এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 22 ফেব্রুয়ারী 2016 15:41

ইরানের বিখ্যাত শহর মারিভনের চমৎকার একটি হ্রদ "যারিভর"

 ইরানের বিখ্যাত শহর মারিভনের চমৎকার একটি হ্রদ "যারিভর"

গত আসরেই আমরা বলেছি যে যারিভর হ্রদটি ইরানের জাতীয় ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত। এই প্রদেশের যারিভর হ্রদটি মারিভন হ্রদ নামেও পরিচিত।

প্রকৃতির এক অনন্য নিদর্শন এই হ্রদটি। কুর্দিস্তান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ হ্রদগুলোর অন্যতম এটি। মারিভন থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে যারিভর হ্রদটি অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২৮৫ মিটার ওপরে হ্রদটির অবস্থান। যারিভর হ্রদের পানি মিষ্টি। হ্রদের চারপাশ পর্বত আর জঙ্গলে ঢাকা। যারিভর হ্রদটি দৈর্ঘে সাড়ে চার কিলোমিটার আর প্রস্থে দুই কিলোমিটার। পুরো হ্রদটি আট থেকে নয় শ'হেক্টর জায়গা জুড়ে আছে।

 

হ্রদটির গভীরতা সর্বত্র এক সমান নয়। কোথাও বেশি কোথাও কম। তবে গড়ে এর গভীরতা তিন মিটার। নৌকাচালনা বা ইস্কি খেলার জন্যে বেশ উপযোগী এই হ্রদটি। যারিভর হ্রদের পানি মিষ্টি হবার কারণে এবং মাছের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকার কারণে এখানে বহু রকমের মাছ পাওয়া যায়। এখানকার মাছ বেড়ে ওঠে খুব দ্রুত। যারিভর হ্রদে বিদ্যমান বিশেষ বিশেষ মাছের মধ্যে রয়েছে সেফিদ মহি অর্থাৎ রুই জাতীয় সাদা মাছ,মহি কাপুর অর্থাৎ কার্ফু মাছের মতো সোনালী রঙের ছোটো-বড়ো মাছ,আরুস মাছ ইত্যাদি।

 

যারিভর হ্রদের পানি মিষ্টি হবার কারণে এবং এখানকার আবহাওয়া অনুকূল হবার কারণে একদিকে যেমন সবুজে সবুজে ভরে উঠেছে চারদিক,তেমনি পানিতে বসবাসকারী পাখি আর বিচিত্র ধরনের মাছ এখানে পর্যাপ্ত থাকায় পুরো পরিবেশটাই হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় সুন্দর। স্থানীয় লোকজন তো বটেই, এমনকি বাইরের লোকজনও তাই এখানে অবকাশ যাপনের জন্যে আসে। শীতকালে যারিভর হ্রদের পানি জমে যায়। হ্রদের আশেপাশের মানুষ তখন ঐ হ্রদের ওপর দিয়ে যাওয়া-আসা করে। ফলে হ্রদের জমাট বরফের ওপর স্কি খেলার উপযুক্ত অবস্থা বা পরিবেশ তৈরি হয়।

 

মারিভনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কেবল যারিভর হ্রদের চমৎকারিত্ব বা এখানকার বন-বনানীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানকার উরামান তাখ্‌ত এবং জ্বভরুদও অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অধিকারী। উরামান তাখ্‌ত এবং জ্বভরুদ পার্বত্য এলাকাটি ১৪৫২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। স্বাস্থ্যানুকূল আবহাওয়া আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে এটিও যথেষ্ট সুন্দর এলাকা। উরামান এলাকাটি বেশ বড়োসড়ো।

 

কুর্দিস্তানের ঠিক দক্ষিণ দিকে পড়েছে এই অনিন্দ্যসুন্দর প্রাকৃতিক এলাকাটি। এই এলাকার লোকজন স্থানীয় ভাষায় কথা বলে। ভাষাটির নাম উরামি। উরামি ভাষা কুর্দি ভাষার একটি শাখা। উরামান এলাকায় বেশ কিছু অগ্নিমণ্ডপের ধবংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়। এগুলো প্রমাণ করছে যে,ইসলাম-পূর্বকালে এই অঞ্চলের মানুষ জরথ্রুস্ট ধর্মাবলম্বী ছিল। তারা এইসব অগ্নিমণ্ডপে অগ্নিপূজা করতো। এখানকার লোকজন যেহেতু পাহাড়ের ব্যাপক উচচতায় বসবাস করে,তাই তারা তাদের ঘরগুলোকে সিঁড়ির মতো করে তৈরী করে। অর্থাৎ একটি বাসার ছাদ অন্য বাসার উঠোন। যেমনটি আমরা ইতোপূর্বে ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় মৌসুলেতে দেখেছিলাম। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে।

 

সবুজের ভেতরে এরকম ব্যতিক্রমী ধারার ঘরবাড়ি দেখতে যে খুবই সুন্দর তাতো বলারই অপেক্ষা রাখে না।উরামানের লোকজন বেশ ধার্মিক বা ধর্মপ্রাণ।বহু জ্ঞানী-গুণী এবং আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব এই এলাকায় জন্মলাভ করেছেন। পরিবেশ-পরিস্থিতিগত কারণে এখানকার স্থানীয় সংস্কৃতি ও রীতি-আচার মৌলিক রূপেই অক্ষুন্ন আছে এখনো। এখানে যেসব আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়,এলাকার প্রাচীন রীতিনীতির সাথে সেসবের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তবে ইসলামের আবির্ভাবের পর তাদের বিশ্বাসের কারণে সংস্কৃতির ওপর তার প্রভাব পড়েছে। ফলে এখানকার সংস্কৃতি এখন মিশ্রসংস্কৃতি।#

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন