এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 22 ফেব্রুয়ারী 2016 13:43

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ঐতিহ্যবাহী প্রদেশ যাহেদান

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ঐতিহ্যবাহী প্রদেশ যাহেদান

ভৌগোলিক দিক থেকে যহেদন স্বতন্ত্র অবস্থানে রয়েছে। পাকিস্তান, ভারত, খোরাসান, কেরমান এবং বেলুচিস্তানে যাতায়াতের মহাসড়কে শহরটি পড়ে। বিশ্ব ভ্রমণকারীদের যারা ইউরোপ সফরে যেতে চান,

তাঁরা যহেদন হয়ে ইরানে প্রবেশ করেন এবং কেন্দ্রীয় ইরান হয়ে উত্তর-পশ্চিম ইরানের সীমান্ত দিয়ে তুরস্কে প্রবেশ করেন। এভাবে অসংখ্য পর্যটক এই রুটে যাতায়াত করেন। যহেদন শহরটি নবপ্রতিষ্ঠিত একটি শহর। আনুমানিক ৭০ বছর আগে শহরটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

এবারে আসা যাক খশ শহর প্রসঙ্গে। খশ শহরটি যহেদন শহর থেকে ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। খশ অবশ্য একটা পুরনো শহর। ইতিহাস থেকে যতোটুকু জানা যায়, তা থেকে প্রমাণিত হয় যে,এই শহরটি নাদেরের শাসনামলে অর্থাৎ খ্রিষ্টীয় ষোল শতকে স্থাপিত হয়। বিশাল বিস্তৃত উর্বর ভূমি থাকার কারণে এই প্রদেশটি কৃষিকাজের জন্যে বেশ উপযোগী। খশ শহরের উত্তর-পূর্বে কালের সাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তাফ্‌তন পাহাড়। চার হাজার এক শ’ মিটার উচ্চতা তার। এই পাহাড়ের দর্শনীয় এবং উপভোগ্য দিকটি হলো সবুজের বিস্তার এবং স্ফটিকস্বচ্ছ খনিজ জলের ঝর্ণাধারা। বছরের বিভিন্ন ঋতুতে সমগ্র ইরান থেকেই পর্বতারোহী এবং স্পোর্টসম্যানরা এখানে এসে জড়ো হয়।

 

ইরানশাহর বেলুচিস্তানের আরেকটি শহর। এই শহরটি যহেদন থেকে ৩৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইরানশাহ’র ইরানের প্রাচীন শহরগুলোর একটি। আগে এই শহরটিকে ফাহ্‌রে বা বড়ো শহর অর্থে নামকরণ করা হয়েছিল। আলেক্সান্ডারের হামলার সময় এই শহরটি সবুজ-শ্যামলে ঘেরা জনবসতিপূর্ণ একটি এলাকা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন ঘটনা-দুর্ঘটনায় ধীরে ধীরে শহরটি বিরান হয়ে যায়। তবে কাজার শাসনামলে আবার শহরটি তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পায়। বর্তমানে শহরটি জনবসতিপূর্ণ এবং শিল্প-কল-কারখানাপূর্ণ একটি এলাকায় পরিণত হয়েছে। সিস্তান ও বেলুচিস্তানের কৃষিজ শস্য সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর অন্যতম একটি এলাকা এখন এই ইরানশাহ্‌র। এখানে ঐতিহাসিক বহু নিদর্শনও রয়েছে।এগুলোর মধ্যে কয়েকটি দূর্গের নাম করা যায়। যেমন পিশিন প্রাচীন কেল্লা, চেহেল দোখতার বা চল্লিশ কন্যা দুর্গ,বামপুর দুর্গ এবং সৈনিক কেল্লা ইত্যাদি।

 

সিস্তান ও বেলুচিস্তানের একেবারে পূর্ব প্রান্তের শহরটির নাম হলো সারা’ভন। এই শহরটি যহেদন থেকে ৩৫২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই শহরটি আগে ‘শাস্তুন’ নামে একটি গ্রামের মতো ছিল। ধীরে ধীরে এই গ্রামই বড়ো হয়ে শহরে পরিণত হয়। সারা’ভন শহরে ইসলাম-পূর্ব যুগের ঐতিহাসিক বহু নিদর্শন রয়েছে। প্রাচীন নিদর্শনের মধ্যে কালা’তাক টিলা, সাইয়্যেদ মীর ওমর টিলা,মাহতব খাজা’নে টিলা এবং মেইলমর্দ্‌ টিলার নাম করা যায়। এইসব টিলার মধ্যে মাহতব খাজা’নে সবচে প্রাচীন। এটি খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ বছর আগের বলে মনে করা হয়।

 

সিস্তান ও বেলুচিস্তানের বিভিন্ন শহরের সাথে সংক্ষিপ্ত পরিচিতির পর এবার ওস্তাদ কম্বোযিয়ার লাইব্রেরী সম্পর্কে খানিকটা কথা বলা প্রয়োজন বলে মনে করছি। ওস্তাদ কম্বোযিয়া ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দে তেহরানে জন্মগ্রহণ করেন। তেহরান এবং মাশহাদের দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের লেখাপড়া শেষ করে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করার জন্যে তাসখন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। সেখানে তিনি আইন এবং ইতিহাস বিষয়ে পড়ালেখা করেন এবং এ দুটি বিষয়ে ডক্টরেট লাভ করেন। তিনি সাতটি ভাষায় পণ্ডিত ছিলেন।

 

পাহলভি শাসনামলে তিনি অল্প সময়ের জন্যে বেলুচিস্তানের রাজস্ব বিভাগের প্রধান ছিলেন। কিন্তু তাঁর বিপ্লবী মানসিকতার কারণে এবং পাহলভি শাসকদের নীতি মেনে নিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন। দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে তিনি ওকালতি পেশায় জড়িত হন এবং সেইসাথে তাঁর পড়ালেখা অব্যাহত রাখেন। এর পাশাপাশি তিনি কৃষিকাজ এবং নার্সারি তৈরিতেও মনোনিবেশ করেন।

 

ওস্তাদ কম্বোযিয়া ‘কালা’তে কম্বোযিয়া’ এলাকায় একটি লাইব্রেরী গড়ে তোলেন। তাঁর মৃত্যুর সময় ঐ লাইব্রেরীতে ২৫ হাজার বই ছিল। ওস্তাদ কম্বোযিয়া ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর শাহের দালালরা লাইব্রেরীটি বন্ধ করে দেয়। এরফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ বই-পুস্তকসহ বিভিন্ন দলীলপত্র নষ্ট হয়ে যায়। ওস্তাদ কম্বোযিয়াকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত লাইব্রেরীর হলরুমেই দাফন করা হয়েছে। বর্তমানে অবশ্য সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের ইসলামী সংস্কৃতি বিভাগের উদ্যোগে এই লাইব্রেরিটিকে একটি গবেষণাকেন্দ্রে পরিণত করে হয়েছে। এটি এখন সকল দর্শনার্থীর জন্যেই উন্মুক্ত। বলা হয়ে থাকে যে ওস্তাদ কম্বোযিয়া আশিটির মতো বই লেখেন। এইসব বইয়ের অনেকগুলোতেই তিনি ইহুদিবাদের চেহারা উন্মোচন করেছেন।#

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন