এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শনিবার, 02 জানুয়ারী 2016 12:38

‘মামসিয় ন্যাড়া’ (৪)

 ‘মামসিয় ন্যাড়া’ (৪)

 

 

 

ড্রাগন যখন ঘুমচ্ছিল মামসিয় পা টিপে টিপে গেল ওই উপত্যকায় এবং একেবারে ড্রাগনের খুব কাছে চলে গেল সে। তীর বের করে সোজা ড্রাগনের কপাল টার্গেট করলো এবং মেরেই বসলো তীর। ড্রাগন এঁকেবেঁকে উঠলো এবং একসময় বিকট শব্দ করে উঠলো।

এমন জোরে শব্দ করলো যে পুরো উপত্যকাই একেবারে থরথর করে কেঁপে উঠলো। একসময় নিথর হয়ে গেল ড্রাগন। এরপর মামসিয় যে কীভাবে এতো বিশাল মৃত ড্রাগনকে শহরে নিয়ে এলো কেউ তা জানে না। মামসিয় ড্রাগনকে বাদশার প্রাসাদের সামনে নিয়ে ফেললো এবং বললো: “হে বাদশাহ! এই নাও তোমার ড্রাগন। তোমার শত্রুর পরিণতি যেন এরকমই হয়”। বাদশা ড্রাগনের দিকে তাকিয়ে তারপর তার মন্ত্রীর দিকে তাকালো এবং বললো: হে উজির! এবার তো আর কোনো বাহানার সুযোগ নেই তোমার। এবার কিছুতেই মামসিয় ন্যাড়াকে খালি হাতে ফেরাতে পারবো না। তাড়াতাড়ি তোমার মন্ত্রিত্ব ন্যাড়াকে সোপর্দ করে দাও।

 

উজির দেখলো এবারও তার ফাঁদ কোনো কাজে আসে নি। মারাত্মক উৎকণ্ঠায় পড়ে গেল সে। অবশেষে বাদশার উদ্দেশ্যে বললো: বাদশাহ সালামাত! কাল আসুক মামসিয়, কোনোরকম ঝুটঝামেলা হবে না। সুন্দরভাবে তাকে তার মন্ত্রিত্ব বুঝিয়ে দেবো।

 

কিন্তু রাত হতে না হতেই মন্ত্রী আবারও গেল সেই যাদুর বাবাটুপির কাছে। বাবাটুপিকে সামনে ফেলে বললো: হে মহান বাবাটুপি! তোমার জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গ করলাম। এই ন্যাড়া মামসিয় আবারও আমাকে ঝামেলায় ফেলে দিয়েছে। সবার কাছে আমার মাথা হেঁট করে দিয়েছে। কোনোভাবেই তো তাকে আটকানো গেল না। এবার কিন্তু কোনোভাবেই আমার মন্ত্রিত্ব তাকে হস্তান্তর না করে উপায় নেই। কিন্তু কোথায় ন্যাড়া আর কোথায় বাদশার মন্ত্রিত্ব। এখন বলো কী করবো।

কিন্তু বাবাটুপি কী বললো সে কথা শুনবো খানিক বিরতির পর। আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

 

মিউজিক শুনলেন আশা করি ভালো লেগেছে। বাবাটুপি আবার কোন ঝামেলায় ফেলে মামসিয়কে সে নিয়ে নিশ্চয়ই উদ্বেগের মধ্যে আছেন আপনারা। কিন্তু না এবারের বিপদটা আগের মতো নয়। মধুর বিপদ,মানে প্রেমের বিপদ। বাবাটুপি মন্ত্রীকে পরামর্শ দিলো সে যেন বাদশাকে গিয়ে বলে মামসিয়কে পাশের দেশে পাঠাতে এবং রাজকন্যাকে তার জন্য নিয়ে আসতে। বাবাটুপি জানতো এ কাজ সবাইকে দিয়ে হবে না। ন্যাড়া কেন এরকম হাজারো ন্যাড়াও যদি যায় একজনও জীবিত ফিরবে না।

 

উজির বেশ খুশি হয়ে গেল। বাবাটুপিকে চুমু খেয়ে প্রশান্তির একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। ভোরে ভোরে মোরগের ডাকের আগেই সে চলে গেল বাদশার দরবারে। বাদশাহকে বললো: বাদশাহ সালামত! গতরাতে একটা স্বপ্ন দেখলাম।

বাদশাহ বললো: আবার কী স্বপ্ন দেখেছো তুমি।

উজির বললো: “দেখলাম মামসিয় ন্যাড়া পাশের দেশে গেছে এবং সেদেশের রাজকন্যাকে তোমার জন্য নিয়ে এসেছে। আমার স্বপ্ন যেন সত্যি হয়,আপনি মামসিয়কে তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দেন। এই সুযোগ আর নাও আসতে পারে”।

 

বাদশা উজিরের কথা শুনে হাসলো এবং বললো: হে উজির! এটা কোনো কথা হলো। তোমার বুদ্ধি শুদ্ধি কি লোপ পেল নাকি। তুমি জানো না আমাদের শক্তিশালী সেনারা পর্যন্ত হার মেনেছে একাজে? এখন তুমি বলছো মামসিয় ন্যাড়াকে একা পাঠাবো প্রতিবেশী দেশের বাদশার সঙ্গে যুদ্ধ করতে!

 

উজির বললো: বাদশা! আপনি মামসিয়কে তুচ্ছ মনে করছেন। যে কিনা প্রথম শিকারেই অদ্ভুত প্রাণী শিকার করেছে, যে কিনা চল্লিশ ঘোড়ার দুধের জায়গায় আস্ত ঘোড়াগুলোকেই নিয়ে এসেছে, যে কিনা বিশাল ড্রাগনকে মেরে আপনার সামনে হাজির করেছে,তাকে হালকা চোখে দেখছেন আপনি!

বাদশা বললো: তুমি কি সত্যি সত্যি বলছো?

 

উজির বললো: আমি এর আগে কোনো কাজেই এতো সিরিয়াস ছিলাম না।

যাই হোক, মামসিয় ন্যাড়া ঘুমচ্ছিল। কেউ দরোজার কড়া নাড়লো। তার মা বললো: বাবা! ওঠো! দেখো এবার আবার কোন ঝামেলার কাজে তোমাকে জড়াতে যাচ্ছে।

 

মামসিয় বললো: “বোঝাই যাচ্ছে বাদশা আবারও আমাকে ডেকে পাঠিয়েছে”। এই বলে সে তার জামা পরলো এবং পা বাড়ালো প্রাসাদের উদ্দেশ্যে এবং ফিরেও এলো কিছুক্ষণ পর। এসেই মাকে বললো: খাবার দাবার কিছু ব্যবস্থা কর, এক্ষুণি রওনা দিতে হবে। এবার যেতে হবে পাশের দেশে। রাজকন্যাকে নিয়ে আসতে হবে বাদশার জন্য।

 

মামসিয়র মা বললো: বাবা! একাজে যেও না। উজির চাচ্ছে তোমাকে মেরে ফেলতে। কত বীর পালোয়ান রাজকন্যাকে আনতে গিয়ে মারা গেছে। কেউই রাজকন্যাকে আনতে পারে নি। তুমি একা কী করে একাজ করবে।

মামসিয় বললো: কিচ্ছু করার নেই মা! হয় যেতে হবে, না হয় মরতে হবে।#

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন