এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
সোমবার, 22 ফেব্রুয়ারী 2016 17:55

কুর্দিস্তানের পুরাতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ উপশহর ‘বিজরে’

কুর্দিস্তানের পুরাতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ উপশহর ‘বিজরে’

কুর্দিস্তান প্রদেশের পূর্বদিকের উপশহর বিজরের আয়তন সাত হাজার সাত শ ত্রিশ বর্গকিলোমিটার।

বিজর শহরের উত্তর এবং পূর্বদিকে রয়েছে যানজন প্রদেশ,উত্তর-পশ্চিমে রয়েছে পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশ,পশ্চিমে রয়েছে সানান্দাজ আর দক্ষিণে রয়েছে ক্বোরবে শহর এবং হামেদান প্রদেশ। চলুন এই শহরটির সাথে আরো নিবীড়ভাবে পরিচিত হই।বিজর শহরটির উচচতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার।শহরটি পাহাড় ঘেরা।যথেষ্ট উঁচুও বটে। বিজর এলাকার লোকজন তুর্কি,ফার্সি,কুর্দিসহ আরো অনেক ভাষায় কথা বলে। বিজর শহরটির প্রাচীনত্ব খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দ পর্যন্ত পৌঁছে। তারমানে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পুরোণো এই শহরটি।

 

ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে সেনা সমাবেশকালে শাহ ইসমাঈল সাফাভি এই এলাকা অতিক্রম করেছিলেন।চেঙ্গিস বাহিনীও এই এলাকা অতিক্রম করেছিলো।তার প্রমাণ,এখানে এখনো চেঙ্গিস কেল্লা নামে একটি দূর্গের স্মৃতিচিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। পাহাড়ের উপরে এটি অবস্থিত। একইভাবে বিজরের পাশেই ঐ নামে আরেকটি গ্রামের অস্তিত্ব এখনো রয়েছে।

 

বিজরের অর্থনীতি কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল।এখানকার প্রধান প্রধান কৃষিপণ্যগুলোর মধ্যে গম এবং যবের নাম করা যেতে পারে। কৃষিকাজের পাশাপাশি পশুপালনও এখানকার লোকজনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পেশা। এ এলাকার মহিলারা ঘরের কাজ করার পাশাপাশি কৃষিকাজেও অংশ নেয়।

 

মহিলারা অবসর সময়ে কার্পেট এবং পশমি কার্পেট বোণার কাজও করে থাকে। বিজরের কার্পেট এবং গালিচা গুণগত দিক থেকে খুবই উন্নতমানের,সে কারণেই বিখ্যাত।এখানকার গালিচা বা কার্পেটের রং যেমন পাকা,তেমনি ডিজাইনও ব্যতিক্রমধর্মী।আগেও বলেছি আবহাওয়াগত আনুকূল্যের কারণে বিশেষ করে পানির বিচিত্র উৎস থাকার কারণে এখানে গড়ে উঠেছে বহু বন-জঙ্গল। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বনাঞ্চল থাকার কারণে এলাকাটি স্তন্যপায়ী প্রাণীসহ দেশী-বিদেশী পাখপাখালির নিরাপদ বাসস্থানে পরিণত হয়েছে। এদিক থেকে কুর্দিস্তান এলাকাটি সমগ্র ইরানের মধ্যে শিকারের জন্যে উপযুক্ত একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

 

প্রাদেশিক পরিবেশ বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী এ এলাকায় শিকারের জন্যে ৩৪ টি নির্ধারিত স্থান রয়েছে। বিজরের সংরক্ষিত এলাকাই কুর্দিস্তান প্রদেশের প্রাকৃতিক নিদর্শন,যার আয়তন প্রায় তেইশ হাজার হেক্টর।কুর্দিস্তান প্রদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এটি পড়েছে। এরি সামান্য অংশ বিজরের অন্তর্ভুক্ত।বিজরের সংরক্ষিত এলাকাটিতে সারাবছরই পানির ধারা দেখতে পাওয়া যায়।

 

বিজরের সংরক্ষিত এলাকার কথা বলছিলাম।এখানে স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন দেখতে পাওয়া যায়,তেমনি দেখতে পাওয়া যায় বিচিত্র পাখপাখালীও। তাছাড়া সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীও এখানে ব্যাপক দেখা যায়। স্তন্যপায়ী বৃহৎ প্রাণীগুলোর মধ্যে এখানে মেষ জাতীয় পশু বা হরিণের মতো পশুগুলোর কথা বলা যায়। হরিণ অবশ্য তুলনামূলকভাবে কম। তবে এগুলো নীচু এলাকাতে অর্থাৎ টিলাময় স্বল্প উঁচু অঞ্চলেই বেশি বসবাস করে। এছাড়াও এখানে খয়েরি ভালুক,জংলী শূকর, নেকড়ে, খরগোশের মতো প্রাণীও দেখতে পাওয়া যায়। এখানকার কামচাকঈ ও গেযেল উযান নদীতে আছে বিচিত্র ধরনের মাছও। সব মিলিয়ে এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ দর্শনার্থীদেরকে সহজেই মুগ্ধ করে।

 

আসরের এ পর্যায়ে চলুন, এই এলাকার ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর সাথে পরিচিত হওয়া যাক। বিজর এলাকার ঐতিহাসিক একটি নিদর্শন হলো কামচাকঈ কেল্লা। কামচাকঈ নদীর তীরেই এই কেল্লাটি অবস্থিত। কামচাকঈ কেল্লাটি এই এলাকার প্রাচীন একটি কেল্লা হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিকভাবে বিখ্যাত ও মূল্যবান কীর্তিগুলোর একটি এটি। বিশেষজ্ঞদের মতে দূর্গগুলো খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম থেকে নবম শতাব্দীর তৈরী। বড়ো বড়ো পাথর দিয়ে উঁচু করে এর দেয়ালগুলো তৈরী করা হয়েছে যাতে কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। এই দূর্গটিকে খ্রিষ্টপূর্ব হাজার বছর আগের স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে মনে করা হয়। এর ভেতরে যেসব নিদর্শন দেখতে পাওয়া গেছে,সেগুলো থেকে বোঝা যায় যে,কেল্লাগুলো মাদ্দ্‌ পার্ত্, আশকানীয়ান এবং মোঙ্গলীয়দের বাসস্থান ছিল।

 

কুর্দিস্তান প্রদেশের সবুজ শ্যামল অঞ্চল হিসেবে ক্বোরবে,দিভনদাররে এবং কমিয়রনও প্রসিদ্ধ। এই এলাকাগুলো কৃষিকাজ এবং পশুপালনের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ। কুর্দিস্তান প্রদেশের অপরাপর শহরের মতো এই শহরগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের স্বল্পতার কারণে এই শহরগুলোর সাথে আজ আর ভালোভাবে পরিচিত হওয়া গেল না। তবে হ্যাঁ,যে কথাটি না বললেই নয়,তা হলো,এখানকার ঝর্ণাধারার খনিজ পানির মধ্যে আছে বিভিন্ন রোগের নিরাময়। এ কারণে এই এলাকা বহুল পরিচিত। সারাবছর জুড়েই ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে লোকজন বেড়াতে আসে।রোগ নিরাময়ের কৌতূহল ছাড়াও এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের এখানে আসতে অনুপ্রাণিত করে।

 

তাছাড়া এখানকার বিজর বাজারটিও বেশ প্রাচীন এবং নামকরা। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে এই বাজারটি ইরানের জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত হওয়ায় বাজারটির গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। সে কারণেও এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে সবসময়।#

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন