এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সমাজ-সংস্কৃতি

সাফাভি রাজবংশ খ্রিষ্টিয় ১৫০১ সাল থেকে দুই শ’রও বেশি বছর পর্যন্ত ইরানে তাদের শাসনকাজ চালিয়েছে। সাফাভিদের আমলেই ইরানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিয়া মাজহাবের শিক্ষাদর্শের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ কিছু রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা সুপ্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ইসলামী যুগের ইরানের ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী কিছু ব্যবস্থার গোড়াপত্তন এভাবেই হয়েছে। ইরানে বিদেশীদের শাসনের আট শ’ বছর পর সাফাভিরা পুনরায় ইরানের নিজস্ব ঐতিহ্য ও পরিচয়কে পুনরায় জাগিয়ে তোলেন। তারা এমন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেন যে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিশেষ সীমান্তের অবশেষ আজো কমবেশি দেখতে পাওয়া যায়।

 

শিয়া মাজহাবকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দান করা, শিল্প ও কৃষিখাতে উন্নয়ন ঘটানো, বাণিজ্যিক উন্নয়ন ও বিস্তার, সুশৃঙ্ক্ষল একটি সেনাবাহিনী গঠন করা, প্রশংসনীয় ও সম্মানজনক একটি পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করা ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই সাফাভি শাসনামলের বিশেষ অবদানের বিষয়টি ইতিহাসে স্বীকৃত। এ কারণে ইরানের ইতিহাসের এই পর্বটিই বিশ্লেষক, গবেষক এবং বিশেষ করে পশ্চিমা ইরান বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সবচেয়ে বেশি। সাফাভি শাসনামলে বিশেষ করে শাহ ইসমাইল, শাহ তাহমাসব এবং শাহ আব্বাস প্রথমের সময় ইরানের ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির উন্নয়ন ও বিকাশ ছিল চোখে পড়ার মতো। ইসলামের উন্নয়ন ও বিকাশে সাফাভি শাসকদের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো শিয়া মাজহাবকে ইরানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্থাপন করা। তাঁরা সমাজে শিয়া মাজহাবের বিস্তারে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন সেগুলোর মধ্যে ছিল এই মাজহাবের হুকুম আহকাম বা বিধি-নিষেধগুলোকে চালু করার জন্যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং শিয়া মাজহাবের আলোকেই সমাজকে ঢেলে সাজানোর ব্যবস্থা করা।

 

তারা এই কাজ করার জন্যে লেবানন এবং বাহরাইনের শিয়া আলেমদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং এ লক্ষ্যে তাঁদেরকে ইরানে আসার আমন্ত্রণ দেন। শাহ ইসমাইলের আমলে গারাকি’র মতো বিশিষ্ট আলেম ও চিন্তাবিদ ইরানে এসেছিলেন এবং সাফাভি যুগের সামাজিক নীতি, ধর্ম ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাবশালী ভূমিকা রাখেন। লেবাননের আলেমগণ তাদের জ্ঞান ও চিন্তাদর্শের আলোকে ইরানের ফকিহদের একটি প্রজন্মকে প্রশিক্ষিত করেন। পরবর্তী পর্যায়ে এই ফকিহগণই সাফাভি সরকারের নীতি নির্ধারণী ভূমিকা পালনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ইরানে শিয়া মাজহাবকে রাষ্ট্রীয় মাজহাবের মর্যাদা দানের মাধ্যমে সাফাভিরা শিয়াদের মনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেন। ইসলামের ইতিহাসে কোনো দেশে রাষ্ট্রীয় মাজহাবের স্বীকৃতি প্রদানের ঘটনা এটাই প্রথম। এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন আলেম ওলামা এবং আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বগণ। তারা ধীরে ধীরে ইরানে আসতে শুরু করেন। তাঁদেরকে ইরানের ভাষা শেখানোর উদ্দেশ্যে তখন বিভিন্ন এলাকায় ফার্সি ভাষা শেখার ক্লাসের আয়োজন করা হয়েছিল।

 

বিশেষ করে যেসব এলাকায় অতিথি সমাগম বেশি ছিল সেসব এলাকাতেই এরকম ভাষা শেখার ক্লাসের আয়োজন করা হয়েছিল। এসব ক্লাসে ভাষা বলতে, পড়তে এবং লিখতেও শেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বলাবাহুল্য কোনো কোনো অভিবাসী ফার্সি ভাষা এতোটাই ভালোভাবে আয়ত্ত করেছিলেন যে তাঁরা এ ভাষায় বহু মূল্যবান অনেক লেখালেখিও করে গেছেন। গদ্য এবং পদ্যে তাঁদের সেসব লেখালেখি এখন ইরানী সাহিত্যের এক সমৃদ্ধ অধ্যায় হয়ে আছে। শেখ বাহায়ি সেইসব লেখকদেরই একজন।

 

সাফাভিদের আমলে সাহিত্য, চিকিৎসাবিদ্যা, ঔষধতৈরি ইত্যাদির মতো বিভিন্ন বিষয়ের চর্চার পাশাপাশি বিচিত্র শিল্প এবং সামরিক অস্ত্রশস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে যেমন উন্নয়ন ঘটেছিল তেমনি প্রশাসনিক কাঠামোর ক্ষেত্রেও ঘটেছিল ব্যাপক উন্নয়ন। শাহ তাহমসেবের সময়ে কবিতা ও সাহিত্যকর্মে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রভাব পড়েছে। শোকগাথা এবং শোকগীতি ধরনের সাঙ্গীতিক চর্চার একটা ধারা গড়ে উঠেছিল এ সময়। তবে শোকগীতি কবিতার মূল বিষয় ছিল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নবীজির পবিত্র আহলে বাইতের মহান সদস্যদের কীর্তির প্রশংসা কেন্দ্রিক। উদাহরণ স্বরূপ মুহতাশিম কাশানি’র কসিদার কথা উল্লেখ করা যায়। তিনি যেসব শোক গীতি লিখেছেন সেগুলো ছিল কারবালার ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিকে নিয়ে। সে সময় আসলে সকল কবিই কারবালার ঘটনাকে নিয়েই শোকগাথা রচনা করেছেন। কারবালায় নবীজির আহলে বাইতের মহান সদস্য হযরত ইমাম হোসাইন (আ)সহ যাঁরা নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেছিলেন, তাদের সেইসব ট্র্যাজিক বর্ণনাই ছিল শোকগাথার মূল উপজীব্য।

 

সাফাভি বাদশারা শিয়া মাজহাবের বিস্তার ঘটানোর জন্যে শিয়া আলেম ওলামাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় যতোটা গুরুত্ব দিয়েছিলেন, ততোটাই গুরুত্ব দিয়ে তাঁরা ধর্মীয় বা মাজহাবি শিক্ষাদীক্ষা প্রসারের আয়োজন করতে গড়ে তুলেছিলেন অসংখ্য ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ইরানে যেসব শিয়া আলেম ওলামা এসেছিলেন তাঁরা শিরায, তাব্রিয, কাযভিন, মাশহাদ, কোম এবং ইস্ফাহানে বসবাস করতেন এবং সাফাভি শাসকগণ এইসব শহরে অসংখ্য মসজিদ মাদ্রাসা স্থাপন করেছিলেন। ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আলেমদের কর্মতৎপরতার সুবাদে শিয়া মাজহাবের শিক্ষাদীক্ষাগুলোর বিস্তার ঘটতে শুরু করে। এই কালপর্বে তাফসিরে কোরআন, হাদিস শাস্ত্র, ফিকাহ, উসূলে ফিকাহ, এলমে কালামের মতো ইসলামী জ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোর চর্চা ব্যাপকভাবে চলতে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই এসব বিষয়ে বড়ো বড়ো বিদ্যান যেমন গড়ে ওঠে তেমনি অনেক মূল্যবান বইপুস্তকও রচিত হয়। সাফাভি আমলেই মির্দামাদ, মোল্লা সাদরা শিরাযি এবং তাঁদের ছাত্রদের দর্শন চর্চার ধারা ব্যাপকতা লাভ করেছিল। চিকিৎসাবিদ্যাও ব্যাপকভাবে চর্চা হয়েছিল এ সময়। অপারেশান করা বা ঔষধ বিজ্ঞান নিয়েও চর্চা হয়েছিল।

 

সাফাভি শাসনামলে স্থাপত্যশিল্পের ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছিল। উন্নয়নের মাত্রাটি পরিমাপ করা যাবে একটিমাত্র প্রবাদ থেকে। ‘ইস্ফাহান নেসফে জাহান’-অর্থাৎ ইস্ফাহান হচ্ছে বিশ্বের অর্ধেক। তার মানে ইস্ফাহান দেখা হলে বিশ্বের অর্ধেক দেখা হয়ে যাবে। সারা বিশ্বে দেখার মতো যা কিছু আছে তার অর্ধেকই ইস্ফাহানে রয়েছে-এইরকম প্রবাদ থেকেই অনুমান করা যায় সাফাভি আমলে কতোটা উন্নতি ঘটেছিল ইস্ফাহানের।#

২ মে (রেডিও তেহরান): গর্ভবতী যে সব মা অতিমাত্রায় তেল-চর্বি-চিনিযুক্ত খাবার বা জাংক ফুড খেয়ে থাকেন তাদের সন্তানদের মধ্যেও এ জাতীয় খাবার গ্রহণের প্রবণতা সৃষ্টি হয়। অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

অ্যাডেলেইড বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সংক্রান্ত গবেষণা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, সন্তান গর্ভে থাকার সময় বা সন্তানকে বুকে দুধ খাওয়ানোর সময় যে সব মা জাংক ফুড খান তার সন্তানের দেহ ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে দেন।
খাবার খাওয়ার পর দেহ আমাদেরকে ক্ষুধা নিবারণ হওয়ার ও স্বস্তি পাওয়ার কথা জানিয়ে দেয়। কিন্তু যে সব মা অতি মাত্রায় তেল-চর্বি-চিনিযুক্ত খাবার খেয়েছেন একই স্বস্তি পাওয়ার জন্য তাদের সন্তানদেরও অতি মাত্রায় চর্বি বা চিনিযুক্ত খাবার খেতে হয়। এ ছাড়া এ সব সন্তানের মধ্যে অতি ভোজনের প্রবণতাও সৃষ্টি হয় বলে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন।

 

অতিমাত্রায় তেল-চর্বি-চিনিযুক্ত খাবার খেলে শিশুর ওপর তা কি ধরণের বিরূপ প্রভাব পরে সে বিষয় এই প্রথম কোনো গবেষণা হলো। এ গবেষণার আলোকে, অনাগত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেক মা খাদ্য গ্রহণের বিষয় সতর্ক হয়ে উঠবেন বলে স্বাভাবিক ভাবেই আশা করা যায়।

 

রেডিও তেহরান/সমর/২

পবিত্র কোরানের সুরা মু'মেনুনের ৭২ নম্বর আয়াতে আরবি খারাজ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এ আয়াতে শব্দটিকে পারিশ্রমিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফসলের মাঠ  থেকে উতপাদিত পণ্যের ওপর নির্ধারিত খাজনাকে খারাজ হিসেবে উল্লেখ করা হতো। প্রথম থেকে ষষ্ঠ হিজরি পর্যন্ত মুসলিম ভূখণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উত্‌স ছিল 'খারাজ'।

 

ইসলামের প্রাথমিক যুগে নতুন নতুন ভূখণ্ড ইসলামী শাসনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে মুসলিম সরকারের জন্য শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ সময় বিশাল মুসলিম সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য খলিফাদের বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া, নতুন নতুন প্রদেশ স্থাপিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রদেশের নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে সেনাবাহিনী গঠন করা হয়। বিশাল এ সৈন্যবাহিনীর ভরণ-পোষণের জন্য খলিফারা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সমৃদ্ধ হওয়ার দিকে মনযোগী হন।

 

আমরা আগেই উল্লেখ করেছি পবিত্র কোরানে পারিশ্রমিকের প্রতিশব্দ হিসেবে খারাজ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। ধারণা করা যায়, মুসলমানরা ইরান অধিগ্রহণ করার পর ইরানিদের কাছ থেকে খারাজ সংগ্রহের পদ্ধতি পাকাপোক্তভাবে শিখেছিল। ফসলের জমিতে কৃষিকাজের মাধ্যমে উত্‌পাদিত পণ্যের ওপর যে খাজনা বসানো হতো, তারই নাম ছিল খারাজ। ওদিকে মক্কায় আল্লাহর ঘর কাবা'র অবস্থানের কারণে ঐতিহাসিকভাবে সেখানে একটি নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। কাজেই মক্কাকে কেন্দ্র করে একটি ব্যবসায়ী শ্রেণী গড়ে উঠেছিল এবং মক্কা নগরী হয়ে উঠেছিল বণিকদের জন্য কেনা-বেচার একটি উপযুক্ত স্থান। বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মাদ (সা:)-এর নেতৃত্ব একটি ফেডারেল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর কৃষিপণ্যের ওপর খাজনা বা খারাজ বসানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এখানে বলে রাখা ভালো যে, ইসলামের আবির্ভাবের আগে কখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে খারাজ সংগ্রহের প্রচলন ছিল না।

 

আরব ভূখণ্ডে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইরান জয় করার আগ পর্যন্ত খারাজ পদ্ধতি ছিল অনেকটা এরকম- একটি কৃষিজমিতে উত্‌পাদিত পণ্যের অর্ধেক পেত রাষ্ট্র এবং বাকি অর্ধেক ফসল উদপানকারী কৃষককে দেয়া হতো। রাসূলুল্লাহ (সা:) মুসলিম ভূখণ্ডের উর্বর ভূমিগুলোর জন্য এ পদ্ধতি চালু করেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগের প্রখ্যাত ফকীহগণ এ ধরনের জমিকে রাষ্ট্রের সম্পদ বলে অভিহিত করেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, ইসলামী রাষ্ট্রের অর্জিত সম্পদকে এ সময়ে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। একটি অভ্যন্তরীণ আয় যা আসতো খারাজ থেকে এবং দ্বিতীয়টি ছিল বাহ্যিক বা বৈদেশিক আয় যা আসতো নতুন নতুন ভূখণ্ড জয় করার পর গণিমত হিসেবে।

 

তবে নতুন ভূখণ্ড জয় হতে হতে গণিমতের সম্পদ এত বেশি আসতে থাকে যে তা অভ্যন্তরীণ সম্পদের চেয়ে অনেক গুণ বেশি হয়ে যায়। ফলে খারাজের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ এবং নগরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে অর্জিত অর্থ- গণিমতের সম্পদের নীচে চাপা পড়ে যায়। এরপর মুসলিম ভূখণ্ডে বসবাসরত অমুসলিমরা নিরাপদে বসবাস করার স্বার্থে যে আয়কর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে শুরু করলো তার নাম দেয়া হলো জিজিয়া কর। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তাদের লভ্যাংশের শতকরা ১০ ভাগ হারে আয়কর গ্রহণ শুরু হলো যার নাম ছিল উশরিয়াহ। ইসলামী শাসনামলে এগুলো ছিল রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান কয়েকটি উত্‌স।   

 

আমরা আগেই বলেছি, তৃতীয় খলিফার শাসনামলে ইরান জয় করার পর মুসলমানরা সম্পদ অর্জনের খারাজ পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হয়। খেলাফতের পক্ষ থেকে বিশাল এ সম্পদ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে সবার আগে তিনি ইসলামী আইনের আওতায় এটিকে হালাল করার দিকে মনযোগী হন। কারণ, তখনকার যুগে আরব ভূখণ্ডের বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে পরিচিত ছিল না এবং এ কারণে অনেক উর্বর জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এভাবে পরিত্যক্ত থাকার কারণে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এসব জমির কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান এ সমস্যার সমাধানের জন্য সাহাবীদের পাশাপাশি গোত্র প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে এসব কৃষিজমিতে আবাদ করার সিদ্ধান্ত হয় এবং আবাদি জমি থেকে বিপুল অঙ্কের খারাজ অর্জিত হতে থাকে।

 

কৃষিজমিতে উতপাদিত পণ্যের ওপর খাজনা বা খারাজ আদায় একটি জটিল প্রক্রিয়া হলেও একইসঙ্গে এটি ছিল মুসলিম শাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এর মাধ্যমে খলিফারা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন। যেমন, কৃষিপণ্যের ওপর খাজনা আদায় করার জন্য ফসল ঘরে ওঠার নির্দিষ্ট সময়ের ওপর নির্ভর করতে হতো। আগের একটি আসরে আমরা বলেছি, মুসলিম শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার সুবিধার্থে বর্ষপঞ্জি বা ক্যালেন্ডারের প্রচলন ঘটানো হয়েছিল। কিন্তু হিজরি সাল চাঁদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে প্রতি বছর বর্তমানের সৌরবছরের চেয়ে ১০ বা ১১ দিন করে কমে যেত। এর ফলে আরবি মাস অনুযায়ী খারাজ আদায় করতে গিয়ে দেখা গেল, এখনো ফসল কৃষকের ঘরেই ওঠেনি। এ বিষয়টি কৃষকদের জন্য মহাসমস্যা হয়ে দেখা দিল। এ সমস্যা সমাধানের জন্য দেখা দিল এমন এক পদ্ধতি উদ্ভাবনের যার ফলে খারাজ আদায়ে কোন সমস্যা হবে না। এ প্রয়োজনীয়তা থেকে সময় গণনার জন্য একটি ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার শুরু হলো যার নাম দেয়া হলো খারাজি।

 

ধীরে ধীরে মুসলিম সাম্রাজ্য বিস্তৃত হওয়ার ফলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও জটিলতর হতে থাকে। এ কারণে খারাজ পদ্ধতিতে খাজনা আদায় অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে উদ্ভাবিত হয় নতুন পন্থার যার নাম দেয়া হয় ইক্‌তাহ। তবে গোঁড়ার দিকে ইক্‌তাহ ও খারাজ একইসঙ্গে চলতে থাকে এবং ধীরে ধীরে ইকতাহ'কে খারাজের স্থলাভিষিক্ত করা হয়। খারাজ পদ্ধতিতে রাষ্ট্র কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি খাজনা আদায় করতো। কিন্তু ইকতাহ পদ্ধতিতে বহু কৃষকের খাজনা আদায়ের জন্য এক বা একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হলো। রাষ্ট্র এক বা একাধিক বছরের জন্য এসব কৃষিজমি নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দিত। ওই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগারে খাজনা জমা দিত। কালক্রমে মুসলিম ভূখণ্ডের প্রত্যন্ত এলাকায় খারাজ পদ্ধতির বদলে ইকতাহ চালু হয়ে যায়। ওসমানীয় সাম্রাজ্যের পুরোটা জুড়ে এবং ইরানে সাফাভি আমলের শেষদিকে ও কাজার শাসনামলে ইকতাহ পদ্ধতিতে খাজনা আদায় করা হতো।

 

মুসলিম সাম্রাজ্যে খারাজ পদ্ধতিকে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার জন্য একটি সচিবালয় গঠন করা হয় যার নাম দেয়া হয় দিওয়ানে খারাজ। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে আরবি ভাষার ওপর খারাজ ব্যাপক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়। অনেক মুসলিম আলেম বিশেষ করে শিয়া আলেমগণ খারাজের ওপর বহু গবেষণামূলক কাজ করেন। এ সম্পর্কে সবচেয়ে পুরনো যে গবেষণামূলক গ্রন্থটি পাওয়া যায় তার লেখক ছিলেন আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম বিন হাবিব কুফি। হিজরি ১৮২ সনে তার গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া শিয়া আলেমদের মধ্যে সর্বপ্রথম খারাজের ওপর বই লেখেনে আবু জাফর কাদামাহ বিন জাফর। তার বইটি ৩২০ হিজরিতে প্রকাশিত হয়। সেইসঙ্গে মোকাদ্দেস আরদাবিলি ও মোহাক্কেক কারাকিও খারাজ বিষয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, শিয়া ফকীহগণ সাধারণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে বিশেষ করে খারাজ বিষয়ে ব্যাপক সচেষ্ট ছিলেন।#

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ল্যান্সেট অনকোলজি নামের সাময়িকীতে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। ব্রাজিলের সাও পাওলোতে বিশেষজ্ঞদের সম্মেলন উপলক্ষে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

 

এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্রাজিলে আমেরিকা ও ইউরোপের তুলনায় ক্যান্সারের প্রকোপ কম হলেও ক্যান্সারে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। ক্যান্সার নির্ণয়ে দেরি হওয়া ও সঠিক চিকিতসার অভাবেই মূলত লাতিন আমেরিকায় এ সব মৃত্যু ঘটে।

 

বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরো বলেছেন, লাতিন আমেরিকায় গড় আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সারের আরো বিস্তার ঘটবে। এ এলাকার অনেক দেশই তখন এ রোগ সামাল দিতে পারবে না।


এতে আরো বলা হয়, লাতিন আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান বাড়ছে। একই সঙ্গে অধিকতর উন্নত দেশগুলোর মতো দৈহিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের মতো কূপ্রবণতা বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা, ধূমপান ও মদপানের মতো বদ অভ্যাসগুলো। এ ছাড়া, বিনা কারণে রোদে যাওয়া ও ঘরের ভেতর কাঠ বা কয়লার মতো নিরেট উপাদান পুড়িয়ে দূষণ সৃষ্টিও চলছে অব্যাহতভাবে।

 

গবেষকরা বলছেন, লাতিন আমেরিকায় প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ১৬৩ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। একই সংখ্যক মানুষের মধ্যে আমেরিকায় ৩০০ এবং ইউরোপে ২৬৪জন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। কিন্তু এ সত্ত্বেও লাতিন আমেরিকায় মৃত্যুর হার অনেক বেশি। লাতিন আমেরিকায় ২২ জন ক্যান্সার রোগীর মধ্যে ১৩ জন মারা যান। অথচ আমেরিকায় ৩৭ এবং ইউরোপে ৩০ জন রোগীর মধ্যে মারা যায় ১৩ জন।

 

গবেষকদের হিসেব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারাবিয় অঞ্চলে অন্তত ১৭ লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হবেন এবং এদের মধ্যে প্রাণ হারাবেন ১০ লাখ মানুষ। এখনই সতর্ক না হলে লাতিন আমেরিকার জনগোষ্ঠী ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়বে  বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।#

 

রেডিও তেহরান/সমর/২৭

২৫ এপ্রিল (রেডিও তেহরান) : দৈনিক এক বোতল বা তার চেয়ে বেশি কথিত কোমল পানীয় যারা খাচ্ছেন এবার তাদের সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। চিনিতে ভরপুর এ সব কথিত কোমল পানীয় গ্রহণের সঙ্গে শেষ জীবনে ডায়াবেটিস হওয়ার যোগসূত্র রয়েছে বলে নতুন এক চিকিতসা সমীক্ষায় দেখা গেছে। ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের পরিচালিত এ সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ডায়াবেটোলজিয়া নামের একটি স্বাস্থ্য সাময়িকীতে।

 

এতে বলা হয়েছে, মাসে যারা এক বোতল বা তার চেয়ে কম কোক-ফানটা-পেপসি অর্থাত কথিত কোমল পানীয় পান করেন তাদের তুলনায় যারা দৈনিক কোমল পানীয় পান করেন না তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা পাঁচ গুণ বেশি। আমেরিকায় এর আগে এ সব কথিত কোমল পানীয় নিয়ে গবেষণায় যে সব ফলাফল পাওয়া গেছে তার সঙ্গে নতুন সমীক্ষার ফলাফলের মিল রয়েছে। নতুন এ সমীক্ষা চালানো হয়েছে, ব্রিটেন, জার্মানি, ডেনমার্ক, ইতালি, স্পেন, সুইডেন, ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডে।

 

খাদ্য ও ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজে বের করার জন্য মূলত এ সমীক্ষা চালানো হয়। এ চিকিতসা সমীক্ষা চালানোর জন্য সাড়ে তিন লাখ ব্যক্তিকে তাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নানা প্রশ্ন করা হয়।


সমীক্ষার ফলাফলে বলা হয়, চিনিযুক্ত কোমল পানীয় গ্রহণ করলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়ে। প্রতিদিন এক বোতল কোমল পানীয় গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশংকাও আরো বাড়ছে বলে এ সমীক্ষায় দেখা গেছে। এ কথাগুলো তুলে ধরেন নতুন এ সমীক্ষার প্রধান গবেষক লন্ডন ইমপেরিয়াল কলেজের ডোরা রোমগুয়েরা।

 

অবশ্য, বিশুদ্ধ ফলের রস গ্রহণের সঙ্গে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশংকার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি এ গবেষণায়।

 

প্রতিবেদনের উপসংহারে চিনিযুক্ত কোমল পানীয় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে সে বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান ডোরা ও তার সহ গবেষকরা।#

 

রেডিও তেহরান/সমর/২৫