এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সমাজ-সংস্কৃতি
বুধবার, 25 সেপ্টেম্বর 2013 17:16

মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতি- (৮৬তম পর্ব)

আমরা ভারত উপমহাদেশে ১৮৫৭ সাল পূর্ববর্তী সময়ে উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে যে বিভিন্ন আন্দোলন গড়ে উঠেছিল সেসব নিয়েই কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম। বলেছিলাম যে সংগ্রামী মুসলমানরা সে সময় সাংস্কৃতিক এবং সামরিক বিচিত্র পদক্ষেপের মাধ্যমে চেষ্টা করেছিল ইসলামের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে, ইসলামী চেতনাকে পুনরায় জাগিয়ে তুলতে। আজকের আসরে আমরা ভারত উপমহাদেশে ইসলামী জাগরণ বিশেষ করে ১৮৫৭ থেকে ১৯৪৭ এবং ১৯৪৭ থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত দীর্ঘসময়ের মুসলমানদের আন্দোলনগুলো পর্যালোচনা করার চেষ্টা করবো।

 

১৯৫৭ সালের আগে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের পদক্ষেপগুলোর ফলে ভারতে বিদেশী আধিপত্য ও হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সার্বজনীন অভ্যুত্থানের ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছিল। ইতোমধ্যে ১৮৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত  সময়ে ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের আন্দোলনগুলো ইসলামী জাগরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এই আন্দোলনগুলো অবশ্য দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। একটি ছিল ধর্মীয় আন্দোলন আরেকটি রাজনৈতিক। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে হিন্দু মুসলমানদের রক্তক্ষয়ী উত্থানে অংশ নিয়েছিল ‘আলীগড় আন্দোলন, দেওবন্দ আন্দোলন, নুদওয়াতুল ওলামা আন্দোলন। বৃহৎ এই আন্দোলনগুলোর পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে আরো বহু আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। সেইসব আন্দোলনও  উপনিবেশবাদের মোকাবেলায় এবং ইসলামী জাগরণের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছিল।

 

স্যার সাইয়্যেদ আহমদ খান তাঁর ব্যক্তিগত চিন্তাদর্শের মাধ্যমে আলীগড় আন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন ভারত যেন পিছিয়ে না পড়ে সেদিকে। বিশেষ করে ১৮৫৭ সালের অভ্যুত্থানের ফলে যে রকম চাপের মুখে পড়েছিল ভারতীয় মুসলমানরা তার ফলে তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাবার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। এই পিছিয়ে পড়ার ভয় থেকে মুসলমানদের বাঁচানোর জন্যে স্যার সাইয়্যেদ আহমদ খান ইংরেজি ভাষার নতুন নতুন জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আবার ব্রিটিশদের সাথে দ্বন্দ্ব সংঘাতে জড়ানোর পরিবর্তে তাদের সাথে সহাবস্থান করার কথা বলেছিলেন। স্যার সাইয়্যেদ আহমদ খান ধর্মীয় হোক কিংবা সামাজিক হোক সকল ক্ষেত্রেই নতুনত্বের পক্ষে ছিলেন। পাশ্চাত্য সভ্যতার বিরোধিতা না করে তিনি বরং উপমহাদেশের মুসলমান সমাজের সাথে কীভাবে তাকে সমন্বিত করা যায় সেই চেষ্টায় ছিলেন। তিনি মনে করতেন সেকেলে বা প্রাচীন দৃষ্টিভঙ্গি মুসলমানদের উন্নতি ও অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায়।

 

অবশ্য তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বিশেষ করে পশ্চিমা ঘেঁষা চিন্তা ভাবনার কারণে বহু ব্যক্তি এবং ব্যক্তিত্বের সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন। এমনকি অনেক ঘটনা দুর্ঘটনাও ঘটে গেছে এইরকম চিন্তাভাবনা পোষণ করার ফলে। তাঁর সমালোচকদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন সাইয়্যেদ জামালুদ্দিন আসাদাবাদি। সমালোচনা করা সত্ত্বেও তাঁর অনেক কট্টর বিরোধীও কিন্তু মুসলমানদের জন্যে তিনি যেসব অবদান রেখে গেছেন-বিশেষ করে শিক্ষা দীক্ষার ক্ষেত্রে-সেগুলো অস্বীকার করেন নি। জ্ঞান ও বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে তাঁর শ্রম এবং প্রচেষ্টা সত্যিই অনস্বীকার্য। আধুনিক এই বিজ্ঞানের যুগের ইতিহাসবিদগণও মনে করেন ভারতীয় মুসলমানদের জ্ঞান বিজ্ঞানগত উন্নয়নে স্যার সাইয়্যেদ আহমদ খান কালজয়ী অবদান রেখেছেন।

 

ভারতের ধর্মীয় আন্দোলনগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি আন্দোলনটি ছিল দেওবন্দ আন্দোলন। ১৮৫৭ সালের ঐতিহাসিক বিপ্লবের সময় ব্রিটিশরা বহু মুসলমান বিশেষ করে আলেম ওলামা এবং ধর্মীয় নেতাকে হত্যা করেছিল। আবার অনেক মুসলিম মনীষীকে গ্রেফতার করে বন্দিশালার অন্ধ কোটরে আটকেও রেখেছিল। এ সময়কার গুরুত্বপূর্ণ দেওবন্দ আন্দোলনটি যিনি গড়ে তুলেছিলেন তিনি ছিলেন মুহাম্মদ কাসেম নানুতুভি। তিনি আরো অনেক মুসলিম মনীষীর সহযোগিতায় দেওবন্দ আন্দোলনের সূচনা করেন। এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ইসলামী জাগরণ। দেওবন্দ আন্দোলনের নামটি হয়েছে একটি এলাকার নাম দিয়ে। এই এলাকাটি দিল্লি থেকে নব্বুই মাইল উত্তর পূর্বে সাহরানপুরের পাশে অবস্থিত। ভারতের ধর্মীয় আন্দোলনের নেতা শাহ ইসমায়িলের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দেওবন্দ আন্দোলন গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেন। লক্ষ্য উদ্দেশ্য ছিল ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত করা।

 

ত্রিশ বছর পর্যন্ত দেওবন্দ আন্দোলনের তৎপরতার পর এই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ সক্ষম হয়েছেন সমগ্র ভারত জুড়ে অন্তত চল্লিশটি মাদ্রাসা বা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে। এইসব মাদ্রাসায় শিক্ষকগণ কুরআন, হাদিস, ফিকা, দর্শনের পাশাপাশি আরবি –ফার্সি ভাষাগুলো শেখানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। এইসব মাদ্রাসায় হানাফি ফিকাহর ভিত্তিতেই মাজহাবি শিক্ষা দেওয়া হতো। তবে নতুনত্বকে ইসলাম সম্মত নয় বলে বরণ করার পথ বন্ধ করে দিয়ে এটাকে বলা হতো বিদআত। দেওবন্দ আন্দোলনকারী বা তাদের অনুসারীগণ বিশ্বাস করতেন উপনিবেশবাদীদের কবল থেকে মুক্তি লাভ করার জন্যে প্রাথমিক যুগের ইসলামের দিকে ফিরে যেতে হবে। বিংশ শতকের শুরু থেকে ভারতে রাজনৈতিক তৎপরতার সূচনাকাল পর্যন্ত এই দেওবন্দ আদর্শের অনুসারীরাও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেছিল এবং সমকালীন রাজনীতিতে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ অবদানও রেখেছিল।

 

নাদওয়াতুল ওলামা হচ্ছে এই শ্রেণীর নামকরা একটি মাদ্রাসা। ভারতীয় মুসলমানদের পুনরুজ্জীবিত করে তোলার ক্ষেত্রে এই নাদওয়াতুল ওলামা’র যথেষ্ট অবদান ছিল।  ১৮৯৪ সালে একদল মধ্যপন্থী আলেম লখনৌ শহরে এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ভারতের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ এবং চিন্তাবিদ ‘শিবলি নুমানী’ এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠাকারীদের একজন ছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী এই নাদওয়াতুল ওলামা মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে ইসলামের ধ্বংস রোধ করা, ইসলাম নিয়ে পড়ালেখা বা চর্চার বিস্তার ঘটানো, সামাজিক সংস্কার এবং ইসলামী আকিদা-বিশ্বাস আরো ছড়িয়ে দেওয়া। শিবলি নুমানী দ্বীনকে রাজনীতি থেকে আলাদা করে ভাবার যে প্রবণতা তার তীব্র বিরোধী ছিলেন।

 

তিনি নাদওয়াতুল ওলামা’র মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ব্যক্তিবর্গ এবং আলেম ওলামাকে কুরআনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণধর্মী তাফসির করার জন্যে উৎসাহিত করেছেন এবং চেষ্টা করেছেন। সেইসাথে চেষ্টা করেছেন নিজেকে উনবিংশ শতকের সমাপ্তি লগ্নের বিশ্বের জ্ঞান ও বিজ্ঞানের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে। নাদওয়াতুল ওলামার আলেমগণ চেষ্টা করেছেন মুসলমানদের মধ্যকার বিভিন্ন ফেরকা যেমন হানাফি ফেরকা, আহলে হাদিস এবং শিয়া ফেরকার আলেমদের মাঝে সমন্বয় করতে। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয় নি।

 

এই তিনটি প্রধান যেগুলো ১৮৫৭ সালের বিপ্লব পরবর্তী যুগে মুসলমানদের অস্তিত্বের স্বাক্ষর রাখার স্বার্থে গড়ে উঠেছিল সেইসব আন্দোলনের বাইরেও আরো কিছু মাদ্রাসা কেন্দ্রিক বিচ্ছিন্ন আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। যেমন ফারাঙ্গি মহল ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। মোল্লা নিজামুদ্দিন এখানে প্রশিক্ষণ দিতেন। মুসলিম লীগের কথাও এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। #

শনিবার, 21 সেপ্টেম্বর 2013 14:58

মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতি- (৮৫তম পর্ব)

ভারতে উপনিবেশবাদীরা যখন প্রবেশ করে মুসলমানরা তখন ব্যাপকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং প্রতিবাদ জানায়। বেশিরভাগ মুসলমানই বুঝতে পেরেছিল যে উপনিবেশবাদীদের আধিপত্যের ফলে তাঁদের নিজেদের রাজনৈতিক মর্যাদা হারিয়ে যাবে সেজন্যে তারা ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের আধিপত্যকে কিছুতেই মেনে নিতে চান নি। বরং তাঁরা ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় লড়াই করার পথ বেছে নিয়েছিলেন।

 

ভারতেও কিন্তু ব্রিটিশ, ফরাশি, হল্যান্ড এবং পর্তুগিজ ইত্যাদি সকল উপনিবেশিক শক্তিই প্রবেশ করেছিল। তবে তাদের সবাই এসেছিল বাণিজ্য করার নাম করে। তবে এদের মাঝে ব্রিটিশরা ছিল অন্যদের তুলনায় বেশি শক্তিশালী। সে কারণে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী শক্তি অন্যান্য উপনিবেশবাদীদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে গিয়েছিল এবং অন্যদের নেতৃত্ব দেওয়ার পর্যায়ে চলে গিয়েছিল।

 

তারা ছিল ভীষণ ধূর্ত। ব্রিটিশরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করার মধ্য দিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে তাদের অপরাপর শক্তিকে সরিয়ে দিয়েছিল। ভারতে উপনিবেশবাদীরা যখন প্রবেশ করে মুসলমানরা তখন ব্যাপকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং প্রতিবাদ জানায়। বেশিরভাগ মুসলমানই বুঝতে পেরেছিল যে উপনিবেশবাদীদের আধিপত্যের ফলে তাঁদের নিজেদের রাজনৈতিক মর্যাদা হারিয়ে যাবে সেজন্যে তারা ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের আধিপত্যকে কিছুতেই মেনে নিতে চান নি। বরং তাঁরা ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় লড়াই করার পথ বেছে নিয়েছিলেন। মুসলমানদের এইসব সংগ্রাম আর পরবর্তীতে হিন্দুদের আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী শক্তি ভারত ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। এই ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৪৭ সালে। এই বছরই ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান এবং ভারত দুই দেশে পরিণত হয়েছিল।

 

ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের আন্দোলনকে অন্তত তিনটি কালপর্বে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। একটি হলো ১৮৫৭ সালের পূর্ববর্তীকালের আন্দোলন। অপরটি হলো ১৮৫৭ সাল পরবর্তীকাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সময়কার আন্দোলন। আর তৃতীয় কালপর্বটি হলো ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত কালপর্বের আন্দোলন। তবে ১৮৫৭ সালের আগে থেকে অর্থাৎ গোর্কানিদের রাজনৈতিক পতনের সময় থেকে এবং ধীরে ধীরে ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের অনুপ্রেবেশের সূচনা থেকে মুসলমানদের মাঝে দুই ধরনের আন্দোলন দেখা দেয়। একদিকে মুসলমানদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্বগণ বা শাসকশ্রেণী যাঁরা চেষ্টা প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের অনুপ্রবেশ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে।  অপরদিকে শাহ ওয়ালি উল্লা দেহলভির চিন্তাধারার প্রভাবে প্রভাবিত ধর্মীয় আন্দোলন-যারা চেষ্টা করেছিলেন মুসলমানদের হারানো ঐতিহ্য ও চিন্তাধারাকে ভারতে পুনরুজ্জীবিত করে তুলতে। ভারতের মুসলিম শাসক শ্রেণীর মাঝে সিরাজুদ্দৌলা, হায়দার আলী এবং টিপু সুলতানের মতো নেতা ছিলেন যারা ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কর্মতৎপরতা চালিয়েছিলেন। 

 

উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলছিলাম আমরা। বাস্তব দৃষ্টিতে তাঁদের ঐ আন্দোলন বা কর্মতৎপরতা ব্যর্থ বা পরাজিত হলেও প্রমাণিত হয়েছে যে, ভারতের মুসলমানরা উপনিবেশবাদী শক্তির কাছে মাথানত করবে না, তাদের দাসত্ব মেনে নেবে না। ভারতীয় মুসলমানদের বিভিন্ন ধর্মীয় আন্দোলনও ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ধর্মীয় সংস্কারকামী বা জাগরণমূলক আন্দোলন রূপে আবির্ভূত হয়। এইসব আন্দোলনের মূলে ছিলেন শাহ ওয়অলি উল্লা দেহলভি। গোর্কানিয়ান সাম্রাজ্যের পতনের সময়েই তাদের এই জাগরণমূলক আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। দেহলভির সন্তান এবং তাঁর অনুসারীরাই এ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করার মতো। শাহ আব্দুল আযিয, সাইয়্যেদ আহমাদ বেরলভি এবং শাহ ইসমায়িল। এঁদের বাইরেও কয়েকজনের আন্দোলন ইতিহাস খ্যাত। যেমন বাংলার হাজি শরিয়ত উল্লাহর আন্দোলন এবং তিতুমিরের আন্দোলন। এঁরা এমন সব আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন যে ভারতীয় মুসলমানদের সংগ্রামের ইতিহাসে সেইসব আন্দোলন বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে।

 

এইসব গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ববর্গ তাঁদের নিজ নিজ সময়ে শুধুমাত্র যে উপনিবেশবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামই করেছেন তা-ই নয় বরং তাঁরা ইসলামের মূলনীতিগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে ব্যাপক চেষ্টা প্রচেষ্টাও চালিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় শাহ ওয়অলি উল্লাহর উত্তরসূরি শাহ আব্দুল আযিয (১৭৪৬-১৮২৪) ব্রিটিশদের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। বিশেষ করে ইসলামী শরিয়তের বিধি বিধানগুলোর ব্যাপারে অযাচিত হস্তক্ষেপ করার ব্যাপারে ব্রিটিশরা যেভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছিল সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ইসলামী ফতোয়ার ব্যাপারে ব্রিটিশরা বাড়াবাড়ি করার কারণে তিনি  ব্রিটিশদের দখলিকৃত ভারতের উত্তরাঞ্চলকে ‘দারুল হার্‌ব’ ঘোষণা করতেও দ্বিধা বোধ করেন নি। দারুল হার্‌ব ঘোষণা করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে জিহাদ করাকেই মুসলমানদের পক্ষ থেকে তাদের মোকাবেলার একমাত্র উপায় বলে সিদ্ধান্ত দেন। শাহ আব্দুল আযিযের মূল লক্ষ্য ছিলো ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের ব্যাপারে ইসলামী শরিয়তের বিধান কী সেটা মুসলমানদেরকে জানিয়ে দেওয়া এবং ইসলামী দ্বীনের ভিত্তিমূলে মুসলমানদের জীবন পরিচালনার বিধানকে আরো মজবুত এবং দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা।

 

সাইয়্যেদ আহমদ শহিদ নামে খ্যাত ‘সাইয়্যেদ আহমাদ বেরলভি’ও(১৭৮৬-১৮৩১) শাহ আব্দুল আযিযের অনুসারী একজন ছাত্র ছিলেন। তিনি ১৮২৭ সালে পেশোয়ারের কাছে শিখ শাসকদের বিরুদ্ধে এক ধরনের ইসলামী শাসন প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর শাসনাধীন অঞ্চলে ইসলামী শরিয়তের বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করতে। কিন্তু বেশ কিছু কারণে তাঁর সেই প্রচেষ্টা বিফল হয়ে যায়। কারণগুলোর একটি হলো শিখদের সাথে দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগে যাওয়া এবং অপরটি হলো স্থানীয় লোকজনদের মাঝে তাঁকে পুরোপুরি মেনে না নেওয়ার প্রবনতা। সাইয়্যেদ আহমদ বেরলভি অবশ্য চেয়েছিলেন ইসলামী অনুমোদন করে না-এমনসব কাজ এবং আকিদা বিশ্বাস থেকে সমাজকে পূত পবিত্র করে তুলতে। সেইসাথে কুরআন এবং সুন্নাহর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত সর্বপ্রথম ইসলামী শরিয়াতের দিকে ফিরে যেতে। যদিও কোনো কোনো লেখক মনে করেন তাঁর আসল উদ্দেশ্য ছিল ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা।

 

ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক এবং চিন্তাদর্শগত আন্দোলনের নেতৃত্ব যাঁরা দিয়েছিলেন তাঁদের মাঝে উল্লেখযোগ্য আরো একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন শাহ ওয়ালি উল্লাহর উত্তর পুরুষ ‘শাহ ইসমায়িল’। মুসলিম সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে তিনি বেশকিছু মূল্যবান বইপুস্তক লিখেছেন। তাঁর লেখা বইগুলো উর্দু ভাষায় যেমন আছে, তেমনি আরবি ভাষা এবং ফার্সি ভাষায়ও রয়েছে। এসব বইয়ের মধ্যে অন্যতম একটি বই হলো আরবি ভাষায় লেখা ‘তাকভিয়াতুল ইমান’। এ বইটির বিষয়বস্তু হলো তৌহিদ। যাই হোক উপনিবেশবাদ বিরোধী মুসলিম আন্দোলনে আরো দুই বাঙালি মুসলমান ব্যাপক অবদান রেখেছিলেন। তাঁরা হলেন হাজি শরিয়তুল্লাহ এবং সাইয়্যেদ মির নেসার আলি ‘তিতুমির’। তাঁদের অবদানের কথা এই স্বল্প পরিসর আসরে বলে শেষ করা যাবে না। কখনো সময় সুযোগ হলে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করবো। আর আপনাদের সুযোগ থাকলে তাঁদের ওপর লেখা বইও সংগ্রহ করে পড়তে পারেন।#

দেহের রোগের মতো মনের রোগ একটি অসুখ এবং তার চিকিতসার প্রয়োজন আছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো অনেক দেশেই সাধারণ জনগণ মনোরোগ নিয়ে ততটা সচেতন নয়। ফলে চিকিতসা তো দূরের কথা মনোরোগীরা অনেক সময় নানা অবহেলা ও উপহাসের পাত্রে পরিণত হন, যা দুর্ভাগ্যজনক। এ অবস্থায় বাংলাদেশের মনোরোগ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

আর এ  বিষয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের ঢাকা ও যশোরের আলফা স্পেশালাইজড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং কনসালটেন্ট সাইকোলজিস্ট মো. মোখলেসুর রহমান।

দেহের রোগের মতো মনের রোগ একটি অসুখ এবং তার চিকিতসার প্রয়োজন আছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো অনেক দেশেই সাধারণ জনগণ মনোরোগ নিয়ে ততটা সচেতন নয়। ফলে চিকিতসা তো দূরের কথা মনোরোগীরা অনেক সময় নানা অবহেলা ও উপহাসের পাত্রে পরিণত হন, যা দুর্ভাগ্যজনক। এ অবস্থায় বাংলাদেশের মনোরোগ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

আর এ  বিষয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের ঢাকা ও যশোরের আলফা স্পেশালাইজড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং কনসালটেন্ট সাইকোলজিস্ট মো. মোখলেসুর রহমান।

মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয়গুলোর অন্যতম চোখ। দেহের যত্নের পাশাপাশি চোখের যত্নের একান্ত প্রয়োজন  থাকলেও সে কথা আমরা অনেকেই সব সময় মনে রাখি না।

আমাদেরকে এ বিষয়ে সচেতন করে তোলার জন্য  চোখের যত্ন দিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বারডেমের চক্ষু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হজরত  আলী।