এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 07 মার্চ 2016 14:21

আরব রাজাদের ইসরাইল-প্রেম ও ইরান-বিদ্বেষ জোরদারের রহস্য

আরব রাজাদের ইসরাইল-প্রেম ও ইরান-বিদ্বেষ জোরদারের রহস্য

মুসলমানদের প্রথম কিবলা ও ফিলিস্তিন দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে আরব রাজা-বাদশাহদের এবং বিশেষ করে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠতা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। 

 

সম্প্রতি তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা এক গবেষণা-রিপোর্টে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসি-ভুক্ত সরকারগুলোর সঙ্গে বহু বছর ধরে গোপন সামরিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে ইসরাইলের। 

 

ওই গবেষণা-রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপের মুখে-থাকা সৌদি সরকার ইসরাইলের সঙ্গে আরব বিশ্বের আপোষ-রফার ও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাবটি তুলেছিল।ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীরতর করাই ছিল ওই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য। রিয়াদ ও তেলআবিব ইরান সম্পর্কিত বিষয়সহ নানা বিষয়ে নিয়মিত গোপন-যোগাযোগ এবং শলা-পরামর্শ করে যাচ্ছে।


ইসরাইলি ওই সংস্থার একই রিপোর্টে আরও এসেছে, ইসরাইলের নানা কোম্পানি পারস্য-উপসাগরীয় আরব সরকারগুলোকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা পরামর্শ দিয়ে আসছে। ইসরাইলি কোম্পানিগুলো রাজতান্ত্রিক এই সরকারগুলোর নানা ধরনের বিশেষ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং তাদেরকে অত্যাধুনিক নানা প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করছে। 

 

এদিকে বর্ণবাদী ইসরাইল ও সৌদি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইল পারস্য উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক সরকারগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে সব ধরনের সীমাবদ্ধতা উঠিয়ে নিয়েছে। তবে এই সরকারগুলোর কাছে বিক্রি-করা ইসরাইলি অস্ত্রের ওপর মেইড-ইন-ইসরাইল বা ইসরাইলের তৈরি পণ্য- এ জাতীয় কথা সংযুক্ত করা যাবে না বলে তেল-আবিব শর্ত দিয়ে রেখেছে।

 

তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা সংস্থার রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সৌদি সরকারসহ পিজিসিসি’র অনান্য রাজতান্ত্রিক সরকার মনে করে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা হলে তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে এবং আরব বিশ্বের জনমত তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হবে। তাই ইসরাইলের সঙ্গে চলমান গোপন সম্পর্ক ও সহযোগিতা গোপন রাখাকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। 


ইসরাইলের ন্যাশনাল নিউজ ওয়েব সাইটের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল কয়েক সপ্তাহ আগে সৌদি আরব সফর করেছে।
সম্প্রতি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল জোবাইর ও সৌদি গোয়েন্দা প্রধান গোপনে তেলআবিব সফর করেছে বলে রুশ বার্তা সংস্থা স্পুটনিক খবর দিয়েছিল।


আসলে তেলআবিবের সঙ্গে রিয়াদের ঘনিষ্ঠতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এতই জোরদার হয়েছে যে এ সম্পর্ককে এখন আর গোপন বলা যায় না। সম্প্রতি মিউনিখে সাবেক সৌদি গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে উষ্ণ করমর্দন করেন ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী মোশে ইয়ালোন। মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইয়ালোন বলেছিলেন, ইসরাইল বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।


বাহরাইনের সঙ্গেও ইসরাইলের বহুমুখী ঘনিষ্ঠতা ক্রমেই বাড়ছে বলে খবর এসেছে। বাহরাইনের রাজা হামাদ সম্প্রতি ইসরাইলের একজন ধর্মযাজক-কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেছেন, পিজিসিসি’র পর আরব লিগের বৈঠকেও হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব তুলতে হবে। এরিমধ্যে পিজিসিসি ও আরব লিগের মন্ত্রী পরিষদ হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী বলে ঘোষণা করেছে। মার্ক শিনয়িইর নামের ওই ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান এখন আরব-ইসরাইল আপোষ প্রক্রিয়ার জন্য বাধা নয়, বরং তেহরান পিজিসিসি ও ইসরাইল উভয়ের জন্যই শত্রু হওয়ায় বিষয়টি আরব-ইসরাইল আপোষের ক্ষেত্রে একটি বড় সুযোগে পরিণত হয়েছে।

 

বাহরাইনের রাজা খলিফা ওই ইসরাইলি কর্মকর্তাকে বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব সরকারগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলকে বন্ধু বলে মনে করে। খলিফা তাকে আরও বলেছেন, কয়েকটি আরব সরকারের কাছে ইসরাইলের সঙ্গে প্রকাশ্য কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 

পিজিসিসি বা পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের বেশিরভাগ সরকারই ওয়াহাবি-তাকফিরি চিন্তাধারা প্রচার-প্রসারের কাজে সক্রিয়। এইসব সরকার তাদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান গণ-অসন্তোষকে ধামাচাপা দিতে পাশ্চাত্য ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের সহায়তায় গড়ে তুলেছে আল-কায়দা, আইএসআইএল বা দায়েশ ও আননুসরার মত বিভিন্ন তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। আর এইসব গোষ্ঠী শিয়া-সুন্নি মতভেদকে পারস্পরিক ঘৃণায় রূপান্তরিত করে মাজহাবি দাঙ্গা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

 

পিজিসিসির সরকারগুলো ইহুদিবাদী ইসরাইল-বিরোধী ইসলামী ইরান, সিরিয়া ও ইরাক সরকারকে সুন্নি-বিদ্বেষী শিয়া সরকার বলে অপবাদ দিচ্ছে। এ ছাড়াও তারা লেবাননের জনপ্রিয় ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের জনপ্রিয় বিপ্লবী আন্দোলন আনসারুল্লাহকে সুন্নি-বিদ্বেষী বলে প্রচার করছে। অথচ এইসব সরকার ও আন্দোলন সুন্নি ফিলিস্তিনি জাতিকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে এইসব আরব রাজা-বাদশাহরা যদি সুন্নি ইসলামী আন্দোলনগুলোর সমর্থক হত তাহলে তারা মিশরের ইসলামপন্থী ব্রাদারহুড সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মার্কিন সরকার ও মিশরের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা দিত না। তারা যদি সুন্নিদের প্রতি দরদি হত তাহলে মজলুম ফিলিস্তিনি জাতির সহায়তায় এগিয়ে আসত এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পথ ধরত। অথচ তারা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে যদিও পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতার ক্ষেত্রে ইহুদিরাই সবচেয়ে কঠোর।


সৌদি সরকারের ইসরাইল-প্রীতির পাশাপাশি ইরান-বিদ্বেষী ভূমিকা জোরদারের বিষয়টিও লক্ষণীয়। সম্প্রতি রিয়াদ তুচ্ছ এক অজুহাতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। একই কাজ করেছে সৌদির লেজুড় বাহরাইন এবং  সৌদি অর্থের কাঙ্গাল সুদান ও জিবুতির মত কয়েকটি দরিদ্র দেশ। (এর আগে পবিত্র হজের সময় মিনায় কয়েক হাজার হাজি হত্যার ঘটনায় ইরানের সঙ্গে কঠোর আচরণ করে রিয়াদ। ওই ঘটনায় ৪০০'রও বেশি ইরানি হাজি নিহত হন।) এমনকি ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার জন্য বিশ্ব-বাজারের সস্তায় তেল বিক্রি করছে রিয়াদ। সৌদি সরকার এখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সব পণ্য বর্জনের আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইছে।

 

আরব রাজা-বাদশাহদের মুনাফেকি চরিত্র দিনকে দিন স্পষ্ট হচ্ছে দায়েশ এবং নানা ধরনের তাকফিরি সন্ত্রাসীদের প্রতি তাদের সর্বাত্মক সহায়তার নীতি থেকে। তারা এইসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সর্বাত্মক সহায়তা দিলেও এখন তাদের দমনের জন্য আন্তর্জাতিক জোট গঠনের কথা বলছে মুখে মুখে।

 

সম্প্রতি মিশরের একজন সংসদ সদস্য ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে নিজের বাসায় দাওয়াত করে খাওয়ান। এ ঘটনার পর ওই সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে জুতা-হামলার শিকার হন সংসদেই। আরব বিশ্বের জনমতের কাছে ইসরাইলের প্রতি ঘৃণা যে কতটা স্বাভাবিক এ ঘটনা তার একটি দৃষ্টান্ত। 

 

অনেকেই বলে থাকেন যে ইহুদিবাদীদের সঙ্গে সৌদি শাসক-গোষ্ঠীর নাড়ির টান রয়েছে। আলে-সৌদ গোষ্ঠী এক সময় ইহুদি ছিল বলে কোনো কোনো ইতিহাস বিশ্লেষক উল্লেখ করে থাকেন। এই গোষ্ঠীর আদি পুরুষদের কেউ কেউ বহু পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং আরবদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে। কিন্তু ইসলাম ধর্মকে তারা মনে-প্রাণে মেনে নেয়নি। ফলে তাদের আচার-আচরণে ইহুদিবাদের প্রভাব থেকে যায় বলে ওই বিশ্লেষকরা মনে করেন। 


এ ছাড়াও ইতিহাসে এসেছে, বর্তমান সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পূর্বসূরি তথা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সহায়তায় হিজাজ অঞ্চলের শাসক হওয়ার সুযোগ পান। তুর্কি খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে ভূমিকা রাখা এবং ইসলামের নামে বিকৃত ও উগ্র চিন্তাধারায় ভরপুর ওয়াহাবি মতবাদের পৃষ্ঠপোষক হওয়ার পুরস্কার হিসেবেই ব্রিটেন সৌদ বংশকে ক্ষমতাসীন করেছে। আর এর বিনিময়ে ইবনে সৌদ ইসরাইলকে মেনে নেবেন বলে ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত (এ বংশের পক্ষ থেকে) ব্রিটেনের অভিমতের বিরুদ্ধে কিছু না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ১৯১৭ সালের দোসরা নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যালফোর ফিলিস্তিনে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওই ঘোষণা ব্যালফোর ঘোষণা নামে ইতিহাসে খ্যাত। এ ঘোষণা দেয়ার আগে ব্রিটিশরা সৌদি রাজা আবদুল আজিজের কাছ থেকে লিখিত সম্মতিপত্র আদায় করেছিল। ওই চিঠিতে লেখা ছিল:



“আমি বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে আবদুর রহমান--ফয়সলের বংশধর ও সৌদের বংশধর-- হাজার বার স্বীকার করছি ও জেনেশুনে বলছি যে, মহান ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি স্যার কুকাস-এর সামনে স্বীকারোক্তি করছি এই মর্মে যে, গরিব ইহুদিদেরকে বা অন্য কাউকে ব্রিটিশ সরকার যদি ‘ফিলিস্তিন’ দান করে দেন তাহলে এতে আমার কোনো ধরনের আপত্তি নেই। বস্তুত: আমি কিয়ামত পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের অভিমতের বাইরে যাব না।” (নাসিরুস সাইদ প্রণীত ‘আলে সৌদের ইতিহাস’ )
উল্লেখ্য, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তুর্কি খেলাফতের বিরুদ্ধে ব্রিটেন সৌদিদেরকে তথা সৌদি বংশের লোকদের ব্যবহার করে। ফলে তুর্কি সরকার ওয়াহাবিদের রাজধানী ‘দারইয়া’ শহরটি দখল করে নেয়। আর সৌদি সর্দার আমির আবদুল্লাহকে গ্রেফতার করে প্রথমে কায়রোতে ও পরে তুরস্কে পাঠিয়ে দেন মিশরের শাসক মুহাম্মাদ আলী পাশা। তুর্কি খেলাফতের সরকার আমির আবদুল্লাহকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে।



কিন্তু বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের অবস্থা দুর্বল হয়ে গেলে ব্রিটিশরা আবারও সৌদ গোত্রের লোকদের নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ব্রিটেন ইবনে সৌদের সঙ্গে কুখ্যাত ‘দারান’ চুক্তি স্বাক্ষর করে ১৯১৫ সালে। কুয়েতের শেখ জাবির আল সাবাহ ছিল সে সময় ব্রিটিশদের আরেক দালাল। ব্রিটিশরা এই দালালের মাধ্যমে ইবনে সৌদের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটিশ সরকার সৌদ-পরিবারকে প্রতি বছর ষাট হাজার পাউন্ড ভাতা দিতে থাকে। পরে এ ভাতা বাড়িয়ে এক লাখ পাউন্ড করা হয়। এ ছাড়া তুরস্কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্য সৌদ গোষ্ঠীকে তিন হাজার রাইফেল ও তিনটি মেশিনগান উপহার দেয় ব্রিটেন। (সূত্র: নজদ ও হিজাজের ইতিহাস, পৃ-২১০)



ব্রিটিশ সরকার আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের ক্ষমতা গ্রহণের উৎসবে পাঠিয়েছিল স্যার কুকাসকে প্রতিনিধি হিসেবে। রাজা উপাধিতে বিভূষিত করে কুকাস তাকে বলেছিল, “হে আবদুল আজিজ, আপনি শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী।”



উত্তরে রাজা বলেছিল, “আপনারাই আমার এ ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি করেছেন ও এ সম্মান দান করেছেন। যদি মহান ব্রিটিশ সাম্রাজ্য না থাকত তাহলে এখানে আবদুল আজিজ আল-সৌদ নামে কেউ আছে বলেই জানত না। আমি তো আপনাদের (ব্রিটিশদের) মাধ্যমেই ‘আমির আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ’ শীর্ষক খেতাবটি অর্জন করতে পেরেছি। আমি আপনাদের এই মহানুভবতা আজীবন ভুলব না। আর আমার বিগত আচরণ ছিল আপনাদের সেবক ও ফরমানবরদার (গোলাম) হিসেবে আপনাদের ইচ্ছাগুলো বাস্তবায়ন করা।” ওই উৎসবে কুকাস ব্রিটিশ সরকারের দেয়া শাহী তামগা বা মেডেল রাজা আজিজের গলায় পরিয়ে দেয়। কুকাস বলে যায়: “অচিরেই আমরা আপনাকে হিজাজ ও তার আশপাশের অঞ্চলগুলোর বাদশাহ বলেও ঘোষণা করব এবং তখন হিজাজকে ‘সৌদি সাম্রাজ্য’ বলে ঘোষণা করা হবে।“ এ কথা শুনে রাজা আজিজ স্যার কুকাসের কপালে চুমু খায় ও বলে: "আল্লাহ যেন আমাদেরকে (সৌদিদেরকে) আপনাদের খেদমত (দাসত্ব) করার ও ব্রিটিশ সরকারের সেবা (গোলামি) করার তৌফিক দেন।" ( মুহাম্মাদ আলী সাইদ লিখিত ‘ব্রিটিশ ও ইবনে সৌদ’, পৃ-২৬) #

 

রেডিও তেহরান/এএইচ

 

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন