এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 15 সেপ্টেম্বর 2009 23:37

মসজিদুল আকসা মুক্ত করা বাংলাদেশের মুসলমানদের প্রাণের দাবি : অধ্যাপক তারেকুল হাসান

বিশ্ব কুদস দিবস সম্পর্কে আমরা কথা বলেছি বাংলাদেশ কুদস কমিটির সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মোস্তফা তারেকুল হাসানের সঙ্গে। তাঁর পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাতকারটি এখানে উপস্থাপন করা হলো:

 

রেডিও তেহরান : আচ্ছা অধ্যাপক মোস্তফা তারেকুল হাসান, ফিলিস্তিন সমস্যা মুসলিম বিশ্বের একটি বড় সমস্যা। একদিকে পশ্চিমা বিশ্বের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বর্ণবাদী ইহুদীরা ফিলিস্তিন জবর দখল করে রেখেছে। অপরদিকে মুসলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসা ইহুদীবাদীদের হাতে বন্দি। এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে এবারও মুসলিম বিশ্বে কুদস দিবস উদযাপিত হবে আগামী শুক্রবার। কাজেই আমি প্রথমে কুদস দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়ার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি।

 

অধ্যাপক মোস্তফা তারেকুল হাসান : বিশ্ব কুদস দিবস বা আল কুদস দিবসের গুরুত্ব বা তাৎপর্য সম্পর্কে বলার আগে আমি এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্যে প্রথমেই রেডিও তেহরানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি । এরপর আমি যে কথাটি প্রথমেই বলবো সেটি হচ্ছে, আল কুদস বিষয়টি সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে খুব বেশী পরিচিত হতে পারেনি । কারণ সারা বিশ্বে মুসলমানদের বর্তমান যে অবস্থা তা খুব একটা ভালো নয় ; মুসলমানদের উপর সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচার প্রপাগান্ডা ও ভারতীয় নানা ধরণের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ভিড়ে বর্তমানে যে পবিত্র কাবা বা মসজিদুল হারাম ছাড়া বায়তুল মোকাদ্দাসে অবস্থিত মসজিদুল আকসা- যেটি মুসলমানদের প্রথম কেবলা ছিল এ বিষয়টি আধুনিক প্রজন্ম একেবারেই ভুলে বসে আছে। বিশ্ব কুদস দিবস বা মসজিদুল আকসা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমার কাছে বিষয়টি খুব বেশী পরিলক্ষিত হয়েছে যে, আধুনিক প্রজন্ম আল কুদস এবং মসজিদুল আকসা কি, এটি কোথায় অবস্থিত, এটি পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের প্রত্যেকের কিছু দায়িত্ব কর্তব্য ও ভূমিকা রয়েছে এ কথাটি জানেন না ।


বিশ্বে কুদস দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাপক। কারণ মসজিদুল আকসাকে মুক্ত করা এবং ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানো, ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে সচেনতা সৃষ্টি এবং বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্যে এ দিবসের ডাক দেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ও আধ্যাত্মিক নেতা মরহুম ইমাম খোমেনী। ফলে বিশ্ব মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে এ দিবসের গুরুত্ব অনেক বেশী । আমি এ প্রসঙ্গে আরো বলবো, আল কুদস সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। মসজিদুল আকসা আমাদের প্রথম কেবলা একে পুনরুদ্ধার করতে হবে ; এই মসজিদের সাথে রাসুলে করিম (সাঃ) এর মিরাজের স্মৃতি জড়িত রয়েছে ফলে সেই মসজিদটি অবশ্যই পুনরুদ্ধারের গুরুত্ব রাখে । আর এ জন্য আধুনিক সমাজ ও নতুন প্রজন্মের কাছে ব্যাপক প্রচার প্রপাগান্ডা চালাতে হবে । আর সেটি এই বিশ্ব কুদস দিবসের মাধ্যমে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব । ফলে এই দিবসটিকে ব্যাপকভাবে উদযাপন করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি ।

 

রেডিও তেহরান : মসজিদুল আকসা এবং ফিলিস্তিনী ভূমি মুক্ত করার আন্দোলনের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মুসলমানদেরকে এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ইমাম খোমেনী (রহঃ) রমজানের শেষ শুক্রবার কুদস দিবস উদযাপনের ডাক দিয়েছিলেন । মরহুম ইমাম খোমেনীর এই উদযোগ কতখানি সফল হয়েছে বলে আপনি মনে করেন ?

 

অধ্যাপক মোস্তফা তারেকুল হাসান : মরহুম ইমাম খোমেনীর এই উদ্যোগ বিপুলভাবে সফল হয়েছে বলে আমি মনে করি । কারণ এর আগে এ বিষয়ে বিচ্ছিন্নভাবে দেশে দেশে কম-বেশী আলাপ আলোচনা বা টুকটাক কিছু অনুষ্ঠান হতো কিন্তু ইরানের আধ্যাত্মিক নেতা ও বিশ্বে ইসলামী বিপ্লবের সফল স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে পরিচিত মরহুম ইমাম খোমেনীর সময়োচিত সিদ্ধান্ত বিশ্ব কুদস দিবসের ঘোষণার পর বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশে যেমন আফগানিস্তান, ইরান, পাকিস্তান ,ইরাক ও বাংলাদেশসহ অনেক দেশে এই দিনে বিশ্ব কুদস দিবস উদযাপিত হয় । ফলে আমি মনে করি যে ইমাম খোমেনী (রহঃ) এর এটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী ঘোষণা । ফিলিস্তিনী জনগণকে ইহুদীবাদীদের অক্টোপাস থেকে মুক্ত করে আনার যে দীর্ঘ সংগ্রাম চলছে সে বিষয়টি হয়তো প্রচার হতো বিচ্ছিন্নভাবে । কিন্তু তারমধ্যেও যেন হারিয়ে যেত যে মসজিদুল আকসাকে আমাদের ইহুদীবাদী ইসরাইলীদের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করতে হবে । এ প্রসঙ্গে আমি বলবো, ফিলিস্তিন ভূখন্ডকে যদি পুনরুদ্ধার করা যায় তাহলে ফিলিস্তিনী জনগণের মুক্তির সাথে সাথে আল আকসা মসজিদকে মুক্ত করার যে আন্দোলন সেটি সফল হবে। আমি আবারও বলবো, এ ক্ষেত্রে যথার্থই বিশ্বের বুকে ইসলামী বিপ্লবের নিদর্শন রেখে যাওয়া ধর্মীয় নেতা মরহুম ইমাম খোমেনীর রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্ব কুদস দিবস উদযাপনের ডাক সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত । এর আগে এই দিবসটি উদযাপনের জন্যে নির্ধারিত কোনো দিন তারিখ ছিল না । আল কুদস মুক্ত করতে হবে ফিলিস্তিনীদেরকে মুক্ত করতে এমন একটা আন্দোলন পৃথিবীব্যাপী মুসলমানদের ছিল । কিন্তু এখন একটি সুনির্দিষ্ট দিনে বিশ্বে এটি পালিত হচ্ছে এর ফলে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের সৃষ্টি হচ্ছে । এই যেমন ধরুন আমি বাংলাদেশ কুদস কমিটির সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে আমার অফিসে বসে অত্যন্ত ব্যাপক আকারে এই দিনটি উদযাপনের জন্যে নানা উদ্যোগ নিয়ে ব্যস্ত আছি । আমরা এ জন্যে একটি বড় সেমিনারের আয়োজন করেছি। যদি নির্ধারিত একটি দিবস না থাকতো তাহলে হয়তো আমরা এভাবে উদযাপন করতাম না বা হয়তো একটু এড়িয়ে যেতাম বা উদযাপিত হতো না । এ দিবসটি ঘোষণার ফলে সবচেয়ে বড় যে কাজটি হয়েছে সেটি হচ্ছে, মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য হয়েছে । বাংলাদেশে ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে এ দিবসটি হচ্ছে । যদিও অনেক মানুষ ঢাকা ত্যাগ করে স্ব স্ব গ্রামে চলে যাবে তারপরও আমরা ইমাম খোমেনী (রহঃ) এর ন্যায়ের পক্ষে লড়াইয়ের এ ঘোষণাকে মর্যাদাবান করার জন্যে, কুদস মুক্ত ও ফিলিস্তিন মুক্ত করার জন্যে এ দিবসটি বৃহৎ আকারে পালনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি।

 

রেডিও তেহরান : ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এবং অনেক ইসলামী সংগঠন মসজিদুল আকসা এবং ফিলিস্তিন মুক্ত করার জন্য কথা বলছে, কর্মসূচী গ্রহণ করছে তো বাংলাদেশের মানুষ এই আন্দোলনে কিভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে ?

 

অধ্যাপক মোস্তফা তারেকুল হাসান : দেখুন, আমি মনে করি ফিলিস্তিন ভূখন্ড মুক্ত করা এবং মসজিদুল আকসাকে ইহুদীবাদীদের হাত থেকে মুক্ত করার বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের একটি প্রাণের দাবী । কারণ আমরা যখন প্রতিবছর এ দিবসটি পালন করি তখন বাংলাদেশের মানুষের অকুন্ঠ সমর্থন দেখতে পাই । যদিও গত দু'বছর আমরা সেভাবে উদযাপন করতে পারিনি কারণ তখন দেশে জরুরী আইন ছিল বা অন্য ধরনের সরকার ছিল । তবে এর আগে আমরা যখন বিশ্ব কুদস দিবসে সেমিনার শেষে বায়তুল মোকাররমের গেট থেকে মিছিল বের করতাম তখন সাধারণ মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে আমাদের সেই মিছিলে যোগদান করতো । ফলে ফিলিস্তিন ও মসজিদুল আকসা মুক্ত করার বিষয়টি ইরানসহ পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের দাবী । এ সম্পর্কে যদি ব্যাপক আকারে প্রচার প্রপাগান্ডা চালানো যায় তাহলে আরো বেশী সাধারণ জনগণকে এ সম্পর্কে সচেতন করা যাবে এবং তারা এটিকে গ্রহণ করবে ।

 

রেডিও তেহরান : আগামী শুক্রবার কুদস দিবস। আপনি তো বাংলাদেশ কুদস কমিটির সেক্রেটারী জেনারেল। আগামী শুক্রবার কুদস দিবসের কর্সসূচী সফল করার জন্য আপনি বাংলাদেশী জনগণের উদ্দেশ্য কি কিছু বলবেন ?

 

অধ্যাপক মোস্তফা তারেকুল হাসান : আমি বিশ্ব কুদস দিবস সম্পর্কে বাংলাদেশী সমস্ত মানুষের প্রতি সব সময় আহবান জানাই তারা যেন এ দিনটিকে সমর্থন জানিয়ে ফিলিস্তিনীদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে। এ দিনটিকে উদযাপনের জন্যে এবং মানুষের কাছে এ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও একাত্মতা ঘোষণার জন্যে আমরা বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি মসজিদের ইমামদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি । সেখানে আহবান জানিয়েছি ঐ দিন জুম্মার নামাজের খোতবায় তারা যেন এ বিষয়টি তুলে ধরেন। ইমাম সাহেবরা যদি সত্যিকারভাবে বিশ্ব কুদস দিবসের বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারেন সাধারণ মানুষের কাছে তাহলে এটি একটি ব্যাপক কাজ হবে। এছাড়াও ঐ দিন আমরা একটি সেমিনারের আয়োজন করেছি যে কথা আগেই বলেছি । সেমিনারের পর র‍্যালি হবে। এছাড়া এ বিষয়ের উপর শহর জুড়ে পোষ্টারিং হচ্ছে। এসবের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের মানুষের চেতনার মধ্যে বিষয়টি গভীরভাবে গ্রোথিত করতে চেয়েছি। মুসলমানদের প্রথম মসজিদ মসজিদুল আকসা - সেটি আজ ইহুদীদের দখলে সে মসজিদটি আমাদের উদ্ধার করতে হবে। আর এ চেতনাকে ধারণ করে আমরা আমাদের মানসিক আন্দোলন করতে পারি, বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে, টিভিতে টকশোর মাধ্যমে , গান কবিতা ও গল্পের মাধ্যমে যে যেভাবে পারি আমরা এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হবো-এই আহবান জানাই সকল বাংলাদেশী জনগণের প্রতি। #

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন