এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 21 ফেব্রুয়ারী 2016 06:54

আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে গরুর গোশতের গুজব, ব্যর্থ বিজেপি’র আন্দোলন

আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে গরুর গোশতের গুজব, ব্যর্থ বিজেপি’র আন্দোলন

২১ ফেব্রুয়ারি (রেডিও তেহরান): ভারতের ঐতিহ্যবাহী আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিনে গরুর গোশত পরিবেশন করা হচ্ছে বলে গুজবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্যান্টিনের মেনু কার্ডে ‘বিফ বিরিয়ানি’ লেখা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পড়েই এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। আর এই সুযোগেই ময়দানে নেমে পড়ে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি। যদিও তাদের অতি উৎসাহী তৎপরতা কার্যত শেষমেশ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

 

গতকাল (শনিবার) কয়েকটি ডানপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ক্যান্টিনের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সোচ্চার হয়। আলিগড়ের বিজেপি’র মেয়র শকুন্তলা ভারতীও কয়েকশ’ নেতা-কর্মী- সমর্থকদের নিয়ে এই দাবিতে আলিগড়ের সিনিয়র পুলিশ সুপারের দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নেন। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র বিবাদ বেধে যায়। তারা মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিনের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্তের দাবি জানান। অন্যথায় এ নিয়ে আন্দোলন চালানোর হুমকি দেন বিজেপি মেয়র শকুন্তলা ভারতী। পুলিশ অবশ্য তাদের জানায়, এ নিয়ে তদন্তের পরেই পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

 

এদিকে, গরুর গোশতের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এম মহসিন খানের নেতৃত্বে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিনে গিয়ে খোঁজখবর নেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র রাহাত আবরার বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের বদনাম করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে বলতে পারি যে, বিফ বিরিয়ানির কথা বলা হচ্ছে, তা আসলে মহিষের গোশত।’ ক্যান্টিনের মেনু কার্ডে গরু নয়, মোষের বিরিয়ানির উল্লেখ ছিল বলেও তিনি জানান।

 

রাহাত আবরার বলেন, ‘আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিনের ঠিকাদারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পুরোনো ঠিকাদারকে সরিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ক্যান্টিনের ঠিকাদারি পেতে এমন গুজব রটিয়েছে।’

 

বহু প্রাচীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির জন্মলগ্ন থেকে এখানে কখনো গরুর গোশত পরিবেশন করা হয়নি। এর প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আহমেদ প্রথম থেকেই গরুর গোশত নিষিদ্ধ করে দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত রিপোর্টে বিফ বিরিয়ানি সংক্রান্ত গুজব প্রকাশ্যে আসায় হিন্দুত্ববাদীদের আন্দোলন মাঠে মারা গেল বলে মনে করা হচ্ছে। #

 

রেডিও তেহরান/এমএএইচ/এআর/২১

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন