এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 22 ফেব্রুয়ারী 2016 14:49

ইরানের ঐতিহ্যবাহী প্রদেশ কুর্দিস্তানের মারিভন শহর

ইরানের ঐতিহ্যবাহী প্রদেশ কুর্দিস্তানের মারিভন শহর

মারিভন শহরের আবহাওয়া,এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এই শহরের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

তাছাড়া ভৌগোলিক দিক থেকেও মারিভন শহরটির অবস্থান বেশ সুবিধাজনক। মারিভন শহরটির উত্তরে রয়েছে সাক্‌গেয শহর এবং ইরাক দেশ। পশ্চিমেও রয়েছে ইরাক। দক্ষিণে আছে পভেহ এবং কেরমানশাহের নওসুদ,আর পূর্বে আছে সানান্দাজ। সানান্দাজ থেকে ১২৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মারিভন শহরটি। এই শহরের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২৭২ মিটার।

 

ইরানের বৃষ্টিপাতবহুল এলাকাগুলোর অন্যতম হলো মারিভন। বছরে কমপক্ষে ৭৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় এখানে। ব্যাপক পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে সেই পাহাড় থেকে উপত্যকা কিংবা পার্বত্য পাদদেশ থেকে মাঠ-ঘাট-প্রান্তর সর্বত্রই ভেষজ সবুজ উদ্ভিদে ঢাকা। একদিকে পাহাড়ের প্রাচুর্য, অপরদিকে প্রচুর বৃষ্টিপাত এ দু'য়ের কারণে এখানকার নদীগুলো থাকে সবসময় জলটৈটুম্বুর ও সদাবহমান। প্রবহমান আঁকাবাঁকা নদী আর তীরজুড়ে সবুজ গাছ-গাছালী-এই দৃশ্য দূর থেকে দেখতে যে কেমন চিত্তাকর্ষক হবে,তা বোধ হয় চোখ বন্ধ করেই উপলব্ধি করা যায়।

 

বিচিত্র গাছ-গাছালিপূর্ণ এখানকার চিত্তাকর্ষক সবুজ প্রকৃতির কথা আগেই বলেছি। এখানকার বনগুলোতে যেসব বৃক্ষ প্রচুর-পরিমাণ দেখতে পাওয়া যায়,সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বুনো নাশপাতি গাছ, আখরোট গাছ, বাদাম গাছ, ম্যাপল গাছ, বুনো পেস্তাগাছ এবং বিচিত্র প্রজাতির ওক গাছ ইত্যাদি। মারিভনের উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্বাঞ্চল সবুজ উদ্ভিদে ঢাকা। এখানে এরকম সবুজ বৃক্ষপূর্ণ এলাকার আয়তন প্রায় দুই হাজার হেক্টর। সমগ্র কুর্দিস্তানের প্রায় ষাট ভাগ বনানী এই মারিভনেই অবস্থিত। মারিভনের এই বনের প্রান্ত যারিভর হ্রদের সাথে গিয়ে মেশার কারণে অনিন্দ্যসুন্দর এক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

মারিভন শহরটি পার্বত্য উপত্যকা এবং সমতল প্রান্তরের পাশে অবস্থিত। মূল শহর থেকে দুই কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে যারিভর হ্রদ। আবার পাশেই রয়েছে জলপূর্ণ নদী। বেড়ানোর জন্যে রসিক মন যা চায়,তার সকল আয়োজনই আছে এখানে। অর্থাৎ জল-স্থল,পাহাড়-প্রান্তর আর বন-বনানী সবই আছে এখানে।বলা হয়ে থাকে,মারিভনের অর্থনীতি প্রাচীনকাল থেকেই নির্ভরশীল ছিল জঙ্গল,চারণভূমি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর।এ কারণেই রাখালবৃত্তি এবং পশুপালন এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা নির্বাহ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

মারিভনের লোকজনের পেশা সম্পর্কে বলছিলাম। এ অঞ্চলের কোনো কোনো অংশে চাষাবাদ করা,বাগ-বাগিচা করা এবং হস্তশিল্প চর্চার প্রচলনও দেখা যায়। বর্তমানে অবশ্য মারিভনের জনগণের প্রধান দুটি পেশা হলো কৃষিকাজ এবং পশুপালন। এখানে উৎপাদিত অন্যান্য কৃষিপণ্যের মধ্যে রয়েছে তামাক এবং দানাদার শস্যাদি। এসবের বাইরেও এখানে হস্তশিল্পের ব্যাপক চর্চা হয়ে থাকে। এখানকার হস্তশিল্পের মধ্যে গেলিম বা পশমি কার্পেট খুবই বিখ্যাত। পশমি কার্পেট মারিভনের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

 

মারিভন কুর্দিস্তান প্রদেশের ছোট্ট একটি এলাকা হলেও এটি সভ্যতা ও সংস্কৃতির দিক থেকে ব্যাপক সমৃদ্ধ। বহু প্রাচীন নিদর্শনও রয়েছে এখানে। মারিভন এবং তার আশেপাশের এলাকায় প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক এমন বহু নিদর্শন পাওয়া গেছে,যা প্রমাণ করে অন্তত তিন হাজার বছর আগে এখানে মানব বসতি ছিল। সাসানীয় এবং আশকানীয়ানদের যুগে এই শহরটির উন্নতি ঘটে। তারপর মারিভান শহরটি এই অঞ্চলের কেন্দ্রীয় শহরের মর্যাদাই কেবল পায় নি বরং ব্যবসা-বাণিজ্য-যোগাযোগ সকল ক্ষেত্রেই মারিভন শহরটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্টে পরিণত হয়।

 

সে কারণেই সবসময় শাসকদের দৃষ্টি ছিল এই শহরটির ওপর। প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক বহু নিদর্শন থাকায় ভ্রমণ পিপাসুরা এখানে বেড়াতে আসেন সারা বছর জুড়ে। এদিক থেকে মারিভন অন্যতম একটি টুরিস্ট স্পট হিসেবে পরিগণিত। তো প্রাচীন নিদর্শনের প্রসঙ্গ যেহেতু এলোই,চলুন এ সম্পর্কে না হয় আরেকটু কথা বলা যাক।এইমাম কেল্লা মারিভনের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর একটি। মূল মারিভন শহর থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে এই কেল্লাটি অবস্থিত। হিজরি ৯৪৫ সালে এই কেল্লাটি নির্মিত হয়েছে। কেল্লাটির ধ্বংসাবশেষ এখনো দেখতে পাওয়া যায়। এখনো কেল্লাটির ইটের তৈরি সিঁড়ি এবং পাথরের তৈরি জলাধার দেখতে পাওয়া যায়।

 

এইমাম কেল্লাটি কুর্দিস্তানের পরবর্তী কোনো এক গভর্নর মেরামত করে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়েছিলেন।কেল্লার পাশে প্রাচীন একটি মসজিদেরও অস্তিত্ব দেখতে পাওয়া যায়। এই মসজিদটির নাম লাল মসজিদ।মারিভন-সানান্দাজ মহাসড়ক থেকে পঁয়ষট্টি কিলোমিটার দূরে নেগল নামে ঐতিহাসিক একটি গ্রাম আছে। নেগল গ্রামের এতো খ্যাতির কারণ হলো এখানকার একটি মসজিদের লোহার সিন্দুকে অসম্ভব সুন্দর ও মহামূল্যবান প্রাচীন এক জিল্‌দ কোরআন শরীফ সংরক্ষিত আছে। এই সুন্দর কোরআন শরীফটি অন্তত এক হাজার বছর আগে কুফি অক্ষরে লেখা হয়েছে। #

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন