এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শুক্রবার, 15 এপ্রিল 2016 10:21

বাগেরহাটে পান্তা-ইলিশ খেয়ে অসুস্থ অর্ধশত, তদন্ত কমিটি গঠিত

বাগেরহাটে পান্তা-ইলিশ খেয়ে অসুস্থ অর্ধশত, তদন্ত কমিটি গঠিত

বাগেরহাটের কচুয়ায় ১লা বৈশাখের পান্তা-ইলিশ খেয়ে থানার ওসি ও শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অর্ধশত ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শমসের আলী, স্থানীয় সংবাদ কর্মী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার লোক রয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বাংলা নববর্ষ উদযাপনকালে কচুয়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারি, জনপ্রতিনিধিসহ ৫ শতাধিক মানুষ ভোজনপর্বে অংশ নেন। কচুয়া উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে খাবারের তালিকায় পান্তা-ইলিশ, ডাল ভর্তা ও আলু ভর্তা ছিল। খাবার খেয়ে অনেকেই বমি করতে থাকেন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১২টা থেকে দুপুর এখন পর্যন্ত ২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারা সবাই পেট ব্যথা, বমি ও পাতলা পায়খানা সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। অন্যরা বাড়িতে চিকিৎসা ও বিশ্রাম নিচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় সাংবাদিক নিয়াজ ইকবাল দম্পতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্ত্রী, কচুয়া থানার চারজন পুলিশ সদস্যসহ ২০-২৫ জন বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

 

এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহাবুবুর রশিদ। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা দেবেন্দ্রনাথ সরকারকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাশ্বতী রাণী ও কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা তাপস দাস।

 

এর আগে ২০১৪ সালের ১লা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পরিবেশন করা উন্নতমানের খাবার খেয়ে ১০৭ বন্দী অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিন সকালে পান্তা ইলিশ, দুপুরে আলুর দম এবং রাতে ৫২৯ জন বন্দীকে রান্না করা গরুর মাংস-পোলাও পরিবেশন করা হয়। রাতের খাবারের পর বেশকিছু বন্দীর পেটের পীড়া ও ডায়রিয়াসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়।

 

এদিকে, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় কনে দেখার অনুষ্ঠানে ভুলবশত কীটনাশক দিয়ে তৈরি করা চা খেয়ে ২৬ ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ সবাইকে প্রাথমিকভাবে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে কনের দাদা তৈলক্ষ্য রায়ের (৭৫) অবস্থার অবনতি হয়। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জাকিরুল ইসলাম সুইডেন জানান, গতকাল সন্ধ্যায় নীলফামারী সদর উপজেলার চওড়া দলুয়াপাড়া এলাকার আপন রায় কনে দেখতে ১২ জন আত্মীয়সহ বালাপাড়া গ্রামের স্বশোধর রায়ের বাড়িতে যান। আলাপ-আলোচনার মধ্যে উপস্থিত অতিথিদের চা-নাশতা খাওয়ানো হয়। ভুলবশত কীটনাশককে চা পাতা মনে করে তৈরি করা হয় চা। এর কিছুক্ষণ পরই সবারই গলা ও বুক জ্বালাপোড়া শুরু হয়। মুহূর্তেই বর-কনে উভয় পক্ষের ২৬ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।# (এআর)

 

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন