এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 14 জানুয়ারী 2016 18:48

কেন আমেরিকার কাছে ইরানি পরমাণু পণ্য রপ্তানি?

ফাইল ফটো ফাইল ফটো

১৪ জানুয়ারি (রেডিও তেহরান): আমেরিকার কাছে ইরানের ৪০ টন হ্যাভি ওয়াটার বিক্রি করার পরিকল্পনা সম্পর্কিত খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রেডিও তেহরানের শ্রোতা ও পাঠক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার উপ প্রধান আলী আসগর জারিয়ান গতকাল (বুধবার) হ্যাভি ওয়াটার বিক্রির করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে আমেরিকায় এই হ্যাভি ওয়াটার রপ্তানি করা হবে।

 

এ খবর বের হওয়ার পর ইরানের বহু শুভাকাঙ্ক্ষী ও রেডিও তেহরানের শ্রোতা-পাঠক প্রশ্ন তুলেছেন- কেন আমেরিকার কাছে ইরান পরমাণু পণ্য ও হ্যাভি ওয়াটার বিক্রি করবে? যে দেশ ইরানকে এতদিন কষ্টে ফেলে রেখেছে এবং যে আমেরিকার কারণে ইরানকে পরমাণু ইস্যুতে বছরের পর বছর কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকতে হয়েছে সেই আমেরিকার কাছে ইরান কেন পরমাণু পণ্য রপ্তানি করবে তেহরান?

 

বিষয়টি হচ্ছে- গত ১৪ জুলাই ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পরমাণু ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে সে অনুযায়ী ইরানে ৩০০ কেজি’র বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাখতে পারবে না তেহরান। এছাড়া, হ্যাভি ওয়াটারও একটা সুনির্দিষ্ট পরিমাণে রাখতে পারবে; তার চেয়ে বেশি নয়। এর চেয়ে উদ্বৃত্ত পরমাণু পণ্য ইরানের বাইরে পাঠাতে হবে। সে কারণে ইরান বাড়তি ইউরেনিয়াম ও হ্যাভি ওয়াটার বিভিন্ন দেশের কাছে বিক্রি করে দেবে। এগুলো হচ্ছে ওই সমঝোতার শর্ত।

 

এই শর্তের আওতায় ইরান এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর রাশিয়ার কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিক্রি দিয়েছে। আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, তা হচ্ছে ইরানের এসব পরমাণু পণ্য চাইলেও সব দেশের কাছে বিক্রি করা যাবে না; শুধুমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর কাছে বিক্রি করতে হবে। আবার সব পরমাণু শক্তিধর দেশের জন্য প্রয়োজন নাও থাকতে পারে। অনেকে নিজেই তার প্রয়োজনীয় পরমাণু উপাদান উৎপাদন করে নিজের চাহিদা মেটায়। যেসব দেশের কাছে পরমাণু প্রযুক্তি নেই তাদের কাছে পরমাণু বিক্রি করার প্রশ্নও নেই। এসব বিষয় ইরানকে মাথায় রাখতে হচ্ছে। এছাড়া, আমেরিকার কাছে পরমাণু পণ্য বিক্রির মধ্যদিয়ে এ বিষয়টিও প্রমাণিত হবে যে, ইরানে উৎপাদিত পরমাণু পণ্য আন্তর্জাতিক মানের।

 

আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার- সমঝোতা অনুযায়ী, আরাক রিঅ্যাক্টরকে রূপান্তর বা সংস্কার করতে হবে। সেজন্য ইরান আগামী সপ্তাহে চীনের সঙ্গে একটি চুক্তি করবে। রিঅ্যাক্টরের সংস্কার কাজ শেষ হয়ে গেলে ইরান তখন আনুষ্ঠানিকভাবে কৌশলগত বিশেষ পরমাণু পণ্য উৎপাদনকারী দেশগুলোর সদস্য হবে যা তেহরানের জন্য বড় অর্জন। ইরান এখনই ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লুরাইড বা ইউএফ-সিক্স’সহ কৌশলগত বিশেষ পরমাণু পণ্য উৎপাদন করছে। ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার উপ প্রধান আলী আসগর জারিয়ান জানান, ইরান বছরে ২০ টন হ্যাভি ওয়াটার উৎপাদন করবে এবং বাড়তি অংশ বিদেশি ক্রেতাদের কাছ বিক্রি করে দেবে।#

 

রেডিও তেহরান/এসআই/১৪ 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন