এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 09 ফেব্রুয়ারী 2010 15:18

অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসন ও নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইরানের ক্ষমতা

শত্রুদের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ইসলামী ইরানের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে জনগণ। এই জনগণই সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে স্বৈরাচারী শাহ সরকারকে ক্ষমতাচ্যূত করে ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলো। এ কাজে ইরানের জনগণকে অনেক কষ্ট ও ত্যাগ তিতিক্ষা সহ্য করতে হয়েছিলো বলে তারা ঐ বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত ইসলামী বিপ্লবের বিন্দুমাত্র ক্ষতি সহ্য করতে নারাজ। এছাড়া নিজেদের মধ্যে ছোটখাটো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বিপ্লব ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তাদের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন অটুট রয়েছে। ইসলামী ইরানের স্থপতি মরহুম ইমাম খোমেনি (রহঃ) জনগণকে ঐক্য বজায় রাখার দিকনির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন।

ইরানী জনগণের এই ঐক্যের কারণে অনেক অভ্যন্তরীণ সংকট এবং বিদেশী ষড়যন্ত্র ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ইরানী জনগণ গত তিন দশকে বহুবার প্রমাণ করেছে, তারা শত্রুদের কুটকৌশল ভালোভাবে ধরে ফেলতে পারে এবং তার বিরুদ্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা নিতেও সিদ্ধহস্ত। জনগনের সচেতনতা এবং ইসলামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিচক্ষণ নেতৃত্ব এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। জনগণ তাদের নেতাকে নিজেদের একান্ত আপনজন বলে মনে করে। তারা জানে, সর্বোচ্চ নেতা দেশের চলমান ও ভবিষ্যত সংকট সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল রয়েছেন এবং সেগুলো ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছেন।

ইসলামের প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাস ইসলামী বিপ্লবের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থনে প্রভাব ফেলেছে। জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার যে অভূতপূর্ব নজীর নবী দৌহিত্র ইমাম হোসেইন (আঃ) কারবালার ময়দানে রেখে গেছেন, তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ইরানের জনগণ সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বিশ্বের যেখানেই নির্যাতিত কোন জনগোষ্ঠি অত্যাচারী ও আধিপত্যকামীদের ছোবল থেকে মুক্ত পাওয়ার সংগ্রাম করছে, ইসলামী ইরান তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনী জনগণের মুক্তির সংগ্রামের পাশাপাশি লেবানন ও ইরাকের জনগণের আন্দোলেন প্রতি তেহরানের সমর্থন রয়েছে। মুসলমানদের দৃষ্টিতে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) এর বংশধর ইমাম মাহদী (আঃ) এর আবির্ভাব ও তাঁর ন্যায়কামী আন্দোলনের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে আবার শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। সে পৃথিবীতে কোন অন্যায় অত্যাচার বা বৈষম্য ও ভেদাভেদ থাকবে না। ইরানের জনগণ এই বিশ্বাস গভীরভাবে বুকে ধারণ করে বলে তারা ইমাম মাহদী (আঃ) এর আবির্ভাব পর্যন্ত তাদের দেশে ইসলামী শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর।

ইরানের জনগণ যে তাদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে ইসলামী শাসনব্যবস্থা সমুন্নত রাখবে তা প্রমাণিত হয়েছে ইরাকের চাপিয়ে দেয়া আট বছরের যুদ্ধে। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চলা ঐ যুদ্ধে লাখ লাখ তরুণ ও যুবক দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো এবং দেশের জনগণ যুদ্ধের ফলে সাময়িকভাবে সৃষ্ট সমস্যাগুলো সানন্দচিত্তে সহ্য করেছে। তারা স্বাধীনতা ও বিপ্লব রক্ষাকে যুদ্ধের কষ্টের ওপরে স্থান দিয়েছিলো। এখানে প্রতি বছর ইসলামী বিপ্লবের বিজয় বার্ষকীর শোভাযাত্রায় ইরানের কোটি কোটি জনতা অংশগ্রহণ করে ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রতি তাদের আনুগত্যের ঘোষণা দেয়। এছাড়া ইরানে গত ৩০ বছরে ইরানে অনুষ্ঠিত অর্ধশতাধিক নির্বাচনে ইরানের জনগণ বিপুলভাবে অংশগ্রহণ করেছে। গত বছর জুন মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৮৫ ভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন যা বিভিন্ন দেশের নির্বাচনের ক্ষেত্রে নজীরবিহীন।

ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে মার্কিন সরকার ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ এবং সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে এসেছে। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী কঠোরভাবে ঐসব হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরানের দু'টি প্রতিবেশী দেশ ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন দখলদারিত্ব ইরানের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে মনে করা হয়। কিন্তু সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর সময়োচিত সিদ্ধান্তের কারণে এখন পর্যন্ত দখলদার শক্তিগুলো ইরানের কোন ক্ষতি করতে পারে নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, উল্টো ইরাক ও আফগানিস্তানের ওপর ইঙ্গো-মার্কিন আধিপত্যকে কাজে লাগিয়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে।

যে কোন দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ঐ দেশের উন্নতি। ইসলামী ইরান এক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই। ন্যানো টেকনোলজি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, ক্ষেপনাস্ত্র নির্মাণসহ প্রতিরক্ষা খাতের অন্যান্য সরঞ্জাম তৈরিতে ইরান উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কারণে এসব কিছু সম্ভব হয়েছে। পশ্চিমাদের কঠোর অবরোধের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি অর্জন ছিলো ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের চোখ ধাধানো সাফল্যগুলোর অন্যতম। ইরান শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চাইলেও পশ্চিমারা তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার জন্য অভিযুক্ত করছে। তারা এই ইস্যূকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর ধরে ইরানকে নানাভাবে শাসিয়েছে এবং কয়েক দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু তারপরও ইরান পরমাণু কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

ইরানের শত্রুদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে- এদেশের সংবিধান। এই সংবিধানে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব এবং তাদের পরস্পরের মধ্যকার সম্পর্ক সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া ইসলামী শিক্ষার আলোকে এই সংবিধান প্রণীত হয়েছে এবং সংবিধান পরিপন্থি কোন আইন যেন পার্লামেন্টে পাশ না হয় সেজন্য অভিভাবক পরিষদ গঠিত হয়েছে। পার্লামেন্টের যে কোন বিল আইনে পরিণত হওয়ার আগে অভিভাবক পরিষদের অনুমোদন পেতে হয়। সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে কোন সমস্যা তৈরি হলে তা নিরসনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নেতাকে। এ কারণে এখন পর্যন্ত ইসলামী ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে কোন মতবিরোধ তৈরি হয় নি বা হলেও তা দ্রুত মিটে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিগত তিন দশকে ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থা যেমন দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র নস্যাত করে টিকে রয়েছে তেমনি ভবিষ্যতেও আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর কূটকৌশল ব্যর্থ করে দিয়ে দ্রুতগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।#

 


মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন