এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 03 জানুয়ারী 2016 12:33

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার পরমাণু সমঝোতার অর্থ শত্রুতার অবসান নয়

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার পরমাণু সমঝোতার অর্থ শত্রুতার অবসান নয়

৩ জানুয়ারি (রেডিও তেহরান): আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ ‘ইরান পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে’-এ মর্মে প্রতিবেদন প্রকাশের পরই কেবল আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতি পালন শুরু করবে বলে কথা রয়েছে। আইএইএ জানুয়ারির শেষের দিকে ইরানের ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। পুরো বিষয়টি আইএইএ’র জন্যও পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

ইরান তার প্রতিশ্রুতি কতটুকু পালন করেছে সে বিষয়ে আইএইএ তদন্ত বা যাচাই বাছাই কাজ শেষ করেছ। আইএইএ’র প্রধান ইউকিয়া আমানো জার্মান বার্তা সংস্থাকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন থেকে বোঝা যায়, গত এক দশক ধরে চলমান আলোচনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। 

 

ইরান এ পর্যন্ত তার প্রতিশ্রুতির বেশিরভাগই বাস্তবায়ন করেছে। তাই ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়াসহ অন্যান্য প্রতিশ্রুতিগুলো ছয় জাতিগোষ্ঠী বাস্তবায়ন করে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা নানা ভিত্তিহীন অজুহাতে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অজুহাতে গত সপ্তায় মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয় ইরানের ১২ ব্যক্তি ও কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল কিন্তু মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গত বৃহস্পতিবার ওই নিষেধাজ্ঞা হঠাৎ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি কমবেশি আলোচনার টেবিলে রয়েছে।

 

হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা মনে করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বিষয়টির সঙ্গে পরমাণু সমঝোতার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুকে ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাদের মতে, মার্কিন কর্মকর্তারা আসলে ইরানের ব্যাপারে দুই ধরণের আচরণ করছে। আমেরিকায় তৎপর ইহুদিবাদী লবিং গ্রুপও মার্কিন সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটাচ্ছে এবং নানাভাবে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, যারা মনে করে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার ফলে মার্কিন শত্রুতার অবসান ঘটবে তারা চরম ভুলের মধ্যে রয়েছে। কারণ মার্কিন কর্মকর্তারা গত ১০ বছর ধরে রাজনৈতিক চাপ ও হুমকি দিয়ে এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে তারা এখন কোনো না কোনো উপায়ে ইরানের ক্ষতি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।

 

তিনটি অজুহাতে হোয়াইট হাউজ ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছে। প্রথমত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, দ্বিতীয়ত মানবাধিকার ইস্যু এবং তৃতীয়ত মার্কিন ধাঁচে ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা বলেছেন এ তিনটি ইস্যু এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে। এ থেকে বোঝো যায় ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার শত্রুতামূলক নীতি বজায় রয়েছে। এর ফলে আমেরিকার প্রতি ইরানিদের অবিশ্বাস ও অনাস্থার মাত্রা আগের মতোই বহাল রয়েছে বরং আরো বেড়েছে।

 

যাইহোক মার্কিন আচরণের ব্যাপারে ইরানের জবাব অত্যন্ত স্বচ্ছ। পরমাণু সমঝোতার আগেই ইরান জানিয়ে দিয়েছিল, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়টি কখনই আলোচনার এজেন্ডায় ছিল না। এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে ইরান কারো সঙ্গেই কেনো সংলাপে বসবে না।#

 

রেডিও তেহরান/আরএইচ/২

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন