এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 01 আগস্ট 2013 18:47

বিশ্ব কুদস দিবস ২০১৩

রমযানের শেষ শুক্রবার বিশ্ব আলকুদস দিবস। ইহুদিবাদী ইসরাইলের স্বরূপ তুলে ধরে ঐক্যবদ্ধ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানোর দিবস। আলকুদস মুক্তির লক্ষ্যে সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের একতাবদ্ধ হবার দিবস। ইসরাইলের পতন কামনার দিবস। এই দিবস এলেই থরথর করে কাঁপে ইসরাইল। এই দিবস এলেই ইসরাইলের অবৈধ সত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যায়। আসুন আমরা সবাই ইসলামের পরম শত্রু ইসরাইলের পতন কামনা করে সমস্বরে বলি: ‘অবৈধ ইসরাইল নিপাত যাক। আল কুদস মুক্তি পাক’।

 

মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম বিশ্ব গত কয়েক দশক ধরে একটা মারাত্মক সংকট মোকাবেলা করে যাচ্ছে। সংকটটা হলো মুসলমানদের অত্যন্ত প্রিয় এবং পবিত্র স্থান বায়তুল মোকাদ্দাসকে রাহুর মতো গ্রাস করে আছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। তারা অবৈধ দখলদারিত্ব বজায় রেখে ফিলিস্তিন ভূখণ্ড এবং সেখানকার মুসলমানদের ওপর নির্বিচারে জুলুম অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। বিষফোঁড়া বা ক্যান্সারের মতো এই অবৈধ রাষ্ট্রটি এখন কেবল ফিলিস্তিন কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের জণ্যেই নয় বরং লেবাননসহ আশেপাশের প্রায় সকল দেশের জন্যেই মারাত্মক হুমকি হয়ে আছে।

 

সেই ১৯৪৮ সাল থেকে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল তাদের অস্তিত্ব ঘোষণা করার পর থেকেই ফিলিস্তিনী জাতির বিরুদ্ধে বিরামহীনভাবে তারা হামলা চালিয়ে এসেছে। তাদের নিরন্তর হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনী শহীদ হয়েছে, আহত হয়েছে হাজার হাজার। আহত ফিলিস্তিনীরা এখনো জীবনের সাথে পাঞ্জা লড়ে যাচ্ছে। এছাড়া মিলিয়ন মিলিয়ন ফিলিস্তিনী নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে গিয়ে উদ্বাস্তু জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। আরো হাজার হাজার ফিলিস্তিনীকে এই ইসরাইল আটক করে নিয়ে কারাবন্দী করে রেখে দিয়েছে। ইসরাইলীরা নিরন্তর হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক পরিচিতি ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে। ফিলিস্তিনের যে সামাজিক বিন্যাস এবং তাদের যে ঐতিহাসিক একটা পরিচিতি রয়েছে সেই স্বরূপটাও তারা নষ্ট করে দিচ্ছে।

 

বিশ্বের বুকে ফিলিস্তিনই একমাত্র দেশ যেখানে ইসরাইলীরা নির্বিচারে অব্যাহতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। ফিলিস্তিনেীদের অধিকার মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার পরও তথাকথিত মানবাধিকারের ধ্বজাধারীরা কেবল যে টু-শব্দটিও করছে না তাই নয়, উল্টো বরং ইসরাইলকেই তারা আর্থিক এবং সামরিক সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সরকার হচ্ছে এই মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী ইসরাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিংবা বলা যায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক। এই যুক্তরাষ্ট্রই ইসরাইলকে সাহায্য করার জন্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্ষিক বিশাল বাজেট দিয়ে থাকে। পুরো বাজেটের টাকায় অস্ত্রশস্ত্র দেওয়া হয় ইসরাইলকে, যেসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয় ফিলিস্তিনের নিরীহ নারী-পুরুষ আর শিশুদের হত্যা করার জন্যে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে ইসরাইলই একমাত্র দেশ যে দেশে রয়েছে পরমাণু বোমার বিশাল মজুদ। এই পরমাণু বোমা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। অপরদিকে এই ইসরাইলেরই গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ গত কয়েক দশক ধরে মুসলিম দেশগুলোতে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদের বীজ রোপন করে অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে অশান্তি আর বিশৃঙ্ক্ষলায় একেবারে বিষিয়ে তুলেছে। ফিলিস্তিনের পার্শ্ববর্তী লেবাননও ইসরাইলী দখলমুক্ত হবার পর থেকেই ইসরাইলীদের জঙ্গিবিমানগুলো প্রায় প্রতিদিনই লেবাননের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।  অথচ মানবাধিকারের দাবিদার শক্তিগুলো লেবাননের আকাশসীমা লঙ্ঘনের জন্যে ইসরাইলের সমালোচনা বা নিন্দা জানানো তো দূরের কথা উল্টো বরং লেবাননের মূল প্ররোধ আন্দোলন-যারা ইসরাইলী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার-তাদেরকেই সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেছে।

 

অপরদিকে সিরিয়ার বাশার আসাদের বৈধ সরকার-যে কিনা মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল এবং আমেরিকার আগ্রাসন ও আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে সবসময় রুখে দাঁড়িয়েছে-বিগত দুই বছর ধরে তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোর সবাই পশ্চিমাদের সার্বিক সমর্থন ও মদদপুষ্ট। পবিত্র ভূখণ্ড ফিলিস্তিন দখলের মতোই ইসরাইল এখন পশ্চিমাদের সমর্থনপুষ্ট হয়ে লেবানন এবং সিরিয়াতেও একই ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। এই ইসরাইল সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ক্যান্সারের মতো বিরাজ করছে, যে ক্যান্সারের লক্ষ্য হচ্ছে এ এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষকে শান্তি ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত করা।

এরসাথে যুক্ত হয়েছে আরব কিছু দেশ যারা পশ্চিমা দেশগুলোর মিত্র হিসেবে পরিচিত। তাদের সমর্থন পেয়েও পশ্চিমারা বাহ্যিকভাবে বন্ধুত্বের ভান করে ফিলিস্তিনী জনতার ওপর অত্যাচার চালিয়েই যাচ্ছে। এই পশ্চিমাদের পেট্রোডলারের কারণে আরব দেশগুলোর শাসকগোষ্ঠি বছরের পর বছর ধরে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। এমনভাবে আচ্ছন্ন হয়েছে যে তারা এখন নিজেদের শত্রু-মিত্রকেও চিনতে পারছে না। এই আরব শাসকরাই ইহুদিবাদী ইসরাইলের জুলুম নির্যাতনের মোকাবেলায় চুপ থেকে ইসরাইলকে প্রশ্রয় দিয়ে রেখেছে। আর আন্তর্জাতিক সমাজের এই নীরবতার সুযোগে ইসরাইল প্রতিদিনই তাদের আগ্রাসী কর্মকান্ডের মাত্রা বাড়িয়েই চলেছে। এখন তারা সিরিয়াতে বাশার আসাদের বৈধ সরকারকেও উৎখাত করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

 

এরকম পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো মজলুম ফিলিস্তিনীদের অধিকার পুনপ্রতিষ্ঠার দাবীতে নিজ নিজ দেশের সরকারের চেয়েও অনেক বেশি অগ্রগামী। বিশ্ব কুদস দিবসে তারা স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐক্যবদ্ধভাবে  বিক্ষোভ করবে। এই বিক্ষোভের মাধ্যমে ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার হবে। মজলুম ফিলিস্তিনীদের সমর্থনে বিশ্বের সকল নিপীড়িত মুসলমানের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মহান রূপকার হযরত ইমাম খোমেনী (রহ) ১৯৭০ সালের আগস্টে সর্বপ্রথম এই কুদস দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন থেকে প্রত্যেক রমযানের সর্বশেষ শুক্রবারকে বিশ্ব কুদস দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

 

এই দিবস পালনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলমানদের একটা ঐক্য ও সংহতি গড়ে ওঠে। আর কে না জানে ঐক্য ও সংহতিই হচ্ছে আধিপত্যবাদ বিরোধী শক্তির মূল প্রেরণা। এই শক্তি মজলুম ফিলিস্তিনীদের অধিকারের প্রতি সমর্থনের ক্ষেত্রে ব্যাপক সাহসী ভূমিকা রাখে। বিশ্ব কুদস দিবসের কর্মসূচি গত ত্রিশ বছর ধরে প্রতিবছরই আগের বছরের তুলনায় আরো বেশি জাঁকজমকপূর্ণ হচ্ছে। এই দিবসের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিন সমস্যা যে মুসলিম বিশ্বের জন্যে সবচেয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার বিষয় সে সত্যটি ফুটে ওঠে। ইমাম খোমেনী (রহ) কুদস দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে বলেছেনঃ ‘কুদস দিবস একটি বিশ্ব দিবস। দিবসটি কেবল কুদসের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। এই দিবস বলদর্পী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে শোসিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত জনতার দবস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের জুলম অত্যাচারে যেসব দেশ পিষ্ট হয়েছে তাদের রুখে দাঁড়ানোর দিবস। এই দিবস বলদর্পীদের বিরুদ্ধে নিগৃহীতদের সুসজ্জিত হবার দিবস।

 

এই দিবসে কুদস শরিফকে দখলদারমুক্ত করার জন্যে সবাইকে উদ্যমী হতে হবে। লেবাননের ভাইদেরকে তাদের ওপর আরোপিত চাপ থেকে মুক্তি দিতে হবে। এই দবস বলদর্পী শক্তিগুলোর ধারালো নখের থাবা থেকে মজলুমদের মুক্তির দিবস। কুদস দিবস সকল মুসলিম দেশ ও সমাজের অস্তিত্ব ঘোষণার দিবস।*

 

রেডিও তেহরান/এনএম/এআর/১

 

 

 

এই ক্যাটাগরিতে আরো: « বিশ্ব কুদস দিবস-২০১২

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন