এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শনিবার, 01 আগস্ট 2015 15:03

'মার্কিন সেনারা বিমানে চড়ে ইরানে আসলেও ফেরত যাবে কফিনে'

ইরানের প্রভাবশালী আলেম ও তেহরানের জুমা নামাজের অস্থায়ী খতিব আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আহমাদ খাতামি বলেছেন, ছয় বৃহৎ শক্তির সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে এখনই উৎফুল্ল বা শিহরিত হওয়া উচিত নয়, কারণ এই সমঝোতার টেক্সট বা লিখিত বক্তব্য এখনও চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া অতিক্রম করেনি। 

 

তিনি আজ তেহরানের জুমা নামাজের খুতবায় এই মন্তব্য করেছেন।


আয়াতুল্লাহ খাতামি বলেছেন, এই সমঝোতার পর মার্কিন কর্মকর্তারা নানা ধরনের বাগাড়ম্বর করছেন ঘরোয়া রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সামনে রেখে। তারা প্রচার করছেন যে,' আমরা ইরানকে বহু বছরের জন্য পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে পেরেছি ', কিন্তু বাস্তবতা হল ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে চায়নি ইসলাম ধর্মে এ ধরনের গণ-বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ রয়েছে বলেই, উনাদের হৈ-চৈ'র কারণে নয়।


ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের হামলার হুমকি প্রসঙ্গে আয়াতুল্লাহ খাতামি বলেছেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে মার্কিন সরকার যদি আবারও এ বিষয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করতে চায় তাহলে তাদের এতে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে মার্কিন সেনাদেরকে আনতে হবে বিমানে চড়িয়ে কিন্তু ফেরত নিতে হবে কফিনে ঢুকিয়ে। এ ছাড়াও আকাশ-যুদ্ধে ইরান শত্রুদেরকে তাদের দেশের ভূখণ্ড পর্যন্ত অনুসরণ করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সম্প্রতি ইরানিদের সবচেয়ে জনপ্রিয় শ্লোগান তথা 'আমেরিকা ধ্বংস হোক' শ্লোগানকে বোকামিসুলভ বলে যে মন্তব্য করেছেন তার জবাবে তেহরানের জুমা নামাজের অস্থায়ী খতিব বলেন, কেরির এই বক্তব্যটাই নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ, কারণ মার্কিন সরকারের আচরণই এই শ্লোগানের ভিত্তি। 


তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেছেন, ইয়েমেনে সৌদি অপরাধযজ্ঞে, ইহুদিবাদীদের অপরাধযজ্ঞে ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের তৎপরতায় মার্কিন সরকারের হাত থাকার বিষয়টি সবার কাছেই স্পষ্ট এবং বিশ্বের সবখানেই মার্কিন মোড়লীপনা বা অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে এটাই মার্কিন সরকারের প্রাপ্য যে জনগণ বলবে, আমেরিকা ধ্বংস হোক।


জনাব খাতামি বলেন, " 'আমেরিকা ধ্বংস হোক' শ্লোগানের রয়েছে কুরআনি ভিত্তি। মজলুম ফরিয়াদ করার অধিকার রাখে। ইরানি জাতি গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন সরকারের মাধ্যমে জুলুমের শিকার হয়েছে, তাই আরও জোর দিয়ে ইরানি জাতি এই শ্লোগান দেয়ার অধিকার রাখে। প্রজ্ঞাপূর্ণ ও জুলুম-বিরোধী এই শ্লোগানকে আমরা সারা বিশ্বে রফতানি করেছি এবং আজ সিরিয়া, ইয়েমেন ও অন্য দেশগুলোর জনগণও ময়দানে এসে আরবিতে এই শ্লোগান দিচ্ছে। তারা বলছে, আলমওতু আমরিকা। এখন আপনারাও আরবিতে এই একই শ্লোগান দিয়ে তাদের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করুন।"
(ফলে মুসুল্লিরা বেশ কয়েকবার আলমওতু আমেরিকা বলে শ্লোগান দেন।) 


তিনি ইরানে ইউরোপীয় দেশগুলোর কয়েকজন নেতাসহ নানা ইউরোপীয় প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক সফর প্রসঙ্গে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত নয় এমন সব দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক রাখার সুযোগ দিয়েছে ইরানি সংবিধান এবং এরই আলোকে যুদ্ধবাজ ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখেনি ইরান ও রাখবেও না, অন্যদিকে মার্কিন সরকার এখনও মানুষ হয়নি ও তার শয়তানি তৎপরতাগুলো এখনও চালিয়ে যাচ্ছে, বরং 'বড় শয়তান' থেকে সে এখন আগের চেয়েও বড় শয়তানে পরিণত হয়েছে। খাতামি এটা স্মরণ করিয়ে দেন যে ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা তাদের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণেই ইরানে আসছেন, ইরান তাদের মুখাপেক্ষী নয় ও ভবিষ্যতেও তাদের মুখাপেক্ষী হবে না।


তিনি আরও বলেন, 'ইউরোপীয় দেশগুলোর কোনো কোনো মন্ত্রী তেহরানে এসে অত্যন্ত দম্ভভরে তাদের একদেশদর্শী অবস্থানের কথা ঘোষণা করতে চান ও তারা বলছেন, ' ইরানকে ইসরাইলের ব্যাপারে সতর্ক করব ', ফ্রান্সের (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ফ্যাবিয়ুস স্পষ্ট করে এ কথাই বলেছেন। তাই আমাদের কর্মকর্তাদেরকেও ন্যায্য নীতি-অবস্থানে অবিচল থাকতে হবে এবং ইমাম খোমেনীর (র.) মতই বলতে হবে যে, ইসরাইলকে ধরাপৃষ্ঠ থেকে মুছে ফেলতে হবে। ... ইউরোপীয় মন্ত্রীরা ইরানে আসতে চাইলে আসতে পারেন তবে তাদেরকে অবশ্যই তওবাতুন নসুহা তথা দৃষ্টান্তমূলক বা আন্তরিক তওবা করতে হবে ও বিদ্বেষপূর্ণ নীতি পরিহার করতে হবে। পরমাণু আলোচনার সময় এই ফ্যাবিয়ুস ইরানি জাতির হৃদয়কে রক্তাক্ত করেছেন এবং ইসরাইলের সমর্থনে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। ইরানি জাতির বন্ধু হতে চাইলে এ জাতির অধিকারের সীমানার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং ইরানি জাতির শত্রুদের বন্ধু হওয়া যাবে না। '  


আয়াতুল্লাহ খাতামি ইয়েমেনে চলমান সৌদি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, '১২৪ দিন ধরে ইয়েমেনে সৌদি হামলার ফলে দেশটির অবকাঠামো বলতে কিছু আর নেই এবং দেশটির ২৩ হাজার মানুষ হতাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে একমাত্র যে বিষয়টির কোনো গুরুত্ব নেই তা হল মানবাধিকার এবং তাদের কাছে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ।'


জনাব খাতামি বাহরাইনকে একটি বৃহৎ কারাগারের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, দেশটির মুসলমানরা নির্যাতিত ও নিহত হচ্ছে, কিন্তু দেশটির মজলুম জনগণ জেনে রাখুক যে শহীদদের খুন তাদের বিজয়ের পৃষ্ঠপোষক হবে। #



রেডিও তেহরান/এএইচ/৩১


 

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন