তুরস্কে গোলযোগপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি: নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ
তুরস্ক সরকারের পরিবেশ বিরোধী একটি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সেখানে বেশ কিছুদিন ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে। ইস্তাম্বুল শহরের গেজি পার্কে অনুষ্ঠিত ঐ বিক্ষোভ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক রূপ নিয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী এরদোগানের বিরুদ্ধে যেতে শুরু করে তখন সরকার পুলিশ বাহিনী দিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হবার পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তাদের কাছে এমন কিছু প্রমাণ রয়েছে যাতে বোঝা যায়, চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র কাজ করছে। যাই হোক, তুরস্কের এই অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আজকের আসরে কথা বলার চেষ্টা করবো। আপনারা আমাদের সাথেই আছেন যথারীতি এ প্রত্যাশা রইলো।
বলছিলাম প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়্যেব এরদোগান রাজধানী আঙ্কারার সানজান স্কয়ারে এক জনসভায় বলেছেন, গণতন্ত্রের নামে বিদেশি কোনো কোনো মহলের পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার বিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে। যারা বিক্ষোভ করছে তাদের উদ্দেশ্য সৎ কিন্তু বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা বিক্ষোভ কর্মসূচির অপব্যবহার করে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে।এমনকি কোনো কোনো মহল মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করে সামাজিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশ্চাত্যের কোনো কোনো প্রচার মাধ্যমও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তুরস্কে গৃহযুদ্ধ বাধানো এ সব মহলের উদ্দেশ্য বলে এরদোগান মন্তব্য করেন।
তো বিক্ষোভ বা বিশৃঙ্ক্ষলা যে কারণেই হোক না কেন, এই পরিস্থিতি যে তুরস্কের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ইস্তাম্বুলের শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে, তাদের মুদ্রা লিরার মান ব্যাপকভাবে কমে গেছে, বিশেষ করে তুরস্কের যে পর্যটন শিল্প তাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বলাবাহুল্য তুরস্কের জাতীয় আয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হলো পর্যটন শিল্প। রাজনৈতিক অস্থিরতা তুরস্কের জন্যে যেসব নেতিবাচক পরিণতি ডেকে এনেছে সেগুলোর একাংশ আমরা উল্লেখ করলাম। তাতেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন কোটি সত্তুর লক্ষ ডলারের মতো। সর্বশেষ এক পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা গেছে। এই তো গেল অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা।
অপরদিকে রাজনৈতিক ক্ষতির পরিমাণও কম নয়। সরকার যে তাদের নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে বিক্ষোভকারীদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছে তাও কম ক্ষতির কারণ হয় নি। বিশ্ব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে তুরস্কের পুলিশ বাহিনী মারাত্মক নৃশংস আচরণের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিয়েছে। অথচ বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। এই খবরটি তুরস্কের জন্যে কাল্ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে তুরস্ক সরকারের যে একটা ভালো গ্রহণযোগ্যতা ছিল তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমনকি তুরস্কের বহু পশ্চিমা মিত্রও আঙ্কারা সরকারের নিন্দা জানিয়ে বলেছে সরকার বিক্ষোভকারীদের সাথে অগণতান্ত্রিক আচরণ করেছে। পুলিশ তাদের সাথে যে নৃশংস আচরণ করেছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর প্রতিফলন আগামী ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে অনুষ্ঠেয় তুরস্কের স্থানীয় নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচনের ওপর পড়বে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই এখন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সমাপ্তি নিয়ে বলাবলি করছেন। তাদের অনেকেই এই মেয়াদকে ‘এদোর্গানিজম’ নামে অভিহিত করছেন। এরদোগান প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিরও প্রধান। তাই বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী এবং এই দলের সমালোচনা করতে গিয়ে এরদোগানের কড়া সমালোচনা করছে। তারা ঘোষণা করেছে এরদোগান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। এর বাইরেও তুরস্কে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলে নতুন আরেকটি প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। তা হলো তুরস্ক তো নিজেকে এ অঞ্চলে ডেমোক্রেসি বা গণতন্ত্রের আদর্শ প্রতীক হিসেবে মনে করে। এখন সেই তুরস্কের পুলিশ যে অগণতান্ত্রিক আচরণ করলো বিক্ষোভকারীদের সাথে, তাতে কি তাদের গণতন্ত্রের মডেলের ব্যর্থতা ফুটে ওঠে নি?
তুরস্কের নেতৃবৃন্দ তাদের পশ্চিমা মিত্রদের সহযোগিতায় বহু বছর ধরে চেষ্টা চালিয়েছে নিজেদেরকে আরব দেশগুলোর জন্যে একটি উন্নত ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ব্যবস্থার মডেল হিসেবে তুলে ধরতে। যদিও তুরস্কের আদর্শ এখন ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের কাছাকাছি বলে অনেকেই মনে করেন। জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতা এরদোগান দাবি করেন তাঁর দল তুরস্কে ধর্মনিরপেক্ষতার ছাদের নীচে মূলত ইসলামী মূল্যবোধগুলোকেই প্রতিষ্ঠা করেছে। এই দলটি সম্পর্কে অনেকের বক্তব্য হচ্ছে একদিকে তারা ধর্মনিরপেক্ষতা চর্চা করছে অপরদিকে ইসলামেরও বিশেষ বিশেষ দিক অনুসরণ করছে।
বিরোধী পক্ষের বক্তব্য হচ্ছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতারা স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কথা বলছে অথচ বাস্তবে তারা পশ্চিমাদের বিশেষ করে ন্যাটোর নীতিই অনুসরণ করছে। জনগণের ব্যাপক বিরোধিতা সত্ত্বেও এরদোগান সরকার তুরস্কের মাটিতে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে দিয়েছে। তুরস্ক সরকার যে আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ করছে জনগণ তারও বিরোধিতা করছে। যেমন ইরাক, সিরিয়ার মতো দেশের রাজনৈতিক ব্যাপারে তুরস্ক নাক গলিয়েছে। জনগণের ইচ্ছার বাইরে গিয়ে এরদোগান সরকার সিরিয়ায় বিদ্রোহী এবং সন্ত্রাসীদের সহায়তা দিয়েছে। ইরাকেও শিয়া-সুন্নি বিরোধ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে জনরোষের মুখে পড়েছে। বিদ্রোহীরা সেজন্যেই মনে করছে তুরস্ক ধীরে ধীরে পশ্চিমাদের খেলার পুতুলে পরিণত হয়ে গেছে।
শুধু তাই নয় তুরস্ক সরকার বাহ্যত যদিও ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরাইলের নীতির বিরোধিতা করছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আবার ইসরাইলের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠকও করছে। তুরস্ক সরকার গণতন্ত্রের আদর্শ প্রতীক হিসেবে নিজেদের মনে করছে অথচ তুরস্কই আবার সাংবাদিকদের সর্ববৃহৎ কারাগার হিসেবে উপাধি লাভ করেছে। যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই, স্বাধীন সাংবাদিকতার কোনো সুযোগ নেই, সেই দেশে যে কী পরিমাণ সংকট বিরাজ করছে-তা সহজেই অনুমান করা যায়।
এসবের বাইরেও তুরস্কে রয়েছে সংখ্যালঘু সমস্যা, ধর্মীয় ও গোত্রগত বৈষম্য। আজ পর্যন্তও তারা কুর্দিদেরকে নাগরিকত্ব দেয় নি-যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের দৃষ্টিতে ডেমোক্রেসির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতসব সত্ত্বেও তারা শ্লোগান দিয়েই যাচ্ছে-‘দেশে শান্তি বিশ্বে শান্তি’। এই পরিস্থিতিতে তুরস্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ মহল। কেননা সোমনেই আসছে নির্বাচন। #
হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল আমেরিকা
১২ জুন (রেডিও তেহরান): লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা। সিরিয়ার কুসাইর শহর বিদ্রোহীদের হাত থেকে মুক্ত করার যুদ্ধে অংশ নেয়া এবং পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে হিজবুল্লাহর প্রভাব বেড়ে যাওয়ার অভিযোগে মার্কিন প্রশাসন এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গতকাল (মঙ্গলবার) লেবাননের চার নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে- লেবাননের এসব নাগরিক তহবিল সংগ্রহ এবং হিজবুল্লাহ’র জন্য সদস্য রিক্রুট করার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়া, পশ্চিম আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বাড়ানোর কাজ করে যাচ্ছেন তারা। মার্কিন দৈনিক লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস এ খবর দিয়েছে। তারা হলেন- আলী ইব্রাহিম ওয়াতফা, আব্বাস লুতফে জাওয়ায, আলী আশমাদ চেহাদে এবং হিশাম নিমর খানাফের।
পত্রিকাটি আরো বলেছে- সিয়েরালিওন, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট ও গাম্বিয়াতে হিজবুল্লাহর পক্ষে এ চার ব্যক্তি রাষ্ট্রদূতের কাজ করে যাচ্ছেন।
লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস বলেছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে যেখানে মার্কিন সরকার উতখাত করতে চায় সেখানে হিজবুল্লাহ সিরিয়া সরকারের পক্ষে যুদ্ধ করছে। হিজবুল্লাহর এ কর্মকাণ্ডকে আমেরিকা উদ্বেগজনক বলে মনে করছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞাকে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস প্রধানত প্রতীকী বলে উল্লেখ করেছে।#
রেডিও তেহরান/এসআই/১২
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, এনপিটিও মেনে চলছে: পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি মেনে চলছে। তিনি আরো বলেছেন, পশ্চিমা কোনো কোনো দেশ ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ তুলেছে তার পক্ষে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ বা আলামত দেখাতে পারেনি।
রাশা টুডে'কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ সব কথা বলেছেন তিনি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণই রয়েছে- সাক্ষাতকারে এ কথা আরেকবার জোর দিয়ে বলেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি তার বক্তব্যের পক্ষে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)’র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়েছেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরান যে আইএইএ’র আইন মেনে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। ইরান যে এ সব আইন মেনে চলছে না এমন কোনো প্রমাণ এখনো তুলে ধরা যায়নি।'
ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে বলে আমেরিকা, ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং তাদের মিত্ররা ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। এ জাতীয় মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে ইরানের ওপর একের পর এক অবৈধ নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
এ সব অভিযোগ পরিষ্কার ভাষায় অস্বীকার করেছে তেহরান।
ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে আইএইএ’র ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পরিদর্শন চালানো হয়েছে। ১০ বছর ধরে চালানো এ সব পরিদর্শনে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো নিষিদ্ধ ততপরতার আলামত পাওয়া যায়নি।#
রেডিও তেহরান/সমর/এমআই/১২
সিরিয়ার চোরাবালিতে আটকে পড়েছে সৌদি আরবসহ অনেক দেশ
সৌদি আরবের বহু পরিবার সিরিয়ায় সরকারী সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত স্পষ্ট করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনের সাপ্তাহিকী আল মানার লিখেছে, সিরিয়ায় সরকারী সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের পরিবারের লোকজন তাদের সন্তানদের অবস্থা জানার জন্য সিরিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত টেলিফোনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এসব পরিবারের একটি প্রতিনিধি দল তাদের সন্তানদের অবস্থা জানার জন্য দামেস্ক সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। উল্লেখ করা যায়, সৌদি আরবের হাজার হাজার যুবক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে যুদ্ধ করার জন্য সিরিয়ায় গেছে।
সিরিয়া যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের পরিবারগুলো এমন সময় তাদের সন্তানদের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যখন সৌদি আরবের উগ্র সালাফি ও ওহাবি গোষ্ঠী ফতোয়া জারি করে সৌদি যুবকদেরকে সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য উতসাহ যুগিয়েছে। সৌদি যুবকদেরকে সিরিয়া যুদ্ধে পাঠানোর ক্ষেত্রে উগ্র ধর্মান্ধ সালাফি ও ওহাবিদের ভূমিকার বিষয়ে এক প্রতিবেদনে লেবাননের আল মানার টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজতান্ত্রিক সরকার এ ক্ষেত্রে সব রকম সহযোগিতা করার পাশাপাশি অর্থের যোগান দিচ্ছে। এভাবে সৌদি সরকার এদেরকে সেদেশ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও নতুন নতুন সংকট সৃষ্টির চেষ্টা চালায় যাতে সৌদি ভূখণ্ড ও মার্কিন স্বার্থকে এই গোষ্ঠীর হামলার হাত থেকে নিরাপদ রাখা যায়। সৌদি বাদশাহ সম্প্রতি জনগণকে ধোঁকা দেয়ার জন্য ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতে দাবি করেছেন, যারা জেহাদের কথা বলে যুবকদেরকে সিরিয়ায় যেতে উতসাহিত করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রকৃতপক্ষে, শুধু সৌদি আরবই নয় তুরস্কসহ অন্য আরব দেশও যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে তাদের নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরার পর নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা ও সংকট সৃষ্টির ব্যাপারে তারা চিন্তিত। ইরানের স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল আল আলম জানিয়েছে, সৌদি আরব সিরিয়ার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং গত কয়েক মাসে এ দেশটি দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে উগ্র সালাফি গোষ্ঠীকে সংগঠিত করার জন্য ব্যাপক অর্থ খরচ করেছে। এ বিষয়ে আল আলমের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সৌদি আরব সিরিয়া সংকটকে অনেক বড় করে তুলে ধরে নিজ দেশের সংকট থেকে আন্তর্জাতিক সমাজের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সিরিয়ার আল আখবারিয়ে টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিপদঘন্টা বেজে উঠেছে। কাতিফ শহরসহ দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে চলমান গণঅসন্তোষ ও আন্দোলন থেকে বোঝা যায়, আলে সৌদ পরিবারের শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। বায়তুল মোকাদ্দাস থেকে প্রকাশিত দৈনিক আল মানার লিখেছে, সৌদি আরবে বিস্ফোরন্মুখ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দেশটির অবস্থা সরকার বিরোধী আন্দোলনের সম্মুখীন অন্য দেশগুলোর সরকারের মতই। দৈনিকটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, খুব শিগগিরি সৌদি আরবে সরকার বিরোধী আন্দোলন আরো জোরদার হবে এবং আগামীতে গণ অসন্তোষ ও প্রতিবাদ সমাবেশ শুধুমাত্র কয়েটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দৈনিকটি ইউরোপের কয়েকটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, সৌদি সরকার এবং সেদেশে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর স্বার্থের ওপরও আঘাত আসতে পারে। #
রেডিও তেহরান/আরএইচ/১০
গাজাবাসীর প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত: পৌঁছেছে আরেকটি ত্রাণবহর
৭ জুন (রেডিও তেহরান): অবরুদ্ধ গাজার অধিবাসীদের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্যের অংশ হিসেবে আরেকটি ত্রাণবহর গাজায় এসে পৌঁছেছে। ২০ নম্বর এই আন্তর্জাতিক ত্রাণবহর মিশর সীমান্ত দিয়ে রাফা ক্রসিং পয়েন্ট অতিক্রম করে গাজায় প্রবেশ করেছে।
গাজার জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক ত্রাণবহরকে স্বাগত জানানোর জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান মাদহুন বলেছেন, এই ত্রাণবহরে বেশ কিছু ওষুধ ও চিকিতসা সেবার যন্ত্রপাতি রয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, এই ত্রাণ বহরের সঙ্গে আগত শান্তিকর্মীরা আজ (শুক্রবার) বায়তুল মোকাদ্দাসের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অনুষ্ঠেয় মিছিলে অংশ নেবে বলে কথা রয়েছে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এ ধরনের মিছিল সমাবেশ আরবসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতেও অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ করা যায়, ইহুদিবাদী ইসরাইল ২০০৭ সাল থেকে গাজার ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। ইসরাইলের এ অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পণ্য গাজায় ঢুকতে না পারায় গাজার জনগণের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। ইসরাইলের এ আচরণের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসী তীব্র ক্ষোভ, ঘৃণা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক সমাজ বিভিন্ন উপায়ে গাজায় ইসরাইলি অবরোধের প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করেছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবরুদ্ধ গাজা অধিবাসীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তাদের জন্য ত্রাণবহর পাঠিয়েছিল। কিন্তু ইসরাইলের কঠোর অবরোধের কারণে কোনো ত্রাণবহরই গাজায় ঢুকতে পারেনি। আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী জাহাজ গাজা উপকূলে ভেড়ার চেষ্টা করলে ইসরাইলি কমান্ডো বাহিনী হামলা চালিয়ে তা বানচাল করে দেয়। এ অবস্থায় মিশর সীমান্তবর্তী একমাত্র রাফা ক্রসিং পয়েন্টের মাধ্যমেই ত্রাণ পাঠানো সম্ভব। ব্যাপক বাধা ও সমস্যা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এ পথে ত্রাণ পাঠাচ্ছে।
মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের সঙ্গে দখলদার ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এ কারণে তখন মিশর সীমান্ত দিয়ে গাজায় ত্রাণ পাঠানো সম্ভব ছিল না। কিন্তু গণআন্দোলনের মুখে মুবারক সরকারের পতনের পর ত্রাণ পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হয়। এ অবস্থায় মিশরের বর্তমান সরকার রাফা সীমান্তের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নিয়ে অবাধে পণ্য সরবরাহের সুযোগ দেবে বলে মিশর ও ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বের মানুষ আশা করছে।
গাজার ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে ইসরাইল আসলে ফিলিস্তিনিদেরকে ইসরাইলের আধিপত্যকামী নীতির কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণে দেখা গেছে, গাজার অধিবাসীদের অব্যাহত প্রতিরোধ এবং তাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সমাজের সমর্থনের কারণে ইসরাইল গাজা অবরোধ করে কোনো লক্ষ্যেই পৌঁছাতে পারেনি। ফিলিস্তিনিদের প্রতি আন্তর্জাতিক সমাজের অব্যাহত সমর্থন থেকে বোঝা যায়, বিশ্ববাসী ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও অপরাধযজ্ঞকে কখনোই মেনে নিতে পারেনি এবং বিভিন্নভাবে দখলদার এ শক্তির বিরুদ্ধে তারা তাদের প্রতিবাদ জানানো অব্যাহত রেখেছে। #
রেডিও তেহরান/আরএইচ/৭
১৯ জুন (রেডিও তেহরান) : বাংলাদেশের পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংক বলেছে, তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্বেও …
পাশ্চাত্যের মোকাবিলায় বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে আবারো ঐক্যের ডাক …
১৮ জুন (রেডিও তেহরান): ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে তলব …
১৮ জুন (রেডিও তেহরান): ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ উত্তর আয়ারল্যান্ডে …

