এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
বৃহস্পতিবার, 28 জানুয়ারী 2016 16:44

ইরানের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশ

ইরানের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশ

২৮ জানুয়ারি (রেডিও তেহরান):সিস্তান প্রদেশের খুবই নামকরা একটি শহর হলো ‘সোখতে শহর’। সোখতে একটি ফার্সি শব্দ। এর অর্থ হলো পুড়ে যাওয়া। তাহলে শাহরে সোখতে’র বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ‘পোড়াশহর’। এই শহরটি সিস্তানের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। সিস্তান থেকে ৫৬ কিলোমিটার দূরে প্রাদেশিক মূল শহর যাহেদানের দিকে যেতে পোড়াশহরটি পড়ে।

পোড়াশহরটি খ্রিষ্টপূর্ব ৩২০০ থেকে ২২০০ সাল পর্যন্ত সিস্তানের রাজধানী ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ সালে এই শহরটি ছিল তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত শহর,তৎকালীন প্রাচ্য সভ্যতার কেন্দ্র। বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলোর একটি ছিল এই সোখতেহ শহর। এখানকার কিছু কিছু নিদর্শন এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

 

এখানে খনন কাজ চালিয়ে কিছু স্থাপত্য নিদর্শন এবং চতুর্ভুজ আকৃতির কিছু ভবনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এগুলো ছয় থেকে দশ রুম বিশিষ্ট। রুমগুলো অবশ্য পৃথক পৃথক। ছোট ছোট দেয়াল দিয়ে একটি রুমকে অপরটি থেকে আলাদা করা হয়েছে। এছাড়া দরোজা-জানালা,সিঁড়ি,ইট তৈরির চুল্লি,নকশা করা মাটির পাত্র,কাঠ-পাথর এবং স্টিলের বিচিত্র সামগ্রীও পোড়াশহর খনন করে পাওয়া গেছে। ২৮০ হেক্টর জায়গা জুড়ে এই শহরটির বিস্তৃতি ছিল। মূল পাঁচটি ভাগে বিভক্ত ছিল শহরটি। এক অংশ ছিল পুরোপুরি আবাসিক এলাকা। সোখতে শহরের উত্তর-পূর্ব দিকে ছিল এর অবস্থান। আরও ছিল কেন্দ্রীয় অংশ, শিল্প এলাকা, গোরস্তান এবং স্মৃতিসৌধময় এলাকা। টিলার মতো আকৃতির এই আলাদা আলাদা বিভাগগুলো ছিল একটির সাথে আরেকটি লাগোয়া।

 

বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা,সিস্তানীরা ইরানের মূল অধিবাসী এবং আর্য বংশীয়। সিস্তানী কিংবা যাবুলী ভাষা ইরানের শ্রেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ ভাষাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।প্রাচীন ফার্সি ভাষার বিখ্যাত যে সাতটি লাহজে অর্থাৎ উচ্চারণভঙ্গী বা ডায়ালেক্ট ছিল,সিস্তানী ভাষা ছিল তাদের একটি। সিস্তানের জনগণ বিয়েকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্যে তাদের বিশেষ কিছু আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে। পুরুষদের পাশাপাশি সিস্তানের মহিলারাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মতৎপর। ঘরকন্নার বাইরে শিশু প্রতিপালন তো রয়েছেই,এমনকি কৃষিকাজ এবং পশুপালনের ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা রয়েছে। সিস্তান সমাজে তাই নারীদের বেশ সম্মান রয়েছে। সিস্তানী জনগণের মাঝে তালাক বিষয়টি বেশ ঘৃণিত। ব্যতিক্রম ছাড়া তালাকের ঘটনা এই সমাজে খুবই কম।

 

সিস্তানে আবহাওয়াগত বেশ বৈচিত্র্য রয়েছে। প্রদেশের উত্তরের হামুন হ্রদ এবং সিস্তান অঞ্চলে সারাবছর জুড়েই ভ্রমণপিপাসু এবং সৌখিন শিকারীরা যাওয়া-আসা করে।হ্রদের মাঝখানে একটা ছোট্ট পাহাড় আছে। পাহাড়টির নাম হলো খাজা পাহাড়। এই পাহাড়ের কোল ঘেঁষে যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিরাজ করে, তা যে-কোনো মানুষকেই মুগ্ধ করবে। এখানে আরো একটি মজার জিনিস রয়েছে। এটি অনেকটা নৌকার মতো। এটি সিস্তানের একান্তই স্থানীয় নৌকা। এর নাম হলো তুতান । হামুন হ্রদের বিশেষ বাঁশ দিয়ে এই বিশেষ ধরনের নৌকা তৈরি করা হয়। সিস্তান ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ এই তুতান চালানো। বেড়াতে গেলে ভুলবেন না কিন্তু।

 

বেলুচিস্তানের আয়তন এক লক্ষ তিয়াত্তর হাজার বর্গকিলোমিটার। ইরানের একেবারে দক্ষিণ-পূর্বপ্রান্তীয় এলাকা বেলুচিস্তান। উত্তর প্রান্ত গিয়ে মিশেছে সিস্তান আর আফগানিস্তানের সাথে। পূর্ব প্রান্তে রয়েছে পাকিস্তানের সীমান্ত আর দক্ষিণে রয়েছে ওমান সমুদ্র। বেলুচিস্তানের পশ্চিমে রয়েছে কেরমান প্রদেশ। ইরানের কেন্দ্রীয় এবং দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের পর্বতমালাগুলো গিয়ে মিশেছে এই বেলুচিস্তানে। পার্বত্য এবং মরু এলাকা ছাড়াও সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এ এলাকার আবহাওয়াতেও রয়েছে বৈচিত্র্য। আবহাওয়াগত বৈচিত্র্যের দিক থেকে বেলুচিস্তানকে চার ভাগে ভাগ করা যায়। উপভোগ্য আবহাওয়াময় এলাকা হলো তাপতন পাহাড়ের পাদদেশিয় নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল। এখানে রয়েছে বেশ কিছু ঝর্ণাধারাও। কিন্তু এ এলাকায় দিনের আবহাওয়ার সাথে রাতের আবহাওয়ার তারতম্য অনেক।

 

লুত মরুর প্রান্তে বেলুচিস্তানের অবস্থানের কারণে চারদিকের মরুবাতাসের ব্যাপক প্রভাব পড়ে এলাকার ওপর। বিভিন্ন ঋতুতে বাতাসের বহমানতা থাকলেও ঋতুভিত্তিক উষ্ণতায় মাত্রাগত তারতম্য রয়েছে। সেইসাথে আর্দ্রতার মাত্রাতেও পার্থক্য রয়েছে। সবমিলিয়ে বেলুচিস্তান ইরানের অন্যতম উর্বর একটি এলাকা।কিন্তু পানির স্বল্পতার কারণে এই এলাকায় পুরো ভূমি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অবশ্য সম্প্রতি সেখানে জাভা ও সুমাত্রার অনেক গাছ লাগানো হয়েছে, লাগানো হয়েছে আম এবং ডুমুর গাছের মতো আরও অনেক গাছও।

 

শিকারের জন্য উপযুক্ত বহু এলাকা এবং জঙ্গলও রয়েছে বেলুচিস্তানে। অনেক দূর-দূরান্ত পর্যন্ত যেহেতু বাড়িঘর নেই, শূন্য আর শূন্য, ধূ ধূ চারদিক। বিচিত্র ঘাস লতা আর মরু বৃক্ষ সমগ্র এলাকাজুড়ে। এসবের মাঝে বাস করে বহু রকমের পাখি। বাস করে শিকারী প্রাণীও। ভাল্লুক, চিতাবাঘ, নেকড়ে, শেয়াল এবং বেলুচিস্তানি হরিণ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এখানে।#

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন