এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 21 ডিসেম্বর 2015 16:56

‘মামসিয় ন্যাড়া’ (৩)

 ‘মামসিয় ন্যাড়া’ (৩)

ভোরে ভোরে মন্ত্রী বাদশার দরবারে গিয়ে হাজির। বাদশাকে বললো: আমি রাতে স্বপ্নে দেখলাম আপনি মামসিয়কে পাঠিয়েছেন ড্রাগনকে হত্যা করতে। মামসিয় গিয়ে সত্যি সত্যি ড্রাগনকে মেরে ফিরে আসে। আপনি ওকে পাঠিয়ে দেখুন....

বাদশাহ এ কথা শুনে হেসে দিয়ে বললো: তুমি জানো,কী বলছো তুমি?

আমার সেনাবাহিনীর অর্ধেকেরও বেশি সদস্য মারা গেছে এই ড্রাগনকে মারতে গিয়ে। অথচ ড্রাগনের একটা পশমও কেউ ছিঁড়তে পারে নি। আর তুমি বলছো ওই মামসিয়কে একা পাঠাবো ড্রাগনকে মারতে। হা..হা..হা....

 

মন্ত্রী বললো: বাদশাহ সালামত! যে মামসিয় প্রথম শিকারেই আজব জন্তু নিয়ে এসেছে এবং চল্লিশ ঘোড়ার দুধ আনতে পেরেছে তার জন্য এ কাজ মোটেই কঠিন নয়।

 

বাদশাহ এবার ভাবলো মন্ত্রী তো একেবারে অযৌক্তিক বলছে না। তাই মামসিয়কে ডেকে পাঠালো এবং বললো: হে মামসিয়! তোমাকে আমার মন্ত্রী বানাবো এক শর্তে,যদি তুমি ওই ড্রাগনের অত্যাচার থেকে আমাদের বাঁচাতে পারো! মৃত কিংবা জীবিত ড্রাগনকে যদি নিয়ে আসতে পারো।

 

মামসিয় মনে মনে বললো: ‘আমার মৃত্যু হওয়ার আগ পর্যন্ত এরা ছাড়বে না’। এরপর চলে গেল মায়ের কাছে এবং সব কিছু খুলে বললো। মা বললো: এই ড্রাগনকে মারতে গিয়ে কতো শতো সেনা মারা গেল। ওই মন্ত্রী আসলে চাচ্ছে তোমাকে মেরে ফেলতে।

 

মামসিয় বললো: কিন্তু মা করার তো কিছু নেই,মরে গেলেও যেতেই হবে। তুমি বরং আমাকে দিক-নির্দেশনা দাও কীভাবে কী করবো!

বৃদ্ধা মা বললো: যাবিই যদি তাহলে শোন। ড্রাগনটা দৈর্ঘ্যে প্রস্থে বিশাল। পর্বতের পাদদেশে একটা গর্তে সে ঘুমিয়ে থাকে। রাস্তার মাথায় গিয়ে দেখবে উঁচু একটা পাহাড়। ওই পাহাড়ের উপরে যাবে। উপরে গেলে দেখবে কোনো কিছুই শান্ত নেই। সবকিছুই অস্থির। গাছপালা পশুপাখি জীবজন্তু সবাই সচল অবস্থায় আছে।

 

এ সময় যদি পর্বতের পাদদেশে পা রাখো তবে তুমি ধীরে ধীরে ঢুকে যাবে ড্রাগনের পেটে আর কোনোদিন সেখান থেকে বের হতে পারবে না। তাই তুমি সেখানেই মানে পাহাড়ের চূড়াতেই অবস্থান করবে। যতক্ষণ না ড্রাগন ঘুমিয়ে পড়ছে এবং সবকিছু স্থির শান্ত হচ্ছে ততক্ষণ তুমি অপেক্ষা করো। যখন দেখবে পাখি ঠিকমতো উড়ছে, পাথর তার জায়গায় স্থির তখন তুমি যাত্রা শুরু করবে এবং দ্রুত যাবে ওই উপত্যকায়। উপত্যকায় গেলে দেখবে ড্রাগন ঘুমোচ্ছে এবং গোংরানির শব্দ ভেসে বেড়াচ্ছে বাতাসে। ওই সময় তাকে মারতে পারবে। আবারও বলছি ড্রাগন যতক্ষণ জাগ্রত থাকবে ততক্ষণ ওই উপত্যকায় পা রাখা মানেই নিশ্চিত মৃত্যু। আর চারদিকে অস্থিরতা মানে হলো ড্রাগন জেগে আছে। সুনসান প্রশান্তি আর স্থিরতা মানে হলো ড্রাগন ঘুমাচ্ছে।

 

মায়ের দিক-নির্দেশনা পেয়ে মামসিয় রুমালে রুটি নিয়ে উঠে দাঁড়ালো এবং যাত্রাপথে পা রাখলো। ঝড়ের গতিতে সে গিয়ে পৌঁছে গেল উঁচু ওই পাহাড়ের কাছে। খানিক দাঁড়িয়ে উঠে যায় পাহাড়ের চূড়ায়। সেখানে পৌঁছে দেখলো মা যেমনটি বলেছিল ঠিক তেমনি। অস্থির অবস্থা চারদিকে। এমন অস্থিরতা যে দাঁড়িয়ে থাকাটাই ভীষণ কষ্টের। এ অবস্থা দেখে সে বুঝলো ড্রাগন এখন জেগে আছে। অনেক কষ্টে একটা জায়গায় সে কোনোরকমে আশ্রয় নিলো এবং অপেক্ষা করতে লাগলো। আস্তে আস্তে যখন সবকিছু শান্ত হয়ে এলো মামসিয় বুঝলো যে ড্রাগন এবার ঘুমিয়েছে।

 

মায়ের নির্দেশ মতো মামসিয় এবার নেমে এলো পর্বতচূড়া থেকে। পর্বতের পাদদেশে যখন পৌঁছলো তার চোখ পড়লো ড্রাগনের ওপর। ড্রাগস দেখে তো থ হয়ে গেল সে। মামসিয়র মুখে কথা ফুটছিলো না। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল সে। ড্রাগনটা কাত হয়ে শুয়ে ছিল। উপত্যকার দৈর্ঘ্য প্রস্থ পূর্ণ করে শুয়ে আছে সে। নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে। তার নাক ডাকার শব্দ ভেসে বেড়াচ্ছে বাতাসে।#

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন