এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 04 এপ্রিল 2013 15:50

পাশ্চাত্যে পারিবারিক সংকট: (ফেমিনিজম-১১)

বর্তমানে কম্পিউটার প্রযুক্তির নানা মুখী ব্যবহার হচ্ছে। মানব জীবনের নানা ক্ষেত্রে তা প্রভাব ফেলছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান অনেক খানি সহজ হয়ে গেছে। এখন শিশু-কিশোরদের মাঝে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মাত্রাও দিন দিন বাড়ছে। আসলে ইন্টারনেট হচ্ছে, ধারালো চাকুর মতো, যা ভালো ও খারাপ-উভয় কাজেই ব্যবহার করা যায়। ইন্টারনেট যেমন শিক্ষা, গবেষণা, যোগাযোগ ও দ্রুত সংবাদ সরবরাহের মতো সেবা দেয়ার ক্ষমতা রাখে; তেমনি একটু অসতর্ক হলে মানুষকে বিপথগামীও করে তোলে এ মাধ্যমটি। ইন্টারনেটের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এতে যোগাযোগটা একমুখী নয় এবং ইন্টারনেট জগতে যোগাযোগ ঘটে নিমিষের মধ্যে। এ কারণে নানা দেশ, জাতি ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি হচ্ছে অনায়াসে। তবে এই প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে।ইন্টারনেটের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে নীরবতা ও অবহেলা, পরিবারের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে।

 

পড়াশোনা,চিকিৎসা,বন্ধুত্ব ও বিনোদন থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব কিছুই রয়েছে ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে। বর্তমান প্রজন্ম অনেক সময়ই না বুঝে ইন্টারনেট আসক্তির কারণে বিপথগামী হয়ে পড়ছে। ইন্টারনেট নানা তথ্যের ভাণ্ডার হওয়ার কারণে এর প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিক। কিন্তু বিষয়টি অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে তখনি, যখন মানুষ সব কিছু ভুলে সারা দিন বা রাত ইন্টারনেট নিয়েই মগ্ন থাকে। হয়তো খাওয়া বা বিশ্রামের কথাও ভুলে যান তারা। এটা কখনই কারো জন্য ঠিক নয়। পড়াশোনা বা জানার প্রয়োজনে অবশ্যই দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে,তবে খেয়াল রাখতে হবে-খাওয়া বা বিশ্রামও শরীরের একটি বড় চাহিদা। তা না হলে শরীর সুস্থ থাকবে না। আর শিক্ষার্থীদের জন্য দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করা উচিত।

 

ইন্টারনেটের মাধ্যমে বন্ধুত্বের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং গড়ে তোলা অনেক সহজ একটা বিষয়। তবে এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং গড়তে গিয়ে অনেকেই ফেক রিলেশনশিপ বা ভুয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এতে অনেকেই বিপদে পড়েন। এখানে নিজের নিরাপত্তার দিকে সবচেয়ে আগে খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময়ই দেখা যায়,অনেকেই ভুল পরিচয় দিয়ে প্রোফাইল বানিয়ে রাখেন। এ ছাড়া, ইন্টারনেটের বড় একটি নেতিবাচক দিক হলো অশালীনতা। ইন্টারনেটে কিছু ওয়েবসাইট আছে যেগুলো পুরোটাই অশ্লীলতায় ভরা। অশ্লীল ছবি বা ভিডিওতে পূর্ণ এসব ওয়েবসাইট তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ ধরনের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারীর মানসিক সুস্থতা নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে।

 

 পাশ্চাত্যের তরুণ প্রজন্মের ওপর ইন্টারনেটের অতিরিক্ত প্রভাবের কারণেও পারিবারিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। আর পাশ্চাত্যের এ সংস্কৃতি ইন্টারনেটের মাধ্যমে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে।   

 

ইন্টারনেটের প্রতি অতি-আসক্তির কারণে অনেকেই পরিবার থেকে দূরে সরে যান। অনেক সময় দেখা যায়,পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যখন সময় কাটানোর কথা অথবা বন্ধুদের সঙ্গে বিকেলে খেলাধুলা করার কথা তখনও ইন্টারনেট নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় অনেককেই। এতে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর চেয়ে ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত থাকাটাই তাদের কাছে অনেক আনন্দের মনে হয়। ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তির কারণে শিশু-কিশোররা ঘরকুনো হয়ে পড়ে।

 

শারীরিক ততপরতা না থাকার কারণে শিশু-কিশোররা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। কানাডার হ্যামিল্টন হাসপাতালের শিশু খাদ্য বিষয়ক বিভাগের পরিচালক ডা.ওদেদ বারুর এ সম্পর্কে বলেছেন,শারীরিক ততপরতা বিশেষকরে খেলাধুলা না করার কারণে শিশুদের হার্টের রোগ,ব্লাড প্রেশার,অস্থি ও অস্থিসন্ধির প্রদাহসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে।দক্ষিণ কোরিয়ার মনোবিজ্ঞানী প্রফেসর  সেন কিউলি ৪৩৫ টি শিশুর ওপর গবেষণা চালানোর পর এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন  যে, ১১ শতাংশ শিশু-কিশোর ইন্টারনেটে আসক্ত। তিনি দেখেছেন, ইন্টারনেটে আসক্ত শিশু-কিশোররা মারাত্মক বিষণ্ণতায় ভোগে। বিষণ্ণতার কারণে ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি আরো বেড়ে যেতে পারে বলে তিনি তার গবেষণামূলক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন।    

 

ভিডিও গেইমস হচ্ছে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট প্রযুক্তি ভিত্তিক আরেকটি মাধ্যম। আর পাশ্চাত্যের তৈরি ভিডিও গেইমগুলো সহিংস দৃশ্যে পরিপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে,সহিংস দৃশ্যগুলো মানুষের ওপর স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে প্রভাব ফেলে।সহিংস দৃশ্য দেখার কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত মানুষের মস্তিষ্কে এর প্রভাব থাকে।বর্তমানে বিভিন্ন পরিবারে সহিংসতার একটি বড় কারণ হচ্ছে,সহিংস ভিডিও গেইম। বিখ্যাত সাময়িকী 'রিডার্স ডাইজেন্ট'লিখেছে,'ভিডিও গেইমগুলো এখন শিক্ষার মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। আমরা পরোক্ষভাবে শিশুদের এটা শেখাই যে, কীভাবে বন্দুকের ট্রিগার চাপতে হয়।'

 

এসব ভিডিও গেইমের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধগুলো ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। এসব কম্পিউটার গেইমে এটা শেখানো হয় যে,এক জনকে রক্ষার জন্য অন্যদের ওপর হামলা চালানো যাবে এবং তাদেরকে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করা যাবে।

 

ইন্টারনেট ও ভিডিও গেইমের মতো মাধ্যমগুলোকে সঠিক উপায়ে ব্যবহার করা না হলে মানুষের স্বাভাবিক জীবন পদ্ধতিতে মারাত্মক পরিবর্তন আসে। পুঁজিবাদীরাও এমনটিই চায়। তারা মুনাফা লাভের জন্য পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।

 

কিন্তু ইসলাম ধর্মে পরিবারের সব সদস্যকে পরস্পরের কাজের বিষয়ে দায়িত্বশীল হিসেবে গণ্য করা হয়।নতুন নতুন প্রযুক্তিগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে সন্তানরা বিভ্রান্ত ও বিপথগামী হচ্ছে নাকি সঠিক পথের দিশা পাচ্ছে, সে বিষয়ে বাবা-মাকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। সূরা তাহারিমের ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে,তোমরা যারা ঈমান এনোছো, তারা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো,যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর। প্রতিটি অভিভাবকের উচিত পরিবারে আধ্যাত্মিক পরিবেশ জোরদার করা এবং নিজেদের কাজের মূল্যায়ন করা।#

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন