদিন। দরোজা খোলো মা! তেলের কুপি বাতি আর জ্বালাতে হবে না তোমার। ব্যবস্থা হয়ে গেছে।

 

বৃদ্ধা ঘরের দরোজা খুলে দিলো। দেখলো তার ছেলে একটা প্রাণী শিকার করে এনেছে যার একপাশে আলো জ্বলে অপর পাশে মিউজিকের শব্দ হচ্ছে। মামসিয় জন্তুটাকে ঘরের ভেতর নিয়ে রাখলো রুমের উপরের কার্নিশে দেয়ালের সঙ্গে ঠেকিয়ে। এরপর মামসিয় পায়ের ওপর পা রেখে সকল দুশ্চিন্তা আর টেনশনমুক্ত হয়ে পার্থিব জগতের হিসাব-কিতাব মুহূর্তের জন্য ভুলে গিয়ে একটু প্রশান্তির হাই তোলার চেষ্টা করলো। এমন সময় ঘরের দরোজায় ঠক ঠক শব্দ করলো কেউ।

 

এক বৃদ্ধ মহিলা! মামসিয়র ঘরে ওই প্রাণীটাকে দেখতে পেল এবং দ্রুত গিয়ে বাদশাকে জানিয়ে দিলো এবং বললো: হে বাদশাহ! এই প্রাণী তো আপনার কাছেই শোভা পায় ওই ন্যাড়া মামসিয়র ঘরে নয়। তাহলে কেন বসে আছেন এখনও। বাদশাহ তাড়াতাড়ি করে পেয়াদা পাঠিয়ে দিলো মামসিয়র বাড়িতে এবং তাকে নিয়ে আসা হল বাদশাহর কাছে। বাদশাহ তাকে জিজ্ঞেস করলো: তুমি প্রথমবারের মতো শিকারে গিয়েই অদ্ভুত একটা প্রাণী নিয়ে এসেছো শুনলাম। ওই প্রাণীটা নাকি এমন যে কেবল বাদশাহর জন্যই সেটা মানায়, ঠিক আছে?

 

মামসিয় তার দু’চোখে হাত রেখে বললো: জি বাদশাহ সালামাত! আপনি যথার্থ খবরই শুনেছেন।

 

বাদশাহ বললো: তাড়াতাড়ি যাও! ওই প্রাণীটা নিয়ে আসো! ওটা তোমার মতো মানুষের জন্য নয়।

 

বাদশাহর আদেশ শুনে মামসিয় তার দুই হাত দু’চোখের ওপর রেখে বললো: জি বাদশাহ নামদার! আপনি যথার্থই বলেছেন! আমি এক্ষুণি যাচ্ছি আমার শিকার করা প্রাণীটা নিয়ে আসছি আপনার জন্য। মামসিয় প্রাসাদের বাইরে গিয়ে দ্রুত ফিরে গেল ঘরে এবং তার শিকার করা প্রাণীটা নিয়ে এলো বাদশার দরবারে। বাদশাহ মনে মনে ভাবছিল মামসিয়কে কী পুরস্কার দেওয়া যায়। ভেবে কোনো সিদ্ধান্তেই পৌঁছতে পারলো না বাদশা না। অবশেষে তার চোখ পড়লো মন্ত্রীর ওপর। সঙ্গে সঙ্গে চীৎকার করে বাদশাহ বলে উঠলো: হ্যাঁ! পেয়ে গেছি! ‘মন্ত্রী’! মন্ত্রী বললো: বাদশাহ সালামত! কী পেয়েছেন?

 

বাদশাহ বললো: মন্ত্রিত্ব! তোমার মন্ত্রিত্বটা তাড়াতাড়ি মামসিয়কে দিয়ে দাও! এই ছাড়া মামসিয়র জন্য আর কোনো পুরস্কার আমি খুঁজে পেলাম না। মন্ত্রী বললো: ঠিক আছে! তবে আজ রাতে না। কাল তাকে মন্ত্রিত্ব বুঝিয়ে দেবো।

 

মন্ত্রী এইটুকু সময় নেওয়ার একটা কারণ ছিল। কারণটা হলো এই মন্ত্রীর একটা যাদুর টুপি ছিল। টুপির নাম ছিল বাবা টুপি।মন্ত্রী যখনই কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তো এই টুপির সঙ্গে পরামর্শ করতো এবং সমাধান হয়ে যেত। মন্ত্রী দ্রুত ওই টুপির সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য বেরিয়ে গেল। বাবা টুপিকে জিজ্ঞেস করলো: তুমি তো দেখছো আমি কী সমস্যায় পড়েছি। জানি না কোত্থেকে হুট করে এই মামসিয়র উদয় হলো। এখন সে আমার মন্ত্রিত্ব খেয়ে ফেলতে চাচ্ছে। তুমি বলো তো কী করে আমি আমার মন্ত্রিত্ব এই ন্যাড়াকে দেই, যে ন্যাড়া মন্ত্রিত্ব সম্পর্কে কোনো ধারনাই রাখে না!

 

যাদুর টুপি বলে উঠলো: হে মন্ত্রীবর! চিন্তা করো না! এই সমস্যার সমাধান তো পানির মতো সহজ। কাল বাদশার দরবারে যাও! বাদশাহকে বলো: আপনি যদি এই মামসিয় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে তাকে আপনার জন্য চল্লিশ মাদি ঘোড়ার দুধ নিয়ে আসতে বলো। আর তুমি তো জানোই! চল্লিশ মাদি ঘোড়ার দুধ আনতে গেলে কেউ আর ফিরে আসে না। পরদিনই ভোরে ভোরে মন্ত্রী গিয়ে হাজির হলো বাদশার কাছে। বাদশাহ তাকে দেখে বললো: এতো ভোরে কেন এসেছো! মন্ত্রী বললো: বাদশাহ সালামাত! আমি রাতের বেলা একটা স্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নে দেখলাম আপনি মামসিয়কে পরীক্ষা করার জন্য চল্লিশ মাদি ঘোড়ার দুধ আনতে পাঠিয়েছেন। ন্যাড়া মামসিয়ও গেছে আপনার জন্য দুধের সন্ধানে। আপনি এখন এক কাজ করুন! ওকে দুধ আনতে পাঠিয়ে দেন। এই ফাঁকে আমরা স্বপ্নের তাবির নিয়ে ভাবি।#

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন