এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সমাজ-সংস্কৃতি

বাংলাদেশে ত্বকের যে সব রোগ সব চেয়ে বেশি দেখা যায় তার মধ্যে অন্যতম হলো দাঁদ বা ফাংগাল ইনফেকশন। এবারে দাঁদ বা ফাংগাল ইনফেকশন ও  প্রতিকার নিয়ে আলোচনা হবে। এটি অন্যতম সাধারণ রোগ এবং এ রোগের চিকিতসা করা হলে এক রোগের চিকিতসার মধ্য দিয়ে অনেক লোককে সহজেই অসুখের কষ্ট থেকে মু্ক্তি দেয়া যাবে এবং তাদের সারিয়ে  তোলা যাবে ।  আর এ বিষয়ে দুই পর্বে আলোচনা করছেন বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজের চর্ম ও যৌন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

 


রেডিও তেহরান: দাঁদের মতো অতি পরিচিত রোগ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা কী?


অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: যেহেতু এটা একটি কমন রোগ সে কারণে এ রোগে সবচেয়ে বেশি লোক আক্রান্ত হচ্ছে। আর যেহেতু বেশি লোক আক্রান্ত হচ্ছে-তাদেরকে চিকিতসা দিয়ে আমরা সারিয়ে তুলছি এবং তারাও কমন এই রোগটি থেকে মুক্তি পাচ্ছে। প্রতিটি বিষয়ে টপ ফাইভ বা টপ টেন রোগ রয়েছে। এই টপ কয়েকটি রোগের মাধ্যমে ওই বিষয়ের প্রায় ৯০ ভাগ লোক আক্রান্ত হয়। দাদ এমন একটি রোগ এতে অনেক লোক আক্রান্ত হয় এবং অল্প চিকিতসার মাধ্যমে এই সবগুলো ভালো হওয়ার সুযোগ আছে। আর সে কারণেই আমাদেরকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার।
এটা কিছুটা ছোঁয়াচে রোগ। ফলে সচেতনতার মাধ্যমে এই রোগ একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
দেহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে এ রোগ শরীরের যে কোনো স্থানে হতে পারে। তবে সাধারণভাবে উরু সন্ধিসহ দেহের যেসব স্থান ঘর্মাক্ত থাকে সেসব স্থানে ছত্রাক ঘটিত এ রোগটি হয়ে থাকে।

রেডিও তেহরান: ডা. শাহাবউদ্দিন, আলোচনার শুরুতে আমরা জানতে চাইবো কত রকমের দাদ হয়।
অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: আমাদের দেশে যে দাদ হয় তাকে সাধারণত আমরা দুভাগে ভাগ করে থাকি। একটা চামড়ার উপরিভাগে যে দাদ হয় তাকে আমরা superficial fungal infection বলি। আরেকটি চামড়ার গভীরাংশে বা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গে হয়ে থাকে। একে আমরা deep fungal infection বলি। তবে সাধারণত যেটা অধিক পরিচিত দাদ সেটা হচ্ছে শরীরের বাইরের অংশের দাদ- যাকে superficial fungal infection বলে। আর superficial fungal infection যেটা এর মধ্যে ছুলি এবং ছলম নামে পরিচিত। এটাকে আমরা pityriasis versicolor । এছাড়া স্বাভাবিক দাদ যেটা সেটাকে dermatophytosis বা টিমিয়া বলে থাকি।
রেডিও তেহরান: দু জাতের দাদ হতে পারে সেকথা আপনার আলোচনা থেকে জানতে পারলাম। এবার আমরা জানতে চাইবো দাদ কি শরীরের বিশেষ কোনো অংশে হয় ?


অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব বেশি কমে যায় তাদের শরীরের যে কোনো অংশেই দাদে আক্রান্ত হতে পারে। অন্যদিকে সুস্থ শরীর যাদের তাদের শরীরের বিশেষ বিশেষ জায়গায় দাদ হতে পারে। অর্থাত শরীরের যে অংশগুলো একটু স্যাঁতসেঁতে থাকে, উষ্ণ থাকে সে সব জায়গায় দাদটা বেশি হয়ে থাকে। যেমন মাথায় যে দাদ হয় সেটাকে আমরা 'tinea capitis' বলি। মুখে হতে পারে, বুকে ও পীঠে হতে পারে, রানের গোড়ায় হতে পারে, হাতের তালু এবং পায়ের তালুতে হতে পারে। এছাড়া আঙুলের ফাঁকে এবং নখেও হতে পারে।

রেডিও তেহরান: দাদ হওয়ার সঙ্গে বয়স, পেশা বা দৈনন্দিন কাজ কর্মের কোনো সম্পর্ক আছে কি?


অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: হ্যাঁ এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সব বয়সে এবং সব পেশার লোকদের এটি হয় না এবং সব খানেও হয় না। সাধারণত স্কুলগামী ছেলে- মেয়েদের মাথায় বেশি দাদ হয়ে থাকে। যেটাকে আমরা 'tinea capitis' বলি। এরপর যারা অ্যাথলেট বা খেলাধুলা বেশি করেন, যাদেরকে দীর্ঘসময় জুতা পরে থাকতে হয় তাদের ক্ষেত্রে পায়ের আঙুলে কিম্বা আঙুলের ফাঁকে অথবা পায়ের তালুতে দাদ বেশি হয়। এসব দাদকে আমরা 'tinea pedis' বলি।
যারা বেশি পরিমাণ পানির কাজ করেন বিশেষ করে যারা হাউজ হোল্ড কাজ করেন তিনি নারী বা পুরুষ যেই হোন না কেন- তাদের বেশিক্ষণ হাত ভেজাতে হয় তাদের 'tinea manuum' বা হাতের তালুর দাদ হয়। অথবা হাতের আঙুলের ফাঁকে এ ধরনের দাদটা বেশি হয়। অথবা নখের গোড়ায় হয় যেটাকে আমরা 'paronychia' বলি। এছাড়া ছেলেদের ক্ষেত্রে দাঁদের বেশি আক্রান্ত হওয়ার স্থান হলো উরু অর্থাত রানের গোড়ায়। আর মেয়েদের সবচেয়ে বেশি দাদে আক্রান্ত হওয়ার স্থান হচ্ছে- যে অংশে তারা শাড়ি পরে থাকেন- সেখানে।


রেডিও তেহরান: আসলে কোন পেশার লোকদের দাদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সে সম্পর্কে আমাদের কিছু বলবেন কি?


অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: পেশার ক্ষেত্রে যারা কুক তাদের হাতে বেশি দাদ হয়। কারণ অনেক বেশি সময় ধরে পানিতে তাদের কাজ করতে হয়। যারা খেলোয়াড় তাদের পায়ে বেশি হয়। যেহেতু তারা দীর্ঘসময় ধরে খেলার প্রয়োজনে জুতা পরে থাকেন- দৌড়ানোর সময় সেখানে ঘামে এবং ঘামের কারণে পাটা ভিজে যায় বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হয়; সেকারণে তাদের পায়ে বেশি দাদ হয়ে থাকে।
একই সাথে ছেলেদের ক্ষেত্রে যারা খুব বেশি শারীরিক পরিশ্রম করেন তাদের বেশি হয় রানের গোড়ায়। কারণ দুই উরুর ওখানে পরিশ্রমের ফলে যে ঘাম সৃষ্টি হয় তা ওপরে কাপড় থাকার কারণে তা শুকাতে পারে না। ফলে সেখানেও বেশি পরিমাণে দাদ হয়।


রেডিও তেহরান: দাদ কোন পরিবেশে হতে পারে সে প্রশ্নের জবাবও আপনি একইসাথে দিয়ে দিলেন। দাদ ছত্রাক ঘটিত রোগ সে কথা আগেও একবার বলা হয়েছে। তো এবারে জানতে চাইবো এ রোগের বিস্তার কি করে ঘটে ?


অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: মাথার দাদ যেটা হয়ে থাকে সেটা সংক্রমিত হয় কোনো জিনিষ শেয়ার করার মাধ্যমে। যেমন শিশুদের ক্ষেত্রে যদি কেউ টুপি পরে এবং সে টুপি অনেকদিন পর্যন্ত ধোয়া না হয় এবং একজনের টুপি যদি অন্যজন শেয়ার করে সেক্ষেত্রে তাদেরও দাদ হতে পারে। অথবা যারা হ্যাট ব্যবহার করে এবং সেই হ্যাটটা যদি বাচ্চারা খেলাচ্ছলে একজনেরটা আরেকজন পরল। এতে একজন আক্রান্ত থাকলে অন্যেরও সেটা হতে পারে। কমন চিরুনি ব্যবহার করলে এক বাচ্চা থেকে অন্য বাচ্চায় এটা সংক্রামিত হতে পারে। আর শরীরের দাঁদের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে, যিনি আক্রান্ত তার পোশাক পরিষ্কার না করে অন্য কেউ ব্যবহার করলে তাদেরও হতে পারে। বিশেষ করে আন্ডার ওয়্যার যদি কেউ শেয়ার করে তাহলে এটা একজন থেকে আরেক জনে ছড়াতে পারে। আর যদি আমাদের নখ আক্রান্ত হয় তাহলে এটি সারতে দীর্ঘ সময় লাগে। অনেক দিন ধরে ওষুধ খেতে হয়। কেউ যদি অল্প ওষুধ খেয়ে চামড়ার রোগটুকু ভালো করে ফেলেন কিন্তু নখের জন্য দীর্ঘসময় ওষুধ না খান তাহলে তার নখের দাদটুকু থেকে যায় এবং নখ থেকে শরীরের অন্যান্য অংশ আবার তা ছড়িয়ে পড়ে।


সবচেয়ে বড় কথা হলো উষ্ণ এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাক গজায়। এর প্রাকৃতিক উদাহরণ হলো পুকুরঘাটের শেওলা- যে ঘাটটি পানিতে বেশি ভেজা থাকে ওখানেই কিন্তু শেওলা হয়। অথবা পুরনো দিনের বাড়ি ঘর- যেখানে খুব একটা ব্যবহার করা হয় না দেখা যায় সেই বাড়িগুলোতে বেশি শেওলা জন্মায়। একইভাবে মানবদেহেও স্যাঁতসেঁতে এবং উষ্ণ পরিবেশ থাকে তাহলে সেসব জায়গাতে ছত্রাক বেশি গজায়।#

 

বাংলাদেশে ত্বকের যে সব রোগ সব চেয়ে বেশি দেখা যায় তার মধ্যে অন্যতম হলো উকুন। উকুনকে অনেকে  খুবই সাধারণ ব্যাপার হিসেবে গ্রহণ করেন একে মোটেও রোগ হিসেবে মনে করতে চান না। অথচ তারা জানেন না যে উকুনের কারণে টাইফাস নামের একটি জটিল রোগ হতে পারে। আজ উকুন ও তার প্রতিকার নিয়ে আজ আলোচনা করেছেন বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজের চর্ম ও যৌন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ।

 

বাংলাদেশে ত্বকের যেসব রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় তার মধ্যে অন্যতম হলো খোস-পাচড়া এবং মাথার উকুন। উকুনকে অনেকে সাধারণ রোগ বলে মনে করলেও উকুনের কারণে 'ডাইভাস' নামক একটা মারাত্বক রোগ হতে পারে। 

 

 

রেডিও তেহরান: অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আমরা আলোচনার শুরুতে জানতে চাইবো সাধারণভাবে উকুন কাদের হয়?

 

 

অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: উকুন সাধারণত তাদেরই হয় যাদের হাউজোনিক কন্ডিশন ভালো না এবং যারা ওভার ক্রাউডিং থাকে, তাছাড়া যারা পরিচ্ছন্ন থাকেন না। বিশেষ করে নিয়মিত গোসল করেন না। গোসল করলেও যারা মাথার চুল ভালোভাবে শাবান বা শ্যাম্পু দিয়ে পরিস্কার করেন না অর্থাত মাথায় একটা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকে; তাদের চুলে উকুনের প্রভাব বেশি হয়।

 

 

রেডিও তেহরান: সাধারণভাবে উকুন মাথার চুলে হয় বলে জানি কিন্তু মাথার চুল ছাড়াও কি উকুন হতে পারে?

 

 

অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: তিন ধরনের উকুন হতে পারে। প্রথমত এটি মাথা হয়, আমরা এটাকে ‘tinea capitis '।

আমাদের দেশে এটাই সবচেয়ে বেশি। যেহেতু আমাদের দেশে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের চুল বড় ও লম্বা হয়ে থাকে। মেয়েরা গোসলের পর তাদের চুল শুকানোর আগ পর্যন্ত অনেকক্ষণ স্যাতসেতে থাকে। আর গ্রামের মেয়েদের চুলের ব্যাপারে হাইজোনিক কেয়ারটা খুবই নগণ্য।সেই জন্যে দেখা যায় মেয়েদেরই উকুন বেশি হয়। তবে ছেলেদেরও হতে পারে কিন্তু কম।

 

 

শরীরে একধরনের উকুন হয় এটাকে বলা হয় ‘tinea corporis’ শরীরের এই উকুন হয় তাদের-যারা ভবঘুরে। সাধারণত তারা গোসল করে না। একটি কাপড় পড়ছে তো পড়ছেই। দীর্ঘদিন ধরে তারা একটি কাপড়ই পরে থাকে। তাদের কাপড় ধোয়র কোনো স্কোপ নেই বা প্রয়োজন অনুভব করে না তাদের এটি হয়ে থাকে। এর আরেকটি নাম হলো 'vagabond disease'। অর্থাত ভবঘুরেদের রোগ।

 

 

আর তৃতীয় আরেকটি উকুন হয় , যাকে আমরা ‘pediculosis pubis ' বলি। অর্থাত তলপেটে pubic রিজিওনে হয়ে থাকে। আর সেটি যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায়।

 

 

তাহলে প্রথম গ্রুপটা হলে মেয়ে যাদের মাথায় উকুন হয় এবং এটা সর্বাধিক। আর ভবঘুরেদের এবং তলপেটে হয় এ দুটোতে সাধারণত ছেলেরাই বেশি আক্রান্ত হয়।

 

 

রেডিও তেহরান: আচ্ছা উকুনের মতো বিরক্তিকর জিনিষটির বিস্তার কিভাবে ঘটে বা কিভাবে এটি ছড়ায় ?

 

 

অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: ‘tinea capitis 'এর বিস্তার লাভ ঘটে থাকে সাধারণ একই বিছানায় ঘুমানোর জন্য একমাথা থেকে আরেক মাথায়  গ্রাচুয়ালি হেটে চলে যায়। একই চিরুনি বা ব্রাশ ব্যবহারের কারণেও এটি বিস্তার লাভ করতে পারে। একজনের মাথার উকুন, অথবা উকুনের ডিম বা মধ্যবর্তী সময়ের যা  রয়েছে যেমন, ডিম-লারভা ইত্যাদি। যদি কমন হেয়ার ব্রাশ ব্যবহার করে সেক্ষেত্রে যার মাথায় উকুন আছে তার মাথা থেকে যার মাথায় উকুন নেই তার মাথায় এডাল্ট উকুন, উকুনের বাচ্চা এবং ডিম চিরুনির মাধ্যমে চলে যাচ্ছে। এটা হলো সর্বাধিকভাবে বিস্তারের উপায়।

এছাড়া, একই বিছানায় থাকার জন্য হতে পারে- এটা মাথার উকুনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর শরীরের উকুনের ক্ষেত্রে যদি একই কাপড়গুলো ব্যবহার করা হয় অর্থাত যাদের শরীরে উকুন আছে তাদের কাপড় যদি যাদের উকুন নেই এমন কেউ ব্যবহার করে তা হলে এ জাতীয় উকুন হতে পারে।  

 

 

এক্ষেত্রে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে শরীরের উকুন শরীরের চেয়ে কাপড়ের ভাজে ভাজে থাকে। ফলে ওই কাপড় ব্যবহার করলে ব্যবহারীও আক্রান্ত হবে।

 

 

রেডিও তেহরান: অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, আমরা জানি যে দেহে অনেক রোগ একা একা আসে না। সাথে এক বা একাধিক রোগ নিয়ে আসতে পারে। তো আমাদের প্রশ্ন হলো উকুনের মাধ্যমে কি দেহে অন্য কোনো রোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে?

 

 

অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: উকুনের মাধ্যমে চামড়ার একটা রোগ হতে পারে। যাকে আমরা টাইফাস ফিভার বলি। উকুনের মাধ্যমে এই টাইফাস ফিভার হতে পারে।

 

 

রেডিও তেহরান: বিরক্তিকর এই উকুনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অর্থাত চিকিতসার জন্য আমরা কি করতে পারি?

 

 

অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: প্রথমত কমন যে উকুন ‘tinea capitis ' সেটা যদি চুলে হয় তাহলে শ্যাম্পু করার মাধ্যমে মাথাকে পরিস্কার করি এবং পরবর্তীতে উকুন মারার জন্য বিভিন্ন ওষুধ রয়েছে যেমন 'permethrin' ব্যবহার করতে পারি, লরেক্সিন ব্যবহার করতে পারি। এটা দিয়ে সাধারণত  মাথায় শ্যাম্পুই করা হয়। এটা মাথায় ৫ থেকে ১০ মিনিট রেখে তারপর ধুয়ে ফেলে সাধারণ শ্যাম্পু করে মাথা পরিস্কার করা হয়। আমরা 'ivermectin' নামক একটা ওষুধ খাইয়ে দেই। আর এটা খাওয়ানোর মাধ্যমে উকুন পরিস্কার হয়ে যায়। তবে এ ওষুধগুলোর মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক উকুন মারা যায় তবে উকুনের ডিম এসব ওষুধের দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

 

এজন্য একসপ্তাহ থেকে ১০ দিন পর আমরা একই ওষুধ আবার ব্যবহার করতে বলি। এর ফলে যে ডিমগুলো ছিল ইতোমধ্যে তারা এডাল্ট হয়ে যায় এবং তারাও মারা যায়। এটি হলো মাথার উকুনের ক্ষেত্রে। আর বারবার চিকিতসার পরও  যদি উকুন থেকে যায় তাহলে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে মাথাটা শেভ করে দিতে হয়। তবে সাধারণত এটার প্রয়োজন হয় না ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমেই ভালো হয়ে যায়।

 

 

শরীরের উকুনে যারা ভুগছেন তাদের জন্য আসলে শরীরে কোনো চিকিতসা দেয়ার প্রয়োজন হয় না। বরং কাপড়গুলোর চিকিতসা দিতে হয়। কারণ এই উকুনগুলো কাপড়েই থাকে। যখনই তারা কাপড় পড়ে তখন কাপড় থেকেই উকুনগুলো কামড়ায়। আর কামড়ায় এজন্য যে তারা হিউম্যান বডি থেকে তাদের খাদ্যগুলো গ্রহণ করে থাকে। আর শরীরের উকুনের ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিটি পরিচ্ছন্ন না থাকার কারণে যেহেতু এই উকুন হয় সেক্ষেত্রে তাকে পরিচ্ছন্ন হতে হবে। নিয়মিত সাবান দিয়ে গোসল করতে হবে। আর যদি তিনি আর্থিক সচ্ছল হন সেক্ষেত্রে তাকে পরামর্শ দেই যেন ওই পোষাক ব্যবহার না করেন। আর তা যদি না হয় সেক্ষেত্রে কাপড়ে ম্যালাথিয়ন বা লরেক্সিন দেব। ‘pediculosis pubis ' এর ক্ষেত্রে আমরা স্থানীয়ভাবে ওষুধ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকি এবং একটা ওষুধ খেতে দেই। আর তার পার্টনার যিনি রয়েছেন অর্থাত যে কন্টাক্টের মাধ্যমে রোগটা একজন থেকে আরেকজনে ছড়াচ্ছে এক্ষেত্রে তার চিকিতসা অর্থাত যৌথ চিকিতসা করতে হয়।

 

 

অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম সতর্ক হলে ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে খোস-পাচড়া ও উকুনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কেবল ঈমানের অঙ্গই নয় তা সুস্বাস্থ্যের মূল কথা। আসুন আজ থেকে আমরা ব্যক্তিগত জীবনে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতবদ্ধ হই।#

বাংলাদেশে ত্বকের যে সব রোগ সব চেয়ে বেশি দেখা যায় তার মধ্যে অন্যতম হলো খোস-পাঁচড়া। সাধারণ ভাবে কর্মজীবী মানুষদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক ভাবে বেশি দেখা দেয়। এ ছাড়া যাদেরকে অহরহ নানা  ধরণের মানুষের সংস্পর্শে যেতে হয় বা যারা গাদাগাদি করে থাকনে তাদেরও এ রোগ হয়।  খোস পাঁচড়া ও তার প্রতিকার নিয়ে আজ আলোচনা করেছেন বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজের চর্ম ও যৌন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ। চৌধুরী।

 

সুপ্রিয় পাঠক! স্বাস্থ্যকথার আজকের আলোচনার বিষয় খোস পাঁচড়া এবং তার প্রতিকার। আজ আমাদের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশের বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।


আলোচনার শুরুতেই একটা কথা মনে করিয়ে দিতে চাই আর তাহলো খোস-পাঁচড়া সাধারণ রোগ নয় এবং এ রোগের সঠিক চিকিতসা না হলে কিডনি ফেল করে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।


রেডিও তেহরান: অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আলোচনার শুরুতেই আমরা জানতে চাইবো বাংলাদেশে সাধারণভাবে কোন কোন চর্মরোগ বেশি দেখা দেয়?


অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক ভাবে একটা গরীব দেশ। সেইজন্যে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি যে চর্মরোগ পাওয়া যায় সেটা হলো scabies বা যাকে আমরা বাংলায় খোস পাঁচড়া বলে থাকি। এরপর দাদ যাকে আমরা ফাঙ্গাল ডিজিজ বলে থাকি এটাও বেশি হয়।
একজিমা রোগ হয়ে থাকে এবং সভ্যতার বা নগরায়নের সাথে সাথে এই রোগটার প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। আর মেয়েদের মাথার উকুন রোগটাও বেশি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সোরিয়াসিস রোগটাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।


রেডিও তেহরান: খোস পাঁচড়া, উকুন, সোরিয়াসিস, দাদ বা ছত্রাক-জনিত রোগ এবং একজিমা সাধারণভাবে বেশি হয় সে বিষয়টি আপনার কথা থেকে জানা গেল। এখন আজকের আসরে আমরা খোস পাঁচড়া নিয়ে আলোচনা করব। খোস পাঁচড়ার নাম জানে না খোঁজ করলে বোধহয় এমন একজনকেও পাওয়া যাবে না। তাই আলোচনার শুরুতেই জানতে চাইবো এ রোগ সাধারণত কাদের বেশি হয়?
অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: খোস পাঁচড়া বেশি হয়ে থাকে সাধারণত কর্মজীবী মানুষদের। সোশ্যাল কন্টাক্ট যাদের বেশি তাদের বেশি হয়ে থাকে। আর যারা ওভারক্রাউডিং অবস্থায় থাকে অর্থাত একই জায়গায় বা একই বিছানায়, একই লেপের নিচে একাধিক ব্যক্তি থাকে এই ধরনের লোকদের বেশি হয়।


অন্যদিকে শিশুদেরকে সবাই আদর করে; আর আদর করতে গিয়ে মানুষের সংস্পর্শে যায় বা স্কিনের কনটাক্ট হয়- এর মাধ্যমে শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।


কোনো ব্যক্তির দেহে যে কোনো কারণে যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় তাহলে তাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বেড়ে যায় এবং এ রোগের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো বেশি পরিমাণে হয়ে থাকে।


রেডিও তেহরান: আচ্ছা এ রোগের লক্ষণগুলো সম্পর্কে আমাদের কিছু বলবেন কি?
অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: এ রোগটি এমন একটা রোগ যার লক্ষণই রোগের নামের কথা বলে দেয়। অর্থাত এ রোগের প্রথম লক্ষণ হলো চুলকানি। আর এইজন্য খোস পাঁচড়াকে অনেক চুলকানি রোগও বলে থাকে।


অবশ্য এ চুলকানিটা দিন রাত উভয় সময়েই হয়ে থাকে। তবে প্রধানত এটা টলারেবল লিমিটে থাকে। সহ্যসীমার মধ্যে থাকে। তবে রাতের বেলায় একেবারে সহ্যসীমার বাইরে চলে যায়। রাতে অনেক বেশি বেড়ে যায়। অর্থাত এই রোগ দিনে এবং রাতে সবসময় চুলকানি থাকলেও রাতে এটা বাড়ে।
এছাড়াও চামড়ায় আরো কিছু বিষয় আছে যাকে আমরা মেডিকেলের ভাষায় ব্যারো বলি। অর্থাত মটিতে লাঙল চষলে যা ঘটে সেটাকে ব্যারোইন বলা হয়। খোস পাঁচড়ার জার্মটা চলার সময় চামড়ায় ব্যারোইন করে যায় এবং একপ্রান্তে যেখানে উঁচু জায়গা থাকে তাকে আমরা মেডিকেলের ভাষায় প্যাট্রিউর বলি। অনেক সময় সেখানে পানি জমে যায়। যদি আমরা খুব সুক্ষ্ণভাবে দেখি বা ম্যাগনিফাইং লেন্স দিয়ে দেখি তাহলে আমরা দেখব চামড়ার ভেতরে কিছুটা গর্তের মতো আছে লম্বালম্বিভাবে। আর এর একপ্রান্ত একটু উঁচু এবং সেটা শক্ত ও পানিযুক্ত। আর মূল জার্মটা এখানে থাকে।


রেডিও তেহরান: অধ্যাপক শাহাবউদ্দীন এ রোগের চুলকানি রাতে কেন বেড়ে যায়?
অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: যে জীবাণু দ্বারা এই রোগ হয় সেই জীবাণু রাত্রি বেলা বেশি কাজ করে এবং দিনের বেলায় রেস্ট নেয়। আর রাতে তার কাজ হলো সারা শরীরে সে মুভমেন্ট করে এবং ডিম পাড়ে। আর এই যে চামড়ার সবচেয়ে ওপরের অংশে এই যে মুভমেন্ট করে যে জন্যে চুলকায় বেশি।

রেডিও তেহরান: কিছু কিছু রোগের সুচিকিতসা বা সঠিক চিকিতসা করা না হলে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এখন আমাদের প্রশ্ন হলো খোস পাঁচড়ার মতো আপাত নিরীহ রোগের ক্ষেত্রে কি এ জাতীয় কোনো জটিলতা কি দেখা দিতে পারে।


অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী: এ রোগের জটিলতাটা হচ্ছে- শরীর খুব চুলকায়-ফলে আমরা যখন চুলকাতে যাই তখন চামড়াটা হালকাভাবে ছিঁড়ে যায়। আর চামড়া ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে সেটা ওপেন হয়ে যায় এবং এর ফলে বায়ুমণ্ডল বা পানিতে যেসব জার্ম , ব্যাকটেরিয়া বা অন্য জীবাণু ভেসে বেড়ায় তারা সেখানে প্রবেশ করতে পারে। সে অবস্থাকে আমরা তখন ইনফেকশন বলে থাকি। ফলে বলা চলে চুলকানির প্রথম জটিলতা হচ্ছে –ইনফেকশন।
আবার এই জীবাণু থেকে বেশ কিছু কেমিক্যাল তৈরি হয় যাকে আমরা মেডিকেলের ভাষায় বলি এন্টিজেন। আর এই কেমিক্যাল তৈরি হয়ে যাওয়ার কারণে পরবর্তীতে সেখানে একজিমা হয়ে যেতে পারে।
ফলে দ্বিতীয় জটিলতা হিসেবে আমরা বলতে পারি একজিমা হয়ে যেতে পারে। এছাড়া একটা সুনির্দিষ্ট জার্ম আছে সেটা দ্বারা যদি যদি কোনো ইনফেকশন হয় সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে জটিলতা হিসেবে কিডনি আক্রান্ত হতে পারে এবং তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


আর কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া খুব বড় ধরনের রোগ। এ রোগের চিকিতসা না করলে কিডনি নষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি নেমে আসতে পারে। তবে চিকিতসার মাধ্যমে জটিল ওই রোগটিও সারিয়ে তোলা সম্ভব।#

ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা তৈরিতে অনেক সময় লেগে যায়। এদিকে প্রাণী থেকে মানব দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন ফ্লু'র ভাইরাস বিশ্বে ভয়াবহ মহামারি সৃষ্টি করতে পারে বলে হুমকি দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত ফ্লু'র ভাইরাস বিরোধী টিকা বের করা একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

 

এ অবস্থায় আশার খবর শুনিয়েছে সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন নামের সাময়িকী। এতে টিকা নিয়ে একটি সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে বলা হয়েছে, ফ্লুর বিরোধী কার্যকর ভাইরাস কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তৈরি করা সম্ভব হবে।

 

আমেরিকার পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা নতুন পদ্ধতিতে তৈরি টিকার কার্যকারিতা প্রাণী দেহে পরীক্ষা করেছেন। এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে ইঁদুর এবং বানর জাতীয় প্রাণীর ওপর। এ টিকা ব্যবহার কতোটা নিরাপদ তা নিয়ে মানবদেহে প্রথম পর্বের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যে কোনো সময় শুরু  হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

 

প্রচলিত পদ্ধতিতে টিকা তৈরির জন্য মহামারি সৃষ্টির করতে পারে-ভাইরাসের এমন প্রজাতি বেছে নেয়া হয়। কিন্তু সনাতন এ পদ্ধতিটি ব্যবহার করেননি পেনসিলভানিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। এর বদলে  রাসায়নিকভাবে দুর্বল ভাইরাসকে ব্যবহার করে দেহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করে তোলার দিকে মনোযোগ দেন  তারা।

 

এভাবে প্রাণী দেহ থেকে মানব দেহে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম এইচ৫এন১ এবং এইচ১এন১ ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা তৈরি করতে সক্ষম হন তারা। অবশ্য মানবদেহে এর কার্যকারিতা আরো ভালোভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

 

এর আগে, হিউম্যান ইমিউনো ভাইরাস (এইচআইভি) বিরোধী কিছু কিছু পরীক্ষামূলক টিকা এভাবে তৈরি করা হয়েছে।#

 

রেডিও তেহরান/সমর/এমআই/২

 

এখন চলছে ফলের মধুমাস জ্যৈষ্ঠ। এই মাস ফলের রাজা আমের প্রাচুর্যের জন্য বিশেষভাবে খ্যাত। আমের রয়েছে নানা ধরণের পুষ্টি গুণ। গবেষকরা বলছেন, পাকা আমের মধুর রস খেলে রক্তে চিনি বা সুগারের পরিমাণ কমতে পারে এবং কমতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি।

 

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে- মোটা বা বাড়তি মেদ-চর্বির অধিকারী ব্যক্তিদের রক্তের সুগার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে আম। এ ছাড়া, আম খেলে শরীরের নানা স্থানের প্রদাহ বা জ্বালা কমতে পারে বলেও মনে করছেন ওকলাহোমা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।

 

টেক্সাসের এ ‘এন’ এম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, তাজা আমে থাকে পলিফেনলস যা স্তনের ক্যান্সারযুক্ত ও ক্যান্সারবিহীন কোষগুলোর প্রদাহ সীমিত করতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরো গবেষণা দরকার বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।#

 

রেডিও তেহরান/এএইচ/এসআই২৫