এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 23 ফেব্রুয়ারী 2016 13:02

ইরানের কারাজ শহরের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য

ইরানের কারাজ শহরের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য

 

 

 

কারাজ শহর এবং তার আশপাশে বিশেষ করে কারাজ নদীর তীরবর্তী চলুস মহাসড়কের পাশে সেইসাথে তার উত্তর দিকের পার্বত্য কিছু অংশে বহু আগে থেকেই গ্রামের পর গ্রাম তেহরান পল্লী হিসেবে পরিচিত ছিল।

কারাজের পাশের গ্রামগুলোকে পৃথক তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়। একটি হলো ‘আরাঙ্গে’ এলাকা। এই এলাকাটি কারাজ নদীর পূর্বদিকে পড়েছে। অপর দুটি এলাকা হলো ‘কোরদান’ এলাকা এবং ‘বারগন’ এলাকা। এই দুটি এলাকাই সভজাবালগ উপশহরের মধ্যে পড়েছে।

 

আরাঙ্গে তেহরানের পল্লীগুলোর মধ্যে সুন্দরতম। পার্বত্য পল্লী হবার কারণে এবং সড়কগুলোর ঢালুতে অবস্থানের কারণে খুব বেশি খ্যাতি হয়তো পায় নি। এ কারণেই এখানকার গ্রামগুলো একেবারেই নির্জলা সুন্দর রয়ে গেছে। এখানকার বাগ-বাগিচা আর পানির ধারাগুলো অন্যরকম একটা সৌন্দর্যের আধার হয়ে আছে। এই এলাকাটি কয়েকটি সুন্দর গ্রামের সমষ্টি। প্রতিটি গ্রামই একটু উঁচুতে আর গ্রামগুলো বিচিত্র ফলগাছে পূর্ণ। গ্রামগুলোর মাঝে আরাঙ্গে সবচেয়ে প্রাচীন গ্রাম।

 

কারাজ নদীর দুই তীর জুড়ে বহু বছর থেকেই গড়ে উঠেছে চমৎকার একটি গ্রাম। এই গ্রামের সৌন্দর্য যে-কোনো দর্শনার্থীকেই আকৃষ্ট করে বিশেষ করে তেহরানে যারা বসবাস করে তাদের কাছে এই গ্রাম খুবই প্রিয়। নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট। বাগবাগিচার ভেতরে ভেতরে গড়ে ওঠা এরকম বহু রেস্টুরেন্ট অতিথিদের সাদরে বরণ করে আসছে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে। কারাজ বাঁধ তেহরানের পানি চাহিদা মেটানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঁধ। এই বাঁধটিও কারাজ নদীর ওপরেই দেওয়া হয়েছে। কারাজ বাঁধ থেকে একটু উপরে খানিটা পথ গেলে কয়েকটি গ্রাম পড়বে খুবই সুন্দর।

 

চলুস মহাসড়ক থেকে ডান দিকে একটি রাস্তা চলে গেছে ‘শাহরেস্তনাকের’ দিকে। শাহরেস্তনাক ‘তুচল’ চূড়ার বিপরীত দিকে কয়েক কিলোমিটার পর অবস্থিত। পর্বতারোহীরা তেহরানের উত্তরাঞ্চলীয় তুচল চূড়ায় ওঠার পর ঘণ্টা তিনেক অতিক্রম করেই পৌঁছে যেতে পারে শাহরেস্তনাকে। শাহরেস্তনাকে পূর্ব দিকের প্রাসাদ নামে একটি জায়গা আছে। এই প্রাসাদটি নাসেরুদ্দিন শাহ কাজারের প্রাসাদেরই ধ্বংসাবশেষ। গ্রামীণ এই স্থাপনা থেকে আরেকটু দূরত্বে ‘গালগিলে’ নামে একটা ঝরনা আছে। এই ঝরনাটি সবসময়ই পানিতে পূর্ণ থাকে।

 

শাহরেস্তনাকে বারোটি গ্রাম আছে একটির সাথে আরেকটি লাগোয়া। তুচলের উত্তর দিকের ঝরনা থেকে যে ধারা নেমে আসে ওই ঝরনা প্রবাহ বয়ে গেছে গ্রামগুলোর বুক চিরে। এঁকেবেঁকে বয়ে চলা এই পানির ধারা গিয়ে মিশেছে কারাজ নদীতে। পাহাড়ের মাঝে সবুজ গ্রাম। তার ভেতর বয়ে গেছে অবিরাম ঝরনাধারা। সবুজ ফল বাগান আর কৃষি জমিময় পুরো গ্রাম দেখতে যে কী সুন্দর তা না দেখলে বোঝানো সহজ নয়। শুধু এটুকু বলাই যথেষ্ট যে ইরানের গ্রামাঞ্চলের মধ্যে এই শাহরস্তেনাকের গুরুত্ব অপরিসীম।

 

চলুস মহাসড়কের কোল জুড়ে আরেকটি এলাকা গড়ে উঠেছে ‘নেসায়ে গাচসার’ নামে। এই গাচসারের পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে একটা গ্রাম আছে ‘কোহনে দাহ’ নামে। ওই গ্রামে বিখ্যাত একটা গূহা আছে। গূহাটির নাম ‘ইয়াখ মুরাদ’। চমৎকার এই গূহা পরিদর্শন করার জন্য পর্বতারোহিদের প্রয়োজনীয় বিশেষ সরঞ্জামের দরকার নেই। গাড়ি নিয়েই গূহামুখের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়। সেখান থেকে গরম জামাকাপড় পরে উপযুক্ত জুতা পায়ে দিয়েই চলে যাওয়া যাবে গূহায়। গরম জামাকাপড়ের কথা বলার কারণ হলো এখানে বেশ ঠাণ্ডা, তাপমাত্রা একেবারে শূন্যেরও নীচে । এমনকি গ্রীষ্ম ঋতুতেও গরম জামাকাপড় পরার প্রয়োজন পড়ে।

 

ইয়াখ মুরাদ গূহাটি প্রকৃতি জগতের এক বিস্ময়। গূহার ফ্লোর থেকে ছাদ পর্যন্ত এমনকি দেয়ালও প্রায় বরফে আচ্ছাদিত থাকে। ছাদ থেকে জমাট বাঁধা মোমের মতো ঝুলে থাকে বরফ। বসন্তের সময় সুগন্ধিময় পার্বত্য উদ্ভিদে ভরে যায় বাইরের পরিবেশ। দূর থেকে দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। এই গূহা থেকে আরেকটু দূরে চলুস মহাসড়ক ধরে এগিয়ে গেলে পড়বে ‘দিজিন’ গ্রামের আরেকটি গ্রাম। এই দিজিন গ্রামে রয়েছে স্কি খেলার পিস। সব মিলিয়ে যারা প্রকৃতিপ্রেমি তাদের কাছে অসম্ভব ভালো লাগবে এ অঞ্চলটি। বিশ্বে যত স্কি পিস রয়েছে সেগুলোর মাঝে সুন্দরতম একটি এই দিজিন স্কি পিস।

 

কারাজ নদীতে বাঁধ দেওয়ার কথা আগেই বলেছি। আমির কাবির নামে পরিচিত এই বাঁধের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে যে হ্রদ সেটি কারাজ থেকে চলুসের দিকে যেতে ২৩ কিলোমিটার পরে অবস্থিত। ভরিয়ন প্রণালীতে পড়েছে এই হ্রদ। তেহরান থেকে কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থানের কারণে এই হ্রদের আলাদা মর্যাদা রয়েছে বিশেষ করে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে। অবকাশ যাপনের জন্য চমৎকার একটি জায়গা এই হ্রদ এলাকা। এই হ্রদের আয়তন চার হাজার হেক্টরের মতো আর হ্রদে পাণির ধারণ ক্ষমতা ২০ কোটি ঘনমিটার। গরমের সময়ও এখানকার আবহাওয়া থাকে উপভোগ্য রকমের শীতল। সে কারণে গ্রীষ্ম ঋতুতে এই হ্রদ এলাকায় বহু মানুষ বেড়াতে আসে আর উপভোগ করে প্রকৃতির অসাধারণ লীলাবৈচিত্র। একদিকে হ্রদের নীলাভ স্বচ্ছ পানির প্রাণময়তা অপরদিকে হ্রদের তীর জুড়ে সবুজ প্রকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্য।#

 

 

 

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন