এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 10 মার্চ 2008 14:18

প্রতিবেদনঃ বিশ্ব কুদস দিবস - ২০০৬

২০ অক্টোবরঃ ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ বছরও বিশ্ব কুদস দিবস উদযাপিতহয়েছে৷ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনি (র) ইরানের ইসলামীবিপ্লবের নজির বিহীন সাফল্যের পর পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব আলকুদস দিবস হিসেবে পালন করার আহবান জানিয়েছিলেন৷ তার সে আহবানে সাড়া দিয়ে বিশ্ববাসী বিশেষ করে মুসলমানরা প্রতিবছর এ দিনটি বিশ্ব কুদস দিবস উপলক্ষ্যে উদযাপন করে আসছে৷ ইরানের প্রেসিডেন্ট ডা. মাহমুদ আহমাদিনেজাদ আজ তেহরানে বিশ্ব কুদস দিবসের বিক্ষোভ শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ বিক্ষোভকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক এবং ইসরাইল ধবংস হোক বলে শ্লোগান দিয়েছে৷ লেবাননের হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নর-নারী আজ ইসরাইলের সীমান্তের কাছে বিশ্ব কুদস দিবস উপলক্ষ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে৷ হিজাব আবৃত বিক্ষোভকারী মহিলাদের হাতে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহর ছবি শোভা পেয়েছে৷ পাকিস্তানের বন্দর নগরী করাচি থেকে শুরু করে সমগ্র পাকিস্তান ব্যাপী আজ বিশ্ব কুদস দিবস উপলক্ষ্যে বিক্ষোভ শোভাযাত্রা হয়েছে৷ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও এবছর বিশ্ব কুদস দিবস পালিত হয়৷ এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ইহুদীবাদী ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে মুসলিম বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকী তা ইমাম খোমেনী (রঃ) দুইযুগ আগেই বলেছিলেন এবং একথা আজও প্রমাণিত৷ বক্তারা বলেন, আমেরিকা শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য নয় গোটা বিশ্ব মানবতার শত্রু৷ তারা বিনা বিচারে মানবাধিকার লঙঘন করে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আগ্রাসন চালাচেছ৷ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদুত শায়ের মোহাম্মদ বলেন, ইসরাইলী বাহিনী প্রতিদিন নিরপরাধ ফিলিস্তিনি সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করে চলেছে৷ আজ পশ্চিমা বিশ্ব মানবাধিকারের দোহাই তুলে শক্তিশালী ইসরাইলী বাহিনীর সামনে অসহায় ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মরক্ষার অধিকারটুকু কেড়ে নিয়েছে৷ ফিলিস্তিনি জনগণ যখন ইসরাইলী বাহিনীর বর্বরচিত আক্রমণের সামনে ঢিল ছুড়ে তখন পশ্চিমা বিশ্বে ফলাও করে প্রচার করে বলা হয় এরা সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ৷ এরা মানবাধিকার লঙঘন করছে৷ অথচ ইসরাইলী সৈন্যরা যখনফিলিস্তিনি জনগণের ঢিলের জবাবে অত্যাধুনিক রাইফেলের বুলেট দিয়ে শিশু বৃদ্ধ ও মহিলাদের হত্যা করে তখন মানবাধিকার লঙঘনের কোন প্রশ্ন করা হয় না৷ আর এভাবেই যুগের পর যুগ চলছে ফিলিস্তিনিদের মাতৃভুমি রক্ষার আন্দোলন৷ তবে সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের বিজয় নতুন করে আরব বিশ্বকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন৷ ইরানী রাষ্ট্রদূত বেহেশতী মোনফারেদ বলেন, মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও আল্লাহর উপর বিশ্বাস, যে কোন শক্তির বিরুদ্ধে বিজয় সম্ভব এ কথা আজহিজবুল্লাহরা আবারো প্রমাণ করেছে৷ তিনি বলেন, ইমাম খোমেনী (রঃ) বিশ্ব মুসলিমের ঐক্যের জন্য যে কুদস বিদসের ঘোষণা দিয়েছিলেন তা আজ মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় এক অন্যন্য উদাহরণ৷ এদিকে বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা ওবাইদুল হক আজ জুমার নামাজের আগে বলেছেন, বিশ্বে কোটি কোটি মুসলমান থাকা সত্ত্বে গুটি কয়েক ইহুদী বাইতুল মোকাদ্দাস দখল করে রেখেছে৷ তিনি বলেন, একমাত্র মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্যের জন্যই আজ বিশ্বে মুসলমানরা নির্যাতিত৷ তিনি বলেন, মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যই পারে তাদের হারানো ঐতিহ্য ও বাইতুল মোকাদ্দাসকে ইহুদীদের হাত থেকে উদ্ধার করতে ৷ এ সম্পর্কে বাংলাদেশে বিশ্ব কুদস দিবস আন্দোলনের সাথে জড়িত জুলফিকার আলী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন মুসলমানদের প্রথম কেবলা ইহুদীদের দখলে রেখে কোন মুসলমান নিজেকে সম্মানিত মনে করতে পারে না৷ এই কেবলার সাথে মুসলমানদের অনেক ঐতিহ্য জড়িত রয়েছে৷ তাই ইমাম খোমেনী (রঃ) এর ডাকে প্রতি রমযানের শেষ শুক্রবার বিশ্ব কুদস দিবসে বিশ্বের সকল মুসলমান এই দিনটিতে নিজেদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় প্রেরণা হিসেবে মনে করে৷ ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. আহমাদিনেজাদ কুদস দিবসের বিক্ষোভ শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করার পর তেহরানের জুমআর নামাজের মুসলি−দের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বলেছেন, ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মান মর্যাদা কেবল ফিলিস্তিনের মধ্যেই সীমাবন্ধ নয়

বরং এটা মানবজাতি ও বিশ্ববাসীর মান মর্যাদার বিষয় ৷ তিনি আরো বলেছেন, বিশ্ববাসীর সচেতনতার কারণে অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত করার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ৷ তিনি বলেন, ইসরাইলি বাহিনী সামরিক দিক থেকে শ্রেষ্ঠ এবং অপারজেয় বলে যে সব গালগল্প গড়ে উঠেছিলো, ফিলিস্তিনের সাহসী তরুণ এবং লেবাননের হিজবুল্লাহরা তা মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে৷ ফিলিস্তিনের বিরাজমান সংকট নিরসের

জন্য ফিলিস্তিনের জনগণ অর্থাৎ সেখানে বসবাসকারী মুসলমান, খ্রিষ্টান ও ইহুদিদেরকে তাদের নিজেদের ভাগ্য নিজেদের রচনা করার সুযোগ দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন৷ জনাব আহমাদিনেজাদ আরো বলেছেন, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ৬০ লক্ষ ইহুদির প্রাণ হারানোর কথা সত্যি হয়ে থাকলে ওই যুদ্ধে আরো যে ৫ কোটি ৪লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলো তাদের জন্য কেনো দুঃখ করা হয় না ? আর ৬০ লক্ষ ইহুদি নিহত হয়ে থাকলে তা ইউরোপে হয়েছে, সে ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনের জনগণের অপরাধ কি? তিনি আরো বলেছেন, কথিত হলোকাস্টের ঘটনা যদি সত্যিই হয়ে থাকে তবে কেনো স্বতন্ত্র গোষ্ঠি গঠন করে এই কথিত হত্যাকান্ডের ব্যাপারে তদন্ত চালানোর অনুমতি কেনো দেয়া হয় না ? হলোকাস্টের বিরোধিতাকারীদের কেনো রক্তচক্ষু দেখানো হয় বা তাদেরকে কেনো কারাগারে নিক্ষেপ করা হয় ? আর কেনোইবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হলোকাস্টের অজুহাত দেখিয়ে সুবিধা আদায় করছে ? জনাব আহমাদিনেজাদ তার এই ভাষণের অন্যত্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে পরিপূর্ণ স্বচছ হিসেবে উল্লেখ করেন৷ তিনি বলেছেন, ইরানি জনগণ শান্তিকামী, নির্যাতনকামী নয় এবং কোনো চাপিয়ে দেয়া নীতি তারা মেনে নেবে না৷ তেহরানের জুমআর নামাজের খতিব হাশেমী রাফসানজানী বলেছেন ইঙ্গ-মার্কিন মদদপুষ্ট ইহুদিবাদী ইসরাইলের পাশবিক নির্যাতন এবং কিছু কিছু আরব দেশের অসহযোগিতার কারণে ফিলিস্তিনিরা বর্তমান শতাব্দীতে বিশ্বের সবচেয়ে মজলুম জাতিতে পরিণত হয়েছে ৷ জনাব রাফসানজানী বিশ্ব কুদস দিবসের বিক্ষোভ শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করার পর তেহরানের জুমআর নামাযের খুতবায় ফিলিস্তিনী জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসনের প্রতি মার্কিন সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলেন আমেরিকা এ পর্যন্ত ইসরাইল বিরোধী ৩০টি প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করেছে ৷ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অর্ধেকের বেশি প্রস্তাবে আমেরিকা ভেটো দিয়েছে যার অধিকাংশ প্রস্তাবই ছিলো ফিলিস্তিন সম্পর্কিত ৷ তেহরানের জুমআর নামাযের খতিব আরো বলেছেন ইহুদিবাদী ইসরাইল ৫০ লক্ষ ফিলিস্তিনী শরণার্থীকে তাদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে জাতিসংঘের ইশতেহারের প্রতি কর্ণপাত না করে মূলত এ সংস্থাকে হাসির পাত্রে পরিণত করেছে ৷ জনাব রাফসানসানী বলেন ইহুদিবাদী ইসরাইল বিভিন্ন ঘাঁটি তৈরি করে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে এই দেশুগুলোর তেল বিক্রির অর্জিত অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে ৷#

 বিশ্ব কুদস দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে লক্ষ লক্ষ মানুষের মিছিল এবং এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিক্রিয়া ২১ অক্টোবরঃ বিশ্ব কুদস দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে লক্ষ লক্ষ মুসলমানের বিক্ষোভ সমাবেশের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে৷ রমজান মাসের শেষ শুক্রবার অর্থাৎ গতকাল বিশ্বের মুসলমানদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ইরানের জনগণও ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে দখলদারদের হাত থেকে পবিত্র বায়তুল মোকাদ্দাস মুক্ত করার অঙ্গীকার এবং মজলুম ফিলিলিস্তনীদের প্রতি তাদের সমর্থন ঘোষণা করেছে৷ গত কয়েক দিন ধরে অধিকাংশ পশ্চিমা গণমাধ্যমের দৃষ্টি ইরানের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচীর দিকে নিবদ্ধ৷ গতকালও এই গণমাধ্যম্যগুলো জুম্মারনামাজে দেয়া ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের কিছু অংশ তুলে ধরে পরমাণু বিষয়ে তাদের অপপ্রচার চালিয়ে বিশ্ব কুদস দিবসের মিছিলে লক্ষ লক্ষ ইরানীর উপস্থিতির বিষয়টিকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছে৷ ফ্রক্স নিউজ, স্কাই নিউজ, বিবিসি, সি.এন.এন., ডয়েচে ভেলে ও ইউরো নিউজ টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দখলদার ইসরাইলের আগ্রাসন, হত্যা ও ধবংসযজ্ঞের ব্যাপারে আহমাদি নেজাদের সমালোচনাধর্মী বক্তব্যকে বড় করে তুলে ধরে কুদস দিবসের মিছিলে লক্ষ লক্ষ ইরানীর অংশ গ্রহণেরবিষয়টিকে গুরুত্বহীন বা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা চালিয়েছে৷ অথচ কাতারের আল জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলসহ আরো অনেক গণমাধ্যম বিশ্ব কুদস দিবসের মিছিলে লক্ষ লক্ষ ইরানীর উপস্থিতির অংশ গ্রহণের ছবি প্রদর্শন করে বলেছে, ইসরাইলের সাথে যুদ্ধে হিজবুল্লাহর বিজয়ের পর গতকাল অনুষ্ঠিত ইরানীদের এ মিছিল ছিল কয়েক বছরের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী শোভাযাত্রা৷

বিশ্ব কুদস দিবস উপলক্ষ্যে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট আহমাদি নেজাদ মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা স্বরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন বর্তমানে এমনকি ইসরাইলের মিত্র দেশগুলোর কাছেও ইসরাইল তার মর্যাদা হারিয়েছে৷ তেহরানে জুম্মা নামজের অস্থায়ী ইমাম জনাব হাশেমি রাফসানজানিও তার খুতবায় ফিলিস্তিন সংকটের ব্যাপারে জাতিসঙঘ নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত বিভিন্ন প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ইসরাইল বিরোধী অন্তত ৩০টি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে যার অধিকাংশ প্রস্তাবই ছিল ফিলিস্তিন সম্পর্কিত৷ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দৃষ্টিতে নির্যাতিত ফিলিস্তিনীদের প্রতি সহমর্মীতা ও সত্য প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে বিশ্ব কুদস দিবস সব সময়ই বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী৷ তাই পশ্চিমা ও ইসরাইলী গণমাধ্যমগুলো সব সময়ই বিশ্ব কুদস দিবসকে খাটো করে দেখানো এবং এ ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলেও এ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত মিছিলে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতির বিষয়টিকে তারা কখনই জনগণের দৃষ্টি থেকে আড়াল করতে পারেনি৷ এবছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি৷ #

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন