এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বুধবার, 09 সেপ্টেম্বর 2009 20:35

আল কুদস সংক্রান্ত খবর

বিশ্ব কুদস দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ

১৭ সেপ্টেম্বর (রেডিও তেহরান): মুসলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসা মুক্ত করার লক্ষ্যে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আগামীকাল শুক্রবার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আল কুদস দিবস পালনের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কুদস দিবস পালনের জন্য গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছ্নে,কুদস দিবসের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য ব্যাপক প্রচারনা এবারে সবচাইতে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিটির সহ সভাপতি অধ্যক্ষ শওকাত হোসেন জানান,আগামীকাল সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ''কুদস দিবসের গুরুত্ব ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বায়তুল মোকাদ্দসের মুক্তি কোন পথে'' শীর্ষক একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনায় ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত, ইরানের রাষ্ট্রদূত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নিবেন। শওকাত হোসেন বলেন, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিবও আল কুদস দিবসের গুরুত্বের উপর জুম্মার খুতবায় আলোচনা রাখবেন বলে আমরা আশা করছি। তিনি বলেন, ই্হুদিবাদী ইসরাইলের ধ্বংস ও বায়তুল মোকাদ্দেসের মুক্তি কামনা করে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার পাশাপাশি বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম থেকে একটি মিছিল বের করা হবে। শওকাত হোসেন বলেন, আমরা আশা করছি এবারের মিছিল সমাবেশে ব্যাপকভাবে মুসল্লিরা অংশ নিবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের একজন ছাত্র মাহমুদ জানান, তিনি আগামীকালের আল কুদস কমিটির সেমিনারে ও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিবেন। তিনি বলেন,কুদস দিবস শুধু মাত্র ফিলিস্তিনিদের দিবস নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী মানবতার বিরুদ্ধে নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদের দিবস। তিনি বলেন, এই দিন সারা বিশ্বের মুসলিম জনগণ ফিলিস্তিনিদের ইন্তিফাদা বা মুক্তি আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। মাহমুদ বলেন, বিশ্বায়নের যুগে ফিলিস্তিন আমাদের জন্য খুব বেশি দূরে নয়। ঐ অঞ্চলের নির্যাতিত জনগণের প্রতি ভালবাসা ও দরদের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেই আমি এ ধরণের অনুষ্ঠানে অংশ নিবো। অনেকেই বলে থাকেন, বাংলাদেশের মতো দরিদ্র মুসলিম দেশের মুসলমানদের ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ খুব একটা গুরুত্ব বহন করে না। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ শওকাত হোসেন বলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মানুষ। মানুষ আছে বলেই মরুভুমির মতো বিরান এলাকাগুলো গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের ১৫কোটি মানুষের মতামতের অবশ্যই একটা গুরুত্ব আছে। তারা অর্থনৈতিক ভাবে দরিদ্র হতে পারে, কিন্তু তাদের মতামত যদি বিশ্বজনমতের সাথে একাত্মতা হয়ে পড়ে তখন তা একটি বিশাল শক্তিতে পরিণত হয়। তিনি বলেন,আমরা যদি অন্যায় ও খারাপ কাজকে ঘৃনা করি,এটা নৈতিক ও মানবিক দিক থেকে কর্তব্য পালন করছি। আর ইসলামের দিক থেকে ও আমরা একটা ইবাদত করছি। মুসলমানদের এবং ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা পোষণ করছি। এটা কোন সাম্প্রদায়িক মানসিকতা নয়, বরং এটা মানবিক একটা বিষয়। আল কুদস দিবস পালনের মাধ্যমে মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল আকসা সহ নির্যাতিত ফিলিস্তিনিরা একদিন মুক্তি পাবেন এটাই সকল বিবেকবান মানুষের প্রত্যাশা। #

অনৈক্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র বানচাল করার জন্য কুদস দিবসের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করুন : রাফসানজানি

১৫ সেপ্টেম্বর (রেডিও তেহরান): আয়াতুল্লাহ হাশেমী রাফসানজানি বলেছেন, বিশ্বের শক্তিগুলো মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করার যে ষড়যন্ত্র করেছে তা বানচাল করার জন্য আল কুদস দিবসের শোভাযাত্রায় ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। আয়াতুল্লাহ রাফসানজানি এক বিবৃতিতে আরো বলেছেন, মুসলমানদের দুর্বলতা ও অজ্ঞতা বিশেষ করে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের মধ্যে অনৈক্যের সুযোগ বিশ্ব শক্তিগুলো গ্রহণ করে তাদের অপরাধের বোঝা আরো ভারি করতে চাইছে। তিনি বলেছেন, বিশ্ব জুড়ে আল কুদস দিবসের জমায়েত বিপথগামীদের প্রতি অব্যাহত হুঁশিয়ারী হয়ে থাকবে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনী (রহঃ)এর আহবানে প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে আল কুদস দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। তিনি এই দিবসকে ইসলামী জাগরণ দিবস হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। নিজেদের মধ্যে বিভেদের কারণে মুসলমানরা যেন এই দিবস পালনের গুরুত্ব হারিয়ে না ফেলে এবং অধিকৃত আল কুদসের ইসলামী পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টায় উদগ্রীব শত্রু দের জন্য এই অনৈক্য নতুন সুযোগের সৃষ্টি করতে পারে বলে আয়াতুল্লাহ হাশেমী রাফসানজানি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

'মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে'

১২ সেপ্টেম্বর (রেডিও তেহরান): ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে যে সব ষড়যন্ত্র করছে তা নস্যাৎ করার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে পাকিস্তানের প্রবীণ এবং খ্যাতনামা কলাম লেখক ইফরান সিদ্দিকী জানিয়েছেন। ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনার সাথে আন্তর্জাতিক আল কুদস দিবস উদযাপনের ব্যাপারে আলাপ করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, নিরীহ ফিলিস্তিনী জনগণকে তাদের নিজেদের ভূমি এবং বাস্তুভিটায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। আল কুদস দিবস উদযাপনের মাধ্যমে এ সব মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয় বলে তিনি জানান। পাকিস্তানের খ্যাতনামা কলাম লেখক ইরফান সিদ্দিকী আরো বলেছেন, ইসরাইলের অস্তিত্ব মেনে নেয়া যায় না। অথচ পাশ্চাত্য বিশেষ করে মার্কিন সমর্থনে ইসরাইল আজ পরমাণু শক্তিধর হয়ে উঠেছে। ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে ইরান ছাড়া বিশ্বের সকল মুসলিম দেশ নিজ নিজ ভূমিকা পালতে ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি তার নিন্দা করেন। তিনি বলেছেন, মুসলিম বিশ্বের নেতারা অসচেতন এবং এ কারণেই সমগ্র বিশ্ব জুড়ে মুসলমানরা ইসলাম বিরোধী শক্তির দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে। তিনি ইসরাইলের কবল থেকে আল কুদসের নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের হাতে ফিরিয়ে আনার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি একই সাথে বলেন, মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এ ধরণের বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করার অভিলাষ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরাইলের বর্বরোচিত নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর জন্য মুসলমানদের সংঘবদ্ধ হওয়া উচিত বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আল কুদস দিবসে নিজেদের কাজের জন্য প্রত্যেক মুসলমানের অনুতাপ করা এবং লজ্জিত হওয়া উচিত। আল কুদস মুসলমানদের প্রথম কেবলা ছিলো আর এ কারণে তা বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের ইচ্ছা ও উদ্দীপনার আলোকে ফিলিস্তিন সংকট নিরসনের আহবান জানান। তিনি বলেন, পাশ্চাত্যের ছত্র- ছায়ায় ইসরাইল দানবীয় আগ্রাসী শক্তি হয়ে উঠেছে অথচ ফিলিস্তিনি জনগণের উপর ইসরাইল যে হত্যাকান্ড চালাচ্ছে বিশ্বের মুসলমানরা তা নিরবে প্রত্যক্ষ করছে। অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে জোর গলায় কথা বলা মতো সাহসের অভাব মুসলমানদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বলে পাকিস্তানের এই কলাম লেখক জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অনেক বড় বড় কথা বলা হয়েছে বা হবে কিন্তু তারপরও ইসরাইল আল কুদসে তার অবৈধ দখল বজায় রেখেছে। তিনি বলেন, অনৈসলামিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে মুসলমানদের মধ্যে চেতনার অগ্নিশিখা জাগিয়ে তুলতে হবে। আর মুসলমানদের নিজ পরিচয় দানের ব্যাপারে মোটেও আপোষ করা চলবে না। ইরফান সিদ্দিকী বলেছেন, মুসলমানদেরকে নিজেদের মধ্যকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভেদাভেদ ভুলে যেতে হবে এবং ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে একত্রিত হতে হবে।

'আল কুদস মুক্তির জন্য বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করতে হবে'

৮ সেপ্টেম্বর (রেডিও তেহরান): পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক খুরশিদ আহমেদ ইসরাইলের দখল থেকে আল কুদস মুক্তির জন্য বিশ্বের মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করার আহবান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক কুদস দিবস প্রসংগে ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনার সাথে আলাপ করার সময় তিনি এই আহবান জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, বিশ্বের মুসলমানদের জন্য এ দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । তিনি বলেন, আল কুদস দিবস উদযাপনের মাধ্যমে কার্যত মুসলমানদের প্রথম কেবলা দখলকারী ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনী(রহ) এর আহবান বিশ্বের মুসলমানরা প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ শক্রবারকে আল কুদস দিবস হিসেবে উদযাপন করছে। অধ্যাপক খুরশিদ আহমেদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরীহ মুসলমানদের উপর ইসরাইল যে গণহত্যা এবং নির্যাতন চালিয়েছে আল কুদস দিবস বিশ্বের মুসলমানদেরকে তা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সকল ধরণের দাবি উত্থাপনের পরও ইসরাইল অবৈধ ভাবে আল কুদসের দখলদারিত্ব বজায় রেখেছে। পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর নেতা বলেন,ইহুদিবাদী ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ইসরাইল আরব ভূমি দখল করেছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে ইসরাইল অবৈধ ভাবে আল কুদস দখল করেছে। বিশ্বের মুসলমানদের সংঘবদ্ধ ভাবে ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরাইলের বর্বরোচিত নির্যাতন ও দমন পীড়নের প্রতিবাদ করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের মুসলমানদের ভেদাভেদ ভুলে ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হতে হবে। ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকাররের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য তিনি বিশ্বের মুসলমানদের প্রতি আন্তর্জাতিক আল কুদস দিবস উদযাপনের আহবান জানান। তিনি বলেন, এ দিবস উপলক্ষে কেবল প্রতিবাদ জানালে ও শ্লোগান দিলেই হবে না বরং কার্যকর তৎপরতা গ্রহণ করতে হবে। প্রতি বছর ধর্মীয় উদ্দীপনা ও নিষ্ঠার সাথে আল কুদস দিবস পালনের জন্য তিনি ইরানের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অধ্যাপক খুরশিদ আহমেদ বলেন, ইসলাম বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে মুসলমানদের চেতনা জাগিয়ে তুলতে হবে। ইসলামী পরিচয়ের ক্ষেত্রে মুসলমানদের কোনো রকম আপোষ করা চলবে না বলে তিনি জানান। পাকিস্তানের জামায়াতের নেতা অধ্যাপক খুরশিদ আহমেদ বলেন, মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দকে মুসলিম উম্মাহর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।#

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন