এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 22 ফেব্রুয়ারী 2010 16:25

মুসলিম বিশ্বের সমস্যা সমাধানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ইরানে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হবার পর থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সাম্রাজ্যবাদী ও জালিম শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রধান কেন্দ্র এবং মুসলমানদের অধিকার আদায় ও বিশেষ করে সংকট কবলিত মুসলিম জাতিগুলোর প্রধান পৃষ্ঠপোষকে পরিণত হয়েছে। এই নীতির কারণে ইরান পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী ও জালিম শক্তিগুলোর চরম শত্রু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এইসব জালেম শক্তি ইসলামী ইরানকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানাভাবে ঘায়েল করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে যাতে তেহরান তার এই বিপ্লবী নীতি পরিত্যাগ করে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন ইসলামী ইরান মজলুম মুসলমানদের সহায়তা দেয়ার এবং সাম্রাজ্যবাদী ও জালিম শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের নীতি গ্রহণ করেছে?

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ১৯৭৯ সালে ইরানে সংঘটিত গৌরবোজ্ব্েল ইসলামী বিপ্লবের সবচেয়ে বড় অবদান বা সাফল্য। ইসলামের প্রাণসঞ্জীবনী শিক্ষাগুলোই ইরানে সংঘটিত ইসলামী বিপ্লবের প্রধান ভিত্তি। এ নীতির ভিত্তিতেই ইরান বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নিপীড়িত জনগণ ও মজলুম মুসলমানদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ইসলাম ও পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে মুসলমানরা পরস্পরের ভাই। এ ধর্ম মুসলিম ভাইদের ওপর জুলুমের ব্যাপারে নীরব থাকতে নিষেধ করে, বরং মজলুম ও বঞ্চিতের সহায়তায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বলে। এরই আলোকে ইসলামী ইরানের সংবিধানের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‍পবিত্র কোরআনের এই আয়াত
"امة واحدة و انا ربکم فا عبدون ان هذه امتکم "-‘র আলোকে সকল মুসলমান একই জাতি বা একই উম্মত এবং মুসলিম জাতিগুলোর সাথে ঐক্য গড়ে তোলা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের দায়িত্ব । এই লক্ষ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার অব্যাহত প্রচেষ্টা চালানোও এই সরকারের দায়িত্ব।

ইসলাম অন্যদের ওপর জুলুম বা অত্যাচার করতে নিষেধ করে, একইসাথে জুলুম মেনে নিতেও নিষেধ করে। পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ১৪১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "আল্লাহ কখনও কাফেরদেরকে মুমিন বা বিশ্বাসীদের ওপর কর্তৃত্ব দেবেন না"। এরই আলোকে ইরানের ইসলামী বিপ্লব ও এর বিপ্লবী সরকার সব সময়ই বিশ্বের অসহায় ও মজলুম মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। ইরানের সংবিধানের ১৫২ নম্বর ধারায় এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র নীতি কর্তৃত্বকামীতা ও কর্তৃত্ব মেনে নেয়াকে প্রত্যাখ্যান করা, সর্বাত্মক স্বাধীনতা রক্ষা, দেশের ভৌগলিক অখন্ডতা রক্ষা এবং মুসলমানদের সমস্ত অধিকারের প্রতি সমর্থনসহ আধিপত্যকামী শক্তির সাথে জোটবদ্ধ না হওয়া ও শত্রু নয় এমন সব দেশের সাথে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ইরানে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হবার পর থেকে ইসলামী ইরান বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নিপীড়িত জনগণ ও মজলুম মুসলমানদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ইসলামী বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ) এই বিপ্লবকে বঞ্চিত ও নিপীড়িত জনগণের বিপ্লব বলে অভিহিত করেছেন। ইরানের বিপ্লবের প্রকৃতি ইসলামী হওয়ায় তা স্বাভাবিকভাবেই সারা বিশ্বের মুসলমানকে প্রভাবিত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি তার এক বক্তব্যে বলেছেন, বিশ্ব দুভাগে বিভক্ত। কিছু দেশ আধিপত্যকামী ও অন্য কিছু দেশ তাদের আধিপত্য মেনে নিয়েছে এবং এই আধিপত্যকামী বিশ্ব ব্যবস্থা মানবজাতির প্রতি সবচেয়ে বড় জুলুম। ইসলামী ইরান প্রথম থেকেই আধিপত্যকামী বিশ্ব ব্যবস্থার কঠোর বিরোধীতা করে আসছে ।

ইসলামী ইরান ইসলামী ঐক্য ও কূটনৈতিক পন্থাসহ বিভিন্ন পন্থায় বিশ্বের মুসলমানদের সহায়তা করে আসছে। মুসলমানদের মূল পরিচিতি তথা ইসলামী পরিচিতিকে উজ্জ্বল করে তুলে ধরা এইসব পন্থার মধ্যে অন্যতম। মুসলমানরা যে বহু শতক ধরে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সভ্যতার সোনালী অধ্যায়ের ধারক ছিল ইসলামী ইরান পুনরায় সে সোনালী যুগ ফিরিয়ে আনতে মুসলিম জাতিগুলোকে উদ্বুদ্ধ করছে। ইরানের এই প্রচেষ্টার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামী জাগরণ ও ইসলামের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসলামী ঐক্য জোরদারের প্রচেষ্টার মাধ্যমেও ইরান বিশ্বের মুসলমানদের সহায়তার চেষ্টা করছে। হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য তাদেরকে দূর্বল করছে এবং এতে লাভবান হচ্ছে আধিপত্যকামী ও লুটেরা শক্তিগুলো। তার মতে মুসলিম বিশ্বের বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধানের একমাত্র পথ হল, শত্রুদের মোকাবেলায় রুখে দাঁড়ানো এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা জোরদার করা। ইসলামী ইরান প্রথম থেকেই এই নীতি অনুসরণ করে আসছে ।

ইরানের ইসলামী বিপ্লব বিশ্বের বঞ্চিত ও নিপীড়িত জাতিগুলোকে মুক্তির পথ হিসেবে সাম্রাজ্যবাদের মোকাবেলায় প্রতিরোধকামী হবার শিক্ষা দিয়েছে। পবিত্র কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী সব যুগেই বলদর্পীদের মোকাবেলায় মুসলমানদের হতে হবে প্রতিরোধকামী। এ ক্ষেত্রে আপোসকামীতা জাতিগুলোর জন্য ধ্বংস ডেকে আনে। প্রতিরোধের এই শিক্ষা নিয়েই ইরানের মুসলিম জাতি ঐক্য ও ঈমানকে সম্বল করে পাহলাভী সরকারের বজ্র-সুকঠিন রাজশক্তিকে উৎখাত করেছে এবং বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে অপদস্ত করেছে। ইসলামী ইরান পরাশক্তিগুলোর বাহ্যিক শক্তি ও জাকজমকে ভীত না হতে মুসলিম জাতিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।
ইসলামী বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ) এ প্রসঙ্গে বলেছেন, হে বিশ্বের বঞ্চিত জাতিসমূহ! হে মুসলিম জাতি ও বিশ্বের মুসলমান! তোমরা জেগে ওঠ ও রুখে দাঁড়াও এবং নিজ অধিকার আদায়ে সর্বশক্তি নিয়োগ কর। এ পথে পরাশক্তিগুলোর প্রচারণা ও তাদের অনুচরদের ভয় পেয় না। যেসব অপরাধী শাসক তোমাদের সম্পদ তোমাদের ও ইসলামের শত্রুদের হাতে সোপর্দ করছে তাদেরকে নিজ নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত কর।

যেসব জাতি প্রতিরোধের পথ বেছে নিয়েছে তারাই সফল হয়েছে। আফগান মুসলমানরা খুবই সাধারণ অস্ত্র দিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় পরাশক্তির সুসজ্জিত বাহিনীকে পরাজিত করেছে ও তাদেরকে মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহও বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ সামরিক শক্তি হিসেবে খ্যাত ইসরাইলকে লেবানন থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছে। ইহুদিবাদী ইসরাইল ২০০৬ সালেও দ্বিতীয়বার লেবাননে হামলা চালিয়ে হিজবুল্লহার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। ইরান এইসব মজলুম জাতিকে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়েছে। সার্বদের হামলার মোকাবেলায় বসনিয়ার মজলুম মুসলমানরাও ইরানের সর্বাত্মক সহায়তা পেয়েছে।
শত্রুদের মোকাবেলায় সাহসী প্রতিরোধের অত্যন্ত বিরল দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে ফিলিস্তিনের মুসলিম জাতি। দখলদার ইসরাইলের মোকাবেলায় তারা দুই দুই বার ইন্তিফাদা আন্দোলন গড়ে তুলেছে। এ দুই আন্দোলনের সাফল্যও ছিল দর্শনীয়। অথচ আপোসকামী ফিলিস্তিনী ও আরব নেতারা আপসের মাধ্যমে হতাশা এবং আরো বেশী অবমাননা ও ক্ষতি ছাড়া অন্য কিছু অর্জন করতে পারেন নি। মরহুম ইমাম খোমেনী (রঃ) এ প্রসঙ্গে বলেছেন, অত্যাচারী বা জালেমদের সাথে আপোস করা মজলুম বা অত্যাচারিতের সাথে জুলুম করার সমতুল্য। পরাশক্তিগুলোর সাথে আপোস করার অর্থ হল মানবতার ওপর জুলুম করা। যারা আমাদের আপোস করতে বলে তারা হয় অজ্ঞ নতুবা পরাশক্তির অনুচর। আপোসের অর্থ জালেমকে আরো বেশী জুলুম করার সুযোগ দেয়া যা নবী-রাসূলদের শিক্ষার বিরোধী। #


মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন