এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 07 মে 2013 15:38

পাশ্চাত্যে পারিবারিক সংকট: (ফেমিনিজম-১৬)

পাশ্চাত্যে বাড়ী থেকে উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের পালানোর ঘটনা দিন দিনই বাড়ছে। এ ধরনের প্রবণতা একদিকে সামাজিক সমস্যার জন্ম দিচ্ছে, আর অন্যদিকে গোটা পরিবার ব্যবস্থাকে হুমকিগ্রস্ত করছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আমেরিকায় প্রতি বছর ১০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণী পরিবার থেকে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে অর্ধেকই তরুণী। এরা পালিয়ে যাওয়ার পর নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়ে। কম বয়সী হওয়ার কারণে চাকুরি পায় না। এ কারণে শেষ পর্যন্ত মাদক চোরাচালান ও পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ে। মার্কিন পাদ্রি ব্রুস রিটার এ সম্পর্কে লিখেছেন, আমেরিকায় ১৭ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ লাখ তরুণী পতিতাবৃত্তি করছে। যেসব মেয়ে বাবা-মার কাছ থেকে পালিয়ে যায়,তাদের অনেকেই মানব পাচার চক্রের খপ্পরে পড়ে।

 

সম্প্রতি আমেরিকার ইলিনয়েস অঙ্গরাজ্যে ঘর পালানো এক তরুণীকে তিন বছর ধরে আটকে রেখে তার ওপর যৌন ও শারীরিক নির্যাতন চালানোর খবর ফাঁস হয়েছে। নির্যাতিত তরুণীটি পুলিশকে জানিয়েছে, তাকে ওই তরুণ তিন বছর ধরে ঘরে আটকে রেখেছিল। অবশেষে কৌশলে পালাতে সক্ষম হয় সে। পালোনোর আগে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। ওই মেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আরো বলেছে, তার ওপর প্রায় প্রতিদিনই শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হতো। ঘর পালানো তরুণ-তরুণীরা যে শুধু দেশের ভেতরেই নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়ে তাই নয়, বরং  কোনো কোনো সময় চোরাচালান চক্রের খপ্পরে পড়ে অন্য দেশেও পাচার হয়ে যায়।  ঘর পালানো তরুণীদেরকে অন্য দেশের পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

 

সম্প্রতি জার্মান পুলিশ মানব পাচার চক্রের বেশ কয়েক জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ৫০ জন তরুণীকে পাচারের সঙ্গে তারা জড়িত। ওই চক্রটি সাবেক ইউগোস্লাভিয়ার প্রজাতন্ত্রগুলো থেকে জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে নারী পাচার করতো। আসলে ‘পরিবার’ নামক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনটি যখন সন্তানদেরকে সঠিক উপায়ে প্রতিপালন ও দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়, তখনি এ ধরনের জটিল সমস্যাগুলোর সৃষ্টি হয়। এসব কারণে পাশ্চাত্যে বাবা-মা’র প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যাচ্ছে। বেড়ে চলেছে মাদক দ্রব্যের ব্যবহার। পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্কে তিক্ততা ও বাবা-মার মধ্যে তালাকের মতো বিষয়গুলো সন্তান-সন্ততিকে মাদক সেবনে উতসাহিত করে।

 

মার্কিন লেখক ‘ফেন হুড কেইনেজ’ স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের প্রভাব সম্পর্কে লিখেছেন, পিতৃহীন পরিবারগুলোর সন্তানদের মধ্যে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। বাবা আছেন-এমন পরিবারগুলোর তুলনায় এ প্রবণতা ৬৩ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া, পিতৃহীন পরিবারগুলোতে মাদক সেবনের প্রবণতা ৩৭ শতাংশ বেশি। মদ পানের প্রবণতাও দ্বিগুণ। বর্তমানে আমেরিকায় মাদকদ্রব্য বিশেষকরে মারিজুয়ানার ব্যবহার বেড়ে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৫ সালের পর আমেরিকায় মাদকের ব্যবহার ভয়াবহ মাত্রায় বেড়ে গেছে। কানাডীয় লেখক উইলিয়াম গার্ডনার ‘পরিবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ নামক বইয়ে লিখেছেন, আমেরিকার স্কুলগুলোর উচু ক্লাসের ৫০ শতাংশ ছাত্র মারিজুয়ানা এবং ১৫ শতাংশ ছাত্র কোকেন সেবন করে। পাশ্চাত্যের সব দেশেই মারিজুয়ানার ব্যবহার বেশি।

 

নতুন নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মার্কিন তরুণ-তরুণীদের মাঝে মাদক দ্রব্য ও অ্যালকোহলের ব্যবহার ১৫ শতাংশ বেড়ে গেছে এবং এ প্রবণতা ভবিষ্যত প্রজন্মের ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে। নিউ ইয়র্কের মাদকবিরোধী সংগঠনের পরিচালক ব্রুস গোল্ডম্যান এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, পাশ্চাত্যে মাদক দ্রব্যের সহজলভ্যতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বল ব্যবস্থাপনা, পারিবারিক কলহ এবং মনস্তাত্বিক চাপের কারণে তরুণরা বেশি বেশি মাদকের প্রতি ঝুকছে। পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের উপরও মাদকের ধ্বংসাত্বক প্রভাব রয়েছে। মাদকসেবীদের আশেপাশের লোকজনও এর ফলে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়। বিশেষকরে গর্ভবতী মায়েরা মাদক সেবন করলে তার সন্তানও গর্ভে থাকা অবস্থাতেই মাদকাসক্ত হয়ে যেতে পারে।

 

সম্প্রতি সন্তানকে মাদকাসক্ত করার কারণে এক মার্কিন মা’কে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই মার্কিন মহিলা গর্ভকালীন সময়ে মাত্রাতিরিক্ত কোকেন ও হেরোইন সেবন করেছেন। এ কারণে তার সন্তান মাদকাসক্ত হয়ে জন্মগ্রহণ করেছে।  জন্মের পর থেকেই শিশুটি নানা জটিলতায় ভুগছে এবং তাকে হাসপাতালে বিশেষ পরিচর্যায় রাখতে হয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকায় মদের ব্যবহারও আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে। ব্রিটেনে এক গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, গত আট বছরে সেদেশে মদ পানকারীর সংখ্যা ১২ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়টি শিশু অতিরিক্ত মদ পানের পর চিকিতসার জন্য হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে ভর্তি হচ্ছে। ব্রিটেনে প্রতি তিন জন মেয়ের মধ্যে এক জন মদ পান করে।

 

এসব কারণেই পবিত্র ইসলাম ধর্মে মাদক দ্রব্য ও মদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। মানুষের শারীরিক ও নৈতিক সুস্থতায় ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী সব কিছুই ইসলামে নিষিদ্ধ। চিকিতসক ও মনোবিজ্ঞানীরাও মানুষের শরীর ও মনের ওপর মাদক দ্রব্য ও মদের ধ্বংসাত্মক প্রভাবের কথা বারবারই বলে আসছেন। বিভিন্ন গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, মদ পানের কারণে মনস্তাত্বিক সমস্যাসহ নানা রোগের সৃষ্টি হয়। মদ পানের সঙ্গে উন্মাদনার সম্পর্ক রয়েছে। মার্কিন চিকিতসক পার্কার বলেছেন, ৫০ ভাগ ক্ষেত্রেই উন্মাদনা ও মনস্তাত্বিক রোগের সৃষ্টি হয় মদ পানের কারণে।

 

তিনি আরো বলেছেন, যে দেশ বা শহরে মদের দোকান বেশি,সেই দেশ বা শহরে মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষের সংখ্যাও বেশি। মদ পানের ফলে বোধ শক্তি ও বুদ্ধি লোপ পায়। মদ পানের কারণে গর্ভের ভ্রুণও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জন্ম হতে পারে বিকলাঙ্গ শিশুর। এ ছাড়া, মদ পানকারীরা হাই ব্লাড প্রেসারে ভোগেন। এছাড়া, মদ পানের কারণে হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধের ঘটনাও বাড়ছে।#

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন