এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শিল্প ও সাহিত্য

মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তিনি মানুষকে এমন কিছু গুণ দিয়েছেন তা পশু-পাখি কিংবা অন্য কোনো সৃষ্টির মধ্যে নেই। এ ধরনের একটি গুণ হল- অপরের প্রতি দয়া বা অনুগ্রহ করা। মানুষ কেবল মানুষের প্রতি দয়া করবে এমনটি নয়, বরং পশুপাখির প্রতিও দয়া প্রদর্শন করতে হবে। ইসলাম ধর্মে এ ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার, 22 এপ্রিল 2016 16:21

বধিরের বিড়ম্বনা

রংধনু আসরের কাছের ও দূরের শিশু-কিশোর বন্ধুরা, কেমন আছো তোমরা? আশা করি, সুস্থ দেহ আর সুন্দর মন নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি আমাদের অনুষ্ঠানও নিয়মিত শুনে যাচ্ছো। রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার কিংবা অন্য কোনো অডিও প্লেয়ারে গান বা অন্যকিছু শোনার সময় খেয়াল রাখতে হবে, শব্দের মাত্রা যেন সহনীয় পর্যায়ের বেশি না হয়। কেননা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হু’র মতে, 'একনাগাড়ে দীর্ঘক্ষণ উচ্চশব্দে গান শোনা শ্রবণশক্তির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ১২ থেকে ৪৫ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে এর প্রভাব এত বেশি যে, বর্তমান বিশ্বে তরুণ ও মধ্যবয়সী ১১০ কোটির বেশি মানুষ শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকির মুখে রয়েছে।'

 

সংস্থাটির তথ্য মতে, ধনী ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে ব্যক্তিগত অডিও সিস্টেমে উচ্চমাত্রার শব্দ শুনে অর্ধেকের বেশি মানুষ শ্রবণশক্তি হারাচ্ছে।

 

কোনো কারণে একবার যদি কেউ শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলে তাহলে তাকে নানা রকম অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। রংধনু আসরে এক শ্রবণ প্রতিবন্ধী বা বধির ব্যক্তির বিড়ম্বনা সম্পর্কে মাওলানা জালালউদ্দিন রুমীর লেখা একটি গল্প প্রচার করেছি। আর গল্প শেষে আছে বাংলাদেশের ফেনী জেলার এক নতুন বন্ধুর গানসহ সাক্ষাৎকার। প্রথমেই থাকবে গল্প ‘বধিরের বিড়ম্বনা’।

 

এক দেশে সালমান নামে এক বৃদ্ধ মুদি বাস করত। সে কানে খুব কম শুনত। কানের কাছে গিয়ে খুব জোরে কথা বললেই সে শুনতে পেত। এজন্য লোকজন তাকে কালা বা বধির সালমান বলে ডাকত।

 

সালমানের পাশে মহল্লায় শাবান নামে এক যুবক বাস করত। শাবানের একটা বদ অভ্যাস ছিল। সে দোকানদারদের কাছ থেকে বাকীতে জিনিস কিনত কিন্তু টাকা দেয়ার বেলায় ফাঁকি দিত। তাই দোকানীরা তার কাছে জিনিসপত্র বিক্রি করত না। একদিন শাবান এল সালমানের দোকানে। সে কিছু জিনিস বাকীতে নিতে চাইল।

 

বৃদ্ধ সালমান জানত যে, শাবানকে একবার বাকী দিলে সে টাকা আর পাওয়া সম্ভব নয়। তাই সে শাবানকে বলল, আমি বাপু লেখাপড়া জানিনে, বুড়ো মানুষ তাই মনেও রাখতে পারিনে। তাই বাকীতে কোন কিছু বিক্রি করব না।

 

 

একথা শুনে শাবানের খুব রাগ হলো। এরপর থেকে সে সব সময় কালা সালমানকে বিরক্ত ও ঠাট্টা মশকরা করত। সে তার বখাটে বন্ধুদের বলত- ‘যা, সালমানের সামনে গিয়ে শব্দ না করে শুধু ঠোঁট নেড়ে নেড়ে কথা বল্‌। দেখবি বুড়ো কেমন জব্দ হয়।’

শাবানের দুষ্ট বন্ধুরা যখন বুড়ো সালমানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলত তখন সে শুনতে না পেরে বলে উঠত- ‘তোমরা কি চাও, একটু জোরে বলো।

তখন শাবান এগিয়ে গিয়ে জোরে বলত, চাচা তুমি বধির নাকি? আমার বন্ধুরা তো তরকারি চাচ্ছে।’

শাবানের কথায় তার বন্ধুরা হেসে উঠত। সালমান এতে বিরুক্ত হয়ে বলত, ‘আমার কাছে তরকারী নেই। এটা তরকারির দোকান নয়, মুদির দোকান।’

 

শাবানের বখাটে বন্ধুরা বৃদ্ধের কথায় আবারো হাসিতে ফেটে পড়ত। পরদিন শাবান ও তার বন্ধুরা আবারো যেত সালমানের দোকানে। তাদের একজন সালমানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলত। সালমান কিছুই শুনতে না পেরে জিজ্ঞেস করলে শাবান এগিয়ে যেত এবং বলতো, ‘চাচা তুমি কি বধির? আমার এ বন্ধু দুই গজ কাপড় চাচ্ছে।’

 

শাবানের কথায় বন্ধুরা হেসে উঠত। অন্যদিকে বৃদ্ধ মুদি বিরক্ত হতো। একদিন শাবানকে একা পেয়ে বৃদ্ধি মুদি বলল, ‘দেখ্‌€শাবান! তুই ভালো করেই জানিস যে আমি কানে কম শুনি। কিন্তু তারপরও তুই আমাকে অযথায় কষ্ট দিচ্ছিস কেন? এই যে আমি কম শুনতে পাই, এটা আমার একটা রোগ। এতে আমার অপরাধ কি দেখলি? মনে রাখবি, এভাবে মানুষকে অযথা কষ্ট দিলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।’

 

বৃদ্ধের কথা শুনে শাবান বলল, ঠিকাছে তোমাকে আর কষ্ট দেব না যদি আমাকে বাকীতে মাল দাও।

শাবানের চালাকি বুঝতে পেরে সালমান বলল- ‘না, কক্ষনো তোকে বাকীতে মাল দেব না।‘ এরপর শাবান বলল, ‘তাহলে আমিও তোমাকে বিরক্ত করতেই থাকব।’

শাবানের কথা শুনে বৃদ্ধ সালমান খুব দুঃখ পেল। এরপর বলল, ‘তুই আমার মত বুড়ো মানুষকে যেভাবে কষ্ট দিচ্ছিস একদিন দেখবি তোরও এ রকম অবস্থা হয়েছে।’

 

এ ঘটনার কিছুদিন পরের কথা। একদিন শাবান টের পেল, তার কানে কি যেন হয়েছে। সে সবকিছু ভালোভাবে শুনতে পাচ্ছে না। একদিন সে তার পরিচিত লোকের সাথে আলাপ করার সময় কথাবার্তা না শুনেই সে উল্টাপাল্টা জবাব দিয়ে দিল। এতে ওই লোকটি হেসে উঠল এবং বলল, ‘কিরে তুই বধির হয়ে গেলি নাকি?’

 

এ কথা শুনে শাবান খুব কষ্ট পেল। এরপর থেকে সে কারো সাথে কথাবার্তা বলার সময় সমস্ত মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করত যাতে সঠিক জবাব দিতে পারে এবং উপহাসের পাত্র না হয়। কিন্তু শাবান যতই চেষ্টা করতে লাগল ততই তার কান ভারী হয়ে এলো। দেখতে দেখতে সে সম্পূর্ণ বধির হয়ে গেল।

 

বধির হয়ে গেলেও সে মানুষকে তা বুঝতে দিত না। একদিন সে জানতে পারল যে, পাশের মহল্লার এক কসাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই তাকে দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। কসাইয়ের বাড়ীর উদ্দেশ্যে যেতে যেতে সে ভাবল, রোগী দেখতে গিয়ে প্রথমে সালাম দেব। সে সালামের জবাব দিলে জানতে চাইব, ওষুধপথ্য কি খাচ্ছো? সে হয়তো বলবে, স্যূপ, বনরুটি কিংবা অন্যকিছু খাচ্ছি। আমি বলব, খুব ভালো ব্যবস্থা। এটাই তোমার উপযুক্ত পথ্য। এরপর জিজ্ঞেস করব, তোমার অবস্থা এখন কেমন? সে নিশ্চয়ই জবাব দেবে, কিছুটা ভালোর দিকে। আমি তখন বলব, আলহামদুলিল্লাহ। এরপর জিজ্ঞেস করব, তোমার ডাক্তার কে? তখন সে নিশ্চয়ই কোন ডাক্তারের নাম বলবে। আমি তখন বলব, তিনি তো খুব ভালো ডাক্তার। এ ঘরে তার শুভাগমন হোক। এরপর খোদা হাফেজ বলে চলে আসব। ব্যস, খুব সোজা কাজ।

বধির শাবান এসব প্রশ্ন-উত্তর মনে মনে তৈরি করে পৌছে গেল কসাইয়ের বাড়ীতে। রোগীর ঘরে প্রবেশ করেই সালাম বিনিময় করল। রোগীর অবস্থা তখন খুব খারাপ যাচ্ছিল। শাবান তার হাত দিয়ে রোগীর বাহু ধরে জিজ্ঞেস করল, চাচা তোমার অবস্থা এখন কেমন, কিছুটা ভালো হয়েছে?

রোগী গোঙাতে গোঙাতে বললো- না বাবা, আমার অবস্থা খুবই খারাপ, একেবারে মরে যাচ্ছি।

শাবান বলল : আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর বহুত শুকরিয়া।

রোগী শাবানের কথা শুনে বিরক্ত বোধ করল। রোগীর পাশে যারা ছিল তারাও বিষ্মিত হয়ে গেল। এরপর শাবান জিজ্ঞেস করল, ওষুধপথ্য কি খাচ্ছো?

রোগীর মেজাজ একেবারে তিরিক্ষি হয়ে গিয়েছিল। তাই সে জবাব দিল, ‘যন্ত্রণা খাচ্ছি, মরণ খাচ্ছি, সাপের বিষ খাচ্ছি।‘

শাবান বলল : ‘খুব ভালো পথ্য। তোমার মতো রোগীর জন্য এসবই উত্তম।‘

শাবানের কথা শুনে রোগীর মেজাজ আরো বিগড়ে গেল। রোগীর এক আত্মীয় বলল, ‘এই ব্যাটা! এসব কি যা-তা বকছিস? রোগীর সাথে তোর কোনো শত্রুতা আছে নাকি?’

শাবান লোকটির কথা কিছুই বুঝতে পারল না। তাই জবাবও দিল না। কিছুক্ষণ পর সে আবারো রোগীকে জিজ্ঞেস করলো, তোমার ডাক্তার কে ভাই?

রোগী রেগে গিয়ে বলল: ‘আজরাইল, আজরাইল আমার ডাক্তার।‘

শাবান বলল, ‘বেশ ভালো ডাক্তার। এ বাড়ীতে তার আগমন শুভ হোক। তার মতো ডাক্তারই হয় না।‘

শাবানের কথা শুনে রোগী চিৎকার করে বলল, ‘এ ব্যাটাকে এখান থেকে ঘাড় ধরে বের করে দাও। এই আহম্মক আমাকে নিয়ে তামাশা শুরু করেছে।‘

 

ঘরের লোকজন শাবানের হাত ধরে তাকে বাইরে নিয়ে এল এবং বলল, ‘ব্যাটা তুই আস্ত একটা বদমাশ। রোগী তোর সাথে কি দুশমনি করেছে যে, তার সাথে এরকম করছিস?’

রোগীর একজন আত্মীয় এসে শাবানকে ধাক্কা মেরে রাস্তার দিকে ঠেলে দিল। আরেকজন তেড়ে গেল তাকে মারতে। সবার মারমুখী অবস্থা দেখে শাবান হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। সে চিৎকার করে বলে উঠল, ‘তোমরা আমাকে মারতে চাচ্ছো কেন? আমি তোমাদের কি ক্ষতি করেছি?’

হৈ চৈ শুনে পাশের বাড়ী থেকে একজন যুবক বেরিয়ে এল। সে ছিল বুড়ো মুদি সালমানের পুত্র। লোকদের কাছে শাবানের উল্টাপাল্টা জবাব শুনে সে শাবানকে জিজ্ঞেস করল, তোমার নাম কি ?

শাবান ভাবলো যুবক তাকে জিজ্ঞেস করেছে, তুমি এখানে কেন এসেছিলে? তাই সে জবাব দিল, ‘ওই বাড়ীর কসাই বেচারা অসুস্থ তাই তাকে দেখতে এসেছিলাম।‘

শাবানের উল্টাপাল্টা উত্তর শুনে যুবকটি আসল রহস্য বুঝতে পারল।

এরপর যুবকটি পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ ও কলম বের করে তাতে লিখল, তুমি কি লেখাপড়া জানো? লেখাটি শাবানের সামনে তুলে ধরতেই সে বলে উঠল, হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি লেখাপড়া জানি।

 

এ কথা শুনে যুবকটি বুঝতে পারল যে, এ বেচারাও তার বাবার মত কানে কম শুনে কিংবা একেবারেই শুনে না। কিন্তু তার সমস্যা হচ্ছে সে তার অক্ষমতার কথা কারো কাছে ফাঁস করতে চায় না। যুবকটি এবার উত্তেজিত জনতাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে বিদায় করল। এরপর সে কাগজের উপর লিখল, “শোন ভাই, বধির হওয়া কোনো অপরাধ নয়। এতে লজ্জা শরমের কি আছে? আমার বাবা সামলান মুদিও বধির। তাতে কি? এটা তো একটা রোগ। কিন্তু তুমি তোমার দুর্বলতা ঢাকতে গিয়ে মানুষের কথাবার্তার উল্টাপাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছ। মানুষ এতে কষ্ট পাচ্ছে এবং বিরক্ত হচ্ছে। তার চেয়ে তুমি যদি মানুষকে বলো যে, তুমি কানে শোন না তাহলে কোনো বিপদ নেই। কেউ তোমাকে ভুল বুঝবে না। নিজের অহংকার ত্যাগ করে এখন থেকে বলো যে, আমি বধির। তাহলেই বেঁচে যাবে। নইলে মারধর তোমার ভাগ্যে নিশ্চিত।”

 

কাগজের লেখাগুলো পড়ার পর শাবানের হুঁশ হলো। সে বলল, “তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। তুমি ঠিকই বলেছে। একসময় আমি তোমার বাবার সাথে ঠাট্টা মশকরা করতাম, তাকে অযথা কষ্ট দিতাম। আজ আমি তওবা করলাম। আর কাউকে মশকরা করব না।”

এরপর থেকে শাবান তার পকেটে সবসময় কাগজ কলম রাখত। যখনি কেউ তার সাথে কথা বলতে আসত, তখনি সে কাগজের ওপর লিখে জানাতে আমি বধির। আমার সাথে কোনো প্রয়োজন থাকলে এই কাগজে লিখে জানান। আমি পড়তে জানি, লেখা পড়ে জবাব দেব। #

 

 

 

 

নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর উৎসব হল পহেলা বৈশাখ। এ দিনটিকে কেন্দ্র সারাবিশ্বের বাঙালিরা উৎসবে মেতে ওঠেছে। পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান বৈশাখী মেলা। কোনো কোনো জায়গায় এই মেলা চলে পুরো সপ্তাহ জুড়ে। এসব মেলায় পাওয়া যায় স্থানীয় কৃষিজাত দ্রব্য, কারূপণ্য, লোকশিল্পজাত পণ্য, কুটির শিল্পজাত সামগ্রী, সব ধরণের হস্তশিল্প ও মৃৎশিল্পজাত, মানে মাটির সামগ্রী।