এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 02 মে 2013 15:37

পাশ্চাত্যে পারিবারিক সংকট: (ফেমিনিজম-১৫)

পাশ্চাত্যে নারী-পুরুষের মধ্যে অবাধ মেলামেশার কারণে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। অবৈধ উপায়ে অপরিকল্পিতভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলার কারণে অনেক তরুণীই অকালে গর্ভবতী হয়ে পড়ছে। এর ফলে অবৈধ সন্তানের সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন। আর এসব শিশুর ভবিষ্যতও থাকে। পিতার আদর-সোহাগ কখনোই তাদের ভাগ্যে জুটে না। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই তাদেরকে শিশু সদনে পাঠিয়ে দেয়া হয়। মার্কিন সাংবাদিক ও লেখক জুয়েস ব্রুস লিখেছেন, বাবা অথবা মা নেই এমন পরিবারের সংখ্যা আমেরিকায় দিন দিন বাড়ছে। আর এ প্রবণতা মার্কিন সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

 

স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা অবৈধ উপায়ে আনন্দ-ফুর্তি করতে গিয়ে গর্ভধারণ করছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মা হয়ে যাচ্ছে তারা। কিছু দিন আগের ঘটনা। আমেরিকার ‘কেসিডি গুডিসন’ নামের ১৪ বছরের এক কিশোরী অবৈধভাবে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। কিন্তু গর্ভধারণের বিষয়টি সে কৌশলে গোপন রাখে। এক পর্যায়ে শিশুটির জন্মও হয়। একটি গোসলখানায় অতিকষ্টে শিশুটিকে জন্ম দেয় ওই কিশোরি। এ খবরটি হয়তো জানাজানিই হতো না, যদি কিশোরিটির মা, পুলিশকে ফোন না করতো। গোলসখানায় শিশুটি জন্ম লাভ করার পর ওই কিশোরি তার সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করে। এরপর জুতার বাক্সে শিশুটিকে লুকিয়ে রাখে। শিশুর জন্মের তিন দিন পর গুডিসনের মা ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে জুতার বাক্সে মৃত শিশুটিকে দেখতে পায়। মৃত শিশুটিকে দেখতে পেয়ে তিনি পুলিশকে ফোন করেন।

 

ক্যাসিডি গুডিসনের ঘটনা সবাইকে হতভম্ব করে দিয়েছিল সে সময়। মেয়েটি কিভাবে মাসের পর মাস তার গর্ভধারণের বিষয়টি গোপন রাখতে পারলো, সে প্রশ্ন ছিল সবার মুখে মুখে। এ বিষয়ে গুডিসনের মায়ের কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘মেয়ের শরীরের পরিবর্তন দেখে আমার সন্দেহ হয়েছিল এবং আমি গর্ভধারণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য একটি পরীক্ষাও করি। কিন্তু তাতে মেয়ের গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়েনি।’ তার মায়েরও প্রশ্ন ছিল, ছোট্ট এ মেয়েটি কিভাবে এতগুলো দিন এ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে কাটালো, কিন্তু তারা কিছুই টের পেলাম না? পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকার দুই-তৃতীয়াংশ তরুণী ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গর্ভধারণ করছে।

 

 বর্তমানে সন্তানের কাজের ব্যাপারে কোনো ধরনের তদারকি নেই বাবা-মা’দের। এ কারণে বাবা-মা’র অজান্তেই নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে শিশু-কিশোররা। কিছু দিন আগে এক কিশোরির সাক্ষাতকার ভিত্তিক প্রতিবেদন ছেপেছে ‘রিডার্স ডাইজেস্ট’ পত্রিকা। ওই তরুণী অবৈধ উপায়ে গর্ভবতী হওয়ার পর ওই পত্রিকাকে বলেছে, ‘আমি যদি সময়টাকে পেছনে নিয়ে যেতে পারতাম। আমার জীবনে যদি এমনটি না ঘটতো। তখন আমি যদি আমার ভবিষ্যত নিয়ে একটু চিন্তা করতাম। তাহলে এভাবে জীবনটা শেষ হয়ে যেত না! মার্কিন ওই পত্রিকা আরো লিখেছে, দুঃখ-বেদনা, হতাশা, অপরাধ প্রবণতা, পরিবার ব্যবস্থা ধসে পড়া এবং ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তা-এসবই মার্কিন সমাজের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে অবাধ মেলামেশা ফল।

 

অল্প বয়সী বাবা-মা’র সংখ্যা বাড়ার কারণেও সমাজে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। অবাধ যৌনাচার এ ধরনের সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলছে। সম্প্রতি ব্রিটেনে ১৩ বছর বয়সী এক ছেলে ও ১৫ বছর বয়সী এক মেয়ের মধ্যে অবৈধ সম্পর্কের জেরে সন্তান লাভের ঘটনা ঘটেছে। ১৩ বছর বয়সী ছেলেটির নিজস্ব কোন আয়-রোজগার নেই। এ কারণে অভিভাবকেরা গর্ভপাতের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু কিশোর-কিশোরি তাতে রাজি হয়নি। এ কারণে পরিবারে সৃষ্টি হয়েছে জটিল সমস্যা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে প্রতিদিনই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এসব কারণে পাশ্চাত্যের চিন্তাশীল অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের শেষ নেই। কিন্তু এ ধরনের উদ্বেগ নিরসনে দেশটির ক্ষমতাসীন ব্যক্তিবর্গ ও পুঁজিপতিদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেই। 

 

সমাজবিজ্ঞানীরা পাশ্চাত্যের লাগামহীন স্বাধীনতাকে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন। পাশ্চাত্যের বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী কারেন হর্নি বলেছেন, যে সমাজে যৌনতার ক্ষেত্রে কোনো বাধা-নিষেধ থাকে না, সেখানে মনস্তাত্ত্বিক যে কোনো চাহিদাই যৌন চাহিদায় রূপ লাভ করে।

 

পাশ্চাত্যে এখন সব কিছুই যৌন-অশ্লীলতার সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। আসলে পশ্চিমারা যখনই আইন থেকে ধর্ম, মানবীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতাকে দূরে রেখেছে তখনই তাদের অধঃপতন শুরু হয়েছে। সেখানকার অবস্থা এখন এমন যে, অনৈতিক ঘটনাগুলোকে আর পরিসংখ্যানের সীমায় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, অনৈতিকতা সেখানে সংখ্যার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। পাশ্চাত্যে ব্যাপক সংখ্যক শিশু জন্ম নেয় পরিবারের বাইরে অবৈধভাবে। আসলে সেখানে কোনো পরিবার টিকে থাকার ঘটনাই বরং ব্যতিক্রমী ঘটনা।

 

বিবাহ-পূর্ব যৌন-সম্পর্ক এবং বিয়ের পরও বহুমুখী ব্যাভিচার এখন পাশ্চাত্যে সামাজিকভাবেই স্বীকৃত বিষয়। সমকামিতার মত জঘন্য বিষয়ও আজ আইনসিদ্ধ অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে পাশ্চাত্যে। ধর্ম ও নৈতিকতা থেকে দূরে থাকা এবং জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে কোনো উপায়ে ভোগ-লিপ্সা চরিতার্থ করার চরম বস্তুবাদী মনোভাবের কারণেই পাশ্চাত্যের আজ এই চরম দুর্দশা। তারা ভুলে গেছে মানুষ সৃষ্টির এবং নবী-রাসূল পাঠানোর খোদায়ী উদ্দেশ্য।

 

ইসলাম ধর্মও মানুষের যৌন তথা শারীরিক চাহিদাকে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু সে চাহিদা মেটাতে হবে বৈধ পন্থায়। এ কারণে ইসলাম ধর্মে প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের মধ্যে বিয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাস্তবতা হলো, একজন নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈধ যৌন সম্পর্ক সব সময়ই অবৈধ যৌন সম্পর্কের চেয়ে অনেক বেশি আনন্দদায়ক।#

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন