এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 10 সেপ্টেম্বর 2009 23:14

কুদস দিবস উদযাপনের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব আরও সচেতন হয়েছে : অধ্যাপক আবুল উলায়ী

বিশ্ব কুদস দিবস সম্পর্কে আমরা কথা বলেছি বাংলাদেশ আল কুদস কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক শাহ কাওসার মুস্তফা আবুল উলায়ীর সাথে । তাঁর সাক্ষাৎকারটি এখানে উপস্থাপন করা হলো :

 Sample Imageসাক্ষাৎকারটি শোনার জন্যে এখানে ক্লিক করুন

রেডিও তেহরান : ফিলিস্তিনীদের মুক্তি সংগ্রাম,বর্ণবাদী ইহুদীদের কবল থেকে মুসলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসা পুনরুদ্ধার এবং ফিলিস্তিনে ইহুদীবাদীদের নৃশংস হত্যকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও জনমত গড়ে তোলার জন্য প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্ব কুদস দিবস পালিত হয় । বাংলাদেশে আপনি আল কুদস কমিটির সভাপতি । তো কুদস দিবস উপলক্ষে এ বছর আপনাদের কর্মসূচী কি ?

অধ্যাপক শাহ কাওসার মুস্তফা আবুল উলায়ী : আমরা প্রতি বছরের মতো এবারও আল কুদস দিবসে একটি সেমিনার আয়োজন করছি । আমরা এই সেমিনারের ভেন্যু হিসেবে সুপ্রীম কোর্টের বার এসোসিয়েশন মিলনায়তনকে নির্ধারণ করেছি । বিশ্ব কুদস দিবসে আমাদের এবারের সেমিনারে বাংলাদেশ সরকারের কোনো মন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি । আর বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতগণ । এছাড়া দেশের শিক্ষাবিদ, অধ্যাপক ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এ সেমিনারে অংশ নেবেন । আমাদের এবারের আলোচ্য সূচীতে থাকবে '' নতুন বিশ্ব পরিস্থিতিতে আল কুদস মুক্তির সম্ভাবনা '' । সেমিনারের আলোচনার পর অন্যান্য বারের মতো এবারও সরকারের অনুমতি পেলে সেমিনার স্থল থেকে বায়তুল মোকাররম পর্যন্ত কুদস দিবসের উপর র্যানলী করবো । আমাদের আল কুদস দিবসের সমস্ত কর্মসূচী আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে পালন করে থাকি । বাংলাদেশের সরকারে যে দল বা যারাই থাকুন না কেন সরকারের সমর্থন থাকে আমাদের কর্মসূচীতে । সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সদস্য,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ,সাবেক উপাচার্যরা আমাদের অনুষ্ঠানে এসেছেন । এছাড়া দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের আপামর মানুষ কুদস দিবসের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে থাকেন । কেননা বাংলাদেশের মানুষ ফিলিস্তিন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ । তারা চায় ফিলিস্তিনকে জবরদখল থেকে মুক্ত করা হোক এবং আল কুদস বা পবিত্র জেরুজালেম মুসলমানদের কবলে আসুক । জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হোক এ বিষয়ে আপামোর জনসাধারণের অকুন্ঠ সমর্থন রয়েছে। আর এ বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনীতির উর্ধ্বে । দলমত নির্বিশেষে এ বিষয়ে সবার মধ্যে ঐক্যমত রয়েছে।

রেডিও তেহরান : ইমাম খোমেনী (রহঃ) এই কুদস দিবস উদযাপনের ডাক দিয়েছিলেন । এর পেছনে ওনার বড় একটি উদ্দেশ্য ছিল , ফিলিস্তিনের ব্যাপারে মুসলমানদের মধ্যে সচেতনা বৃদ্ধি করা এবং এ ইস্যুতে মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ করা । মরুহুম ইমাম খোমেনী (রহঃ) এর এই লক্ষ্য কতখানি পূরণ হয়েছে বলে আপনি মনে করেন ?

অধ্যাপক শাহ কাওসার মুস্তফা আবুল উলায়ী : আমি মনে করি যে লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি কুদস দিবস উদযাপনের ডাক দিয়েছিলেন সেটি সফল হয়েছে । ফিলিস্তিনের ব্যাপারে মুসলমানদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার যে বিষয়টি তার আহবানের মধ্যে ছিল তা আজ অবশ্যই বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে আমরা বিক্ষিপ্তভাবে এ সম্পর্কে সভা সেমিনার বা নানামুখী উদ্যোগ নিতাম । কিন্তু আল কুদস আমাদেরকে মুক্ত করতে হবে এবং সেটি যে সমস্ত মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব ; মসজিদুল আকসাকে মুক্ত করার বিষয়টিকে নৈতিকভাবে সমর্থন করা যে আমাদের ঈমানী দায়িত্ব এই সচেতনতা বেশী করে সৃষ্টি হয়েছে মরহুম ইমাম খোমেনী (রহঃ) এর আহবানে । শুধু তাই নয় এটিকে সমর্থন করা মুসলমানদের ধর্মীয় দায়িত্বের মধ্যে পড়ে সে কথাটিও ইমাম খোমেনী (রহঃ)এর কুদস দিবসের ডাকের মাধ্যমে বিশ্ব মুসলমান জাগ্রত হয়েছে। মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার বা জুমাতুল বিদার দিনে যে বিশ্ব কুদস দিবস পালিত হচ্ছে সারা বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে সেটি কিন্তু এ বিষয়ে সচেতনাবোধ সৃষ্টির কারণে । মুসলিম বিশ্ব অনুধাবন করতে পারছে যে ফিলিস্তিন এবং আল কুদস মুক্ত করার বিষয়টি তাদের একটি ঈমানী দায়িত্ব। ফিলিস্তিনের স্বাধিকারের প্রতি এখন বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর অকুন্ঠ সমর্থন প্রকাশ পাচ্ছে । সুতরাং আমি মনে করি মরহুম ইমাম খোমেনীর যে আহবান সে আহবান সত্যিকারার্থে সফল । আমরাও বাংলাদশে চেষ্টা চালাচ্ছি এ দিনে বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করতে । আমরা বাংলাদেশে আল কুদস কমিটির পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি মসজিদের ইমাম ও খতিবদের কাছে এ সম্পর্কে চিঠি পাঠাই যাতে তারা বিষয়টি তুলে ধরেন জুম্মার নামাজের খোতবায় । এ বিষয়ে ফিলিস্তিনের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো প্রথম কেবলা মুক্ত করা প্রতিটি মুসলমানের ধর্মীয়, নৈতিক এবং মানবীয় দায়িত্ব এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন করা । ফলে আমি আবারও বলছি ইমাম খোমেনী (রহঃ) এ আহবান সামগ্রিক দিক থেকে সফল হয়েছে।

রেডিও তেহরান : আপনি লক্ষ্য করেছেন, ইসরাইল লেবাননের হিজবুল্লাহর সাথে ৩৩ দিনের যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে । ফিলিস্তিনের হামাসের সাথে ২২ দিনের যুদ্ধেও কার্যত পরাজিতই হয়েছে। ঐ দুই যুদ্ধে ইহুদীবাদীরা শুধু কাপুরুষোচিতভাবে নিরিহ মানুষ হত্যা করেছে। বিশ্লেষকরা হিজবুল্লাহ এবং হামাসের বিজয়কে মরহুম ইমাম খোমেনী (রহঃ) এর ফিলিস্তিন নীতির ফল বলে মনে করেন ; তো এ বিষয়ে আপনি কি বলেন ?

অধ্যাপক শাহ কাওসার মুস্তফা আবুল উলায়ী : এ বিষয়ে আমি বলবো - মরহুম ইমাম খোমেনী (রহঃ) একজন অতি উচ্চ মানের আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন । যা সত্য ও ন্যায় তাকেই তিনি সমর্থন জানাতেন । আর সততা, সত্য ও ন্যায়ের ক্ষেত্রে অবস্থান নেয়ার ক্ষেত্রে তার মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা ছিল না । ফিলিস্তিন এবং আল কুদস সম্পর্কে তিনি সত্যকে গ্রহণ করে তা উপস্থাপন করেছেন । এ সম্পর্কে বিশ্ব মুসলমানদের করণীয় সম্পর্কে আহবান জানিয়েছেন । শুধু ফিলিস্তিন বলে কথা নয় ইমাম খোমেনী (রহঃ) পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের নির্যাতিত মানুষদের জন্যে কথা বলেছেন , অসহায়দের প্রতি তার দরদ ছিল এবং তাদের সহায়তার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে ইমাম খোমেনী (রহঃ) সম্পর্কে পড়াশুনা করে তার জীবনের এসব অতি উচ্চকিত দিকগুলো সম্পর্কে জেনেছি। আর তার ভিত্তিতে আমি একবার ইমাম খোমেনী (রহঃ) এর উপর একটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম । তার নাম ছিল - ''মুসলিম উম্মাহর সমস্যা চিহ্নিত করণে ইমাম খোমেনীর ভূমিকা'' ।
তো একটি দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যাবে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিজয় বা ফিলিস্তিনে হামাসের বিজয় মরহুম ইমাম খোমেনী (রহঃ) এর ফিলিস্তিন নীতির ফল তবে আমি একটু ব্রডলি বলতে চাচ্ছি এসব বিজয় কালিক বা সাময়িক । মরহুম ইমাম খোমেনীর আহবানের ফসল হিসেবে এ দুটো কালিক বিজয়কে গুরুত্ব দিলেও তার আহবানের মূল লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিন মুক্ত হওয়া বা ফিলিস্তিনকে মুক্ত করা । আর তার সেই আহবান সময় এবং কালের উর্ধ্বের একটি বিষয় । যতদিন পর্যন্ত ফিলিস্তিন ইসরাইলীদের হাত থেকে মুক্ত না হবে ততদিন পর্যন্ত তার ঐ আহবান , বা এ বিষয়ে আন্দোলন এবং মানুষের নৈতিক সমর্থন বেঁচে থাকবে । মরহুম ইমাম খোমেনীর এ বিষয়ক ম্যাসেজ বা বাণী জাগ্রত থাকবে - কুদস মুক্ত না পর্যন্ত ।

রেডিও তেহরান : গত তিন দশকে এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে ইহুদীবাদী ইসরাইল কোনো চুক্তি বা ন্যায় নীতির ধার ধারে না । কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার ব্যাপারেও তারা বিশ্বস্থতার পরিচয় দিতে পারেনি । কাজেই অনেকে মনে করেন - এই জঘন্য বর্ণাবাদী ইহুদীদের হাত থেকে ফিলিস্তিন ভূমি এবং আল আকসা মসজিদ মুক্ত করতে হলে সংগ্রামই হচ্ছে এমকমাত্র কার্যকরী পন্থা । যে টা হিজবুল্লাহ ও হামাস করে যাচ্ছে - তো এসম্পর্কে আপনি কি বলবেন ?

অধ্যাপক শাহ কাওসার মুস্তফা আবুল উলায়ী : হিজবুল্লাহ বা হামাস আঞ্চলিকভাবে যেটা করছে সেটি একটা দিক, তবে তা শেষ পর্যন্ত কতটুকু সফল হবে, সফলতার দিকে যাবে- তা নির্ভর করবে আল্লাহর সহযোগীতার উপর । বাস্তবতার নিরীখে আমার দৃষ্টিতে হামাস বা হিজবুল্লাহ ইসরাইলীদের হয়তো প্রতিরোধ করছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার যেটি মনে হয়, সমস্ত বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালাতে হবে ফিলিস্তিন ও আল কুদস মুক্ত করার জন্যে । সমস্ত মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা , আন্দোলন, কূটনৈতিক তৎপরতা ও ইসরাইলের মুরুব্বীদের প্রতি এ বিষয়ে প্রেসার সৃষ্টি করতে হবে। আমি মনে করি নৈতিক শক্তিই হচ্ছে বড় শক্তি । আর এ বিষয়টি সম্পর্কে যথার্থভাবে প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে বারবার তুলে ধরতে হবে। কিন্তু মুসলমানরা বিষয়টাকে সেভাবে তুলে ধরতে পারছে না । দীর্ঘ তিন দশক বা সেই ৪৮ সাল থেকে ফিলিস্তিন নিয়ে যা হচ্ছে সে বিষয়টি যদি তুলে ধরা যায় তাহলে যেহেতু নৈতিকভাবে তারা দূর্বল সেক্ষেত্রে আমাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী । অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি, হামাসের আন্দোলনের পাশাপাশি বিষয়টিকে সুস্পষ্টভাবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে। মুসলমানরা কখনই সন্ত্রাসী নয় আর ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে সাধারণ মানুষের মৃত্যু হোক এটিও সমর্থনযোগ্য নয় । অন্যদিকে হিজবুল্লাহরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে । ইসরাইল বেপরোয়াভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে মুসলমানদের পক্ষে তো ঐ রকম নিষ্ঠুর হওয়া সম্ভব নয় । ফলে মুসলমানদের মধ্যে নীতি নৈতিকতা ও মানবতার কারণে ইসরাইলীদের মতো বা পশ্চিমা বিশ্বের মতো নিষ্ঠুরভাবে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকবে । ফলে আমি বলবো আন্দোলনের পাশাপাশি প্রচার এবং জনমত সৃষ্টিতে কাজ করতে হবে।

রেডিও তেহরান : কুদস দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে আপনার প্রত্যাশা বা তাদের প্রতি আপনার কি আহবান থাকবে ?

অধ্যাপক শাহ কাওসার মুস্তফা আবুল উলায়ী : বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আমাদের আহবান থাকবে তারা যেন এ বিষয়ে সচেতন হন , ফিলিস্তিনের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলস্তিন রাষ্ট্র সৃষ্টিতে আমাদের অকুন্ঠ সমর্থন এবং এ সম্পর্কে আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করা । সাধারণ মানুষ যদিও এ বিষয়টি জানে তবুও তারা যাতে আরো সচেতন হন সেই আহবান জানাবো । মসজিদুল আকসা পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অংশ নেয়া আমাদের প্রতিটি মুসলমানদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব । আল আকাসার অধিকার একমাত্র মুসলমানদেরই ; আর সে বিষয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের সম্পৃক্ত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমি একটি বিষয় এখানে বলতে চাই ফিলিস্তিন বিষয়ে বা ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারের সমর্থন আন কন্ডিশনাল রয়েছে । এ সম্পর্কে কোনো অস্পষ্টতা নেই । আর আমরা এ বিষয়ে ম্যাসেজ পাঠাচ্ছি সর্বত্র । জনগণ এ বিষয়ে আরো বেশী সচেতন হবেন এ টি প্রত্যাশা করি । আর একটা কথা বলে রাখি - যে আমরা যেহেতু পরম করুণাময় এক আল্লাহতে বিশ্বাস করি ; ফলে আমরা তার কাছে এ বিষয়ে প্রার্থনা করবো এবং তিনি অবশ্যই এ বিষয়ে আমাদেরকে সাহায্য করবেন , এবং তখন ফিলিস্তিন মুক্ত হবে ও জেরুজালেম মুসলমানদের হাতে ফিরে আসবে । #

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন