এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 28 এপ্রিল 2013 18:02

পাশ্চাত্যে পারিবারিক সংকট: (ফেমিনিজম-১৪)

সময় যতো গড়াচ্ছে মানুষের মধ্যে নৈতিক ও ধর্মীয় চেতনার অবক্ষয় ঘটছে ততো বেশি। শুধু সামাজিক সম্পর্কই নয় পারিবারিক বন্ধনও দুর্বল হয়ে পড়ছে। পারিবারিক তথা আত্মীয়তার সম্পর্কের ধারণাটাই দিন দিন ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে আত্মিক শূন্যতা। আর এ শূন্যতা পুরণ করতে পশুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলাকে বেছে নেয়া হচ্ছে। এ সম্পর্ক রূপ নিচ্ছে যৌন সম্পর্কে। বিশেষকরে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে পশুর সঙ্গে যৌনকর্ম স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। পাশ্চাত্যে পশুর সঙ্গে বিয়ের ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। পশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ার বিষয়ে ইন্টারনেটে নানা ধরনের বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। এক শ্রেণীর জন্য এটা রমরমা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয় মানুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ার উপযোগী হিসেবে গণ্য করে কোনো কোনো প্রজাতির প্রাণীর ব্যাপক ভিত্তিক উতপাদন ও প্রতিপালনও শুরু হয়েছে কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি।

 

পাশ্চাত্যের অনেক নারী ও পুরুষই কুকুরসহ নানা ধরনের গৃহপালিত পশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলছে। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের ঘটনাও ঘটছে। বিশেষকরে বিধবা ও বয়স্ক মহিলারা তাদের যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য কুকুরের মতো পশুকে বেছে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমেরিকার এক বিয়ে অনুষ্ঠানের কথা তুলে ধরা যেতে পারে। সম্প্রতি এক মার্কিন মহিলা চার বিয়ের পরও সংসার জীবনে সুখী হতে না পেরে অবশেষে ধুমধাম এক কুকুরকে বিয়ে করেছে। ওই মহিলা, কুকুরকে বিয়ে করার কারণ হিসেবে বলেছে, ‘কুকুরটি আমার আগের স্বামীগুলোর চেয়েও বেশি নিষ্ঠাবান।’ বিস্ময়ের ব্যাপার হলো- বিয়ের রাতে ওই মহিলা সেজেগুজে কনের পোশাক পরে বিয়ের আসরে বসেছিল। আর কুকুরকে পরানো হয়েছিল কোট ও প্যান্ট। সে এক হাস্যকর ঘটনা।

 

পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে যদিও পশুর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে এখনো আইনী বৈধতা দেয়া হয়নি ও তালিকাভূক্তির কোনো ব্যবস্থাও এখনো নেই, কিন্তু এ ধরনের অসামাজিক ও প্রকৃতি বিরোধী প্রবণতার ব্যাপারে ওই সব সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আপত্তিও নেই। অনেকেই মনে করছেন, অদূর ভবিষ্যতে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে সমকামিতার মতো পশুর সঙ্গে বিয়েকেও আইনি স্বীকৃতি দেয়া হবে এবং এ ধরনের বিয়ে স্বাধীনতার মাপকাঠির তালিকায় স্থান করে নেবে। এরইমধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক জন পদস্থ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, পশুর সঙ্গে সেনা সদস্যদের সম্পর্ক স্থাপনকে বৈধতা দেয়া  উচিত। কারণ এর ফলে নারী সেনাদের ওপর যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ কমে যাবে। এমনকি গত বছর মার্কিন সিনেট, সেনাবাহিনীতে সমকামিতা ও পশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আইন বাতিল করেছে।

 

এর আগে আমেরিকার সামরিক বাহিনীর বিশেষ আইনের ১২৫ ধারা অনুযায়ী দেশটির সেনাবাহিনীতে সমকামিতা ও পশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো এবং এ ধরনের অন্যায় কাজ করলে সামরিক আদালতে বিচারের সম্মুখীন হতে হতো। কিন্তু সেই বাধা তুলে দিয়েছে দেশটির বর্তমান সরকার।

 

পাশ্চাত্যে এ ধারণা জোরদার করা হচ্ছে যে, মানুষের স্বাধীনতার সীমা-পরিসীমা বলে কিছু নেই। স্বাধীনতা ভোগের নামে একজন ব্যক্তি ইচ্ছে করলে পশুর সঙ্গে বিয়ে করতে পারে। তা যদি মানুষের শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনকও হয়। তারা নিজেদের স্বাধীনতা ভোগ করতে যেয়ে পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতেও প্রস্তুত বলেই তাদের কর্মকাণ্ড থেকে মনে হচ্ছে।

 

কিন্তু পবিত্র ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিতে, মানুষ হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ জীব এবং পৃথিবীতে মানুষই আল্লাহর প্রতিনিধি। ইসলাম ধর্মমতে, মানুষ স্বাধীন। তবে মানুষের চূড়ান্ত কল্যাণের বিষয়টি আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। এ কারণে আল্লাহর দিকনির্দেশনা মেনে জীবন পরিচালনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে ইসলাম। যে প্রশ্নটি অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়, তাহলো-মানুষ কিভাবে ও কখন নিচে নামতে নামতে নিজেকে পশুর সারিতে দাড় করাতে পারে? এর উত্তরে বলা যায়, সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যখন ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং মানুষ যখন পৃথিবী সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয় তখনি এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তখন তারা সব কিছুকে বৈধ বলে মনে করতে থাকে।

 

পাশ্চাত্যের অনেকের কাছেই পরিবার গড়ে তোলার কোনো তাতপর্য নেই। পশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পক্ষে প্রচার চালিয়ে পরিবারের প্রতি অনীহা আরো বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে। চিকিতসা বিজ্ঞানসহ নানা ক্ষেত্রে মানব সমাজ ব্যাপক উন্নতি সাধন করলেও ধর্ম থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে নীতি-নৈতিকতার ক্ষেত্রে ক্রমেই অসভ্য হয়ে উঠছে। পরিবারের ভিত্তিকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে আরো অনেক বিষয় কাজ করছে। যেমন পাশ্চাত্যে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে, ধর্মের দৃষ্টিতে যাদের মধ্যে বৈধ বিয়ে পর্যন্ত নিষিদ্ধ। পাশ্চাত্যে আরো একটি প্রবণতা বেড়ে চলেছে, আর তাহলো-শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এমনকি প্রতিবন্ধী শিশুদের ওপরও যৌন নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

 

আমেরিকার ইলিনয়েস অঙ্গরাজ্যের পরিবার ও শিশু বিষয়ক দপ্তর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওয়েস্ট সাইড এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে সহিংসতামূলক আচরণ করা হয়। এমনকি কখনো কখনো তাদেরকে ধর্ষণ করা হয়। এটা শুধু একটি এলাকার চিত্র নয়। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে মাঝে মধ্যেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। ধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধাই এর প্রধান কারণ।#

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন