এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 29 সেপ্টেম্বর 2015 22:06

মিনায় হত্যাযজ্ঞ: মক্কা কী বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক শহরে পরিণত হচ্ছে?

সম্প্রতি সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় ঘটে গেছে এক মহাবিপর্যয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে হজযাত্রীরা পবিত্র হজের অন্যতম প্রধান সমাপনী পর্ব হিসেবে যখন মিনায় শয়তানের প্রতীকী তিন স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের জন্য এগিয়ে যাচ্ছিলেন তখন হঠাৎ প্রবল ভিড় ও আতঙ্কের ফলে সৃষ্ট পদদলিত হওয়ার ঘটনায় বিপুল সংখ্যক হজযাত্রী হতাহত হয়।

 

বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী সৌদি শাহজাদা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সালমান বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা প্রহরীসহ বিশাল গাড়ি-বহর নিয়ে জনস্রোতের বিপরীত দিক থেকে মিনায় উপস্থিত হওয়ায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করে কোনো সমন্বয় ছাড়াই হজযাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচলের একাধিক পথ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং এর ফলে সৃষ্ট ভিড়ের চাপ কমানোর জন্য কোনো বিকল্প বা শাখা-পথও খুলে দেয়নি সৌদি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীরা। ফলে এক বিশাল এলাকা জুড়ে প্রবল ভিড়ের চাপ দেখা দেয় এবং অত্যধিক চাপে ও দমবন্ধ হয়ে নিহত হয় শত শত হজযাত্রী। পদদলিত ও হতাহত হজযাত্রীদের সাতটি স্তর সৃষ্টি হয়েছিল।  

 

এরপরের ঘটনা আরও বেশি তিক্ত ও ভয়াবহ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে চাপা-পড়ে থাকা আহত হজযাত্রীদের উদ্ধারের জন্যও সময়মত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সৌদি নিরাপত্তা বা উদ্ধার-কর্মীরা। অতি অল্প সংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী ঘটনাস্থলে আসে  ঘটনা ঘটার কয়েক ঘণ্টা পর এবং সে সময় তারা কেবল নিহতদের সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। অনেক আহত হজযাত্রীকে নিহত হজযাত্রীর স্তূপীকৃত  লাশের সঙ্গেই ট্রাকে ফেলে রাখা হয়। ফলে তাদের অনেকেই ক্ষুধা ও তৃষ্ণার শিকার হয়ে মারা যান।এছাড়া, হতাহত ব্যক্তিদের শরীরের নিচে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা আটকে থাকার কারণে অনেক হাজি মারা যায় বলেও অনেকে দাবি করেছেন।

 

বহু সংখ্যক সৌদি সেনা শত শত হাজিকে তাদের চোখের সামনে মরে যেতে দেখেছেন। কিন্তু তারা কার্যকর কিছুই  করে নি। সৌদি বাহিনী জাতীয়তার ভিত্তিতে বাছাই করে আটকে পড়া লোকদের বাঁচাতে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছিল বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।

 

 একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন,  “আমি বেহুশ ছিলাম, আমার নড়াচড়া করার শক্তি ছিল না। হুঁশ হওয়ার পর আমার সামনে কয়েকজন ইরানি হাজিকে মারা যেতে দেখি। এসময় কয়েকজন হাজি ছটফট করছিল। তখন সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য বলাবলি করছিল, ‘ওরা ইরানি, ওদের চিন্তা বাদ দাও, ওরা মরে যাক’।”

 

সৌদি কর্তৃপক্ষ এইসব ঘটনার দায়দায়িত্ব স্বীকার করছে না। বরং হজযাত্রীরাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এই ট্র্যাজেডি ঘটিয়েছে বলে প্রচার করছে। তারা কখনও বলেছে যে আফ্রিকান হজযাত্রীরা বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছে বলে এ ঘটনা ঘটেছে। আবার কখনও বলেছে যে ইরানি হজযাত্রীরা দিক-নির্দেশনা অমান্য করাতেই নাকি এমন বিপর্যয় ঘটেছে! নিহতের সংখ্যা অন্তত দুই হাজার বা অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে চার থেকে ৫ হাজার হওয়া সত্ত্বেও সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে নিহতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাতশ। অন্যদিকে সৌদি রাজদরবারের মনোনীত প্রধান মুফতি বলছেন, এমন ঘটনা ঘটতেই পারে-এসবই আল্লাহর ইচ্ছা বা ভাগ্যের ব্যাপার- মানুষের সাধ্য নেই এইসব ঘটনা ঠেকানোর- সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো দোষ নেই ইত্যাদি। অন্য এক সৌদি আলেম প্রধান মুফতির এই বক্তব্যকে অযৌক্তিক বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

 

  

মিনায় হাজিদের চলাচলের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সৌদি নিরাপত্তা বিভাগ বহু ক্লোজড-সার্কিট ক্যামেরা বসিয়ে রেখেছে। কিন্তু এইসব ক্যামেরার কোনো ভিডিও-রেকর্ড প্রকাশ করছে না সৌদি কর্তৃপক্ষ। বরং স্বয়ং সৌদি রাজা  এইসব রেকর্ড গোপন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমগুলো খবর দিয়েছে। এমনকি হতাহতদের অবস্থার ভিডিও কেউ যাতে রেকর্ড করতে না পারে সে জন্য এক পর্যায়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া হয় এবং অনেকের মোবাইলের ভিডিও রেকর্ড মুছে দেয় সৌদি নিরাপত্তা কর্মীরা। কিন্তু ইতোমধ্যে মিনা বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কিত নানা প্রামাণ্য ভিডিও-চিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

নাইজেরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া সৌদি সরকারের হজ ব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা করেছে।  বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রত্যক্ষদর্শী হজযাত্রীরা যেসব বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তা থেকেও মিনার ঘটনাসহ পুরো হজ পরিচালনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের নানা ত্রুটি, ব্যর্থতা ও উদাসীনতা ফুটে উঠেছে। এমনকি খোদ সৌদি আরবের কোনো কোনো আলেম ও ব্যক্তিত্ব সৌদি কর্তৃপক্ষের অযোগ্যতা ও অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করেছেন।

 

সৌদি আরবের উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রীর উপদেষ্টা ও ইলেক্ট্রনিক প্রশিক্ষণ বিষয়ক জাতীয় কেন্দ্রের পরিচালক ডক্টর আবদুল্লাহ আল মাকরন বলেছেন, মহান আল্লাহ ও বিশ্বের ১৬০ কোটি মুসলমানের কাছে আমাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। 'শুইউন খালিজাহ' নামের ওয়েব সাইটে তিনি মক্কার সাম্প্রতিক দুই বিপর্যয়সহ  সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর নানা ঘটনার সঙ্গে রাজ-পরিবারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।  

 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর মক্কার মসজিদুল হারামে ক্রেন ভেঙ্গে পড়ার ঘটনায় প্রায় ১১০ জন হজযাত্রী নিহত ও কয়েক শত হজযাত্রী আহত হন।

 

আর মিনার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ইরানের ২২৮ জন হাজি এবং  নিখোঁজ রয়েছেন ২৪৬ জন। ইরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী মিনা ঘটনার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করতে সৌদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবির ভিত্তিতে এ ঘটনার ফলে উদ্ভূত সমস্ত দায়দায়িত্ব রিয়াদ সরকারকে পালন করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন।  তিনি অন্যান্য দেশের হজযাত্রীদের প্রতি সেবার হাত বাড়িয়ে দিতে ইরানি হজ মিশনের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

 

উল্লেখ্য হজ পরিচালনায় সৌদি সরকারের ব্যর্থতার খতিয়ান অত্যন্ত দীর্ঘ। যেমন, ২০০৬ সালে মিনায় পদদলিত হওয়ার ঘটনায় নিহত হয় ৩৫০ জন হজযাত্রী। সে বছর হজ শুরুর আগের দিন মসজিদুল হারামের পাশে একটি ৮ তলা হোটেল ভবন ভেঙ্গে পড়ার ঘটনায় নিহত হয় ৭৩ জন। ২০০৪ সাল মিনায় হজের শেষ দিনে নিহত হয় ২৪৪ জন হজযাত্রী। ২০০১ সালে হজের শেষ দিনে মিনায় পদদলিত হয়ে নিহত ৩৫ জন হাজি। ১৯৯৮ সালে মিনার একটি ওভারপাস থেকে কয়েকজন হজযাত্রী পড়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট আতঙ্কের ফলে পদদলিত হয়ে মারা যান ১৮০ জন হাজি। ১৯৯৭ সালে মিনার তাবুতে আগুন লাগার ঘটনায় নিহত হন ৩৪০ জন হজযাত্রী। আহত হন ১৫০০ জন। ১৯৯৪ সালে মিনায় পদদলিত হয়ে মারা যান প্রায় ২৭০ জন। ১৯৯০ সালে মক্কাগামী একটি সুড়ঙ্গ পথে পদদলিত হওয়ার ঘটনায় নিহত হন এক হাজার ৪২৬ জন হজযাত্রী। ১৯৮৭ সালে হজযাত্রীরা কাফির ও মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেয়ার ফরজ দায়িত্ব পালন করার সময় মার্কিন ও ইসরাইল-বিরোধী শ্লোগান দেয়ায় সৌদি সেনারা প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০ হাজি শহীদ হন। শহীদদের বেশিরভাগই ছিলেন ইরানি নারী ও পুরুষ হজযাত্রী। তাই এটা স্পষ্ট যে সৌদি সরকারের একার পক্ষে  সুষ্ঠুভাবে হজ পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

 

 আর কারা হজ করতে আসবে বা কারা হজ করতে পারবে না তাও সৌদি সরকারের  একদেশদর্শী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তর  মাধ্যমে নির্ধারণ করা ইসলাম-সম্মত নয় বলে ইসলাম বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। যেমন, সৌদি সরকার এবার ইয়েমেনি ও সিরিয়দের হজ করতে দেয়নি।

 

ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং তুরস্কের নানা রাজনৈতিক দল ও নেতা মিনা বিপর্যয়ের কারণ ওআইসি বা ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার মাধ্যমে তথা মুসলিম দেশগুলোর বহুজাতিক কমিটির মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছে। সৌদি সরকার এ ব্যাপারে মুখ না খুললেও নিজেকে নির্দোষ দেখানোর জন্য নানা বানোয়াট ও ইরান-বিরোধী প্রচারণা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ও পশ্চিমা নানা গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে। কিন্তু  বহুজাতিক মুসলিম কমিটির মাধ্যমে হজ পরিচালনার ইরানি দাবি ক্রমেই নানা দেশ ও মহলের সমর্থন পাচ্ছে।

 

  

পারস্য উপসাগরীয় বিষয়ক ইন্সটিটিউটের ডিরেক্টর আলী আল আহমাদ জানিয়েছেন, ১৯৮৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দশ হাজার হজযাত্রী সৌদি অব্যবস্থাপনার কারণে নিহত হয়েছেন। তাই বহুজাতিক হজ ব্যবস্থাপনা চালুর দাবি জোরদার করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। আলী আল আহমাদ আরও বলেছেন,  পদদলিত হয়ে মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনাগুলার আলোকে শান্তির নগরী মক্কা এখন সম্ভবত মানব-ইতিহাসে  বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক শহর।

 

মিশরের ওয়াকফ বা দান বিষয়ক মন্ত্রী শেইখ সালমান মুহাম্মাদ মিনার সর্বশেষ বিপর্যয়সহ সাম্প্রতিক কয়েক দশকে হজ পরিচালনায় নানা ভুলের কথা তুলে ধরে বলেছেন,  হজ-প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় একটি বিপ্লব না আনা পর্যন্ত ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

 

মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আশরাফ ফাহমি হজ পরিচালনায় নিজের ভুলগুলোকে স্বীকার করে সংশোধনের নানা পদক্ষেপ নিতে এবং বহুজাতিক মুসলিম কমিটির মাধ্যমে হজ পরিচালনা ও নজরদারি করতে সৌদি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।  

  

তুর্কি খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পুরস্কার হিসেবে হিজাজে সৌদি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯২৫ সালে ব্রিটেনের সহায়তায়। সে সময় সৌদি ওয়াহাবি সেনাদের হামলায় নিহত হয়েছিল বিশ থেকে ত্রিশ হাজার সুন্নি মুসলমান।  ওয়াহাবি সেনারা একাধিকবার মক্কা, মদিনা ও তায়েফে চালিয়েছিল গণহত্যা। সৌদি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ফিলিস্তিনে ইসরাইল গঠনেও সম্মতি জানিয়েছিলেন।  সৌদি আরবে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পবিত্র মক্কা ও মদীনার পবিত্র স্থানগুলো এবং পবিত্র হজ পরিচালনা করছে বিকৃত চিন্তাধারায়  বিশ্বাসী ওয়াহাবি  সৌদি কর্তৃপক্ষ। পবিত্র মক্কা ও মদীনায় মুসলিম মাজহাবগুলোর আলেমদেরকে নামাজের ইমামতি করতে দেয়া তো দূরের কথা তাদেরকে প্রকাশ্য জনসমাবেশে বক্তব্যও রাখতে দেয় না রাজতান্ত্রিক সৌদি সরকার।

 

অনেকেই মনে করে সৌদ বংশ মূলত ইহুদিবাদীদের সঙ্গে বংশগত সম্পর্ক রক্ষাকারী ইসলাম-বিদ্বেষী একটি মুনাফিক গোষ্ঠী। আর তাদের পরিচালিত সমস্ত হত্যাযজ্ঞ ও বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে ইসরাইল ও ইহুদিবাদীদের হাত।  ইয়েমেনের ওপর সৌদি হামলায় ইসরাইলের সহায়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের প্রতি ইসরাইলের পাশাপাশি সৌদি সরকারের গোপন ও সর্বাত্মক মদদই এর উজ্জ্বল প্রমাণ।  

 

শির্ক ও বিদাআত নিয়ন্ত্রণের নামে সৌদি সরকারের ওয়াহাবি কর্মীরা মক্কা ও মদীনায় শত শত বছর ধরে টিকে-থাকা নেতৃস্থানীয় ইসলামী ব্যক্তিত্বদের মাজার ধ্বংস করেছে। তারা অনেক সাহাবির মাজার, বিশ্বনবীর আহলে বাইতের সদস্য- যেমন, ইমাম হাসান, ইমাম জাইনুল আবেদিন, ইমাম মুহাম্মাদ বাকির ও ইমাম জাফর সাদিক (আলাইহিমুসসালাম)-এর পবিত্র মাজারসহ উম্মুল মু'মিনিন হযরত খাদিজার (সালামুল্লাহি আলাইহা) পবিত্র মাজার, রাসুলের চাচা হযরত আব্বাস (রা.) ও রাসুলের পুত্র ইব্রাহিম (আ)'র পবিত্র মাজারগুলোও ভেঙ্গে ফেলেছে।   

 

এ অবস্থায় পবিত্র মক্কা ও মদীনাকে বিতর্কিত চিন্তাধারার অনুসারী কোনো গোষ্ঠী এবং মার্কিন ও ইসরাইলের সহযোগী কোনো শাসকগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেয়া যায় না বলে মুসলিম বিশ্বের ন্যায়কামী জনগণ মনে করেন। পবিত্র হজসহ মক্কা ও মদীনার নিয়ন্ত্রণ মুসলিম বিশ্বের জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি এবং মুসলিম জাতিগুলোর সৎ  ও যোগ্য আলেমদের সম্মিলিত কমিটির তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা উচিত। আর এভাবেই হজ সংক্রান্ত নানা সমস্যাসহ বড় ধরনের সংকটগুলো এড়ানো সম্ভব হবে এবং এর ফলে নিঃসন্দেহে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতিও বাড়বে।   #

 

রেডিও তেহরান

 

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন