এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শুক্রবার, 29 এপ্রিল 2016 19:28

প্যাটেলদের জন্য সংরক্ষণের ঘোষণা: ললিপপ বলে উড়িয়ে দিলেন নিখিল সয়ানি

প্যাটেলদের জন্য সংরক্ষণের ঘোষণা: ললিপপ বলে উড়িয়ে দিলেন নিখিল সয়ানি

ভারতের গুজরাটে প্যাটেল (পাটিদার) আন্দোলনের জেরে অবশেষে উচ্চবর্ণের গরীবদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। আজ (শুক্রবার) বিজেপি শাসিত গুজরাট সরকারের মন্ত্রী এবং রাজ্য বিজেপি প্রেসিডেন্ট বিজয় রূপানি বলেন, আর্থিক দিক থেকে অনগ্রসর এবং যাদের পরিবারের বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকার নীচে এমন উচ্চবর্ণের লোকেরা সংরক্ষণের সুবিধা পাবে। দশ শতাংশ সংরক্ষণে ব্রাহ্মণ, পাটিদার, ক্ষত্রিয় এবং লোহনার মতো উচ্চবর্ণের লোকজন সুবিধা পাবে।

 

যদিও পাটিদার সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সরকারি এই সিদ্ধান্তকে অর্থহীন বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। পাটিদার অনামত আন্দোলন সমিতির নেতা নিখিল সয়ানি বলেছেন, "এই পদক্ষেপ একটি ললিপপ মাত্র। এটি আদালতে টিকবে না। এটা আমাদের আন্দোলনকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা মাত্র।"

 

হার্দিক প্যাটেলের দলের মুখপত্র ব্রিজেশ প্যাটেল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "হরিয়ানায় যেভাবে জাঠদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই প্যাটেলদের ‘ওবিসি’ কোটায় সংক্ষণের ব্যবস্থা করাই তাদের আসল দাবি। কিন্তু সরকার তা না মানায় তারা মূল দাবি থেকে সরে আসছেন না। এই ঘোষণার বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হবে।" প্যাটেলদের অন্য একটি গ্রুপ অবশ্য সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

 

বিজেপি নেতা এবং মন্ত্রী বিজয় রূপানি আজ বলেন, বিজেপি প্রেসিডেন্ট অমিত শাহের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এ নিয়ে আদালতে আইনি লড়াইও চালানো হবে।

 

আজ গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী আনন্দি বেন প্যাটেলের উপস্থিতিতে সংরক্ষণ সংক্রান্ত ঘোষণা করা হয়। রূপানি বলেন, আগামী ১ মে থেকে এ সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। হার্দিক প্যাটেলের নেতৃত্বে প্যাটেলদের (পাটিদার) জন্য শিক্ষা এবং চাকরিতে ‘ওবিসি’ কোটায় সংরক্ষণের আন্দোলন চলছে অনেক দিন ধরে। রাজ্য জুড়ে তাদের সহিংস আন্দোলনের জেরে এর আগে হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং বহু কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে সময় সেনাবাহিনী তলব করে কারফিউ জারি করতে হয়েছিল।

 

সংবিধানে প্রথম থেকে তফসিলি জাতি এবং উপজাতিদের জন্য সরকারি চাকরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৫ শতাংশ এবং ৭.৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ রয়েছে। পরে সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি বা ওবিসিদের জন্য মণ্ডল কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে ২৭ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করা হয়। সব মিলিয়ে সংরক্ষণ দাঁড়িয়েছে ৪৯.৫ শতাংশে। সুপ্রিম কোর্ট ৫০ শতাংশের বেশি সংরক্ষণের অনুমতি দেয় না। যদিও গুজরাট সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংরক্ষণের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৬০ শতাংশে। এ ক্ষেত্রে আদালতে সরকারি সিদ্ধান্ত টিকবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।#

 

এমএএইচ/গাজি আবদুর রশীদ/সিরাজুল ইসলাম/২৯

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন