এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সমাজ-সংস্কৃতি

'তোমারে না সৃজিলে প্রভু জগত সৃজিতেন না কভু
সৃষ্টির মূলে যে তুমি এ কথা বলেছেন বিভু।
যতদিন এ দুনিয়া রবে চাঁদ-সূরুয আকাশে হবে
তোমারি নামের বাঁশী বাজিতে রহিবে ভবে।'

 

আজ পবিত্র ১৭ ই রবিউল আউয়াল। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র পবিত্র আহলে বাইতের সদস্যবৃন্দ তথা নিষ্পাপ ইমামদের বর্ণনা অনুযায়ী এই দিনে জন্ম নিয়েছিলেন মানবতার মুক্তির দিশারী এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ ও পূর্ণ মানব বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সা.)। বিশ্বনবী (সা.) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় উপহার। তাঁর শুভ জন্মদিন তাই মানব জাতির জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের দিন এবং এই দিন মুসলমানদের মিলন ও ঐক্যের সবচেয়ে বড় শুভ-লগ্ন। এই মহাখুশির দিন উপলক্ষে সবাইকে জানাচ্ছি অশেষ মুবারকবাদ, মহান আল্লাহর প্রতি জানাচ্ছি অশেষ শুকরিয়া এবং বিশ্বনবী (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি পেশ করছি অশেষ দরুদ ও সালাম।

 

বিশ্বনবী (সা.) ছিলেন মহামানবদেরও শিক্ষক এবং সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ও মহান আল্লাহর সর্বশেষ অথচ সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল। তাঁর পর আর কোনো নবীর আবির্ভাব হবে না এ কারণেই যে মানব জাতির সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও সৌভাগ্যের জন্য যা যা দরকার তার সব নির্দেশনাই তিনি দিয়ে গেছেন এবং তাঁর নির্দেশনাগুলোর যুগোপযোগী ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন পবিত্র ইমামগণ।

 

( উল্লেখ্য, আজ বিশ্বনবী (সা.)'র পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য হযরত ইমাম জাফর আস সাদিক (আ.)'রও শুভ জন্মদিন। তাই এ উপলক্ষেও সবাইকে জানাচ্ছি মুবারকবাদ এবং এই মহান ইমামের প্রতি পেশ করছি অসংখ্য দরুদ ও সালাম। ইসলামী আইনসহ এই মহান ধর্মের নানা দিক বিকশিত হয়েছিল মহান ইমাম হযরত ইমাম জাফর আস সাদিক (আ.)'র মাধ্যমে। তাঁর হাজার হাজার উচ্চ-শিক্ষিত ছাত্রের মধ্যে অনেক উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ও খ্যাতনামা বিজ্ঞানীও ছিলেন। রসায়ন বিজ্ঞানের জনক জাবির ইবনে হাইয়ান ছিল তাঁর ছাত্র। ইমাম আবু হানিফাসহ সুন্নি মাজহাবের কয়েকজন বড় ইমাম ছিলেন এই নিষ্পাপ ইমামের ছাত্র। ইসলামের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ও এ ধর্মকে সাংস্কৃতিক বা চিন্তাগত হামলাসহ সার্বিক ক্ষতিকর দিক থেকে সুরক্ষার জন্য যা যা করার দরকার তার সবই তিনি করেছিলেন। তিনি ৮৩ হিজরির ১৭ ই রবিউল আউয়াল মদীনায় ভূমিষ্ঠ হন। ৩৪ বছর ধরে মুসলিম জাহানের নেতৃত্ব দেয়ার পর ১৪৭ হিজরির ২৫ শে শাওয়াল শাহাদত বরণ করেন। আব্বাসিয় শাসক মনসুর দাওয়ানিকি বিষ প্রয়োগ করে এই মহান ইমামকে শহীদ করে।)

 

বিশ্বনবী (সা.)'র রেখে যাওয়া প্রকৃত শিক্ষাগুলোর সংরক্ষণ এবং তাঁর দিক-নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের মধ্যেই রয়েছে মানব জাতির প্রকৃত মুক্তি। আজ মানব জাতির নানা ধর্ম বা মতের অনুসারী এবং মুসলমানদের মধ্যে যত অনৈক্য, বিভেদ ও নানা ধরনের সমস্যা বা সংকট-এই সব কিছুর মূলেই রয়েছে বিশ্বনবী (সা.)'র প্রকৃত আদর্শ থেকে দূরে থাকা। এমনকি অনেকেই আজো বিশ্বনবী (সা.)'র রেখে-যাওয়া প্রকৃত শিক্ষা ও দিক-নির্দেশনাগুলো সম্পর্কে অবহিত নন।

 

বিশ্বনবী (সা.)'র আবির্ভাব ঘটেছিল মানব জাতির এক চরম দুঃসময়ে যখন বিশ্বজুড়ে বিরাজ করছিল হানাহানি, জাতিগত সংঘাত, কুসংস্কার, অনাচার এবং জুলুম ও বৈষম্যের দৌরাত্ম। নারী জাতির ছিল না কোনো সম্মান। শির্ক ও কুফরির অন্ধকারে গোটা পৃথিবী হয়ে পড়েছিল আচ্ছন্ন। কিন্তু বিশ্বনবী (সা.) তাঁর শুভ জন্মের ৪০ বছর পর নবুওতি মিশন তথা ইসলামের বৈপ্লবিক নানা বাণী নিয়ে অজ্ঞ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং সব ধরনের উন্নত নৈতিক গুণ-বিবর্জিত মূর্তি পূজারী বর্বর আরব জাতির মধ্যে এমন পরিবর্তন সৃষ্টি করেন যে তারা মানব জাতিকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও নৈতিকতাসহ নানা ক্ষেত্রে সবচেয়ে উন্নত সভ্যতা উপহার দিতে সক্ষম হয়।

 


কিন্তু মুসলমানরা নানা দুর্বলতার কারণে এবং বিশেষ করে ইসলামের শিক্ষাকে জীবনের সবক্ষেত্রে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রসহ নানা ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে। গোটা মুসলিম জাহানের বেশির ভাগ অঞ্চলই শিকার হয় পশ্চিমা উপনিবেশবাদের। ফলে ইসলাম আজও বিশ্বের ওপর তার প্রত্যাশিত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। কিন্তু মুসলমানরা যদি আজো ইসলাম ও কুরআনের আসল শিক্ষার পথে ফিরে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচেষ্টা চালায় তাহলে তারা সব অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা থেকে মুক্ত হয়ে আবারো সব দিকে কর্তৃত্বশালী হতে পারবে এবং গোটা মানবতাই পাবে প্রত্যাশিত সার্বিক মুক্তি ও অপার কল্যাণ।


পবিত্র কুরআনে মুসলমানদের বলা হয়েছে, তোমরা আল্লাহর রজ্জু শক্ত করে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে মুসলমানরা এক আল্লাহ, এক বিশ্বনবী (সা.), অভিন্ন কুরআন ও ইসলামের মূল নীতিগুলো মেনে নেয়া সত্ত্বেও সাম্রাজ্যবাদীদের নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পরস্পরের মধ্যে সীসা ঢালা প্রাচীরের মত ঐক্য গড়ে তুলতে পারছে না। অথচ মুসলমানদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টান, ইহুদি ও অন্য অমুসলিমদের সুদৃঢ় ঐক্য লক্ষ্যনীয়। 

 

সালাফি ও ওয়াহাবিরা ইসলামের খাঁটি মতাদর্শ বাস্তবায়নের নামে হত্যা করছে সাধারণ এবং নিরপরাধ মুসলিম নারী-পুরুষ ও শিশুদেরকে। তারা ইহুদিবাদী ইসরাইলসহ ইসলামের প্রধান শত্রুদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুসলমানদের এবং বিশেষ করে ইসলামী ইরান ও হিজবুল্লাহর মত বিপ্লবী, সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী ও ইহুদিবাদ বিরোধী শক্তিগুলোর ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করছে। এমনকি তারা নিহত মুসলিম সেনার বুক চিরে কলিজা খেতেও লজ্জা পায় না। এরা যৌন জিহাদের নামে ব্যভিচারকেও দিচ্ছে বৈধতা! ওয়াহাবিরা ইসলামের নামে প্রচার করছে নানা কুসংস্কার এবং নিচ্ছে নারী-বিদ্বেষী নানা পদক্ষেপ। ইসলামী সংস্কৃতিকে ধ্বংসের জন্য তারা বোমা মেরে গুড়িয়ে দিচ্ছে ইসলামের মহান ব্যক্তিত্বদের পবিত্র মাজার ও নানা স্মৃতি-চিহ্ন। আর সাম্রাজ্যবাদীরাও তাদের সহায়তা করছে যাতে অমুসলিম বিশ্বের মানুষ প্রকৃত ইসলাম থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি এইসব বর্বর ও হিংস্র প্রকৃতির লোকদেরই ইসলামের ধারক-বাহক মনে করে ইসলাম সম্পর্কে বীতশ্রদ্ধ থাকে।


মুসলিম নেতাদের বেশিরভাগই আজ ইসলামের চেয়েও জাতীয়তাবাদকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের অনেকেই মনে করেন পশ্চিমা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই ইসলাম কায়েম করা সম্ভব! অধিকাংশের ঐক্যমত্যের নামে অনেক অদূরদর্শী ও ভুল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যা ছিল পবিত্র কুরআন এবং হাদিসের শিক্ষার সুস্পষ্ট বিপরীত। ইসলামের সবচেয়ে নির্ভুল ব্যাখ্যাদাতা তথা বিশ্বনবী (সা.)'র পবিত্র আহলে বাইতের অনেক সদস্য তথা পবিত্র ইমামদেরকে কোণঠাসা করে বা গোপনে হত্যা করে ইসলামের আলোকে চিরতরে নিভিয়ে দিতে চেয়েছে খলিফা নামধারী একদল রাজা-বাদশাহ।


কথিত খাঁটি ইসলাম প্রচারের নামে সক্রিয় খারিজি এবং ওয়াহাবিদের মত বিভ্রান্ত গোষ্ঠীগুলো সব সময় অন্যদের ওপর জোর করে তাদের মত চাপিয়ে দিতে চেয়েছে। যারাই এক্ষেত্রে বিরোধিতা করতে চেয়েছে তাদের ওপর গণহত্যা চাপিয়ে দিয়ে তারা এক ধরনের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে নানা অঞ্চলে এবং আজো একইভাবে সেই রাজত্ব বিস্তারের পাঁয়তারা করছে।


অথচ বিশ্বনবী (সা.) ছিলেন অন্যদের মতামতের ব্যাপারে সহনশীল। তিনি ছিলেন যুক্তি, মত-বিনিময় বা সংলাপের আদর্শ। মদীনায় যে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাতে অমুসলিমদেরও পরিপূর্ণ নাগরিক অধিকার দেয়া হয়েছিল। নানা গোত্র ও ধর্মের অনুসারীদের সঙ্গে শান্তি-চুক্তির মাধ্যমে তিনি তাদের আপন করে নিয়েছিলেন। ফলে মুসলমানরা তখন অপর মুসলমানকে মনে কত করত ধর্মের ভাই আর অমুসলমানদের মনে করত আদমের সন্তান হিসেবে জ্ঞাতি ভাই। আসলে একটি প্রকৃত ইসলামী রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু বা অমুসলমানরা যতটা নিরাপদ ও সর্বোচ্চ অধিকার পান অন্য কোনো রাষ্ট্রেই অমুসলিম বা সংখ্যালঘুরা এতটা নিরাপদ নন এবং এত বেশি মর্যাদা ও অধিকারও পান না।


বিশ্বনবী (সা.) যে সমাজ-ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন সেখানে ভাষা, বর্ণ, গোত্র বা জাতিগত পার্থক্যের কারণে কারো অধিকার বেশি বা কম ছিল না। বরং খোদাভীরুতাকেই ধরা হত শ্রেষ্ঠত্বের বা মর্যাদার মানদণ্ড। একজন নিঃস্ব কালো বর্ণের ক্রীতদাসও পেত অন্য যে কোনো মুসলমানের মত স্বাভাবিক মর্যাদা এবং খোদাভীরুতার মত যোগ্যতার বলে সে সেনাপতি বা মুয়াজ্জিন হওয়ার মত উচ্চ পদেরও অধিকারী হত। আর এগুলোই হল সব ধরনের ঐক্যের মহাসূত্র যার বাস্তবায়ন আজো মুসলিম সমাজের জন্য অপরিহার্য ও একান্তই জরুরি বিষয়।


পবিত্র কুরআন বলেছে, মুসলমানরা পরস্পরের ভাই। ইসলাম দু-জন মুসলমানের মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে দেয়া এবং তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব জোরদারকে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে। মহানবী (সা.) তাঁর সহনশীলতা, উদারতা ও ক্ষমাশীলতার মাধ্যমে বহু গোত্র এবং বিবাদমান মুসলমানদের মধ্যে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি ফেতনাবাজদের কঠোর হাতে দমন করার শিক্ষাও দিয়ে গেছেন। বিবাদমান দুই মুসলিম গ্রুপের মধ্যে যে ন্যায়বিচারপূর্ণ শান্তির আহ্বানে সাড়া দেবে না, তাকে ফেতনাবাজ হিসেবে ধরে নিতে হবে। যদি উভয় পক্ষই ফেতনা জিইয়ে রাখতে চায় তাহলে উভয় পক্ষকেই বর্জন করতে হবে এবং তাদের কাউকেই সমর্থন করা যাবে না।


বিশ্বনবী (সা.)'র এই আদর্শ অনুসারেই ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী (র.) বলেছেন, যারা শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধাতে চায় তারা শিয়াও নয় সুন্নিও নয়, বরং তারা সাম্রাজ্যবাদের দালাল। তিনি শিয়া ও সুন্নি মাজহাব সমর্থনের নামে এই উভয় মাজহাবের ফেতনাবাজদের বয়কট করার উপদেশ দিয়ে গেছেন।


পবিত্র কুরআন বলেছে, মুহাম্মাদের প্রকৃত সঙ্গী বা অনুসারীরা পরস্পরের প্রতি দয়ার্দ্র এবং কাফিরদের প্রতি কঠোর। 

 

ইমাম খোমেনী (র.) বলেছেন, বিশ্বের মুসলমানরা যদি এক হয়ে এক বালতি করে পানি ঢালেন তাহলে ইসরাইল ভেসে নিশ্চিহ্ন হবে। অথচ দুঃখজনকভাবে কোনো কোনো মুসলিম নামধারী সরকার ইসরাইলের সঙ্গে গোপনে হাত মিলিয়ে ইরানসহ ইসলামী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। 

 

বিশ্বনবী (সা.) মদীনা সনদ লঙ্ঘনের দায়ে এবং ঐক্যের চুক্তি লঙ্ঘন করে মুশরিকদের সঙ্গে গোপন আঁতাতের আওতায় মুসলমানদের ক্ষতি করার বা তাদেরকে নির্মূল করার ষড়যন্ত্র করার কারণে মদীনার বিশ্বাসঘাতক ইহুদিদের শাস্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে যারা ছিল মুনাফিক বা বর্ণচোরা তাদের সঙ্গে বাহ্যিক সম্প্রীতির সম্পর্ক রক্ষা করতে হয়েছিল মহানবী (সা.)-কে। অবশ্য এই মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র ফাঁস হওয়ার পর তিনি তাদের কঠোর শাস্তি দিতেন। তিনি মুনাফিকদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত 'জেরার মসজিদ' নামের মসজিদ পর্যন্ত ভেঙ্গে দিয়েছিলেন। তাই বর্তমান যুগের মুসলিম নামধারী মুনাফিকদের ব্যাপারেও আমাদের একই ধরনের নীতি বজায় রাখতে হবে। 

 

বিশ্বনবী (সা.)  হিজরতের পর মদীনার আনসার ও  মক্কা থেকে আসা মুহাজিরদেরকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন। তিনি প্রত্যেক মুহাজির ও আনসারকে  একে-অপরের জন্য ভাই বেছে নিতে বলেন এবং প্রতি একজন আনসার একজন মুহাজিরের সঙ্গে তাদের ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধনের জন্য শপথ নেন। অবশ্য বিশ্বনবী (সা.) নিজের জন্য ভাই হিসেবে বেছে নেন হযরত আলী (আ.)-কে। ইসলামী ঐক্যের এক বড় শিক্ষা রয়েছে এই ঘটনায়।    


একবার মদীনার মসজিদে নববীতে এক মজলিসে কুরাইশ বংশের একদল গণ্যমান্য মুসলমান নিজ নিজ বংশ ও গোত্রীয় আভিজাত্য নিয়ে বড়াই করছিল। সেই আসরে যখন হযরত সালমান ফার্সির কথা বলার পালা এল তখন বিশ্বনবী (সা.)'র প্রচারিত ইসলামের খাঁটি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত এই সাহাবি সবিনয়ে বলেন: 'আমার নাম সালমান। আমি আল্লাহর একজন দাসের পুত্র। আমি ছিলাম বিভ্রান্ত। মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ (সা.)'র মাধ্যমে আমাকে সুপথ দেখিয়েছেন। আমি ছিলাম দরিদ্র, আল্লাহ মুহাম্মাদ (সা.)'র উসিলায় আমাকে অভাবমুক্ত করেছেন। আমি ছিলাম একজন দাস, মুহাম্মাদ (সা.)'র মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে মুক্ত করেছেন। আর এটাই হল আমার মূল শেকড় ও বংশের পরিচয়।'


এ ঘটনার পর সেখানে আসেন বিশ্বনবী (সা.)। তিনি সালমান (রা.)'র কাছ থেকে পুরো ঘটনা শুনে বললেন: 'হে কুরাইশ! রক্তের আভিজাত্যটা আবার কি? বংশ মানে কি? কারো গর্ব করার মত বংশীয় বা ব্যক্তিত্বের দিকটি হল তার ধর্ম। কারো পৌরুষত্ব বা আভিজাত্য হল তার উন্নত স্বভাব-চরিত্র ও সত কাজের আধিক্য।'


এভাবে বিশ্বনবী (সা.) মিটিয়ে দিয়েছিলেন জাতিগত গরিমা বা বংশীয় ভেদাভেদের সীমারেখা। আজো কেবল ইসলামের ধর্মীয় বন্ধনই পৃথিবীর দুই প্রান্তে অবস্থিত বা দূরতম অঞ্চলে অবস্থিত মুসলমানের মধ্যে ঐক্য ও সংহতির একমাত্র কার্যকর বন্ধন। একমাত্র ভ্রাতৃত্বের চেতনার কারণেই নানা অঞ্চলের এবং নানা ভাষা ও জাতিগত পরিচিতির অধিকারী মুসলমানরা পরস্পরের সুখ ও দুঃখে প্রভাবিত হয়। সুদূর আমেরিকা থেকে শুরু করে, আফ্রিকার সুদান, ইউরোপের কোসোভো বা বসনিয়া, এশিয়ার কাশ্মির, ফিলিস্তিন, মিয়ানমার কিংবা ইরান, ইরাক ও আফগানিস্তানের ভৌগলিক দূরত্ব এবং ভাষা ও বর্ণের ব্যবধান মুসলমানদের এই ঐক্য আর ভ্রাতৃত্বের পথে কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। আর ইসলামী আদর্শই যদি হয় মুসলমানদের ঐক্যের মূল সূত্র তাহলে তাদের কখনও হতাশ হওয়া উচিত হবে না। কারণ, সব সংকটে সকল সড়কে ঘূর্ণাবর্তে ও বজ্রকড়কে প্রলয়-তুফানে ঝঞ্জাবর্তায় শহীদি রক্তে বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.)'র আদর্শ নিয়েই আমাদেরকে আঁকতে হবে মুক্তির ছবি। মিয়ানমারসহ বিশ্বের নানা অঞ্চলের নিপীড়িত মানুষরা আজও হয়তো সেই বুক-ভরা আশা নিয়েই বলেছেন:

 

এখানে এখন রাত্রি এসেছে নেমে,
এখানে এখন প্রবল ক্ষুধায় মানুষ উঠেছে কেঁপে,
এখানে এখন অজস্র ধারায় উঠেছে দু' চোখ ছেপে
তবু দেখা যায় দূরে বহুদূরে হেরার রাজতোরণ। #

মানুষের দেহের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি রাসায়নিক উপাদান থাইরয়েড হরমোন। এ হরমোনের অভাব বা আধিক্য দু’টোই  দেহে ডেকে আনতে পারে মারাত্মক অসুখ-বিসুখ। এ বিষয়ে আলোচনা করবেন ঢাকার বারডেম হাসপাতালের হরমোন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ।

আমরা কম বেশি সবাই জানি- এক জাতীয় পরজীবীর নাম কৃমি এবং এ সব পরজীবী মানুষের অন্ত্রে বাস করে। কোনো কোনো কৃমি ডিম্বাণু হিসেবে মানুষের মুখ দিয়ে মানুষের শরীরে করে। আর কোনোটি কোনোটি লাভা হিসেবে ত্বকের মাধ্যমে ঢোকে।

 

এ পরজীবীর সবচেয়ে মারাত্মক শিকার হলো শিশুরা। আজ শিশুদের কৃমি ও তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা হবে। আর এ বিষয়ে আলোচনার করেছেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সালাউদ্দিন বাবলু।

১৯৬০ এর দশক থেকে মুসলমানরা তুরস্ক থেকে জার্মানিতে হিজরত বা অভিবাসন করেন এবং মুসলমান সমাজ গঠন করেন। এখন সেখানে মুসলমানদের সংখ্যা চল্লিশ লাখের মতো। মুসলমানরা জার্মানিতে বহু মসজিদ, ইসলামী সংস্থা এবং ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। হামবুর্গে ইসলামিক সেন্টারের মতো মিউনিখ এবং আঁচে’তেও বিভিন্ন সংস্থা গড়ে উঠেছে। জার্মানিতে তৎপর এইসব ইসলামিক সেন্টারের কার্যক্রমগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তুরস্ক থেকে আসা মুসলমানরাই চালিয়ে থাকে। তুরস্কের ইসলামপন্থী দলগুলো সেদেশে সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার উপযুক্ত ক্ষেত্র না পেয়ে তারা তুরস্কের বাইরে চলে যায় এবং তাদের কর্মতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করে। বিশেষ করে তারা ইউরোপের দিকে যেতে পছন্দ করতো। এভাবেই তারা জার্মানি চলে যায় এবং নিজ দেশে কাজের উপযুক্ত ক্ষেত্র না পেয়ে বাধ্য হয়ে তারা জার্মানিতে তাদের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করে।

 

জার্মানিতে তাদের এরকম কার্যক্রম পরিচালনার একটি প্রতিষ্ঠান হলো ‘গোরুশ’ জাতীয় সংস্থা। ইরানেও ইসলামী বিপ্লবের বিজয় জার্মানিতে তৎপর ইসলামী দল ও সংস্থাগুলোর ভেতরে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিল। মুসলমানদের কর্মতৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক ছিল তাদের সন্তানদেরকে ইসলামী শিক্ষাদীক্ষা দেওয়া। জার্মানিতে মুসলমান ছাত্রদের শতকরা নব্বুই ভাগ ইসলামী শিক্ষার ক্লাসগুলোতে যায় এবং শতকরা পঞ্চাশ ভাগ ছাত্র অংশ নেয় কুরআন শিক্ষার ক্লাসে। জার্মানির স্থানীয় মুসলমানরা বিশেষ করে যুবক শ্রেণী সেদেশে ইসলামী সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জার্মানির একজন খ্যাতিমান মুসলিমের নাম হলো মুরাদ বেলফার্ড হফম্যান। তিনি মরক্কোতে জার্মানির রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। মুসলমান হবার পর তিনি জার্মানির সমাজে ইসলামকে পরিচিত করানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

 

বেলজিয়ামের মোট জনসংখ্যার সাড়ে তিন ভাগই ছিলো মুসলমানরা।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তারা উত্তর আফ্রিকা এবং তুরস্ক থেকে এই দেশে হিজরত করে। ১৯৭০ সালের প্রথম দশকগুলোতে ব্রাসেললে সর্বপ্রথম মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৯৮০ সালের শেষ নাগাদ ৩০০ মসজিদ এবং হোসাইনিয়া তৈরি হয়েছিল বেলজিয়ামে। বেলজিয়ামের মুসলমানরা প্রধানত মিশরের ইখওয়ানুল মুসলেমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুড এবং মুসলিম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের কাছ থেকে প্রেরণা লাভ করেছে।

 

হল্যান্ডেও ১০ লাখের মতো মুসলমান রয়েছে। এই সংখ্যা হল্যান্ডের মূল জনসংখ্যার ছয় ভাগ। এখানকার মুসলমানরাও উত্তর আফি্রকা এবং তুরস্ক থেকে এসেছে। ১৯৭৯ সালে হল্যান্ডে তুর্কিদের সাংস্কৃতিক ফেডারেশন প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে ইসলামী বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলার ধারা সৃষ্টি হয়। মসজিদসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ইসলামিক সেন্টার এতো বেশি গড়ে ওঠে যে ১৯৮০’র দশকে সেখানে মসজিদের সংখ্যা দাঁড়ায় পঞ্চাশে। হেগের মুসলমানরা মুসলিম তথ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে সেখান থেকে ‘কেবলা’ নামক ম্যাগাজিন ছাপেন। এই কেবলা ইসলামী আদর্শ ও বিধি বিধানগুলোর প্রচার প্রসারে নানামুখি প্রভাব ফেলেছিল। 

 

ইউরোপের একটিমাত্র দেশ আলবেনিয়া, যেখানে পুরো জনসংখ্যার সত্তুর ভাগই হলো মুসলমান। বলকানের ওপর ওসমানী আধিপত্যের সময় তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এদিক থেকে আলবেনিয়ার মুসলমানদের ভিত যথেষ্ট মজবুত। সেখানে কমিউনিজমের পতনের ফলে ধর্মীয় বা মাযহাবি কর্মকাণ্ড পরিচালনার উন্মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। সাবেক যুগোস্লাভিয়াতেও ত্রিশ লাখেরও বেশি মুসলমান বসবাস করতেন। দেশটি ওসমানী সাম্রাজ্য থেকে বেরিয়ে আসার পর ব্যাপক চাপের মুখে পড়ায় বেশিরভাগ মুসলমানই তুরস্কে চলে গিয়েছিল।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পর মুসলমানরা তরুণ মুসলিম বহু সংস্থা গড়ে তুলেছিল। আলহেদায়া এবং মারহামাত নামের দুটি যুব সংগঠন চেষ্টা করেছিল বসনিয়া এবং হার্জেগোভিনার মতো দেশ দুটোর আদলে স্বাধীনতা অর্জন করতে। কিন্তু যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তাদের শক্তি খর্ব হয়ে যায় এবং তাদের নেতাদের কেউ কারাবন্দী হয় আবার কারো বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ হয়। ১৯৬০ এর দশকে যুগোস্লাভিয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে দূরত্ব বজায় রাখার পর এবং জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন গড়ে ওঠার পর যুগোস্লাভিয়ায় মুসলমানদের অবস্থার উন্নতি ঘটে। এ সময় বহু মাদ্রাসা এবং মসজিদ গড়ে উঠেছিল। মুসলিম বিশিষ্ট চিন্তাবিদ আলি ইযযাত বেগোভিচ ইসলামী বিবৃতি প্রকাশ করার পর ইসলামী কর্মতৎপরতা উন্নয়নের দ্বিতীয় পর্যায়ে উন্নীত হয়।

 

ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের ফলেও যুগোস্লাভিয়া সরকার ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিল। তাই ১৯৮৩ সালে বেগোভিচ আরো ১২জন মুসলিম নেতাসহ দীর্ঘ মেয়াদে কারাবন্দী হয়ে পড়েছিলেন। যুগোস্লাভিয়া আলাদা হবার পর বেশিরভাগ দেশ বিশেষ করে সার্বিয়ার মতো দেশ চেষ্টা করেছিল ইউরোপের ভেতর যেন কোনো মুসলিম দেশ গড়ে উঠতে না পারে। এই লক্ষ্যে বসনিয়ার মুসলমানদের ওপর তারা গণহত্যা চালিয়েছিল। এই গণহত্যার ফলে বসনিয় মুসলমানরা উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে বসনিয় মুসলমানদের মাঝে যেমন তেমনি বিশ্ব মুসলমানদের মাঝেও আত্মসচেতনতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

 

আমেরিকায় প্রথম পর্যায়ের মুসলমানরা ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ। দাস ব্যবসার জন্যে তাদেরকে আফ্রিকা থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাদের বেশিরভাগই বাধ্য হয়েছিল নিজেদের নাম পরিচয় পরিবর্তন করতে। এর ফলে সামাজিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কৃষ্ণাঙ্গ আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। এক্স ফ্যামিলি’র পক্ষ থেকে এরকম একটি আন্দোলন দানা বেঁধে উঠেছিল। মালকুল এক্স নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ নেতার নেতৃত্বে আন্দোলনটি গড়ে উঠেছিল। এই আন্দোলনটি ছিল মূলত মার্কিন সমাজে কৃষ্ণাঙ্গদের মর্যাদাহানী করার বিরুদ্ধে এবং তাদের ওপর বিচিত্র জুলুম নির্যাতন চালানোর বিরুদ্ধে এক ধরনের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। তিনি তাঁর নিজ ধর্ম ইসলামের জায়গায় খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। সেইসাথে ফ্যামিলি নেইম ‘লিটল’ তাঁর পছন্দ হচ্ছিল না, কেননা এই নামটি শ্বেতাঙ্গ দাস ব্যবসায়ীরাই তাঁকে দিয়েছিল।

 

১৯৮০’র দশকে বহু মুসলমান আমেরিকায় গিয়েছিল একটা ইসলামী পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে। তাঁরা চেষ্টা করেছিল তাবলিগ বা প্রচারের মাধ্যমে এবং মসজিদ মাদ্রাসা, ছাপাখানা, প্রকাশনাসহ ব্যাংকের মতো অর্থনৈতিক অনেক প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলা হয়েছিল। এসবের পেছনে সবচেয়ে বেশি শ্রম ও মেধা ব্যয় করেছিলেন ভার্সিটি ছাত্ররা। এরপর একের পর এক গড়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক বহু সংগঠন। এমস, এস, এ, মুসলিম ব্রাদারহুড এবং জামায়াতে ইসলামীর মতো সংগঠনগুলো এ সময়ই গড়ে উঠেছিল।#

ক্যাফেইন ঠাসা কথিত এনার্জি ড্রিংকস পানে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন প্রক্রিয়া পাল্টে যেতে পারে। কথিত এনার্জি ড্রিংকস পানের এক ঘণ্টা পর ১৭ ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের ছবি ধারণ করেছেন জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল। তারই ভিত্তিতে এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে এ গবেষক দলটি। এ কথা আমরা সবাই জানি, হৃদপিণ্ড সংকোচন ও প্রসারণের মধ্য দিয়ে দেহে রক্ত প্রবাহিত হয়। কিন্তু এনার্জি ড্রিংকস খাওয়ার পর হৃদপিণ্ডকে সংকুচিত হতে বেশি বল প্রয়োগ করতে হচ্ছে বলে এ সমীক্ষায় দেখা গেছে।


উত্তর আমেরিকার রেডিওলজিকাল সোসাইটির বাতসরিক সভায় গবেষক দলটি তাদের সমীক্ষার এ ফলাফলটি উপস্থাপন করেছে।
এ দলের গবেষক ডা.জোন্স ডোনার বলেছেন, এনার্জি ড্রিংকস নামের এ সব পানীয় হৃদপিণ্ডের ওপর কি প্রতিক্রিয়া ফেলে এর আগে তা নিয়ে সঠিক গবেষণা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, কফি বা কোকাকলার মতো কথিত কোমল পানীয় হিসেবে খ্যাত পানীয়তে যে পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে তার চেয়ে তিনগুণ বেশি পাওয়া থাকে কথিত এনার্জি ড্রিংকসে।

অতি মাত্রায় ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণে নানা সমস্যা হতে পারে বলে জানান ডা.জোন্স ডোনার। তিনি বলেন, এতে হৃৎস্পন্দন দ্রুত হতে পারে, বুক ধড়পড় করতে পারে, বেড়ে যেতে পারে রক্তচাপ এবং মারাত্মক পরিস্থিতিতে অজ্ঞান হওয়া বা মৃত্যুর মতো ভয়াবহ অবস্থাও সৃষ্টি হতে পারে।
ইদানীং তরুণ বয়সীদের মধ্যে এনার্জি ড্রিংকস বাংলাদেশসহ বিশ্বে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বাংলাদেশে বিপণনের চতুর কলা-কৌশল, খাদ্য আইনের দুর্বলতা ও প্রয়োগহীনতা এবং চটকদার,  দায়িত্ব ও নৈতিকতা বিবর্জিত বিজ্ঞাপনই রয়েছে এর মূলে। কথিত পানীয় শিল্পের একটি দ্রুত প্রসারমাণ অংশের প্রতিনিধি হয়ে দাঁড়াচ্ছে এনার্জি ড্রিংকস।

১৪০টি দেশে ২০০ ব্র্যান্ডের এনার্জি ড্রিংক তৈরি হচ্ছে এবং বিশ্বের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী তরুণের ৩১ শতাংশ নিয়মিত এনার্জি ড্রিংকস গ্রহণ করে এর আগের এক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘এত্তো এনার্জি!’ ‘এত্তো এনার্জি!!’ বলে বিজ্ঞাপনে যতই বুলি আওড়াক না কেনো এরপর থেকে কথিত এনার্জি ড্রিংকস সম্পর্কে সবার সতর্ক হওয়া উচিত। জার্মানির গবেষক দলটি বলেছে, শিশু ও হৃদ-স্পন্দনে অনিয়ম আছে এমন  পূর্ণ বয়সী ব্যক্তিদের এনার্জি ড্রিংকস নামের কথিত পানীয় পান না করাই উচিত।
কথিত কোমল পানীয়কেও সবার জন্য নিরাপদ ভাবার কোনোই অবকাশ নেই। ব্রিটিশ কোমল পানীয় সংস্থা এরই মধ্যে বলেছে, তাদের তৈরি পানীয় শিশুদের জন্য নয়!


রেডিও তেহরান/সমর/০২