এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 13 ডিসেম্বর 2015 16:08

‘মামসিয় ন্যাড়া’ (২)

 ‘মামসিয় ন্যাড়া’ (২)

বাদশাহ উজিরের কথা শুনে হাসতে হাসতে বললো: ভালোই স্বপ্ন দেখেছো মন্ত্রী। তুমি তো নিজেই জানো চল্লিশ মাদি ঘোড়ার দুধ আনতে পাঠিয়ে আমাদের অর্ধেক সৈন্যকেই হারিয়েছি। আমাদের কোনো লাভ হয় নি। আর তুমি এখন বলছো একটা ন্যাড়াকে পাঠাবো, তাও একা! কী করবে ও!

মন্ত্রী বললো: যে প্রথম শিকারে গিয়েই এমন অদ্ভুত জানোয়ার শিকার করতে পারে যার একপাশে আলো জ্বলে অপর পাশে বাজে মিউজিক, তার জন্য এ কাজ মোটেই কঠিন নয়।

বাদশাহ ভাবলো উজির তো একেবারে অসংলগ্ন বলছে না। তিনি আদেশ দিলেন যেন ন্যাড়াকে নিয়ে আসা হয়। তাই করা হলো। মামসিয়কে নিয়ে আসার পর সে বাদশাকে বললো: বাদশাহ সালামত! আমি তো নিজেই আসতাম আপনার খেদমতে। আমাকে পুরষ্কৃত করার জন্য এতো তাড়াহুড়ার দরকার তো ছিল না।

 

বাদশাহ বললো: তোমার পুরষ্কার তো রয়েছে ঠিকই। তবে পুরষ্কার গ্রহণ করার আগে আমার জন্য তুমি চল্লিশ মাদি ঘোড়ার দুধ নিয়ে আসো!

মামসিয় মনে মনে বললো চল্লিশ মাদি ঘোড়া মানে কী? আমাকে কেন এ কাজে পাঠানো হচ্ছে? কিন্তু মুখে কিছু বললো না। উল্টো বরং বাদশাকে বললো: ‘ঠিক আছে। এক্ষুণি যাচ্ছি’।

তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে গেল এবং মাকে বললো: মা! ওঠো! একটা রুটি আমার রুমালে দিয়ে দাও। এক্ষুণি বেরুতে হবে।

বৃদ্ধ মা বললো: বাবা! ওরা তোমাকে মেরে ফেলতে চায়। বহু পালোয়ান এ পর্যন্ত এ কাজে গিয়ে মারা গেছে। তারপরও তুই কী করে চল্লিশ মাদি ঘোড়ার দুধ আনতে সাহস করছিস?

মামসিয় বললো: উপায় তো নেই মা! এ পথে যদি আমার প্রাণও যায় কিচ্ছু করার নেই, যেতেই হবে,বাদশাহর আদেশ।

 

মা বললো: তুই বাদশাকে গিয়ে বল তোকে যেন চল্লিশ মশক শরাব, চল্লিশ বোঝা চুনাপাথর আর চল্লিশ বস্তা তুলা দেয়।

মামসিয় ফিরে যায় বাদশার দরবারে। মায়ের কথা অনুযায়ী ওইসব বুঝে নিয়ে ফিরে যায় মায়ের কাছে। মা তাকে বলে: বাবা! শরাব,চুনা আর তুলা নিয়ে চলে যাও সমুদ্রের কাছে। সেখানে উপকূলে একটা বড় হাউজ বানাবে এই চুনা আর তুলা দিয়ে। ওই হাউজে শরাব ঢালবে। তারপর ওর আশেপাশে একটা গর্ত খুঁড়ে লুকিয়ে থাকবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখবে আকাশ কালো করে মেঘ ধরেছে এবং বিজলি চমকাচ্ছে। সমুদ্রের পানি উথলে উঠছে এবং পাহাড়ের মতো এক রূপকথার মাদি ঘোড়া উঠে আসছে সমুদ্রের বুক চিরে। তার পেছনে পেছনে আরও উনচল্লিশটি ঘোড়ার বাছুর উঠে আসছে। তারা সমুদ্র থেকে উঠে এসে সবুজ ঘাসের চারণভূমিতে চরে বেড়াবে।

 

বিশাল ঘোড়া আর তার বাচুরগুলো কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়বে এবং পানির সন্ধানে ফিরে আসবে হাউজের দিকে। তুমি সাবধানে থাকবে। কিছুতেই যেন তোমাকে দেখতে না পায়। চল্লিশ ঘোড়া শরাবের হাউজের পাশে আসবে এবং পানির গন্ধ শুঁকবে তারপর ফিরে যাবে। আবারও তৃষ্ণা পাবে এবং হাউজের শরাবের গন্ধ শুঁকে ফিরে যাবে চারণভূমিতে। তৃতীয়বারের মতো তারা ভীষণ তৃষ্ণার্ত হয়ে ফিরে আসবে এবং সবাই পেটপুরে ওই শরাব খাবে। এ সময় তুমি খুব ক্ষিপ্র গতিতে লাফ দিয়ে ওই বড় মাদি ঘোড়াটার পিঠে চেপে বসবে। এরপর হাতে শক্ত মুষ্টি করে জোরে ঘুষি মারবে ঘোড়ার কপালে। ঘোড়া কিন্তু বাতাসের গতিতে ছুটবে এবং তার সাথে বাচ্চাগুলোও’।

 

মামসিয় মায়ের কথামতো সবকিছু করলো। সমুদ্রের তীরে হাউজ বানিয়ে শরাব দিয়ে পূর্ণ করলো। এরপর সত্যি সত্যি মেঘ করলো আকাশে। সমুদ্র উথলে উঠলো এবং পাহাড়ের মতো বিশাল মাদি ঘোড়া উঠে এলো সমুদ্রের ভেতর থেকে। চারণভূমিতে চরে বেড়িয়ে দুই দুইবার পানির সন্ধানে হাউজে এসে শুঁকে চলে গেল এবং তৃতীয়বারে পেট পুরে শরাব খেল। মামসিয় এবার মায়ের কথামতো জোরে হ্রেষাধ্বনি তুলে বাতাসের গতিতে চড়ে বসলো ঘোড়ার পিঠে। ঘোড়া ছুটলো বাতাসের বেগে। সেইসঙ্গে তার বাছুরগুলোও। কিছুক্ষণের মধ্যে তারা পৌঁছে গেল শহরে। সেখান থেকে সোজা চলে গেল তাদের বাড়িতে। ঘোড়ার দুধ দুইয়ে নিয়ে পাঠিয়ে দিলো বাদশাহর জন্য।

 

এদিকে মামসিয়র মা যখন দেখলো চল্লিশ ঘোড়া নিয়েই তার ছেলে এসে হাজির, তাড়াতাড়ি বাদশার দরবারে গিয়ে খবরটা দিলো। বললো: মামসিয় শুধু চল্লিশ ঘোড়ার দুধই আনে নি বরং ওই ঘোড়াগুলোকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছে তার ভাঙাচোরা ময়লা বাড়িতে। বাদশাহ সঙ্গে সঙ্গে আদেশ দিলো মামসিয়কে নিয়ে আসার জন্য। মামসিয় এলে তাকে জিজ্ঞেস করলো: তুমি নাকি চল্লিশ মাদি ঘোড়াকেও নিয়ে এসেছো!

 

মামসিয় বললো: বাদশাহ এবারও যথার্থ খবরও পেয়েছো।

বাদশাহ বললো: সেগুলোকে নিয়ে আসো আমাদের এখানে।

মামসিয় ঘোড়াগুলোকে নিয়ে এলো এবং বাদশার আস্তাবলে রেখে দিলো। বাদশাহ এবার উজিরকে বললো: এবার তো তোমার পদটা মামসিয়কে দিতেই হয়।

উজির বললো: জি হুজুর! তবে আজ না, কাল।

 

উজির ধৈর্য ধরলো এবং রাতের বেলা বাবা টুপিকে বললো: তুমি তো জানো আমি আমার মন্ত্রীত্ব ছাড়তে পারবো না। তাও আবার এমন একজনের হাতে যার এই পৃথিবী সম্পর্কে মানুষ সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। খোদা জানে এই আপদ কোত্থেকে উদিত হয়েছে আমার মন্ত্রীত্ব খাওয়ার জন্য। এখন বলো কী করবো আমি। মেরে ফেলো আমাকে।

বাবাটুপি উজিরের অবস্থা দেখে বললো: অ্যাতো উতলা হচ্ছো কেন। এর সমাধান তো পানির চেয়েও সহজ। শোনো! কাল ভোরে ভোরে বাদশার দরবারে গিয়ে বলবে মামসিয়কে যেন বলে ওই ড্রাগনটাকে মেরে ফেলতে যে বাদশার অর্ধেকের মতো সিপাহিকে মেরে ফেলেছে। বলো একাজের জন্য একমাত্র মামসিয়র মতোই পালোয়ানই উপযুক্ত।

বাবাকোলার কথা শুনে উজিরের মুখে হাসি ফুটলো। #

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন