এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 13 এপ্রিল 2009 22:20

ইতিহাসে প্রতিদিন : ১৩ এপ্রিল

১৯১৯ সালের এ ১৩ ই এপ্রিল ভারতের অমৃতসরের জালিয়ানাবাদে গণহত্যার ঘটনা ঘটে। এ দিনে ভারতের সংগ্রামী ও বিদ্রোহী জনগণের বিরোধীতাকে উপেক্ষা করে ব্রিটিশ শাসকরা ''রোলেত'' নামক একটি কালাকানুন অনুমোদন করে । এ আইনে পুলিশকে বিশেষ ক্ষমতা দেয়া হয়। রোলেত আইনে পুলিশ সন্দেহভাজন যে কাউকে কোনো কারণ ছাড়া গ্রেফতার করে অনির্দিস্ট কালের জন্যে কারাবন্দী করে রাখতে পারবে । ভারতের জনগণ রোলেত আইনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং এ দিনে জালিয়ানাবাদে পাঁচ হাজারের বেশী মানুষ সমবেত হয়। তখন এক ব্রিটিশ কমান্ডারের নির্দেশে সমবেত জনতার উপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করে । পুলিশ এলাকাবাসীকে কোনো রকম সরে যাবার সুযোগ না দিয়ে জনতার উপর নির্বিচারে গুলি চালায় । তাতে ১২০০ জন নিহত এবং আরো চার হাজার জনতা আহত হয় । ব্রিটিশ সেনা কমান্ডার ঐ এলাকাবাসীসহ আহতদের জন্য খাদ্য সামগ্রী বা অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়। জালিয়ানাবাদকে তারা অবরুদ্ধ করে রাখে । রোলেত আইন পাশ হওয়ার পর এবং জালিয়ানাবাদের জনগণকে নির্দয়ভাবে হত্যা করার পর গান্ধীর নেতৃত্বে জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রাম চরম পর্যায়ে পৌছে এবং অবশেষে ব্রিটিশরা পরাজিত হয় ।

১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের এ দিনে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শেষ হওয়ার ১ মাস আগে মিত্র বাহিনী অস্ট্রিয়া দখল করে নেয় । দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের আগে অস্ট্রিয়া একটি স্বাধীন দেশ ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে জার্মান নেতা হিটলার অস্ট্রিয়াকে দখল করে জার্মানীর অন্তর্ভূক্ত করে এবং অস্ট্রিয়ার সেনাবাহিনীকে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে অন্তর্ভুক্ত করে । ৫ টি অঞ্চলে বিভক্ত অস্ট্রিয়াকে মিত্র বাহিনী দখলের পর একেকটি অঞ্চল একেক দেশের আওতায় নিয়ে নেয়া হয় । তবে রাজধানীতে মিত্র বাহিনীর চারটি দেশের কার্যালয় ছিল। মিত্র বাহিনী ১৯৪৬ সালে অষ্ট্রিয়ার স্বাধীনতাকে মেনে নেয় এবং মিত্র বাহিনীর সাথে অস্ট্রিয়া সরকারের একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় । সেই সমঝোতা চুক্তি অনুসারে তারা ১৯৫৫ সালে অস্ট্রিয়া ত্যাগ করে ।

১৯৬৬ খৃষ্টাব্দের এ দিনে ইরাকের প্রেসিডেন্ট কর্নেল আব্দুস সালাম আরেফ এক বিমান দূর্ঘটনায় নিহত হন। তিনি ১৯৫৬ সালের এ দিনে ইরাকী রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানে আব্দুল করিম কাশেমের সহযোগী ছিলেন । কর্নেল আব্দুস সালাম মিশরের প্রেসিডেন্ট আবু নাসেরের সমর্থক ছিলেন এবং ইরাক ও মিশরকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছিলেন। ইরাকে আব্দুল করিমের শাসনামলে তিনি একবার সরকারের তীব্র বিরোধীতা করেন । এ সময় রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে বিচারে ফাঁসীর আদেশ দেয়া হয় । পরে আব্দুল করিম কাসেম তাকে ক্ষমা করেন। আব্দুল সালাম আরেফ ১৯৬৩ সালে বাথ পার্টির সেনাদের সহযোগীতায় তিনি প্রেসিডেন্ট আব্দুল করিম কাসেমের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তাকে হত্যার মধ্যে দিয়ে ইরাকের শাসনভার গ্রহণ করেন। আব্দুস সালাম আরেফের মৃত্যুর পর তার ভাই আব্দুর রহমান আরেফ ক্ষমতায় আসেন এবং ১৯৬৮ সালে আহমদ হাসান বাকেরের নেতৃত্বে বাথ সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

১৯৭৫ সালের এ দিনে লেবাননের গৃহ যুদ্ধের সময় খৃষ্টান উগ্রবাদী ফ্যালানজিষ্ট দলের আধাসামরিক বাহিনী একটি বাসে হামলা চালালে ৩০ জন ফিলিস্তিনী নিহত হয়। এ হামলার ঘটনার পর লেবাননের মুসলমানরা ফ্যালানজিষ্টদের দৃঢ়ভাবে মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নেয় । ফিলিস্তিনীরা ঐ গৃহযুদ্ধে অংশ নেয় । এর কয়েকদিন পর ফ্যালানজিষ্ট উগ্রবাদীরা ফিলিস্তিনী শরনার্থী শিবিরে হামলা চালায় । ইহুদীবাদী ইসরাইলের ষড়যন্ত্রের ফলে লেবাননের গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং তাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় ।

৬৫৭ হিজরীর এ দিনে বিখ্যাত ফকীহ ও ভাষাতাত্ত্বিক ইবনে রেজোয়ান পরলোকগমন করেন । স্পেনের অধিবাসী ইবনে রেজোয়ান যুবক বয়সে পরিসংখ্যান ও জ্যামিতি বিষয়ে অধ্যায়ন করেন। তিনি তার কর্মজীবনে বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেন।

হিজরী ১৩৩২ সালের এ দিনে বিখ্যাত আলেম আয়াতুল্লাহ শেখ মুহম্মদ আলী নাখজাবানী ইরাকের কারবালায় ইন্তেকাল করেন । আজারবাইনের অধিবাসী নাখজাবানী ১১ বছর বয়সে কোরআন অধ্যায়ন করেন । এরপর তিনি যুক্তিবিদ্যা ও আরবী সাহিত্যে ব্যাপক দক্ষতা অর্জন করেন ।

এ দিনে সংগঠিত আরো কিছু ঘটনা তুলে ধরছি।

১৯৬৪ সালের এ দিনে ইয়ান স্মিথ দক্ষিণ রোডেশিয়ার নতুন সরকার গঠন করেন ।
১৯৯৭ খৃষ্টাব্দের আই সি সি ট্রফিতে বাংলাদেশ কেনিয়াকে পরাজিত করে অপারিজত চাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে।
২০০৪ সালের এ দিনে সুপারসনিক বিমান কনকর্ড শেষবারের মতো আকাশে ওড়ে ।


মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন