এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শুক্রবার, 18 সেপ্টেম্বর 2009 21:02

বিশ্ব কুদস দিবস উপলক্ষে ইরানে লাখো মানুষের সমাবেশ

১৮ সেপ্টেম্বর : পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার বিশ্ব কুদস দিবস উপলক্ষে আজ ইরানের জনগণ মজলুম ফিলিস্তিনীদের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়ে ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়েছে। আজ তেহরানে অনুষ্ঠিত জুম্মার নামাজের খুতবা শুরুর আগে এ উপলক্ষ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট জনাব মাহমুদ আহমাদিনেজাদ মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন। তিনি যায়নিজম বা ইহুদীবাদের প্রকৃত পরিচয় ও ইতিহাস তুলে ধরে বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদী লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই ছিল ইহুদীবাদীদেরকে নির্যাতিত হিসাবে তুলে ধরা এবং ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। তিনি দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাকে জাতীয়, মানবিক, নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেন, যে কোন জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং মজলুমের প্রতি সমর্থন জানানো মুসলমানদের বিশ্বাসের একটা মূল অংশ। ইরানের প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে আগ্রাসী ইসরাইলের প্রতি পশ্চিমা সমর্থনের তীব্র সমালোচনা করে প্রশ্ন করেছেন, কেন পশ্চিমারা ইসরাইল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে কোন প্রশ্ন করার সুযোগ দেয় না? তিনি আরো প্রশ্ন করেছেন ইউরোপের ইহুদীরা যদি সত্যিই নির্যাতিত হয়ে থাকে তাহলে তার দায় কেন ফিলিস্তিনী জাতি বহন করবে এবং তাদের বাড়িঘর ও জায়গা জমি কেন কেড়ে নেয়া হবে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলী কর্মকর্তারা এখন এটা ভালো করেই বুঝতে পেরেছে যে ফিলিস্তিন জবর দখল এবং ইসরাইল প্রতিষ্ঠার জন্য তারা যে সব কল্পকাহিনী বানিয়েছিল তা এখন বিরাট চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। বিশ্ববাসীর এখন এটা বুঝতে বাকি নেই যে ইহুদীদের অধিকার রক্ষার নামে তাদেরকে নির্যাতিত হিসাবে তুলে ধরা এবং ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আর এসবই করা হয়েছিল সাম্রাজ্যবাদী লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে। এক সময় ইহুদীবাদীরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকলেও ইসরাইল রাষ্ট্রের ঘোষণা দেয়ার পর তারা তাদের সকল অপকর্ম ও জুলুম নির্যাতন ফিলিস্তিন ভূখন্ডের দিকে নিবদ্ধ করে।   গত ৬০ বছরে ইহুদীবাদীরা একের পর এক হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনীদের বাড়িঘর, জায়গা জমি দখল করেছে, তাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা ও শরণার্থীতে পরিণত করেছে এবং বছরের পর বছর ধরে বহু ফিলিস্তিনীকে আটকে রেখেছে। ইসরাইলীরা এখন ফিলিস্তিনী জাতিকে সমূলে ধ্বংস করে তাদেরকে চীর দিনের জন্য ইতিহাসের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করার চেষ্টা করছে। প্রতি বছরের মত এবারও বিশ্ব কুদস দিবস এমন সময় পালিত হয়েছে যখন বর্ণবাদী ইসরাইল অসহায় নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপর হামলা তীব্রতর করেছে। অনেক দেরিতে হলেও জাতিসঙ্ঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সম্প্রতি গাজায় ইসরাইলের ২২ দিনের বর্বোরোচিত হামলায় ইসরাইল মানবতা বিরোধী ভয়াবহ অপরাধি কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিল এবং তারা যুদ্ধাপরাধ করেছে। জাতিসঙ্ঘের এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক সমাজকে ফিলিস্তিন সংকটের ব্যাপারে সঠিক চিন্তা করার সুযোগ এনে দিয়েছে।   অবশ্য ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে ইরানী জনগণ ফিলিস্তিনীদের প্রতি সমর্থন দেয়ার ক্ষেত্রে সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনি (র:) পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব আলকুদস দিবস হিসেবে পালন করার আহবান জানিয়েছিলেন৷ ফিলিস্তিনীদের অধিকারের প্রতি সমর্থন এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংকট সমাধানের জন্য নিজেদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। #

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন