এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 18 জানুয়ারী 2016 17:18

‘মামসিয় ন্যাড়া’ (৬)

 ‘মামসিয় ন্যাড়া’ (৬)

 

 

 

উজির ফন্দি আঁটলো শহরের সবাইকে দাওয়াত করবে। খাবারের চল্লিশতম ডেকচিতে বিষ মিশিয়ে রাখবে। ওই পাঁচজনকেও দাওয়াত করা হবে এবং তাদেরকে বিষযুক্ত খাবার দিয়ে মেরে ফেলা হবে। মামসিয় তার সঙ্গীদের নিয়ে বসে বসে গল্প করছিল। লম্বা কানের অধিকারী হঠাৎ হেসে দিলো।

আরেকজন বললো: পাগল নাকি! নিজে নিজে হাসছো যে!

লম্বাকর্ণধারী বললো: না। বাদশা আর উজির আমাদের মারবার ষড়যন্ত্র করছে,তাই হাসলাম।

মামসিয় বললো: কীরকম ষড়যন্ত্র?

লম্বাকর্ণধারী বললো: ওরা চায় বিষাক্ত খাবার দিয়ে আমাদের মেরে ফেলতে।

দারিঅ খোশ্ক্‌কুন বললো: তাদেরকে তাদের মতো ভাবতে দাও।

 

পরদিন ঠিকমতোই শহরের লোকজন এলো। বাদশার প্রাসাদে ভিড় জমে গেল। ছোটোবড়ো সব শ্রেণীর মানুষের সমাবেশ। মামসিয়ও তার সঙ্গীদের নিয়ে এসে এক কোণে বসে পড়লো। কিছুক্ষণ পর মামসিয় বাদশাহকে বললো: আমার কুক’কে একটু তোমার রান্নাঘরে যেতে দেবে?

বাদশাহ বললো: কোনো অসুবিধা নেই।

 

মামসিয় তার দারিয় খোশ্‌ককুনকে বললো: যাও! খাবার দাবারের খোজ খবর নিয়ে আসো! দেখো খাবার তৈরি আছে কিনা!

দারিয় খোশ্‌ককুন রান্নাঘরে গিয়ে দেখলো বাদশার বাবুর্চি চল্লিশ পাতিল রান্না তৈরি করে রেখেছে। এখন শুধু পরিবেশন করার অপেক্ষা।

দারিয় খোশ্‌ককুন বললো: হে বাবুর্চি! আমি মামসিয়র বাবুর্চি। কী রান্না করেছো দেখতে পারি!

 

এই বলেই কোনোরকম অনুমতির তোয়াক্কা না করে দারিয় খোশ্‌ককুন প্রথম পাতিলের কাছে গেল। বিশাল পাতিল তুলার মতো তুলে ধরে বাদশার বাবুর্চিকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে চোখের পলকে সব খেয়ে ফেললো। এরপর গেল দ্বিতীয় পাতিলের কাছে। সেই পাতিলও খেলো। তারপর তৃতীয় পাতিল চতুর্থ পাতিল খেতে খেতে পুরো চল্লিশ পাতিলই শূন্য করে ফেললো। বাদশার বাবুর্চি টেরই পেল না। পাবে কী করে। এতো দ্রুত এতো বড় পাতিলের সব খাবার একটানে খেয়ে ফেলা কি বিশ্বাসযোগ্য!

বাদশার বাবুর্চি বললো: পুরো চল্লিশ পাতিলই প্রস্তুত আছে। সমস্যা নেই।

 

দারিয় খোশ্‌ককুন বললো: অনেক কষ্ট করেছো। খুব সুস্বাদু হবে বলে মনে হচ্ছে,ঘ্রাণই বলে দিচ্ছে।

এই বলে দারিয় খোশ্‌ককুন ফিরে এসে বসলো আগের জায়গায়।

বাদশাহ এবার আদেশ দিলো মেহমানদের খাবার দিতে। তারপর কী হলো তা শুনবো খানিক বিরতির পর।

 

বাদশাহর আদেশের কথা বলছিলাম। আদেশ শুনে বাবুর্চি তাড়াতাড়ি গেল রান্নাঘরে। প্রথম পাতিলের ঢাকনা খুলে দেখলো কিচ্ছু নেই,পুরো খালি। দ্বিতীয় পাতিলও তাই, তৃতীয় পাতিলও শূন্য। এভাবে একে একে সব পাতিলের ঢাকনা খুলে বাবুর্চি তো হতবাক। সব পাতিল খালি। কী করবে সে! কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল বাবুর্চি। কিন্তু বাদশাহকে জানাতেই হবে। কীভাবে জানাবে এখন,কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না বাবুর্চি। অগত্যা জানাতেই হলো। বাদশা বুঝতে পারলো এটা নিশ্চয়ই মামসিয়র কাজ। রাগে কাঁপতে শুরু করলো বাদশা। পরক্ষণেই ভাবলো এতে তো কোনো ফায়দা হবে না। মাথা ঠাণ্ডা করে মেহমানদের জানাতে বললো: খাবারের অনুষ্ঠান কাল হবে,আজ নয়।

প্রচণ্ড রাগ মাথায় রেখে উজিরকে বললো: এখন কী করবো?

 

উজির বললো: ধাতব গোসলখানা গরম করতে বলুন। মামসিয় আর তার সাঙ্গপাঙ্গদের সেখানে আমন্ত্রণ জানান। ওরা ভেতরে ঢুকলেই দরোজা বন্ধ করে দিয়ে উপর থেকে হাউজের পুরো পানি ঢেলে দিয়ে মেরে ফেলবো।

 

বাদশা বললো: আইডিয়াটা মন্দ না।বিশাল কর্ণধারী শুনতে পেলো সব। সে হেসে দিলো।

মামসিয় জিজ্ঞেস করলো: কী হলো! হাসছো কেন?

 

কর্ণধারী মামসিয়কে বাদশা-উজিরের সব ষড়যন্ত্রের কথা খুলে বললো। যাঁতামানব আর দারিয় খোশ্‌ককুন বললো: ঠিক আছে,তাদেরকে তাদের মতো যা খুশি করতে দাও।

প্ল্যান মোতাবেক পরদিন বাদশার লোকজন মামসিয়দেরকে আমন্ত্রণ জানালো। হাম্মামের ভেতর ঢুকতেই বাদশার লোকজন দরোজা বন্ধ করে দিলো আর উপর থেকে হাউজের পানির মুখ খুলে দিলো। দারিয় খোশ্‌ককুন ভেতরে ঢুকেই ওই পানির মুখে মুখ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। হাউজের সব পানি সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেতে লাগলো,এক ফোঁটাও নীচে পড়তে দিলো না।

 

দারিয় খোশ্‌ককুন এক পর্যায়ে যাঁতামানবকে বললো: দেখছো না টায়ার্ড হয়ে গেছি। যাঁতামানব এ কথা শুনে তার কাঁধের যাঁতাগুলো পাখার মতো ঘুরাতে লাগলো। এমন জোরে ঘুরালো যে হাম্মামের স্টিলের দেয়াল ভেঙেচুরে খানখান হয়ে গেল। এদিকে দারিয় খোশ্‌ককুন বাইরে গিয়ে মুখ থেকে পানি উগরে দিলো। তার মুখের পানিতে অর্ধেক শহরে বন্যা দেখা দিলো। বন্যার খবর দ্রুত পৌঁছে গেল বাদশার কানে। জনগণ বাদশার উপর ক্ষেপে গেল। সবাই বলাবলি করতে শুরু করলো বাদশার মেয়ের জন্য আমরা কেন এতো কষ্ট সহ্য করবো! তোমার মেয়েকে দিয়ে দাও। আমরা একটু শান্তিতে থাকি। বাদশা এসব শুনে শেষ পর্যন্ত মামসিয়র হাতে তার কন্যাকে সোপর্দ করে দিলো। মামসিয়কে রাজকন্যাকে নিয়ে রওনা দিলো নিজের দেশে। কাছাকাছি পৌঁছতেই বাদশার কানে সংবাদ পৌঁছে গেল যে মামসিয় জীবিত আছে এবং সে প্রতিবেশী রাজকন্যাকে নিয়ে এসেছে।

 

বাদশাহ এ সংবাদ শুনে তার সভাসদ আর অভ্যর্থনাকারী বাহিনীকে পাঠিয়ে দিলো মামসিয়কে অভ্যর্থনা জানাতে। মামসিয় প্রাসাদে না গিয়ে গেলো নিজ বাড়িতে। বাদশা যতই বার্তা পাঠালো পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী রাজকন্যাকে প্রাসাদে নিয়ে যাবার জন্য মামসিয় কানেই তুললো না। উল্টোকে বাদশাকে বার্তা পাঠিয়ে বললো: এ পর্যন্ত যতরকমের আদেশ তুমি আমাকে দিয়েছো সব শুনেছি। আর না। এবার সে শর্ত দিলো: প্রথম শিকারের অদ্ভুত প্রাণীটা আর চল্লিশ ঘোড়া ফেরত দিয়ে এই শহর ছেড়ে চলে যেতে। না হয় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে। আরও স্মরণ করিয়ে দিলো প্রতিবেশী দেশের বাদশার সৈন্য সামন্ত তোমার সেনাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তারা আমার হাতে পরাজিত হয়েছে।

 

মামসিয়র বার্তা পেয়ে বাদশাহ তার উজিরের সাথে বসলো পরামর্শ করতে। অনেক শলা পরামর্শ করে বাদশা তার জান নিয়ে ভাগলো। মামসিয় তার বন্ধুদের নিয়ে প্রাসাদে গেল এবং বাদশাহী শুরু করলো। তার মাকেও বানালো মন্ত্রী। এরপর সারা শহর আলোকসজ্জায় সজ্জিত করে সাত দিন সাত রাত ধরে উৎসব করে রাজকন্যাকে বিয়ে করলো।#

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন