এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
রবিবার, 19 এপ্রিল 2009 00:14

ইতিহাসে প্রতিদিন : ১৮ এপ্রিল

১৯৫৫ সালের ১৮ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ায় আফ্রিকা ও এশিয়ার ২৯টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশ গ্রহণে প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শহরের নামানুসারে এটি বান্দুঙ্গ সম্মেলন নামে খ্যাত। পূর্ব ও পাশ্চাত্যের দুই পরাশক্তির মোকাবেলায় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সম্মেলন শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিস্তার এবং এই দেশগুলোর নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানানো হয়। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত বান্দুঙ্গ সম্মেলন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর সমন্বয়ে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যাম গঠনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

ফার্সী ১৩৫৮ সালের এই দিনে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনা বাহিনী ইরানে ইসলামী বিপ্লবের স্থপতি ইমাম খোমেনী (র:) এর কাছে আনুগত্য প্রকাশ। তারা ইসলামী বিপ্লবের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে ইরানের বিভিন্ন স্থানে নজিরবিহীন সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ সময় ইরানের জনগণ সেনা বাহিনীর এ উদ্যোগকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানায় এবং সেনাবহিনী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলাম ও ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। এ কারণে এ দিবসটিকে সেনা বাহিনী দিবস নামে অভিহিত করা হয়। প্রতিবছর এ দিবস উপলক্ষ্যে ইরানে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

১৯৮০ সালের এই দিনে আফ্রিকার জিম্বাবুয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। এর আগে এই দেশটির নাম ছিল 'রুদযিয়া'। ১৮শ' শতকের শেষের দিকে বৃটিশরা জিম্বাবুয়ে উপনিবেশ স্থাপন করার পর সংখ্যালঘু স্বেরাঙ্গরা ঐ দেশটির উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৃটিশরা দুর্বল হয়ে পড়লে জিম্বাবুয়ের জনগণের মধ্যে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চেতনা জেগে ওঠে এবং তারা সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করে। ফলে ১৯৭০ সাল থেকে সরকারী ও বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং ১৯৭৮ সালে সংখ্যালঘু স্বেতাঙ্গ সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এরপর উপনিবেশবাদী বৃটেন ১৯৮০ সালে সেখানে গণভোট অনুষ্ঠানে সম্মত হয়। জিম্বাবুয়ের আয়তন তিন লক্ষ ৯০ হাজার বর্গ কিলোমিটারেরও বেশী এবং মোজাম্বিক, জাম্বিয়া, বোতসাওয়ানা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে এর সীমান্ত রয়েছে। সেদেশের জনসংখ্যার ৯৭ শতাংশই হচ্ছে কৃষ্ণাঙ্গ।

১৯৯৬ সালের এই দিনে ইহুদীবাদী ইসরাইলের জঙ্গীবিমান দক্ষিণ লেবাননের কানা গ্রামে অবস্থিত জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা চালায়। ঐ ঘাটিতে শত শত বেসামরিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। ইসরাইলের ঐ নৃশংস হামলায় প্রায় ১১০ জন নিহত এবং আরো বহু মানুষ আহত হয়। শরণার্থী শিবিরে চালানো ঐ গণহত্যায় ১০ বছরের নীচে ৩৩টি শিশুও মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছিল। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং শেষ পর্যন্ত ইসরাইল বোমা বষর্ণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপিত হলে যুক্তরাষ্ট্র তা অনুমদনে বাধা সৃষ্টি করে। কিন্তু জতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদ ইসরাইলী ঐ বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আহ্বান জানায়। যদিও ইসরাইল ঐ আহ্বান কর্ণপাত করেনি কিন্তু তারপরও সাধারণ পরিষদ ইসরাইলকে নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব পাশ করায় বিশ্বজুড়ে ইসরাইল বিরোধী ক্ষোভ ও ঘৃণা বৃদ্ধি পায়।

হিজরী ১২৬২ সালের এই দিনে মুসলিম বিশ্বের খ্যাতনামা মনীষী শেইখ মোহাম্মদ তাকি রাযি ওরফে নাজাফি ইরানের স্পাহানে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি তার পিতার কাছে প্রাথমিক লেখাপড়া শেষ করেন এবং আরো পড়াশোনার জন্য ইরাকের ধর্মতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র নাজাফে যান। সেখানে তিনি মির্যা মোহাম্মদ হাসান শিরাজি, ও শেইখ মাহদি কাশেফ আল গাতার মত খ্যাতনামা আলেমদের কাছে জ্ঞানার্জন করেন। এরপর জনাব নাজাফি স্পাহানে ফিরে আসেন এবং জনগণের মধ্যে তার ব্যাপক প্রভাব ছিল। সমাজে তার ব্যাপক প্রভাবের কারণে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের দালাল হিসাবে খ্যাত বাদশাহ নাসিরুদ্দীন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং এ কারণে বাদশাহ তার প্রভাব খর্ব করার জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালায়। ইরানে বিখ্যাত তামাক আন্দোলনে নাজাফি অগ্রণী ভূমিক পালন করেছিলেন। আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি ধর্মীয় তৎপরতাও অব্যাহত রাখেন। আনোয়ারুল আরেফিন তার অন্যতম একটি মূল্যবান গ্রন্থ।


মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন