এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 23 সেপ্টেম্বর 2012 13:30

পাশ্চাত্যে পারিবারিক সংকট (১-৭ পর্ব)

পাশ্চাত্যে পারিবারিক সংকট (১-৭ পর্ব)
পাশ্চাত্যে ক্রমেই পরিবার প্রথার বিলোপ ঘটছে। এর ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নানা সংকট। পুঁজিবাদ তথা বস্তুতান্ত্রিক চিন্তা, পরিবার ব্যবস্থা বিলুপ্তির ক্ষেত্রে উস্কানি হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি ধর্ম থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেও এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিবার হচ্ছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। সভ্যতা নির্মাণে পরিবারের অবদানই সবচেয়ে বেশি। মাতৃগর্ভে জন্ম নিলেই একটি শিশু মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে না। মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার জন্য তাকে মূল প্রশিক্ষণ দেয় তার পরিবার। কাজেই একটি সভ্যতা নির্মাণের জন্য পরিবারের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পাশ্চাত্যে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন এ প্রতিষ্ঠানটি আজ বিপর্যয়ের মুখে। পরিবারই যে মানবজাতির শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়,সে কথাটি যেন পাশ্চাত্যের সরকার ও নীতিনির্ধারকরা ভুলতেই বসেছেন। পরিবার যে উচ্চতর এক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে গড়ে ওঠে,তারা পরোক্ষভাবে তা অস্বীকার করছেন। মনে রাখতে হবে, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে যৌনতাই পরিবারের সবকিছু নয়। পরিবার প্রথা ব্যক্তির পাশাপাশি সমাজ এবং রাষ্ট্রে শান্তি নিশ্চিত করে। কিন্তু পাশ্চাত্যে যৌনতাকে সব কিছুর উর্ধ্বে স্থান দেয়া হচ্ছে। সব কিছুর ওপর যৌনতা প্রাধান্য পেলে মানুষ আর পশুর চেয়ে শ্রেষ্ঠতর জীব হিসেবে মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রাখে না। আসলে সুস্থ ও সমৃদ্ধ পরিবার একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজ ও সভ্যতার জন্ম দেয়। অপরদিকে, পারিবারিক বিপর্যয় সভ্যতা ধ্বংসের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।


হজরত আদম (আ:) ও হজরত হাওয়া (আ:) যে পৃথিবীর প্রথম মানব-মানবী,তা সব ঐশী ধর্মের অনুসারীরাই স্বীকার করেন। তারা এটাও স্বীকার করেন যে,ওই দুই আদি মানুষ দিয়ে মানব জাতি শুরু হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত বংশবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকবে। নারী ও পুরুষের মধ্যে সম্পর্কের মাধ্যমেই যে পরিবারের ভিত্তি গড়ে ওঠে,তা সবাই মানেন। দাম্পত্য তথা পারিবারিক জীবনকে ধর্মীয় বিশ্বাসের অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হয়। পারিবারিক জীবনে অনাবিল শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে পরিবার হয়ে ওঠে সব উদ্যম,প্রেরণা ও প্রশান্তির ক্ষেত্র। তেমন একটি পরিবারই সমাজকে ইতিবাচক অর্থে সার্থকভাবে কিছু দিতে পারে,যা সুস্থ সামাজিক জীবনের নিশ্চয়তা দেয়। পরিবার প্রথার বন্ধনকে আকড়ে ধরে রাখা না হলে পাশ্চাত্যের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাও ব্যর্থ হয়ে যাবে। পরিবার প্রথায় বিপর্যয় নেমে এলে সভ্যতার বিলুপ্তি ঘটবে।



জার্মানির বিখ্যাত লেখক ও রাজনীতিবিদ কার্ল শ্নাইডার পাশ্চাত্যে পরিবার বিষয়ক আইনের সমালোচনা করে বলেছেন, প্রচলিত আইন পরিবারের নৈতিক ভিত্তিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তার মতে, পরিবার হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। ব্যক্তিত্ব গঠন ও নারীর সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে পরিবারের বিকল্প নেই। কিন্তু তারপরও পাশ্চাত্যে পরিবার প্রথাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, মানুষের শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু সব কিছু জেনেও পাশ্চাত্যের মানুষ নিজেই নিজের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। পরিবারের সদস্যরা তাদের ভূমিকা ও দায়িত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এ কারণে পাশ্চাত্যে নারীরা মা ও স্ত্রী হিসেবে তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। একজন পুরুষও পরিবারের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না। বাবা-মায়েরা নিজেদের বিনোদন ও স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সন্তান লালন-পালন তথা পরিবার ব্যবস্থাপনা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় নয়। পাশ্চাত্যের পরিবারগুলোর এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গীই ওই সমাজের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় বয়ে আনছে।

 

পাশ্চাত্যের পুঁজিবাদী নীতিও পরিবার ব্যবস্থাকে পতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পাশ্চাত্য সমাজের বাবা-মায়েরা ডে-কেয়ার সেন্টারে সন্তানদেরকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রেখে দেন। সেখান থেকে ভালো-মন্দ যা শেখে, তাকেই তারা যথেষ্ট বলে মনে করে। কিন্তু ডে-কেয়ার সেন্টার যে কখনোই বাবা-মায়ের মতো মায়া-মমতা ও উষ্ণতা দিতে পারবে না, তা তারা বুঝেন না। পরিবার হচ্ছে শান্তি-সুখের নীড়। তা ছাড়া, আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে পরস্পরের জন্য বিনোদনের বিষয়ও ভেবেছে। শিশুদের ভেবেছে, মন ও দৃষ্টি জুড়ানো আদরের ধন হিসেবে। ধর্মীয় জীবন ধারায় ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ভাবনাকে মর্যাদা দেয়া হয়েছে,কিন্তু পরিবার-স্বজন,রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা ছিন্ন করে ব্যক্তিকে আলাদা করে ভাবার কোনো অবকাশ রাখেনি।

 

পাশ্চাত্যে পরিবার বিপর্যস্ত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী। পাশ্চাত্য সমাজে নারীদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে বিজ্ঞাপন,পর্ণচিত্র ও নাচ-গানের মত বিনোদন শিল্পে। পাশ্চাত্যে বর্তমানে পারিবারিক ব্যবস্থার যেটুকু অবশিষ্ট আছে, তা ঐতিহ্যবাহী ও প্রচলিত ব্যবস্থা থেকে ভিন্ন । আগে পরিবার ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করতেন একজন পুরুষ । যেমন, ইসলাম ধর্মে দায়িত্বের দিক থেকে পুরুষকে অধিকতর কর্তব্যপরায়ণ ভাবা হয়। তবে কর্তৃত্বপরায়ণ হিসেবে নয়। ধর্মীয় ও সাধারণ বিবেচনায়, স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরের পোশাকের মতো। এ ক্ষেত্রে একজনের ওপর অন্যজনের কর্তৃত্ব নেই,আছে দায়িত্ববোধ। ইরানের সমাজ বিজ্ঞানী ড.শাহলা বাকেরি বলেছেন, পাশ্চাত্যে পরিবার ব্যবস্থায় এই যে পরিবর্তন, তা সমসাময়িক ইতিহাসে নজিরবিহীন এবং এ পরিবর্তন সব শিল্পোন্নত দেশে প্রভাব ফেলেছে।

 

পাশ্চাত্যে যে রাষ্ট্র ও সমাজে 'বস্তুবাদ' যত বেশি প্রভাব ফেলতে পেরেছে, সেই সমাজ ও রাষ্ট্রে লিভটুগেদার ও সমকামিতা তত বেশি বেড়েছে। সেখানে বিবাহ বিচ্ছেদ সাধারণ বিষয় হয়ে গেছে। পরিবারগুলো অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ছে। শিশু কিশোররা নীতি ও নৈতিকতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। বৃদ্ধ মা ও বাবার ঠাঁই হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। পিতৃ পরিচয়হীন সন্তানের সংখ্যা বাড়ছে। সমকামিতার মতো প্রকৃতিবিরোধী প্রবণতাও সমাজকে গ্রাস করছে। এরইমধ্যে পাশ্চাত্যের অনেক দেশে প্রকৃতি ও ধর্ম বিরোধী এমন প্রবণতাকে আইনি স্বীকৃতিও দেয়া হচ্ছে। এর ফলে 'পরিবার' সম্পর্কে চিরাচরিত সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে। পাশ্চাত্যে পরিবার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার কারণে সৃষ্ট সংকট নিয়ে আলোচনা এখানেই শেষ করার অবকাশ নেই ।#

 

২য় পর্ব

সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিবার হচ্ছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। সভ্যতা নির্মাণে পরিবারের অবদানই সবচেয়ে বেশি। মাতৃগর্ভে জন্ম নিলেই একটি শিশু মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠে না। মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার জন্য তাকে মূল প্রশিক্ষণ দেয় তার পরিবার। কাজেই একটি সভ্যতা নির্মাণের জন্য পরিবারের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম ধর্মেও সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিবারকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।  

নারী-পুরুষের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিয়ে হচ্ছে একমাত্র বৈধ উপায় এবং তা মানুষের চরিত্র ও সতীত্বকে রক্ষার হাতিয়ারও বটে। বিয়ের মধ্যদিয়ে পরিবারের ভিত্তি রচিত হয় এবং ক্রমান্বয়ে পবিরারের সদস্য সংখ্যা বাড়তে থাকে। এভাবেই ভালোবাসা এবং মায়া-মমতায় পরিপূর্ণ এক শান্তি-সুখের নীড় অস্তিত্ব পায়। আর পরিবার নামের এ প্রতিষ্ঠান থেকেই সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি ও সমৃদ্ধি ছড়িয়ে পড়ে। নির্মিত হয় সভ্যতা। প্রতিটি মানুষেরই কিছু মৌলিক চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে যৌন চাহিদা অন্যতম। এ ধরনের চাহিদাগুলো সময়মতো সঠিক পন্থায় পুরণ করা না হলে ভয়াবহ ক্ষতির আশংকা থাকে। আর এ সংক্রান্ত ক্ষতির গন্ডি শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা সামাজিক পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের বিশিষ্ট গবেষক ও আলেম শহীদ মোর্তজা মোতাহারি মানুষের যৌন চাহিদা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরেছেন। তিনি এ সম্পর্কে লিখেছেন,' যৌন চাহিদার বিষয়টি ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এবং নবী-রাসূলরাও এর বাইরে ছিলেন না। সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মোহাম্মদ (সা.) নিজেই বারবার বিয়ে ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং যারা বিয়ে প্রথার বিপক্ষে তাদেরকে ভর্ৎসনা করেছেন।
ইসলাম বৈধ উপায়ে যৌন চাহিদা পুরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।এ কারণে বয়োপ্রাপ্ত হওয়ার পর বিয়ে করার কথা বলা হয়েছে ইসলাম ধর্মে। যৌন সক্ষমতা মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা বড় নেয়ামত। আর নেয়ামতকে কাজে লাগানোর জন্য বিয়ে করার বিকল্প নেই। ভিন্ন কোনো পন্থায় যৌন চাহিদা পুরণ করতে চাইলে পরিবার,সমাজ,রাষ্ট্র তথা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা ও অনিরাপত্তা সৃষ্টি হবেই। ফলে ব্যক্তি ও সমাজকে পবিত্র ও সুস্থ রাখার জন্য বিয়ে তথা পরিবার গঠন অত্যন্ত জরুরি। তবে যৌন চাহিদা পুরণই বিয়ের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। মানব জাতি তথা গোটা বিশ্বকে টিকিয়ে রাখাও বিয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি অর্থনেতিক দিক থেকেও পরিবার গঠনের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। ইসলাম ধর্মে পরিবারের সদস্যদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পুরুষকে। সূরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে পুরুষকে পরিবারের আর্থিক ব্যয়বহনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।


সূরা নিসায় ব্যবহৃত নাফাকা শব্দের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা স্ত্রীর খাদ্য,পোশাক, বাসস্থান, আসবাবপত্র নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয়সহ অন্যান্য খরচ মেটাতে পুরুষকে নির্দেশ দিয়েছেন। নারীর ওপর পরিবারের ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব দেয়া হয়নি। নারীর মূল দায়িত্ব হচ্ছে, সাংসারিক বিষয়াদি দেখাশোনা করা এবং সন্তান লালন-পালন করা। পাশাপাশি নারী সমাজের সব ক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার অধিকার রাখে। তবে নারীর মর্যাদা ও সম্মান বিলিয়ে দিয়ে নয়। নারী যাতে উদ্বেগ-উৎকন্ঠামুক্ত থেকে পরিবারকে মায়া-মমতা ও ভালোবাসার নীড়ে পরিণত করতে পারেন, সে জন্যই তাকে অর্থনৈতিক দায়িত্বের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, নারী অর্থনৈতিক বিষয়ে একদম কথা বলবেনা। আসলে মূল দায়িত্বটি দেয়া হয়েছে পুরুষকে। ইসলামের দৃষ্টিতে পরিবার গঠনের ফলে নারী ও পুরুষ অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশি মনোযোগী হয়। অতীত অভিজ্ঞতাতেও দেখা গেছে, বিয়ের পর নারী ও পুরুষ-উভয়ইআরো বেশি দায়িত্বশীল হয়ে উঠে। অপচয় করা থেকে দূরে থাকে এবং ভবিষ্যতের ব্যাপারে আরো সচেতন হয়।
বিভিন্ন হাদিসে এসেছে, একদিন অবিবাহিত একযুবক রাসূলের কাছে এসে কিছু সাহায্য চাইলো। রাসূল(সা.) বললেন, তুকি কি বিয়ে করেছো? যুবকটি বললো-না। তিনি ওই লোককে বিয়ে করতে বললেন এবং বিয়ের পরই তার আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটলো।সূরা নূরের ৩২ নম্বর আয়াতে বিয়ে করার গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে,
তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিয়ে দাওএবংতোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন তাদেরকেও। যদি তারা অভাবগ্রস্ত হয় তবেআল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন,আল্লাহ্ তো প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।

 

মনের সুখই হচ্ছে বড় সুখ। আর পরিবার গঠনেরও একটি বড় উদ্দেশ্য হলো, মানুষের আত্মিক প্রশান্তি নিশ্চিত করা।একটু সতর্ক হলেই পরিবারকে সুখের কেন্দ্রস্থলে পরিণত করা যায়।মনের সুখ নিশ্চিত করতে চাইলে সুস্থ ও সমৃদ্ধ পরিবার গড়ে তুলতে হবে।চেষ্টা করতে হবে কোন সন্তান যাতে বাবা-মায়ের আদর-যত্ম এবং মায়া-মমতা থেকে বঞ্চিত না হয়। কারণ এ ঘাটতি আর কোন দিন পূরণ হয় না। যেসব নারী ও পুরুষ বিয়ে না করে বল্গাহীন জীবন যাপন করে তাদের মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে অনেক বেশি। এ ধরনের লোকদের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। পরিবার যে মানুষের জন্য প্রশান্তির উৎস, সে বিষয়ে কোরানেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। সূরা রূমের২১ নম্বর আয়াতে এসম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক অটুট রাখতে হলে উভয়কেই সমঝোতার মানসিকতা নিয়ে এগোতে হবে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে হবে। আর এমনটি করতে পারলেই কেবল পরিবার থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি এবং নিরাপত্তা ছড়িয়ে পড়বে। নিশ্চিত হবে মনের সুখ। বিয়ে প্রথাকে এড়িয়ে পাশ্চাত্যে লিভটুগেদার ও সমকামিতার মতো যেসব কুপ্রবণতা দিন দিন জোরালো হচ্ছে, তা কখনোই মানুষের মনের সুখ নিশ্চিত করতে পারবে না। এরইমধ্যে এ ধরনের প্রবণতার ব্যাপক কুফল সামনে এসেছে। #

তৃতীয় পর্ব

পরিবার থেকেই সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি ও শৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। কারণ সমাজের প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মানুষ তার পরিবার থেকেই সমাজ ও রাষ্ট্রের রীতি-নীতি তথা সংস্কৃতির সঙ্গে প্রাথমিক পরিচয় লাভ করে। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় হলে সামাজিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ে। এ কারণে পরিবারে স্বামী-স্ত্রী এবং বাবা-মা'র সঙ্গে সন্তানের সুসম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি। বাবা-মাসহ পরিবারের বড় সদস্যদের আচার-আচরণ শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলে এবং সে অনুযায়ীই তারা অন্যদের সঙ্গে আচরণ করে।
পরিবারে সুখ ও শান্তি বিরাজ করলে সন্তানেরা পরিবার বিমুখ হয় না এবং তাদের বিপথে যাওয়ার আশংকাও কমে যায়। এ কারণে পরিবার গঠন তথা বিয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। পবিত্র ইসলাম ধর্মে বর বা কনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের ঈমান ও নৈতিক চরিত্রের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, একদিন এক ব্যক্তি রাসূল (সা.) এর কাছে এসে বিয়ের বিষয়ে পরামর্শ চাইলেন। রাসূল(সা.) তাকে বললেন, ধার্মিক মেয়েকে বিয়ে করো, তাহলে তুমি সফলকাম হবে। ইসলাম ধর্মে বারবারই চূড়ান্ত কল্যাণ লাভের লক্ষ্যে ঈমানদার ও ধার্মিক হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজেই স্বামী বা স্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ঈমানদার নয়-এমন নারী বা পুরুষকে বিয়ে না করতে মুমিনদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঈমানদার হলেই কেবল একজন স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে নীতি-নৈতিকতা ও আল্লাহভীতি কাজ করে। অন্যথায় সবকিছুর ওপর নিজের স্বার্থই প্রাধান্য পায়।
ইসলামের দৃষ্টিতে, পাত্র বা পাত্রী ঈমানদার কিনা প্রথমে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। যারা ধর্ম মানে না,তারা সাধারণত কোনো নীতি-নৈতিকতা মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে তারা অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় না। ফলে, ধর্মে অবিশ্বাসী ব্যক্তি তার জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনীর অধিকার মেনে চলবে,এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। রাসূল (সা.) তার সাহাবিদেরকে বিয়ে করার বিষয়ে পরামর্শ দিতে যেয়ে বলেছেন, "আপনারা ঈমানের চেয়ে সৌন্দর্যকে বেশি গুরুত্ব দেবেন না।"
দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক পছন্দ-অপছন্দের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গীগত দিক থেকে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মিল না থাকলে দাম্পত্য জীবন দীর্ঘ ও সুখময় হয় না। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আত্মিক ও নৈতিক সম্পর্ক যতবেশি জোরালো হবে তারা ততবেশি সুখ অনুভব করবে।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সমঝোতার মনোভাব থাকা জরুরি। পরস্পরকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করতে হবে। আর যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে পরস্পরের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। তবে সৎ মনোভাব নিয়ে পরিবার গঠন করলে দিনদিন সেই পরিবারে শান্তি ও শৃঙ্খলা আরো জোরদার হয়। রাসূলে খোদা (সা.) বলেছেন," পরিবার গঠনের মধ্যদিয়ে নারী ও পুরুষের নৈতিক চরিত্র উন্নত হয়।
বিয়ের আগ পর্যন্ত একজন মেয়ে ও ছেলে পিতা-মাতার তত্ত্বাবধানে অফুরন্ত স্নেহ-মমতাময় এক পরিবেশে জীবন যাপন করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাবা-মা তাদের সন্তানদেরকে কোন ধরনের দুঃখ-কষ্টে পড়তে দেন না। কিন্তু বিয়ের পর শুরু হয় নতুন এক জীবন। দাম্পত্য জীবনে অনেক সময়ই পরিবারের অন্য সদস্যদের কল্যাণে ব্যক্তিগত স্বার্থ জলাঞ্জলি দিতে হয়।
আলেম-ওলামাসহ বহু বিশেষজ্ঞই এ ব্যাপারে একমত যে, সুস্থ ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্য ধৈর্য্য, আত্মত্যাগ ও প্রেম-ভালোবাসার মতো অনেক গুণাবলীর সমন্বয় জরুরি। ইসলাম ধর্মের নির্দেশ মেনে পরিবারের ভিত্তিকে শক্তিশালী ও সুসংহত রাখতে পারস্পরিক বিরোধ এড়িয়ে চলতে হবে। তালাক বা বিয়ে বিচ্ছেদ না করতে ইসলাম বারবার গুরুত্বারোপ করেছে। ইসলাম ধর্ম বিয়েকে একজন নারী ও পুরুষের মধ্যে সম্পাদিত একটি পবিত্র চুক্তি বলে মনে করে। মানুষের মৌলিক কিছু চাহিদা পুরণ করার পাশাপাশি আত্মিক ও দৈনিক প্রশান্তি নিশ্চিত করা এ চুক্তির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। পবিত্র কোরানের সূরা রুমে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গিনীদের, যাতে তোমরা তার কাছে শান্তি পাও এবং (আল্লাহ) তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।  

স্বামী-স্ত্রী হচ্ছে পরস্পরের অতি আপনজন। তারা একে অপরের সব দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে অবহিত। কিন্তু তারা কখনোই পরস্পরের ব্যক্তিগত দোষ-ত্রুটি অন্যদের সামনে প্রকাশ করে না। পবিত্র কোরানের সূরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, স্বামী ও স্ত্রী হচ্ছে একে অপরের পোশাক স্বরুপ।
পোশাক-পরিচ্ছদ মানুষের শরীরের ত্রুটিগুলো ঢেকে রাখে এবং সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। একইসঙ্গে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও তাপের মতো নানা সমস্যা থেকে রক্ষা করে। এছাড়া, পোশাক হচ্ছে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর একটি। যাইহোক, পরিবারে স্বামী-স্ত্রী হচ্ছে পরস্পরের পরিপুরক। উভয়ই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে পরিবার সুখ ও শান্তির নীড়ে পরিণত হয়। এর মধ্যদিয়ে পরকালীন কল্যাণ যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনি ইহকালীন সুখ-শান্তি এবং আত্মিক ও দৈহিক সুস্থতা বৃদ্ধি পায়।


পরিবার হলো এক ধরনের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং এই কেন্দ্রের প্রশিক্ষক হলেন বাবা-মা। সন্তানেরা বাবা-মার কাছ থেকে পারিবারিক ও সামজিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভের পাশাপাশি জীবন-যাপনের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পায়। শিশু-কিশোররা পরিবার থেকেই ভালোবাসা, আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার মতো মহত গুণগুলো আত্মস্থ করে। ইসলাম ধর্মমতে,সন্তান প্রতিপালনে নারীর গুরুত্ব অপরিসীম। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি মনে করেন, প্রাকৃতিক ভাবেই নারীরা সৃষ্টি সংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে থাকেন।যেমন, সন্তান জন্ম দেয়া এবং তা লালন-পালনের কঠিন ও মহান দায়িত্ব আল্লাহতায়ালা নারীকে দিয়েছেন।সন্তানকে সামজ-সংস্কৃতি,ঐতিহ্য,নীতি-নৈতিকতা ও আচার-আচরণসহ সার্বিক বিষয়াদি দেহ ও মন দিয়ে যিনি শেখান, তিনি হলেন মা।
অন্যদিকে,পুরুষের দায়িত্ব হলো-পরিবারের সদস্যদেরকে সৎপথে পরিচালিত করা এবং তাদেরকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। পবিত্র কোরানের সূরা তাহারিমের ৬ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, "তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর।"
এ আয়াতে মুমিন পুরুষদেরকে এ উপদেশ দেয়া হচ্ছে যে, তারা নিজেদেরকে পাপ কাজ থেকে রক্ষার পাশাপাশি তাদের পরিবার ও নিকট জনকেও অন্যায় কাজ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করবে। কারণ পাপের পরিণতি হচ্ছে, ভয়াবহ। কিন্তু পাশ্চাত্য সমাজ ধর্ম থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে কেউ কারো প্রতি দায়িত্ব অনুভব করে না। সবাই যার যার মতো নিজস্ব স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত। স্বার্থহানি ঘটলেই তারা সংসার ভেঙ্গে দেয়।

পাশ্চাত্যের বেশিরভাগর মানুষ পরিবারের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে না পারার কারণে তারা সমকামিতা ও লিভ টুগেদারের মতো ঘৃণ্য পথ বেছে নিচ্ছে। এমন ঘৃণ্য অপরাধকেও দেয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বৈধতা।

পর্ব : ৪


ইসলাম ধর্মে পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ওপর ব্যাপক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পরিবারের ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার মধ্যদিয়ে সেখানকার শান্তি ও সমৃদ্ধিই কেবল নিশ্চিত হয় না বরং সমাজ ও রাষ্ট্রও ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি পরিবারের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, 'যেসব দেশের পরিবারগুলোর মধ্যে বন্ধন সুদৃঢ়, সেসব দেশের অনেক সমস্যারই বিশেষ করে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টিই হয় না। পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করার একটি বড় উপায় হলো, 'পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা' জোরদার করা। ভারসাম্যপূর্ণ পরিবারে এসব বৈশিষ্ট্য জোরদার থাকে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে স্বাভাবিক যে আকর্ষণ, তা আল্লাহ প্রদত্ত এবং পারস্পরিক আকর্ষণ গোটা পরিবারে প্রশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

 

পবিত্র কোরানের দৃষ্টিতে, পারিবারিক জীবন দুটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এক-বন্ধুত্ব। দুই-ভালোবাসা। পবিত্র কোরানের সূরা রুমের ২১ নম্বর আয়াতের শেষাংশে আল্লাহতায়ালা এ সম্পর্কে বলেছেন, 'তিনি তোমাদের মাঝে ভালোবাসার [বন্ধন ] দিয়েছেন। যারা চিন্তাশীল অবশ্যই এ সবের মাঝে তাদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।'
তবে আল্লাহ প্রদত্ত এ আকর্ষণ ও ভালোবাসা রক্ষার জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়কে মিলে চেষ্টা চালাতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার বন্ধনটা এমন যে, এটাকে লালন করা হলে তা ক্রমেই দু'জনের মধ্যকার চিন্তা-চেতনাগত পার্থক্যকেও দূর করে দেয় এবং পরস্পরের প্রতি আত্মত্যাগী করে তোলে। নারী ও পুরুষের মধ্যে সৃষ্টিগত যে আকর্ষণ তার সফল পরিণতি ঘটে বিয়ের মধ্য দিয়ে। বিয়ের পর পরস্পরের ভালো দিকগুলোকে গুরুত্ব দিলে সংসার সুন্দর ও সুখময় হয়ে ওঠে এবং ভালোবাসা স্থায়ী হয়।


সাধারণত বিয়ের প্রথম দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার টান বেশি লক্ষ্য করা যায়। যদিও স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা একটি অপরিহার্য বিষয়, কিন্তু এরপরও জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে,সময়ের সাথে সাথে এই ভালবাসার রঙ মাঝে মাঝে ফিকে হয়ে যায়। কিন্তু পরস্পরের পছন্দ-অপছন্দ ও আনন্দ-বেদনার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী সংসার পরিচালনা করলে ভালোবাসা ফিকে না হয়ে বরং দিন দিন জোরদার হয়। মানুষের জীবনের অপরিহার্য বাস্তবতা হচ্ছে বার্ধক্য। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারিরীক সামর্থ্য কমে যায়। প্রয়োজন হয় আরো বেশি সহযোগিতার। সে সময় স্বামী-স্ত্রীর প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি অনুভূত হয়। বৃদ্ধ বয়সে যৌন প্রয়োজনীয়তা কমে গেলেও মানসিক প্রশান্তির প্রয়োজন অনেক বেশি। এ সময় স্বামী-স্ত্রীই পরস্পরের শারিরীক ও মানসিক সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে সহযোগিতা করতে পারে। #

 

পঞ্চম পর্ব

একে অপরের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই। আল্লাহতায়ালা এ সম্পর্কে সূরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতের একাংশে বলেছেন, তোমরা তোমাদের চুক্তির প্রতি নিষ্ঠাবান থেকো। আমরা জানি, বিয়ের মাধ্যমে একজন নারী ও একজন পুরুষ যে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, তা হচ্ছে আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম ও পবিত্রতম চুক্তি। ইসলাম ধর্মে তালাকের বিধান থাকলেও তা পছন্দীয় কাজ নয়। এ কারণে স্বামী ও স্ত্রী-উভয়েরই চেষ্টা করতে হবে,যাতে কোন ঝগড়া-বিবাদ তালাক পর্যন্ত না গড়ায়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কচ্ছেদ রুখতে পরস্পরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে আল্লাহতায়ালা নারী ও পুরুষ উভয়কে পবিত্র ও সচ্চরিত্রবান হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আস্থা  ও বিশ্বাস জোরালো হয় এবং একে অপরের জন্য সব কিছু বিলিয়ে দেয়ার মনোভাব সৃষ্টি হয়।

 

পুরুষ যেমন চায় তার স্ত্রী হবে সত ও পুত-পবিত্র, তেমনি একজন নারীরও তার স্বামীর কাছে একই ধরনের প্রত্যাশা থাকে। সূরা নূরের ৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা পুরুষদের উদ্দেশে বলেছেন, 'তারা যেনো আপন দৃষ্টি সংযত ও নত রেখে চলে এবং আপন লজ্জা স্থানকে সংযত রাখে । এটা তাদের জন্য বৃহত্তর পবিত্রতা এবং তারা যা করে আল্লাহ্‌ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।'

আর এর পরের আয়াত অর্থাত ৩০ নম্বর আয়াতে নারীদের উদ্দেশে আল্লাহ বলছেন, 'তারা যেনো তাদের আপন দৃষ্টি সংযত রাখে, আপন লজ্জ্বা স্থানকে রক্ষা করে চলে।'

পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই জন্য যৌন সংযম সমভাবে প্রযোজ্য। অনেকের ধারণা, নারীর প্রতি যথেচ্ছা দৃষ্টি দেয়ার অধিকার রয়েছে পুরুষের। এই মানসিকতা থেকে অনেক পুরুষ স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে এবং নিজের দৃষ্টিকে সংযত রাখে না। অনেক ক্ষেত্রে নারীদেরকে উত্যক্ত করতেও দেখা যায়। কিন্তু এ ধারণা সঠিক নয়। পুরুষদেরকেও তাদের দৃষ্টি সংযত রাখতে হবে। কিন্তু পাশ্চাত্য সমাজে নারী ও পুরুষ উভয়কেই অনিয়ন্ত্রিত যৌন জীবন যাপন করতে দেখা যায়,যা সুখী পরিবার গঠনের অন্তরায়।

 

লিঙ্গ ভেদের জন্য প্রকৃতিগত ভাবে পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সে কারণেই সমাজে পুরুষ ও মহিলার মধ্য মেজাজ-মর্জি ও যৌন আকাঙ্খার ক্ষেত্রে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। প্রকৃতিগতভাবেই নারীর দৈহিক সৌন্দর্য তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয় হওয়ায় এবং পুরুষরা তুলনামূলকভাবে যৌনতার বিষয়ে বেশি ততপর হওয়ায় ইসলাম ধর্ম পুরুষের চেয়ে নারীদের শরীর বেশি ঢাকার বিধান দিয়েছে। কিন্তু পাশ্চাত্যে এর উল্টো চিত্র লক্ষ্য করা যায়। পুরুষদের চেয়ে নারীদের শরীরই বেশি খোলামেলা থাকে, যা সমাজে যৌন অনাচারের ক্ষেত্র তৈরি করছে। আর এসব কারণেই পাশ্চাত্যে পারিবারিক সংকট দিন দিন বেড়ে চলেছে।

 

পারিবারিক জীবনে ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি স্বাভাবিক। সংসারকে সুখী-সমৃদ্ধ করতে পরস্পরের ভুল-ত্রুটিগুলোকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হবে। শিশুদের ভুল-ত্রুটি বেশি হয়। এ কারণে ক্ষমার মনোভাব না থাকলে ছোট্ট শিশুদের সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। সন্তানকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার দায়িত্বও বাবা-মায়ের। পরিবারে দীর্ঘস্থায়ী সুখ নিশ্চিত করার জন্য নিজেদের পাশাপাশি ছেলে-মেয়েকেও ধর্মপরায়ন ও নীতিবান হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। এর অন্যথায় সন্তানদের কারণে পরিবারের সুখ-শান্তি নষ্ট হতে পারে। অল্প বয়সে সন্তানদের ওপর উপদেশ ও দিকনির্দেশনার প্রভাব বেশি পড়ে। এ কারণে অল্প বয়সেই তাদেরকে সৎপথের সন্ধান দিতে হবে এবং সে পথে পরিচালিত হওয়ার প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

আমিরুল মোমেনিন হযরত আলী (আ.) এ প্রসঙ্গে বলেছেন, শিশু-কিশোরদের আত্মা হচ্ছে উর্বর সেই জমির মতো যেখানে এখনো কোন কিছুই বপন বা রোপন করা হয়নি এবং যে জমি সব ধরনের বীজ ও চারা  লালনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

 

সন্তানেরা তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে আচার-আচরণ ও শ্রদ্ধাবোধ রপ্ত করে। এ কারণে সন্তানদের কাছ থেকে শ্রদ্ধা ও সম্মান পেতে হলে নিজেদেরকেও সদাচারী হতে হবে এবং নিজেদের পক্ষ থেকেও অন্যদেরকে সম্মান দেখাতে হবে। যে পরিবারের সন্তানেরা বাবা-মাকে শ্রদ্ধা করে না, সেই পরিবারে প্রকৃত সুখ আসেনা। পবিত্র কুরআনের সূরা আহকাফের ১৫ নম্বর আয়াতের একাংশে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, 'আমি মানুষকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা দৈহিক যন্ত্রণার মাধ্যমে তাকে গর্ভে ধারণ করে, দৈহিক যন্ত্রণার সাথে তাকে প্রসব করে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে এবং তার দুধ ছাড়ানোতে ত্রিশ মাস লাগে।'

 

আসলে বাবা-মা যদি তার দাদা-দাদী ও নানা-নানীর প্রতি সদয় আচরণ করে তাহলে পরিবারের শিশুরাও তা থেকে শেখে এবং ভবিষ্যতে তারাও বাবা-মায়ের প্রতি সদাচারী হয়। আর এভাবেই পরিবারের সুখ ও শান্তির সুবাতাস প্রবহমান থাকে। হযরত আলী (আ.) ও ফাতেমা (সা.আ.) এর  সংসার ছিল আদর্শস্থানীয় পারিবারিক জীবন। দুনিয়া ও আখিরাত-এ উভয় জীবনের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তারা পরস্পরকে সহযোগিতা করেছেন। পরিবারে একজন আরেক জনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছেন। এ কারণেই তারা বিশ্বকে উপহার দিতে পেরেছিলেন ইমাম হোসেন (আ.) ও ইমাম হাসান (আ.) এর মতো শ্রেষ্ঠতম সন্তানদের। আলী (আ.) ও ফাতেমা (সা.আ.) এর মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানব হযরত মোহাম্মদ (সা.) তার মেয়ে-জামাইকে জিজ্ঞেস করলেন, স্ত্রী হিসেবে ফাতেমা কেমন? আলী(আ.) জবাবে বললেন, আল্লাহর এবাদত-বন্দেগিতে ফাতেমা হচ্ছে সর্বোত্তম সহযোগী।

 

ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ ছিলো হযরত আলী (আ.) ও হযরত ফাতেমা (সা.আ.) এর পারিবারিক জীবনের ভিত্তি। দুজনের পথ এক হওয়ার কারণে তারা পরস্পরকে সর্বোত্তমভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর এ কারণে তাদের মধ্যে কখনোই কোন বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হতো না। নিজের স্ত্রী ফাতেমার আচরণ সম্পর্কে আলী (আ.) বলেছেন, 'আল্লাহর কসম। আমি কখনোই ফাতেমাকে রাগান্বিত করিনি এবং ফাতেমাও আমাকে রাগায়নি। দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হলে ফাতেমার দিকে তাকালে তা ভুলে যেতাম।'

 

রাসূল (সা.) এর পরামর্শে আলী (আ.) ঘরের বাইরের এবং হযরত ফাতেমা (সা.আ.) ঘরের কাজকর্মের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছিলেন। কিন্তু যখনি প্রয়োজন হয়েছে তারা একে অপরের কাজে সহযোগিতা করেছেন। ফাতেমা (সা.আ.) যখন রান্না করতেন তখন সন্তানদের দেখাশোনা করতেন আলী (আ.)। আলী(আ.) যখন জিহাদ করার জন্য বাইরে থাকতেন তখন বাইরের অনেক কাজের দায়িত্বই এসে পড়তো নবী কন্যার ওপর। এ ছাড়া, একটা সময় আলী (আ.) ইসলামের স্বার্থে কিছু দিনের জন্য ঘরের ভেতরে অবস্থান করাকে শ্রেয় মনে করেছিলেন। সে সময় নবীকন্যা তার স্বামীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সাহসিকতার সঙ্গে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এভাবেই তাদের পরিবার এক ধরনের ভূস্বর্গে পরিণত হয়েছিল। #

ষষ্ঠ পর্ব

প্রতিটি সমাজের ভিত্তিমূল হচ্ছে পরিবার। এ কারণে পরিবার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়লে সমাজে নৈতিক অবক্ষয়সহ নানা সমস্যা ও সংকট দেখা দেয়। পাশ্চাত্য-সমাজেই এ ধরনের সংকট সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যণীয়। এনলাইটমেন্টের যুগ এবং শিল্প বিপ্লবের পর একবিংশ শতাব্দির শুরু থেকে পাশ্চাত্যে সামাজিক সংকট তীব্রতর হতে শুরু করে।

গত কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা দেশগুলোতে বিয়ের পদ্ধতি ও পারিবারিক জীবন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সেখানে গোটা পরিবার ব্যবস্থাই এখন হুমকির সম্মুখীন। পরিবার ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো, পাশ্চাত্য সমাজে হিউম্যানিজম, লিবারেলিজম, সেক্যুলারিজম ও ফেমিনিজমের মতো বিভিন্ন মতবাদের প্রভাব। গত কয়েক শতাব্দি ধরে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক নীতির উৎস হিসেবে অনুসরণ করা হচ্ছে এসব মতবাদকে। পাশ্চাত্যের এসব মতবাদে ধর্ম ও নৈতিকতাকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। এসব মতবাদ অনুযায়ী, অন্যের ক্ষতি না করে একজন ব্যক্তি সব ধরনের অনৈতিক কাজ করতে পারে। এ কারণে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে সমকামিতা, বিয়ে বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক এবং গর্ভপাতের মতো অনাচারগুলো স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হতে শুরু করেছে।

এ ধরনের অনৈতিক আচরণগুলো বিস্তার লাভ করার সঙ্গে সঙ্গে পাশ্চাত্যে পরিবার ব্যবস্থা দ্রুত ভেঙ্গে পড়ছে। এর ফলে বাবা-মা উভয়ের স্নেহ-মমতায় বেড়ে ওঠার সৌভাগ্য হচ্ছে না অনেক শিশুরই। তাদের কারো শুধু বাবা আছে অথবা মা। ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী ডেভিড পাপিনোও মনে করেন,পাশ্চাত্যে পারিবারিক সংকটের মূলে রয়েছে চারটি মতবাদ। এগুলো হলো, সেক্যুলারিজম,হিউম্যানিজম, মর্ডানিজম ও ফেমিনিজম। চতুর্দশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ইতালিতে হিউম্যানিজমের আবির্ভাব ঘটে এবং ক্রমান্বয়ে তা ইউরোপের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পাশ্চাত্য-সংস্কৃতির ভিত্তি হচ্ছে এই হিউম্যানিজম। হিউম্যানিজমে, মানুষ স্বাধীন এক অস্তিত্ব। এ মতবাদ অনুযায়ী, ঐশী দিক নির্দেশনার কোন প্রয়োজন মানুষের নেই। প্রকৃতি ও ইতিহাসেই মানুষের পূর্ণতাকে খুঁজে বেড়ায় এ মতবাদ। এখানে ব্যক্তিই সব কিছু। এর উপরে আর কিছু নেই।

মধ্যযুগে খ্রিষ্টান ধর্মের পুরোহিতদের চরমপন্থার বিরুদ্ধে হিউম্যানিজমের আবির্ভাব ঘটে। তারা সাধারণ মানুষকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতো না এবং পাদ্রীদের কথা ও সিদ্ধান্তই ছিল সব কিছুর উর্ধ্বে। সমকালীন হিউম্যানিজম ইমানুয়েল কান্ট ও অগাস্টো কান্টের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে উৎসারিত। মানুষকে ঐশী শক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করে হিউম্যানজম। এর ভিত্তিতে আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্কচ্ছেদের কারণে পাশ্চাত্য সমাজ নানা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

মার্কিন লেখক পেট্রিক জে. বুকানান এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, নীতি-নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের কারণে পশ্চিমা সভ্যতায় ধর্মপরায়ন ও সম্মানিত ব্যক্তিদের উপর চরম দুর্দশা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, আর এ কারণেই এই সভ্যতা অগ্রহণযোগ্য ও ঘৃণ্য।

তার মতে, পাশ্চাত্য সভ্যতার পেছনে যে আইডিওলোজি বা জ্ঞান-তত্ত্ব কাজ করছে তা মানব প্রকৃতির সাথেও সাংঘর্ষিক। পাশ্চাত্যে নৈতিক অবক্ষয় ও মানব জীবন থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করাও পাশ্চাত্য সভ্যতা ক্ষয়িষ্ণু হবার একটা অন্যতম কারণ। সমকামীরা প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং প্রকৃতিও মানুষকে চরম শাস্তি দিচ্ছে। বর্তমানে লাখ লাখ মানুষ এইডস বা এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চরম সংকটে দিনাতিপাত করছে।

পাশ্চাত্য বিশ্বে পরিবারের চিরাচরিত সংজ্ঞায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেখানে এখন পরিবার বা সামষ্টিক স্বার্থ ও কল্যাণের উর্ধ্বে স্থান পাচ্ছে ব্যক্তি স্বার্থ। হিউম্যানিজমের ভিত্তিতে পাশ্চাত্যের মানুষ ব্যক্তিবাদী হয়ে ওঠায় পরিবারের প্রতিটি মানুষ কেবল তার নিজের স্বার্থ নিয়েই চিন্তিত। অন্যদের স্বার্থ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। এর ফলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও হৃদ্যতার মতো অলৌলিক বিষয়গুলো গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে।

ব্যক্তিবাদ অনুসরণ করার কারণে পরিবারের ভিত্তিগুলো ভঙ্গুর হয়ে গেছে। নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ সংস্ক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনেও হিউম্যানিজমের ভিত্তিতে ব্যক্তিবাদকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেখানে পরিবারে একজন পরিচালকের উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করা হয়েছে। ওই কনভেনশনের ১৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, পরিবার গঠনের পর স্বামী ও স্ত্রী যে-যার মতো বাসস্থান নির্বাচনের অধিকার রাখে। ওই কনভেনশন অনুযায়ী, একজন নারী ও একজন পুরুষ বিয়ের পরও যথেচ্ছা আলাদা আলাদা বাসায় বসবাস করতে পারেন। যেমন, স্বামীর শহর বাদ দিয়ে স্ত্রী ভিন্ন কোন শহরকে বসবাসের জন্য বেছে নিতে পারেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌনতার বাইরেও যে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক রয়েছে, তা স্বীকার করে না পাশ্চাত্য। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর পারিবারিক আইনে বিয়ের বন্ধনকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হয়নি।

পাশ্চাত্যে পরিবার গঠনের ঘোষণা দিয়ে দুই জন বা ততোধিক ব্যক্তি যদি একসঙ্গে বসবাস করে তাহলেও তা দাম্পত্য জীবন হিসেবে গণ্য হয়। এ কারণে ওই সব দেশে দাম্পত্য জীবন গড়তে বিয়ে করার প্রয়োজন পড়ে না। এর ফলে পশ্চিমা দেশগুলোতে বিয়ের পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং তালাকের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় সমকামীদের সংখ্যা বাড়ছে।মার্কিন লেখক পেট্রিক জে. বুকানানের মতে, পশ্চিমা সমাজে গর্ভপাত,তালাক ও আত্মহত্যা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি সন্তান লাভে আগ্রহ হারাচ্ছে। মাদকসেবীর সংখ্যাও দিনদিনই বাড়ছে। নারী ও বয়স্কদের সাথে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে। এছাড়া অবাধ যৌনাচার বেড়ে গেছে। আর এ সবই প্রমাণ করে পশ্চিমা সভ্যতা ক্ষয়িষ্ণু।

 

 

মার্কিন এই লেখক পশ্চিমা সভ্যতার প্রভাবকে হেরোইনের ভয়াবহ প্রভাবের সাথে তুলনা করেছেন। হেরোইন যেমন প্রথমে মানুষকে দৃশ্যত প্রশান্তি দিলেও ক্রমেই মানবদেহকে বিকল করে দিয়ে মাদকসেবীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, তেমনি পশ্চিমা সভ্যতাও বাহ্যত আকর্ষনীয় হলেও এর চূড়ান্ত ফল বিষময়। আরেক বিখ্যাত মার্কিন লেখক কেনেথ মিনং তার নিউ স্ট্যান্ডার্ড শীর্ষক বইয়ে লিখেছেন, পশ্চিমা সভ্যতা নীতি-নৈতিকতা থেকে অনেক খানি দূরে সরে গেছে, কাজেই পশ্চিমা সভ্যতাকে শ্রেষ্ঠতর বলা যাবে না।

ইসলাম ধর্ম, ব্যক্তি স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার পক্ষে। সমাজে কুপ্রথা ছড়িয়ে দেয়ার অধিকার কোন ব্যক্তির নেই বলে ঘোষণা করেছে ইসলাম। ধর্মমতে, স্বামী ও স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতার মধ্যদিয়েই দাম্পত্য জীবন সুখী ও সমৃদ্ধ হয়। স্বামীর উপর স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির ভরণ-পোষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

স্বামী ও স্ত্রীকে তাদের পারস্পরিক যৌন অধিকার মেনে চলতে বলা হয়েছে। মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বাবাকে। পাশাপাশি নারীর উপরও বেশ কিছু দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সন্তান লালন-পালনে মায়েদের ভূমিকাই থাকে সবচেয়ে বেশি। এ কারণে নারীকে পরিবারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কঠিন দায়িত্বের বাইরে রাখা হয়েছে। সর্বোপরি পরিবারের সব সদস্যকে একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল করা হয়েছে। ইসলাম ধর্ম, ব্যক্তি স্বার্থে নৈতিকতাসহ পরিবারের বৃহত্তর স্বার্থকে ক্ষুন্ন করার অধিকার কাউকে দেয়নি। #

 

 

৭ম পর্ব

বর্তমান সমাজে হিউম্যানিজমের পাশাপাশি সেক্যুলারিজম ও লিবারেলিজমের বিধ্বংসী ভূমিকাও সুস্পষ্ট। ধর্ম ও আধ্যত্মিকতা থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিচ্ছিন্নতাই হচ্ছে সেক্যুলারিজম। এ ছাড়া, সমাজের চেয়ে ব্যক্তিই বেশি প্রাধান্য পায় লিবারেলিজমে। এ মতবাদে ব্যক্তিকে নিঃশর্ত ও লাগামহীন স্বাধীনতা দেয়া হয়। আজকের আসরে আমরা পাশ্চাত্য সমাজে সেক্যুলারিজম ও লিবারেলিজমের ধ্বংসাত্মক প্রভাব নিয়ে কথা বলবো। আশাকরি শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গেই আছেন।

 

সেক্যুলারিজমের উৎপত্তি পাশ্চাত্যে। ইউরোপের ততকালীন খ্রিস্টান পাদ্রিদের দুর্নীতি ও অপশাসনের কারণে সেখানে রেঁনেসা শুরু হয়। কারণ সে সময় ইউরোপের সব সমস্যার জন্য খ্রিষ্টান পাদ্রিদের অপনীতিকে দায়ী বলে মনে করা হতো। ওই সব পাদ্রীর অন্যায় ততপরতার কারণে ইউরোপের জনগণ খ্রিষ্টান ধর্মের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে পড়েছিল। অবশ্য এ ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউরোপের সব ধর্মের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রয়েছে। মোটকথা, খ্রিষ্টান পাদ্রীদের ব্যর্থতা ও অপশাসনের কারণে পাশ্চাত্যে সেক্যুলারিজম প্রতিষ্ঠা ও বিস্তার লাভ করেছে। সেক্যুলারিজমের মূল বক্তব্য হলো, সামাজিক জীবনে ধর্মের প্রভাব থাকবে না। পাশ্চাত্যে প্রভাবশালী আরেকটি মতবাদ হচ্ছে, লিবারেলিজম। শিল্প বিপ্লবের পর নতুন যে সম্পদশালী শ্রেণী গড়ে উঠেছে, তারাই এ মতবাদের জন্ম দিয়েছে।

 

লিবারেলিজমের সঙ্গে পুঁজিবাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে লিবারেলিজমে সম্পদ ও পুঁজির গুরুত্ব সর্বাধিক। সম্পদ কীভাবে অর্জিত হলো,এ মতবাদে তা তেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। এ কারণে লিবারেলিজমের ধারক-বাহকরা বিভিন্ন দেশে আগ্রাসন চালিয়ে এবং বিভিন্ন বৈষম্যমূলক নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করছে। বাস্তবিক অর্থে লিবারেলিজমে নীতি-নৈতিকতার কোন স্থান নেই। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বর্তমানে স্বাধীনতার নামে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে সমকামীদের বিয়েকে আইনি বৈধতা দেয়া হয়েছে। একইভাবে পাশ্চাত্য-সমাজে বিয়ে বহির্ভূত অবাধ যৌনাচার এবং পর্ণো চলচ্চিত্র তৈরির প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কারণ এর মাধ্যমে মুনাফা হয় অনেক বেশি।

 

পরিণতির কথা না ভেবে যে কোন উপায়ে আনন্দ-ফুর্তি উপভোগের প্রবণতাকে উস্কে দিচ্ছে এই মতবাদ। নিউ লিবারেলিজমে মনে করা হয়, সৃষ্টিকর্তা ও ধর্মের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। লিবারেলিজমের প্রভাবে পাশ্চাত্যে বিয়ে-বহির্ভূত সম্পর্ক, তালাক, বাবা-মার সঙ্গে সন্তানের বিচ্ছেদ ও ভ্রুণ হত্যার মতো অন্যায় ততপরতা অনেক বেড়ে গেছে। লিবারেলিজমের প্রভাবে আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যে 'ব্যক্তিবাদ'  দিন দিন জোরদার হচ্ছে। আমেরিকা ও ইউরোপে বৈধ বিয়ে তথা পরিবার গঠনের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে। 'দ্য ওয়ার অ্যাগেইনস্ট পেরেন্টস' বইয়ের মার্কিন লেখক সিলভিয়া এন হিউলেট এবং কোরনেল ওয়েস্ট এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, "লিবারেলিজমের সমর্থকদের একটা অংশ সন্তান লালনপালনের বিষয়ে একেবারেই বিতৃষ্ণ। তাদের আরেকটি অংশ বৈধভাবে বিয়ে করা এবং সন্তান নেয়াকে পছন্দ করে না। তারা মনে করে, পরিবার গঠন করলে এর পেছনে ব্যাপক শক্তি ক্ষয় হয় এবং পরিবার হলো, পছন্দের স্বাধীনতা তথা আত্মবিশ্বাস অর্জনের পথে বাধা।"

 

আমেরিকার আরেক বিশিষ্ট লেখক প্যাট্রিক জে. বুকানান 'দ্য ডেথ অব দ্য ওয়েস্ট' শীর্ষক বইয়ে লিখেছেন, সেক্যুলারিজম ও লিবারেলিজমে বিশ্বাসী লোকেরা মনে করেন, এটা আমার জীবন, আমিই উপভোগ করবো। তিনি এ ধরনের চিন্তা-বিশ্বাসের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরতে যেয়ে জাপানসহ বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যা হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, জাপানের অর্ধেকের বেশি নারী ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত অবিবাহিত থাকে। তাদের অধিকাংশেরই বিয়ে করার এবং সন্তান নেয়ার কোন আগ্রহ নেই। নিজের জীবন নিজে ভোগ করার চিন্তা থেকেই এ ধরনের প্রবণতা শুরু হয়েছে,যার চূড়ান্ত পরিণতি ধ্বংসাত্মক। ধর্ম ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস না থাকলে মানুষের মাঝে এ ধরনের চিন্তা-বিশ্বাস ক্রমেই জোরালো হয়।

 

কিন্তু দুঃখজনকভাবে পাশ্চাত্য-সমাজ থেকে ধর্ম ও নৈতিকতাকে বিতাড়িত করা হচ্ছে। যে সমাজ ও পরিবার থেকে ধর্মকে মুছে ফেলা হয়, সেই পরিবার ও সমাজের প্রতিটি মানুষ তখন শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং অন্যের ভালো-মন্দ সে বিবেচনা করে না। ইরানের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও গবেষক রাহিমপুর আযগাদি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, সেক্যুলার ব্যবস্থায় পরিবার মানে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার পরিমাপ নিয়ে বিবাদ-বিতন্ডা। সেখানে নারী ও পুরুষ পরস্পরের প্রতি দায়িত্বশীল নয়। কিন্তু ইসলাম ধর্মমতে, পরিবারের প্রত্যেক সদস্য একে অপরের বিষয়ে দায়িত্বশীল। এখানে নারীর প্রতি পুরুষের যে দায়িত্ব,তা বিশ্বস্ততা ও সহযোগিতা হিসেবে গণ্য হয়।

 

অধ্যাপক রাহিমপুর আযগাদি আরো বলেছেন,"সেক্যুলার সংস্কৃতিতে নারীদের শান্তি,স্বস্তি,সম্মান-মর্যাদা ও উন্নতি নিশ্চিত করার বিষয়ে পুরুষ কোনো দায়িত্ব অনুভব করে না। এ কারণে নারী তার স্বার্থের পেছনে ছুটতে বাধ্য হয়। অন্যথায় তার অধিকার লংঘিত হবে বলে সে সব সময় আশংকায় থাকে। এ কারণেই পাশ্চাত্যে পুরুষদের বিরুদ্ধে ফেমিনিজম প্রতিষ্ঠা লাভ করছে। কিন্তু ইসলামি সংস্কৃতিতে পুরুষ নারীর বিষয়ে দায়িত্বশীল,প্রতিশ্রুতিবন্ধ এবং নারীদের ভালো-মন্দ নিয়ে পুরুষ চিন্তা করে। এখানে নারীকে তার স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য পুরুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয় না। এ কারণে ফেমিনিজম বা নারীবাদী আন্দোলনের প্রয়োজন পড়ে না।"

ইসলামী ব্যবস্থায় পরিবারের এক সদস্যের  সাফল্য-ব্যর্থতা ও উন্নতি-অবনতি অপর সদস্যের সাফল্য-ব্যর্থতা ও উন্নতি-অবনতি হিসেবে গণ্য হয়। সেক্যুলার পরিবারের মূল ভিত্তি হচ্ছে উগ্র ব্যক্তিবাদ বা ব্যক্তি স্বার্থ। কিন্তু ইসলামি পরিবারে ব্যক্তিগত আকাঙ্খা ও আনন্দ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায় না। পরিবারের সব সদস্যের সার্বিক কল্যাণকে ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে স্থান দেয়া হয়। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের যেমন কিছু অধিকার রয়েছে, তেমনি কিছু দায়িত্বও রয়েছে। কিন্তু পাশ্চাত্যের সেক্যুলার পরিবারগুলোতে পরিবারের সদস্যরা পরস্পরের ব্যাপারে দায়িত্বশীল নয়। পাশ্চাত্যের পরিবারগুলোতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে যে সম্পর্ক, তা আধিপত্যকামী এক সম্পর্ক। এটা প্রেমিক ও প্রেমিকার সম্পর্ক নয়। এখানেই পরিবার ব্যবস্থা সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গী বিষয়ে ইসলাম ও সেক্যুলারিজমের পার্থক্য।

 

পাশ্চাত্যের বিজ্ঞ চিন্তাবিদরা মনে করেন, লিবারেলিজম ও সেক্যুলারিজমের প্রভাবে পাশ্চাত্য সমাজ অচলাবস্থার মুখোমুখী হয়েছে। তারা বলছেন, পাশ্চাত্যের এসব মতবাদ ওই সমাজের জন্যও এখন আর উপযুক্ত নয়। এ কারণে এসব মতবাদ এখন উল্টো পাশ্চাত্য সংস্কৃতির জন্যই হুমকিতে পরিণত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আমেরিকার সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেড. ব্রেজেনিস্কি একটা সরল স্বীকারোক্তি করেছেন। তিনি বলেছেন, সেক্যুলারিজমই পরাশক্তি আমেরিকাকে পতনের হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এ সংকট থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হচ্ছে, ধর্মের দিকে প্রত্যাবর্তন।#

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন