এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শুক্রবার, 10 জুলাই 2015 17:44

'আরবরা এক বালতি করে পানি ঢাললে দখলদার ইসরাইল ভেসে যাবে'

রমজানের শেষ শুক্রবার হচ্ছে বিশ্ব কুদস্ দিবস। মুসলমানদের প্রথম কেবলা আলআকসা মসজিদ ও পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের জবরদখল ও পুরো ফিলিস্তিনকে ইসরাইলের নাগপাশ থেকে মুক্ত করার জন্য বিশ্বব্যাপী গণ-সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইসলামী বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনীর আহ্বানে চালু হয়েছে এই দিবস। ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর প্রথম চালু হয় এই দিবস। সেই থেকে প্রতি বছর কুদস দিবসের শোভাযাত্রা ও সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। 


ইমাম খোমেনী (র.) বলেছিলেন, কুদস‌্ দিবস হচ্ছে ইসলামের দিবস। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, আরব দেশগুলোর মানুষ যদি এক বালতি করে পানি ঢালত তাহলে ইসরাইল ভেসে যেতো। ইসলামী ঐক্যের জন্য বিশ্ব কুদস্ দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। ইমাম খোমেনী (র.) অারও বলেছিলেন, 'আরব সরকারগুলো ইসরাইলের মদদদাতা পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে তেল-অস্ত্র ব্যবহার করছে না কেন? তেল-অস্ত্র প্রয়োগ করলে গোটা বিশ্ব আরবদের কাছে নতজানু হতে বাধ্য।' 

 

অথচ দুঃখজনকভাবে পাশ্চাত্যের কাছে খুব সস্তায় তেল বিক্রি করছে আরব রাজা-বাদশাহরা তাদের গদি ঠিক রাখার জন্য। 


বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে হানাহানি এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির আলোকে বিশ্ব কুদস্ দিবসের গুরুত্ব কয়েক গুণ বেড়ে গেছে বলে মনে করা যায়। কারণ, ইসলামের শত্রুরা মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে গোত্রীয় ও ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করে মুসলমানদেরকে পারস্পরিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলেছে। ফিলিস্তিন সংকটকে ভুলিয়ে দেয়ার জন্যই এটা করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।


ইহুদিবাদী ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী ও সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রেক্ষাপটে মুসলিম সরকারগুলো ও বিশেষ করে আরব সরকারগুলোর উচিত ছিল ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। কিন্তু তারা তা না করে ইয়েমেন ও বাহরাইনের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়ার জন্য সেখানে দমন-পীড়নের ও ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। 

 

ইয়েমেনে ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলছে সৌদি বিমান হামলার মাধ্যমে ইসরাইলি স্টাইলের গণহত্যা অভিযান। অন্যদিকে সিরিয়ার বাশার আসাদ সরকার ইসরাইল বিরোধী হওয়ায় এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সেখানে পাশ্চাত্য ও তাদের সেবাদাসদের মদদে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে ধর্মান্ধ নানা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে। ধর্মান্ধ ওয়াহাবি-তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সিরিয়ায় ও ইরাকে যেসব অমানবিক হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে তাতে পাশ্চাত্যের জনগণের কাছে ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর মোক্ষম সুযোগ পেয়ে গেছে ইসলাম বিরোধী শক্তি এবং তাদের প্রচার মাধ্যম।

 

বিস্ময়ের ব্যাপার হল ওয়াহাবি-তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো জিহাদের নামে মুসলমানদের হত্যা করলেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও করছে না। বরং ইসরাইলের নানা ধরনের সাহায্য পাচ্ছে তারা। তাই ইসরাইলকে দুর্বল করতে হলে এইসব তাকফিরি গোষ্ঠীর গড-ফাদার এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগী সরকারগুলোর বিরুদ্ধেই আন্দোলন ও জনমত গড়ে তোলা জরুরি। বিশ্ব-কুদস্ দিবস এ জন্য একটি উপযুক্ত সুযোগ হতে পারে।

 

এটা বিস্ময়কর যে মুসলিম বিশ্বের জনসংখ্যা ১৫০ কোটি এবং আরব বিশ্বের জনসংখ্যা ২০ কোটিরও বেশি হওয়া সত্ত্বেও মুসলমান ও আরবদের অনৈক্যের সুযোগে কয়েক লাখ বহিরাগত ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে এবং তারা প্রায় ৬৭ বছর ধরে ফিলিস্তিনে জবর দখল বজায় রাখতে পেরেছে। অথচ ইসরাইল যে অপরাজেয় নয় তা প্রমাণ করেছে ইমানের শক্তিতে বলীয়ান লেবাননের হিজবুল্লাহ  ও গাজার হামাস বেশ কয়েকবার ইসরাইলকে বিপর্যস্ত করে। # 

 

রেডিও তেহরান/এএইচ

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন