এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 24 নভেম্বর 2011 10:35

বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় নেই সুন্দরবন : সুবর্ণ সযোগ হাতছাড়া

বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় নেই সুন্দরবন :  সুবর্ণ সযোগ হাতছাড়া
২৩ নভেম্বর (রেডিও তেহরান) : বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনের প্রাথমিক তালিকা থেকে সুন্দরবনের নাম বাদ পড়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আয়োজক সংস্থা নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স ফাউন্ডেশন চলতি মাসের ১১ তারিখে এ ভোটের ফলাফল প্রকাশ করেছে। পথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের ৬০ শতাংশ রয়েছে বাংলাদেশে বাকিটা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। ইউনেস্কো এর আগে সুন্দরবনকে ওর্স্ল্ড হেরিটেজ সাইট বা ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছিলো।
বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় স্থান না পাওয়ায় পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন বিশ্বে ওয়াইল্ড লাইফ ট্যুরিজমের মানচিত্র একটি প্রধান কেন্দ্র হওয়ার সুযোগ হয়ত হারাল। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে প্রতিবছর তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ পর্যটক সুন্দর বন পরিদর্শনে যান। কিন্তু বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় সুন্দরবন ঠাঁই করে নিতে পারলে পর্যটনের সংখ্যা আরো বহুগুণ বেড়ে যেতো। পশ্চিমবঙ্গের ব্নমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে যেয়ে বলেছেন, সুন্দরবন যদি বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারতো তবে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা আরো বেড়ে যেতো। ভোটাভুটতে নির্বাচিত সুন্দরবন বিশ্বের ওয়াইল্ড লাইফ ট্যুরিজমের মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিতে পারতো।
সুন্দরবন নিয়ে এ ব্যর্থতা বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি হতাশার সৃষ্টি করেছে। সুন্দরবনকে ভোট দেয়ায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য বাংলাদেশে নানামুখী আয়োজন করা হয়েছিল। বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোসহ দেশের প্রধান প্রধান মিডিয়া এবং ব্লগগুলো এ নিয়ে যথেষ্ট তৎপর হয়ে উঠেছিল।
জনগণের ভোটাভুটির মাধ্যমে বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনের উদ্যোগটি গ্রহণ করেছিলেন কানাডীয় বংশোদ্ভুত সুইস নাগরিক বার্নাড ওয়েবার। সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনের শর্তে বলা হয়েছিল, সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য মানুষের উল্লেখযোগ্য হস্তক্ষেপ থাকতে পারবে না।
এর আগে, ২০০৭ সালে অনলাইন ও এসএমএস জরিপের ভিত্তিতে পৃথিবীর নতুন সাত আশ্চর্যের নাম ঘোষণা করেছিলো নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স ফাউন্ডেশন, সে সময় ১০ কোটি ভোট পড়েছিল।
এবারের নির্বাচনে সুন্দরবন প্রথম সাতে স্থান করে নিতে পারেনি। তালিকার ২৮তম স্থানে ঠাঁই হয়েছে সুন্দরবনের । এবারের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গল, ভিয়েতনামের হ্যালং বে, অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফসহ অন্যান্য স্থান রয়েছে।
বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় যেনো সুন্দর বন ঠাঁই করে নিতে পারে সে জন্য বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ ভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছিলো। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বু্দ্ধদেব ভট্টচার্য এবং বাংলাদেশের বনমন্ত্রী হাসান মাহমুদ এ ঘোষণা দিয়েছিলেন। সুন্দরবনে বিপদাপন্ন রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ অনেক বিরল ও দুর্লভ জাতের পশু,পাখি, গাছ-গাছালি রয়েছে। বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় সুন্দরবন ঠাঁই করে নিতে পারলে তাতে বিদেশি অর্থ সমাগমের পথ সুগম হতো এবং বন্য প্রাণী সংরক্ষণের প্রকল্পগুলো সহজতর হতো। একই সঙ্গে পরিবেশ-পর্যটন বা ইকো-ট্যুরিজমের নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটতো বলে অনেকেই মনে করেন।
সুন্দরবনের হৃদয়গ্রাহী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের কারণে এখন দলে দলে মানুষ এ অঞ্চল পরিদর্শনে যান। এলাকায় অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পর্যটকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে। সুন্দরবনের কুমির প্রকল্প, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অভয়ারণ্য, দুবলার চর, ফাতরার চর, সুন্দরবনের রাশমেলা, হিরণ পয়েন্ট প্রভৃতি পর্যটকদের কাছে আকষর্নীয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
অবশ্য সুন্দরবন এলাকার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো আরো উন্নত করা হলে তাতে পর্যটকের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে। সিডর ও আইলাতে সুন্দরবনের মারাত্মক ক্ষয়-ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়েছে। বিশেষ করে আইলাতে ওই এলাকার অবকাঠামোর যে ক্ষতি হয়েছিলো তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি এলাকাবাসীরা।
তবে এতো কিছুর পরও বিশ্বে সুন্দরবনকে পরিচিত করার শক্তিশালী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যটন উৎসবগুলোতে ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম ফেসটিভলস অংশ নিয়ে সুন্দরবনকে তুলে ধরা যায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।#{jcomments on}

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন