এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শনিবার, 11 এপ্রিল 2009 16:37

ইতিহাসে প্রতিদিন : ১১ এপ্রিল


১৮৫৯ সালের ১১ই এপ্রিল ফ্রান্সের বিশিষ্ট শিল্পী ও পদার্থ বিজ্ঞানী ফার্ডিনান্ড কাররে 'কৃত্রিমভাবে ঠান্ডা উৎপাদন করার যন্ত্র' আবিষ্কার করেন। এই যন্ত্রের উপাদান হিসেবে তিনি তীব্র গন্ধযুক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস ব্যবহার করেন। ১৮৭৬ সালে তিনি প্রথম ‘প্যারাগুয়ে' জাহাজে এ যন্ত্রটি স্থাপন করেন। যার ফলে ইউরোপের ভ্রমণকালে জাহাজটিতে দীর্ঘদিন গোশত ঠান্ডা রাখা সম্ভব হয়। ফার্ডিনান্ডের ঠান্ডা উৎপাদন যন্ত্রের মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্য ছাড়াও ঔষধপত্র ঠান্ডা করা হতো। বর্তমানকালের রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ এবং হিমাগার প্রযুক্তি ফার্ডিনান্ডের ঠান্ডা উৎপাদন যন্ত্রেরই আধুনিক সংস্করণ।

ফার্সী ১৩৭৬ সালের ২২শে ফারভারদিন জার্মানীর একটি স্থানীয় আদালত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে একটি রায় দেয়ার একদিন পর ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোর সরকার তেহরানে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠায়। বার্লিনের ঐ আদালতের ইসরাইল সমর্থিত বিচারক সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ঘোষণা করেন যে, জার্মানীর একটি রেস্টুরেন্টে ইরানের সরকার বিরোধী একজন রাজনৈতিক নেতার হত্যার সাথে ইরান সরকার সরাসরি জড়িত। বিচারক কেই নেহ্‌ম ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানাও জারি করেন। আদালতের ঐ রায়ের পর তেহরান থেকে ইউরোপের রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহারের পর ইরানও ইউরোপ থেকে তার রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করে নেয়। ইরান বার্লিন আদালতের ঐ রায় প্রত্যাখ্যান করে ঘোষণা করে যে, ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতরা অচিরেই মাথা নিচু করে তেহরানে ফিরে আসবে। এই ঘোষণার ১০ মাস পর ইউরোপের রাষ্ট্রদূতরা একে একে তেহরানে ফিরে আসতে শুরু করে।

 ১৯৮৫ সালের ১১ই এপ্রিল আলবেনীয়ার প্রেসিডেন্ট এনভার হোক্সা পরলোকগমন করেন। মুসলিম বিশ্বে তিনি আনোয়ার হোজ্জা নামে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন আলবেনিয়ার নাস্তিক্যবাদী পিপলস রিপাবলিক পার্টির প্রধান। আনোয়ার হোজ্জাই প্রথম ব্যক্তি যিনি সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে আলবেনিয়াকে পৃথিবীর প্রথম নাস্তিক দেশ সরকারিভাবে ঘোষনা করেন।পৃথিবীর প্রথম নাস্তিক দেশটির আয়ুস্কাল ছিল ১৯৬৭সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। তার শাসনামলে ২,১৮৯টি মসজিদ এবং চার্চ বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৯১সাল পর্যন্ত এই নাস্তিক দেশটিতে যারা জন্ম নিয়েছিল তারা ধর্মের ব্যাপারে কিছুই জানত না। ১৯৮৫ সালে হোজ্জা যখন মারা যান আলবেনিয়া তখন সারা বিশ্বের কাছে একটি নিষিদ্ধ দেশ, যারা বহির্বিশ্বের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন। তার শাসনামলের প্রায় সবটুকু জুড়েই আলবেনিয়া ছিল ইউরোপের সবচাইতে গরীব দেশ। ১৯৯০ সালে হোজ্জার প্রতিষ্ঠিত একদলীয় শাসনের অবসান ঘটে। ১৯৯২ সালে পরাজিত হয় সোসালিস্ট পার্টি। ধর্মীয় স্বাধীনতা জনগনকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। আলবেনিয়া এখন ওআইসির সদস্য।

১৯৯১ সালের ১১ এপ্রিল উপ সাগরে মোতায়েন মার্কিন সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণা দেয়। ১৯৯০ সালের জুলাই মাসে তেল নীতি, ভূভাগ নিয়ে বিরোধ এবং ঋণ সমস্যার কারণে ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয় । ঐ বছরের আগস্ট মাসে ইরাক কুয়েত দখল করে। বিশ্ব সমাজ ইরাকের এ আগ্রাসী আচরণের তীব্র নিন্দা জানায় এবং কুয়েত থেকে বিনাশর্তে সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য সাদ্দাম সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। দীর্ঘ ৫ মাস যুদ্ধ ও কুটনৈতিক তৎপরতার পর অবশেষে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ৬৭৮ নম্বর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইরাক জাতিসংঘের ঐ সিদ্ধান্ত নাচক করার পর ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারী মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী ইরাকের উপর ব্যাপক বিমান আক্রমণ চালায়। এ হামলার পর ইরাক কুয়েত থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করতে রাজি হয়।

 ১৮৯৯ সালের ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সঙ্গে যুদ্ধের পর স্বাক্ষরিত "প্যারিস চুক্তি" অনুসারে ফিলিপাইনকে নিজেদের দখলে নেয়। ১৫৬৫ সালে স্পেন ফিলিপাইন দখল করার পর তিনশ বছরেরও বেশী সময় ফিলিপাইন স্পেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জাপান ফিলিপাইন দখল করে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর ফিলিপাইন আবারও যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশে পরিণত হয়। ১৯৪৬ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ফিলিপাইনের আয়তন হচ্ছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৭০ শ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে ফিলিপাইনের লোকসংখ্যা হচ্ছে ৮ কোটি ২৭ লক্ষ ৭০ হাজার। অধিকাংশ জনগণ ক্যাথলিক খ্রিস্টান । ফিলিপাইন হচ্ছে একটি দ্বীপপুঞ্জ সমন্বিত দেশ। দেশটিতে ছোট বা বড় ৭১০৭টি দ্বীপ আছে। #



মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন