এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 21 জানুয়ারী 2016 18:34

ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত সিস্তান বেলুচিস্তান

ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত সিস্তান বেলুচিস্তান

সিস্তান বেলুচিস্তানের দিকে। সভ্যতার লালনভূমি ইরানের বিচিত্র প্রকৃতি আর সমৃদ্ধ সংস্কৃতিময় বড়ো একটি প্রদেশ হলো সিস্তান ও বেলুচিস্তান। এই প্রদেশটির দৈর্ঘ্য এক লাখ সাতাশি হাজার পাঁচ শ’ বায়ান্ন বর্গকিলোমিটার। 

 

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের সাথে ১১০০ কিলোমিটার যৌথ সীমান্ত রয়েছে এই প্রদেশের। ওমান সমুদ্রের সঙ্গেও রয়েছে ৩০০ কিলোমিটার পানি সীমান্ত। চমৎকার এই প্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমরা বেড়ানোর চেষ্টা করবো। তার আগে প্রদেশের ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে খানিকটা ধারণা নেওয়া যাক।                              

 

ভৌগোলিক দিক থেকে সিস্তান ও বেলুচিস্তান যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে এই প্রদেশের আলাদা মর্যাদা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পানিসীমায় চলাচলের জন্য বিশেষ করে মধ্য-এশিয়ার দেশগুলোর সাথে পানিপথে যোগাযোগের উত্তম রুট হলো এখানকার চ’বাহার সমুদ্রবন্দর। চ’বাহার ইরানের একমাত্র সমুদ্র বন্দর। নাম থেকেই বোঝা যায় যে, প্রদেশটি দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি সিস্তান এবং অপরটি বেলুচিস্তান। এই প্রদেশের আবহাওয়া বেশিরভাগই শুষ্ক এবং গরম। তো যেহেতু দুটি ভাগে বিভক্ত প্রদেশটি। সেহেতু প্রথমে আমরা সিস্তানের দিকে যাবো, তারপর যাবো বেলুচিস্তানে।

 

সিস্তানের আয়তন ১৫১৯৭ বর্গকিলোমিটারের মতো। এর পূর্ব প্রান্ত ইরানের পূর্ব সীমান্ত। এখানকার অভিন্ন পুরিয়ান নদী ইরান এবং আফগানিস্তানের সীমান্ত বেঁধে দিয়েছে। সিস্তানের উত্তর এবং পূর্বে আফগানিস্তান, দক্ষিণে প্রাদেশিক রাজধানী শহর যাহেদান,পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে লুত মরুভূমি এবং খোরাসান প্রদেশের বিরজান্দ শহর। সিস্তানের কেন্দ্রীয় শহর হলো যাবুল। তেহরান থেকে এর দূরত্ব ১৫৪৮ কিলোমিটার।

 

সিস্তানের প্রাচীন ইতিহাস এবং রূপকথার বিচিত্র সম্ভারের দিক থেকে এটি ইরানের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। যুগে যুগে এই প্রদেশটি বিচিত্র ঘটনা-দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে। সিস্তানের ঘটনাবহুল ইতিহাস,মানব বসতি, প্রাচীন গোত্র আর রূপকথা নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন কল্প আর গল্পকথা। এগুলোর কোনো কোনোটা বেশ সুখকর, কোনোটা আবার তিক্ত। সিস্তানের এইসব ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি দিলে সহজেই অনুমিত হবে যে,সিস্তানের অধিবাসীরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলা যেমন করেছে,তেমনি বিদেশী শক্তির আক্রমণের মুখেও পড়েছে বারবার। তাপরপও সিস্তানের অস্তিত্ব মুছে যায় নি ইতিহাসের পাতা থেকে।

 

সিস্তানের অধিবাসীরা তাদের মেধা দিয়ে,শ্রম দিয়ে পুনরায় ফিরিয়ে এনেছে তাদের হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব। সিস্তানের অধিবাসীদের মাঝে বিভিন্ন গোত্রের সমন্বয় ঘটেছে। এখানকার অধিবাসীদের খুব কম সংখ্যকই স্থানীয়, বেশিরভাগই অভিবাসী। বিভিন্ন সময়ে,বিভিন্ন কারণে এরা সিস্তানে এসে আবাস গড়ে তুলেছে। সিস্তানে উর্বর কৃষিজমি রয়েছে প্রচুর। একসময় এই অঞ্চলকে বলা হতো এশিয়া ও ইরানের খাদ্যগুদাম। হাখামানেশী যুগে এ এলাকায় এতোবেশী শস্য উৎপাদিত হতো যে,বাদশাদের রাজস্বের বিরাট একটি উৎস ছিল সিস্তান।

 

বলছিলাম হাখামানেশী যুগে বাদশাদের রাজস্বের বিরাট একটি উৎস ছিল সিস্তান। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ইরানী বাদশাদের অমনোযোগের কারণে এই উর্বর কৃষিজমিগুলো নষ্ট হয়ে যায়। অবশ্য ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর কৃষিজমিগুলোর উন্নয়নে পুনরায় ব্যাপক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।


সিস্তানের কৃষিপণ্যের মধ্যে রয়েছে: গম,যব,দানাদার শস্যাদি,বিভিন্ন ধরনের শাক-সব্জি ইত্যাদি। অবশ্য সিস্তানে পশুপালনেরও ব্যাপক প্রচলন ছিল। হা'মুন হ্রদের আশেপাশে পশুপালনের প্রচলন লক্ষণীয় ছিল,বিশেষ করে গরু চরাতে দেখা যেত এখানে। পশুপালনের ফলে সিস্তানে দুগ্ধজাত দ্রব্যাদিও প্রস্তুত হতো প্রচুর।

 

সিস্তান বিচিত্র হস্তশিল্প সামগ্রীর জন্যেও বিখ্যাত। এখানে গালিচা বোণা হয়,মাদুর তৈরী হয়,গেলিম তৈরী হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সূচিশিল্পও এখানে তৈরী হয়। তবে সিস্তানের বেশিরভাগ গ্রামে হস্তশিল্প বলতে মাদুর তৈরীকেই বোঝানো হয়। মাদুর বিক্রি করার জন্যে যাবুল শহরের বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সিস্তানের হস্তশিল্প সামগ্রীর মধ্যে গালিচা বোণা অন্যতম। তুর্কেমেনী এবং বালুচি নক্সার অনুসরণে তৈরী এখানকার গালিচাগুলো বেশ জনপ্রিয়। নক্সা,ডিজাইন,রং এবং বুনন কৌশলের দিক থেকে সিস্তানের কার্পেট ও গালিচা সমগ্র ইরানের মধ্যে বেশ নামকরা।

 

এ তো গেল সিস্তানের হস্তশিল্প আর তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। এবার এখানকার লোকজনের আচার-ব্যবহার আর কৃষ্টি-কালচারের সাথে খানিকটা পরিচিত হওয়া যাক। সিস্তানের লোকজন স্বভাবত ধর্মপরায়ন, বেশ সদয় এবং সত্যনিষ্ঠ,মহৎ এবং সাহসী। এরা খুব সহজ-সরল এবং অনাড়ম্বর। বিশেষ করে অতিথি পরায়নতার জন্যে এদের খ্যাতি রয়েছে। ঘরে অতিথির প্রবেশকে এরা রহমত ও মঙ্গলের আধার বলে মনে করে। মুরব্বিদের প্রতি এদের সম্মান প্রদর্শন অতুলনীয়। বিশেষ করে বাবা-মাকে সিস্তানীরা অসম্ভব শ্রদ্ধা সম্মান করে।#

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন