এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সমাজ-সংস্কৃতি

২৬ আগস্ট (রেডিও তেহরান):  গবেষকরা ক্যান্সার কোষকে স্বাভাবিক কোষে রূপান্তরের পদ্ধতি বের করতে পেরেছেন। এতে, ভবিষ্যতে ক্যান্সার চিকিৎসায় বিপ্লব দেখা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

শরীরের স্বাভাবিক কোষের মতই ক্যান্সার কোষ। কিন্তু ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি বা বিভাজন ঘটে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে। এ কথা আমরা সবাই জানি, অন্যান্য প্রাণীর মতোই মানুষের দেহও অসংখ্য ছোট ছোট কোষ দিয়ে তৈরি। এ সব কোষ নির্দিষ্ট সময় পরপর মারা যায় এবং পুরনো কোষের জায়গায় স্থান করে নেয় নতুন কোষ। কোষগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং নিয়মমতো বিভাজিত হয়ে নতুন কোষের জন্ম দেয়।

 

ক্যান্সার বা কর্কটরোগের ক্ষেত্রে দেহ কোষের বিভাজন চলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে। ফলে ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়। একেই টিউমার বলে।

 

মার্কিন খ্যাতনামা মেয়ো ক্লিনিকের গবেষকরা ক্যান্সার কোষকে স্বাভাবিক কোষে রূপান্তর করতে পেরেছেন। গবেষণাগারে এ জন্য স্তন এবং মুত্রথলির ক্যান্সার কোষ ব্যবহার করেছেন মেয়ো ক্লিনিকের গবেষক দলটি। এ রূপান্তর ঘটানোর জন্য কোষকলা পর্যায়ে তুলামূলক ভাবে সহজ হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে গবেষক দলকে। আর এর মধ্য দিয়ে ক্যান্সার কোষ আবার স্বাভাবিক কোষের মতই আচরণ করতে শুরু করেছে বলে তারা দেখতে পেয়েছেন। অর্থাৎ ক্যান্সার কোষ বদলে হয়ে গেছে শরীরের স্বাভাবিক কোষ!

 

গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, মাইক্রো আরএনএএস দেহ কোষের বিভাজন বা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। কোষকে পিএলএকেএইেএ৭ নামের আমিষ উৎপাদনের নির্দেশ দেয় এটি। সঠিক মাত্রায় আমিষটি উৎপাদিত হলেই বন্ধ হয়ে যায় কোষ বিভাজন।

 

ক্যান্সার কোষে সঠিক মাত্রায় থাকে না এ আমিষ। গবেষকরা ক্যান্সার কোষে মাইক্রো আরএনএএস ঢুকিয়ে দেন। তারপর দেখতে পান সঠিক মাত্রায় এ আমিষ উৎপাদিত হচ্ছে ক্যান্সার কোষে। একই সঙ্গে ক্যান্সার কোষের অস্বাভাবিক বিভাজনও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ন্যাচার সেল বায়োলজি’তে এ গবেষণার বিষয়বস্তু প্রকাশিত হয়েছে।

 

গবেষণাগারে মানুষের কোষে এ গবেষণা চালানো হয়েছে। ক্যান্সার চিকিৎসায় এ পদ্ধতি প্রয়োগের আগে আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। কিন্তু তারপরও গবেষকরা মনে করছেন, এর আগে কখনোই ক্যান্সার সারিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এতো ব্যাপক আশাবাদ দেখা দেয় নি।#

 

রেডিও তেহরান/সমর/২৬

১৪ আগস্ট (রেডিও তেহরান): দেহমনের চরম শ্রান্তির কথা অনেকেই বলে থাকেন। বহুমূত্র, হৃদরোগ, থাইরয়েড সমস্যা, আর্থরাইটিসসহ নানা অসুখ  দিনরাত ২৪ ঘণ্টার জুড়ে এমন শ্রান্তির কারণ হতেই পারে। অসুখ এর কারণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ শুনতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

 

কিন্তু সাধারণ ভাবে সব সময় শ্রান্তিবোধকে মোটেও জৈবিক দিক থেকে স্বাভাবিক বলে মনে করেন না বিশেষজ্ঞরা। এ জাতীয় শ্রান্তিবোধ আমাদের জীবনের সবক্ষেত্রে কালো ছায়া ফেলতে পারে। চাকরি, পারিবারিক জীবন, বন্ধু-বান্ধবের সংসর্গসহ জীবনের সব অংশেই প্রভাব পড়তে পারে এর বিরূপ।

 

 

এবারে প্রশ্ন উঠতেই পারে, আচ্ছা এমন শ্রান্তিবোধ থেকে কি নিষ্কৃতি নেই? শ্রান্তির এ জোয়াল কি ঘাড় থেকে নামবে না? সৌভাগ্যক্রমে এমন প্রশ্নের ইতিবাচক জবাবই দিবেন চিকিৎসা-বিশেষজ্ঞরা। কিছু সহজ পদ্ধতি মেনে চললে সীমাহীন এ শ্রান্তিবোধের অন্ধকার বলয় থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব। সম্ভব আবার চাঙ্গা এবং প্রাণবন্ত হয়ে ওঠা। তা ছাড়া,  এ সব পদ্ধতির কোনো কোনোটি অকালে বুড়িয়ে যাওয়াকেও ঠেকাতে পারে।

 

নিচে এ রকম পাঁচটি পদ্ধতি বাৎলে দেয়া হল, মেনে দেখুন উপকার পেতে পারেন। তবে বিজ্ঞ চিকিৎসক যদি আপনাকে কোনো সুপরামর্শ দিয়ে থাকেন তবে তাই মেনে চলবেন। সে ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা মোটেও ঠিক হবে না।

 

সর্বদা তৎপর থাকুন: শ্রান্তিতে আচ্ছন্ন দেহমনে কারোই ব্যায়াম করার ইচ্ছা থাকে না। এটি স্বতঃসিদ্ধ। কিন্তু  অনেক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেহকে তৎপর রাখা হলে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর চাঙ্গা ও চনমনে হয়ে ওঠে। শক্তিতে ভরপুর এবং সতেজ থাকে শরীর। সাইকেল চালান, দৌড়ান, সাঁতার কাটুন, দ্রুততাল হাঁটুন বা শারীরিক কসরত হয় পছন্দনীয় এমন কিছু করুন। দেখবেন ঝরে গেছে শ্রান্তিবোধ।

 

পর্যাপ্ত পানি খান: পেট্রোল ছাড়া গাড়ি চলে না, ঠিক এক ভাবে পর্যাপ্ত পানির অভাব হলে অচল হয়ে পড়বে দেহ-গাড়ি। পানির টান পড়লে শরীর কেবল শক্তিহীন হয় না; বরং দৈহিক তৎপরতায়ও বিঘ্ন ঘটে।  একই সঙ্গে মানসিক সতর্কতা ঠিলা হয়ে যায়। মন বসানোর ক্ষমতা কমতে থাকে। তাই নিজেকে চাঙ্গা এবং সতেজ রাখতে হলে পর্যাপ্ত পানি খান।

 

পর্যাপ্ত ঘুমান: পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি শ্রান্তিবোধের অন্যতম প্রধান কারণ। এমন ঘাটতি দেহের ক্ষয় বা স্বাস্থ্যহানি ঘটাতেও পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রামের মধ্য দিয়ে দেহ প্রাণশক্তিতে ভরপুর হয়ে উঠবেই।  একই সঙ্গে  আপনি সতেজ এবং সতর্কও থাকবেন দিনভর।

 

দিনে অনেকবার খাবার খান এবং ঠিক খাবার খান: একবারে পেটপুরে খাবার খাবেন না। বরং প্রধান খাবারকে ভাগ করে নিন এবং দিনে কয়েক বার খান। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখার ক্ষেত্রে সাহায্য হবে। এ ছাড়া, নিজের জন্য পূর্ণ শস্যদানা এবং জটিল শ্বেতসার জাতীয় খাবার বেছে নিন। আর হ্যাঁ সকালের নাস্তাকে গুরুত্ব দিন। ঠেসে নাস্তা খেয়ে দিন শুরু করুন। তাতে দিনভর চলার শক্তি জুটবে; দূর হবে শ্রান্তিবোধ। নাস্তাকে এড়িয়ে যাবেন না বা হালকা নাস্তা পারতপক্ষে খাবেন না।#

 

রেডিও তেহরান/সমর/১৮

৮ আগস্ট (রেডিও তেহরান): মহাকবি হাফিজ ও শেখ সাদি'র স্মৃতি-ধন্য ইরানের শিরাজ শহর যকৃত বা লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বিশ্বের শীর্ষ শহরে পরিণত হয়েছে।

 

গত বছর এই শহরের সার্জনরা ৫০০ লিভার প্রতিস্থাপন করেছেন এবং চলতি বছর এই সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে ইরানের হাই ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট কাউন্সিল বা উচ্চ প্রতিস্থাপন পরিষদ জানিয়েছে। 

 

এই পরিষদের সদস্য আলী মালেক হোসাইনি জানিয়েছেন, গড়ে প্রতি বছর শিরাজে ৩০০ লিভার প্রতিস্থাপন বা ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট হচ্ছে। এ ছাড়াও চিকিৎসা বিষয়ক শিক্ষার জন্য বিখ্যাত এই শহরে প্রতি বছর অগ্ন্যাশয় অস্ত্রোপচার এবং অন্যান্য অঙ্গ প্রতিস্থাপনও করা হচ্ছে। ফলে শিরাজ শহর ও এর চিকিৎসকরা এসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন।  

 

শিরাজ চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের প্রধান মালেক হোসাইনি অত্যন্ত উৎসাহ নিয়ে জানিয়েছেন, শিরাজে এ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা বা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশের ছাত্র এবং বিশেষ করে সুদান, তাজিকিস্তান, লেবানন, ইরাক ও সিরিয়ার ছাত্ররা শিরাজে এসে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বলে তিনি জানান। #  

 

রেডিও তেহরান/এএইচ/৮

 

 

 

৩ আগস্ট (রেডিও তেহরান): পালং শাক মাত্রাতিরিক্ত খাদ্যস্পৃহা এবং ক্ষুধাবোধ কমাতে সাহায্য করে। আর এর মধ্য দিয়ে ওজন কমাতে সহায়তা করে পালং শাক।

 

নতুন এক গবেষণায় পালং শাকের এ গুণের কথা উঠে এসেছে। পালং শাকে রয়েছে থাইলোকোয়েড নামের একটি উপাদান। মানব দেহে খাবার গ্রহণের পর যে পরিতৃপ্তির সৃষ্টি হয় তা দেখা দেয় বিশেষ হরমোনের কারণে।  থাইলোকোয়েড এমন হরমোনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়।

 

এ ছাড়া, চর্বি হজমের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে। দুইয়ে মিলে খাদ্যস্পৃহা এবং ক্ষুধাবোধ উভয়ই কমে। এ সংক্রান্ত গবেষণা  নিবন্ধ জার্নাল অব দ্যা আমেরিকান কলেজ অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত হয়েছে।

 

আমেরিকার লুজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের পেনিনংটন বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার এ গবেষণা চালিয়েছে। এ কাজে জড়িত অন্যতম গবেষক ফ্রাংক এল  গ্রিনওয়ে বলেন, খাদ্যস্পৃহা এবং ক্ষুধাবোধ কমাতে সাহায্য করে থাইলোকোয়েড। তাই উচ্চরক্ত চাপ এবং অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে থাইলোকোয়েড।

 

এখানে অবশ্য একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ্য করা প্রয়োজন আর তা হলো, চিকিৎসক যদি কোনো কারণ আপনাকে পালং শাক খেতে নিষেধ করে থাকেন তা হলে এটি পড়ে তা খেতে যাবেন না। আসলে গবেষণা সংক্রান্ত এ সব খবর কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। তাই খাদ্য বা চিকিৎসা গবেষণা সংক্রান্ত কোনো খবর পড়েই তা পালন করতে মেতে উঠবেন না। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই গ্রহণ করবেন। না হলে মারাত্মক বিপদ দেখা দিতে পারে।#

 

রেডিও তেহরান/সমর/৩ 

২১ জুলাই (রেডিও তেহরান): দিনে সাত চায়ের চামচের বেশি চিনি না খাওয়ার উপদেশ দিয়েছে বিশেষজ্ঞদের একটি দল। ব্রিটিশ সরকারের সায়েন্টিফিক এডভাইজরি কমিটি অন নিউট্রিশন বা এসএসিএন দেশটির চিনি সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা পর্যালোচনার করার পর এ পরামর্শ দিয়েছে।

 

মাত্রাতিরিক্ত চিনি গ্রহণের সঙ্গে দন্তক্ষয়, মুটিয়ে যাওয়া, হৃদরোগ, আন্ত্রিক সমস্যা  এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সম্পর্কের বিষয় পর্যালোচনার পর এ পরামর্শ দেয়া হয়।

 

এতে চার থেকে ছয় বছরের শিশুদেরকে দৈনিক ১৯ গ্রাম বা চায়ের চামচের ছয় চামচ, সাত থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুদের ২৪ গ্রাম বা ছয় চায়ের চামচ এবং ১১ থেকে তদূর্ধ্ব বছর বয়সিদের জন্য ৩০ গ্রাম বা সাত চায়ের চামচ চিনি গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সরাসরি চিনির বদলে যারা সুগার কিউব ব্যবহার করেন তাদের জন্য  হিসাবটিতে বলা হয়েছে, প্রতি সুগার কিউবে এক চায়ের চামচ পরিমাণ চিনি থাকে। 

 

এসএসিএন বলেছে, ক্রম বর্ধমান মুটিয়ে যাওয়া, দন্তক্ষয় এবং ডায়াবেটিস সমস্যা নির্মূল করতে চাইলে এ উপদেশ মানা ছাড়া বিকল্প নেই। #

 

রেডিও তেহরান/সমর/২১