এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শিল্প ও সাহিত্য
শুক্রবার, 05 সেপ্টেম্বর 2014 13:52

অলসের কাঁটাগাছ

রংধনু আসরের কাছের ও দূরের শিশু-কিশোর বন্ধুরা, কেমন আছ তোমরা? আশা করি, সুস্থ দেহ আর সুন্দর মন নিয়ে ভালোভাবেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছ। শরীরের সুস্থতার জন্য পরিশ্রম তথা কাজের গুরুত্ব যে অনেক বেশি তা নিশ্চয়ই তোমরা স্বীকার করবে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে শ্রম দেয়, কষ্ট করে, সে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারী মুজাহিদের মতো।"

অন্যদিকে, ইমাম জাফর সাদেক (আ.) মানুষের আত্মার ওপরে কাজের ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বলেছেন,  ‘মানুষের সকল প্রয়োজনীয়তা যদি কোনোরকম কাজকর্ম ছাড়াই পূরণ হয়ে যেত তাহলে কক্ষণো তাদের জীবন স্বাস্থ্যকর হতো না এবং জীবন উপভোগ্য হয়ে উঠত না।"

 

‘সভ্যতার ইতিহাস' নামক গ্রন্থের লেখক বিল ডুরান্ট বলেছেন,  ‘সুস্থতা কাজের মাঝে নিহিত। মানব জীবনের সুখ সমৃদ্ধি আর সন্তুষ্টির মূল রহস্যগুলোর একটি হলো কাজ।'

বিখ্যাত ফরাসি লেখক ও কবি ফ্রাঁসোয়া ভলতেয়ার বলেছেন, ‘যখনি অনুভব করি কষ্ট, ক্লান্তি আর রোগব্যাধি আমাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে তখন কাজের আশ্রয় নিই, কেননা আমার ভেতরের যন্ত্রণার সবচেয়ে উত্তম প্রতিষেধক হচ্ছে কাজ।'

মূলত জীবনকে সুন্দর করার জন্যই ইসলাম ধর্মে কাজের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং অলসতাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যে নিজ হাতে রোজগার করে জীবিকা নির্বাহ করে, সেই হাতকে বলা হয়েছে শ্রেষ্ঠ। আর অলস মস্তিষ্ককে বলা হয়েছে 'শয়তানের আখড়া'।     

 

যুগে যুগে যারাই বড় বড় সভ্যতার জন্ম দিয়েছেন তারা নিরলস পরিশ্রমী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁরা নিজেদের খোদাপ্রদত্ত মেধাকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টি জগতে অনন্য অবদান রেখে গেছেন।

তো বন্ধুরা,  বড় হওয়ার জন্য, আদর্শ মানুষ হওয়ার জন্য এবং সুনাম অর্জনের জন্য তোমরা সবাই কর্মঠ ও উদ্যমী হবে এ প্রত্যাশায় শুরু করছি রংধনুর আজকের আসর। আসরের শুরুতেই আমরা এক 'অসল ব্যক্তির গাছকাটা' সম্পর্কে একটি গল্প শোনাব। আর গল্প শেষে থাকবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার এক নতুন বন্ধুর গানসহ সাক্ষাৎকার। তাহলে প্রথমেই গল্পটি শোনা যাক।

 

অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক অলস লোক তার জীবনের সব কাজেই অলসতা করত। কোনো কাজেই সে সিরিয়াস ছিল না। আজ যে কাজটি করে ফেলা যায় সে কাজটিও ফেলে রাখত ভবিষ্যতের জন্য। আর আগামি দিনের কাজ তো ফেলে রাখত অনাদিকালের জন্য। লোকটি এতই অলস ছিল যে, ছোটখাট কাজও-যেটা যখন তখন করে ফেলা সম্ভব কিংবা করাটা খুব একটা কষ্টেরও নয়- তাও সে করত না। মনে মনে বলত: "ধুর ছাই! রাখো তো। যত্তোসব ছাইপাঁশ। বহু সময় পড়ে আছে, এখনই করার দরকার নেই- পরে দেখা যাবে।"

এভাবে ছোট ছোট কাজ দিনের পর দিন জমে যেতে যেতে বিরাট ঝামেলা তৈরি হয়ে যেত। ওই ছোট কাজগুলোই কোনটা রেখে কোনটা করবে-এরকম সমস্যায় পড়ে যেতে হতো।

 

এই অলস লোকের ঘরের পাশেই বেড়ে উঠেছিল এক গাছ। গাছটি সে নিজেই লাগিয়েছিল। গাছে কাঁটা ভরা। বড় বড় কাঁটা। গোড়া থেকে একেবারে আগা পর্যন্ত প্রতিটি শাখায় শাখায় বড় বড় কাঁটা পেরেকের মতো বের হয়ে ছিল।  কাঁটাগুলো বেশ ধারাল। গাছটির আর কোনো বৈশিষ্ট্য ছিল না। না ছিল ফল ফুল, না ছিল বাস-গন্ধ, আর না ছিল পত্র পল্লব। কেবল কাঁটাই সার। ঘরের পাশে গাছটি বেড়ে উঠলেও জনগণের চলাচলের পথেই পড়েছিল কাঁটাগাছ। তাই প্রতিদিনই বহু মানুষ এই কাঁটাগাছের পাশ দিয়ে আসা যাওয়া করত। আনমনা ছিল যারা স্বাভাবিকভাবেই তাদের গায়ে এই গাছের কাঁটা বিদ্ধ হতো। মানুষ তাই খুবই বিরক্ত হতো, কষ্ট হতো তাদের এই কাঁটা গাছটির জন্য। পথচলার সময় বাতাসে গায়ের জামা উড়ে গিয়ে কাঁটায় বিঁধে যেত। টানতেই ছিঁড়ে যেত সেই জামা। পথচারীরা প্রত্যেক দিন ওই অলস লোকটিকে বলত সে যেন এই অপ্রয়োজনীয় কাঁটা গাছটি তার ঘরের দরোজা থেকে তুলে নেয়। কেননা এই গাছটির কোনো ব্যবহারও নেই। অলস লোকটি তাদের কথার জবাবে বলত: ঠিক আছে। কাল অবশ্যই ওই কাঁটা গাছটাকে শেকড়শুদ্ধ উপড়ে ফেলে দেব’।

কিন্তু গাছ গাছের জায়গায়ই থেকে যেত। তার গায়ে হাতও লাগাত না অলস। এভাবে গাছটি আরও মোটা তাজা এবং লম্বা হয়ে উঠল। পাল্লা দিয়ে অলস থেকে অলসতর হয়ে উঠল আমাদের গল্পের অলস লোকটিও। দিনের পর দিন এভাবে যেতে যেতে কাঁটা গাছটি আরও সারি হয়ে উঠল। এতোই শক্ত এবং মজবুত হয়ে উঠল যে এখন আর অলসের পক্ষে ওই গাছটি শেকড় শুদ্ধ উপড়ে ফেলা তো দূরের কথা গোড়া কেটে ফেলার মতো সাধ্যের মাঝেও আর রইল না। লোকজন এখন অলস লোকটিকে বলতে লাগল: 'এই অপদার্থ কাঁটা গাছটি যদি শিগগিরি আমাদের চলাচলের পথ থেকে সরানো না হয় তাহলে আমরা নগরপতির কাছে তোমার বিরুদ্ধে নালিশ দেব।'

 

তারপরও তার কোনো হুশ হলো না। অবশেষে লোকজন ঠিকই তার বিরুদ্ধে শহরের মেয়রের কাছে অভিযোগ দিল। মেয়র যথারীতি তাকে হাজির করার আদেশ দিল। নগরপতি অলস লোকটাকে বলল: 'এই অলসের হাড্ডি! তোর আলসেমির কথা সারা শহরের মানুষের মুখে মুখে। তুই তোর ঘরের সামনে থেকে কাঁটাগাছটাকে সরাচ্ছিস না কেন? কেন ওই কাঁটাগাছ দিয়ে জনগণকে কষ্ট দিচ্ছিস? তুই কি দেখতে পাস না প্রতিদিনই কেউ না কেউ ওই গাছের কাঁটায় আহত হয় কিংবা কারো না কারো জামা কাপড় ছিঁড়ে যায়? মানুষজন যে এতো করে তোকে বলল তুই তাদের কথায় কান দিচ্ছিস না কেন? কেন এখনো গাছটা কেটে ফেলছিস না?'

 

অলস লোকটি বলল: আমি তো সকলকেই বলেছি-যে ই আমার কাছে অভিযোগ করেছে তাকেই বলেছি-শিগগিরি আমি গাছটা কেটে ফেলব।

নগরপতি বলল: 'কিন্তু লোকজন তো বলছে বহুদিন ধরেই তারা তোকে এই গাছটা কেটে ফেলার জন্য বলে আসছে আর তুই কাল পরশু করে করে এ পর্যন্তও গাছটা কাটিস নি। সেই ছোট্ট থাকতেই লোকজন তোকে বলেছিল আর আজ গাছটা মোটা তাজা হয়ে বিশাল আকার ধারণ করেছে।'

অলস লোকটা বলল: ঠিকই বলছেন। আর এমনটি হবে না। কালই আমি গাছটা কেটে ফেলব।

 

নগরপতি হাসলেন। এরপর বললেন: 'অলসতা বাদ দে। কাল কেন? আজই কাজটা সেরে ফেল যাতে মানুষ একটু স্বস্তি পায়, হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে পারে। তোকে আমি একটা পরামর্শ দেই। এটাকে উপদেশ হিসেবেও নিতে পারিস। সেটা হলো, তোর জীবনের সকল কাজের ক্ষেত্রে ‘কাল পরশু’ করব-এই অভ্যাস বাদ দে। মনোযোগ দিয়ে শোন। কক্ষণো ছোট হোক কিংবা বড় হোক কোনো কাজকেই আগামিকালের জন্য রেখে দিবি না। যে কাজটা এই মুহূর্তেই করে ফেলা সম্ভব সে কাজ ‘পরে করব’ এরকম চিন্তা করবি না। সুতরাং এক্ষুণি যা, ওই কাঁটাগাছটা কেটে ফেল’।

 

নগরপতির কাছে যে কয়জন এসেছিল অলসের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে তারা অলস লোকটা ‘পরে, কাল, পরশু’ ইত্যাদি উপহাসমূলক শব্দ শুনিয়ে ঠাট্টা মশকরা করতে লাগল। একজন বলল: 'এই লোককে আমি ভালো করেই চিনি, ও কোনোদিনও ঠিক হবে না। সে একা এই গাছ কাটতেও পারবে না। আমাদের উচিত সবাই তাকে সাহায্য করা এবং সবাই মিলে গাছটা কেটে ফেলা। গাছটার গোড়া উপড়ে ফেলে একেবারে পুড়ে ফেলা উচিত।'

একথা শুনে অলস লোকটি বিরক্ত হলো। বলল: 'তোমরা আমাকে নিয়ে মশকরা করছ! আমি একা পারব না গাছটা কাটতে! এক্ষুণি আমি দেখাচ্ছি একা কী করে কাটা যায়।'

 

এই বলে অলস লোকটি ঘরে গেল। একটা কুঠার নিয়ে গাছের গোড়ায় কোপাতে লাগল। কিন্তু কিছুক্ষণ কুপিয়ে সে বুঝতে পারল আসলেই একার পক্ষে গাছটা কাটা সম্ভব নয়। লোহার মতো শক্ত হয়ে গেছে গাছের গোড়া। কুড়াল ফিরে আসে, কাটে না। তার মাথা থেকে ফোঁটা ফোঁটা ঘাম ঝরে পড়তে লাগল। কিন্তু সে থামল না, কুঠার চালাতে লাগল। অবশেষে ঠিকই সে সফল হলো। কেটে ফেলল গাছটি। এখন বাকি রইল গাছের শেকড়শুদ্ধ গোড়া। এটা সত্যিই কঠিন কাজ। একা সে পারছিল না। হঠাৎ দেখা গেল আশেপাশের প্রতিবেশিরা এগিয়ে এল কুঠার শাবল হাতে নিয়ে। তারা বলল: 'তুমি গাছ কেটেছ, অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েছ। এবার আমরা শেকড় তুলব।'

 

এই বলে শুরু করে দিল সবাই। সকলের চেষ্টায় শেকড় তোলা হলো এবং শেকড় পুড়ে ফেলল। এরপর থেকে লোকজন নিশ্চিন্ত মনে ওই পথ দিয়ে যাওয়া আসা করতে লাগল। কাউকেই আর কাঁটায় আহত হতে হলো না কিংবা কারও জামা কাপড়ও আর কাঁটায় ছিঁড়তে হলো না।

 

বন্ধুরা, দেখলে তো অলস লোকটি আলস্য ছেড়ে কাঁটাগাছটি কেটে ফেলার ফলে পথচারীদের কেমন সুবিধা হলো! তোমরাও অলসতা ঝেড়ে ফেলে সংসারের ছোটখাট কাজ ও পড়াশোনায় এখন থেকে গভীর মনোযোগ দেবে কেমন? আর তাহলেই তোমার ভবিষ্যৎ হবে সুন্দর ও চিন্তামুক্ত।#

 

রেডিও তেহরান/এআর/৫

 

মঙ্গলবার, 02 সেপ্টেম্বর 2014 12:17

ডিম চোর থেকেই উট চোর (অডিও)

রংধনু আসরের শিশু-কিশোর বন্ধুরা, কেমন আছ তোমরা? আশা করি যে যেখানে আছ ভালো ও সুস্থ আছে। তোমরা নিশ্চয়ই 'চুরি' শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। যার জিনিস তাকে না জানিয়ে নেয়া এবং তা ফেরত না দেয়াকেই চুরি বলে। ইসলামের দৃষ্টিতে চুরি অত্যন্ত জঘন্য কাজ। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন,  "যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি। আল্লাহ পরাক্রান্ত, জ্ঞানময়।" (৫:৩৮)

চোর গোপনে মানুষের সম্পদ চুরি করে এবং এ কাজে হাত ব্যবহার করে। যে হাত বিশ্বাসঘাতকতার কাজে ব্যবহৃত হয়, তা মূল্যহীন। তাই আল্লাহ বলছেন, চোরের হাত কেটে দাও, তা সে পুরুষ বা নারী যে-ই হোক না কেন, এটা তাদেরই কাজের শাস্তি, আল্লাহর পক্ষ থেকে জুলুম নয়।

 

মহান আল্লাহ সমাজের নিরাপত্তা রক্ষার জন্যই এ ধরনের কঠোর শাস্তির বিধান দিয়েছেন। অবশ্য এটাও মনে রাখতে হবে যে, সব চুরির শাস্তি হিসেবে হাত কাটা যায় না। চুরি করা জিনিসের মূল্য এক-চতুর্থাংশ মেসকাল ওজনের সোনার মূল্যের সমপরিমাণ হলে বা প্রায় এক গ্রাম  হলে এবং চোর যদি তা জরুরি প্রয়োজন থাকা না সত্ত্বেও চুরি করে থাকে বা এ ধরনের আরও কিছু বিশেষ অবস্থায় যদি চুরি করে তবেই তার হাত কাটা যাবে। অবশ্য হাত কাটা বলতে হাতের কেবল চারটি আঙ্গুল কাটার বিধান রয়েছে ইসলামী শাস্ত্রে।

 

বন্ধুরা, বেশিরভাগ চোরের চুরির অভ্যাস কিন্তু শৈশবে গড়ে ওঠে।বন্ধুর খেলনা চুরি করা, প্রতিবেশির বাগানের ফল চুরি করা, দোকান থেকে কোনো কিছু চুরি করার প্রবণতা শিশুদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। শিশুদের এ ধরনের আচরণ অস্বাভাবিক কিছু নয়, বরং স্বাভাবিক। এই কারণেই শিশুরা যখন চুরি করে তা বাড়িতেই হোক বা বাইরে হোক সাধারণত তার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করা হয় না।

 

তবে, এক্ষেত্রে মা-বাবা এবং অভিভাবকদের কিছু করণীয় আছে। চুরি যে একটি অপরাধ এবং বদঅভ্যাগ তা সহানুভূতি ও ভালোবাসা দিয়ে শিশুকে বোঝাতে হবে। তা না করে মা-বাবা যদি চুপ করে থাকেন কিংবা এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেন তাহলে ছোট্ট শিশুই বড় হয়ে চুরিকে অভ্যাসে পরিণত করবে। আর তখন তা সহজে ছাড়তে যাবে না।

বন্ধুরা, আজকের আসরে আমরা এ সম্পর্কেই একটি গল্প শোনাব। আর গল্প শেষে থাকবে এক ছোট্ট বন্ধুর সাক্ষাৎকার।

 

এক মায়ের ছোট্ট এক শিশুপুত্র ছিল বেশ নিরীহ। চোর কাকে বলে কিংবা চুরি কী জিনিস তাও জানত না সে। গোবেচারা এই শিশুপুত্র ডিম খুব পছন্দ করত। ডিম দিয়ে তৈরি খাবার দাবারও খুব পছন্দ ছিল তার। তবে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করত ডিমের ওমলেট। তার মাকে সে প্রায়ই বলত 'ডিম খাব! ডিম খাব! আমাকে ডিম দিয়ে রুটি দাও' ইত্যাদি। আজও সে একই বায়না ধরল তার মা’র কাছে। বলল: মা! আমার জন্য ডিমের ওমলেট তৈরি কর!

মা বলল: এখন না, পরে পরে। ঘরে ডিম নেই। শেষ হয়ে গেছে। আমাদের মুরগিগুলো ডিম পাড়লে তারপর... কেমন!

শিশুপুত্রের ভালো লাগল না মায়ের এই দেরি করা। সামান্য একটা ওমলেটই তো। সেজন্য দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে! একদম সহ্য হচ্ছিল না তার। বিরক্ত হয়ে সে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ল। তাদের ঘরের পাশেই যারা বাস করত তাদেরও মুরগির খোঁয়াড় ছিল। তাদেরও বেশ কিছু মুরগি আছে এবং তারাও ডিম পাড়ে। শিশুপুত্রটি চলে গেল প্রতিবেশীর মুরগির খোঁয়াড়ের দিকে। ডিমের ব্যবস্থা তো করতে হবে, তাই। খোঁয়াড়ে গিয়ে দেখে অসংখ্য ডিম পড়ে আছে সাদা সাদা। শিশুটি সেখান থেকে দুই তিনটা ডিম নিয়ে সোজা চলে গেল তাদের বাসায়।

সময়টা ছিল দুপুর। আবহাওয়াও ছিল বেশ গরম। ডিমের মালিক প্রতিবেশিরা এ সময়টায় বাসার ভেতর বিশ্রাম নিচ্ছিল। সেজন্য ডিমচোর শিশুটিকে কেউ আসতেও দেখে নি যেতেও দেখে নি। তাই কে যে তাদের মুরগির ডিম চুরি করল কেউ টেরই পেল না।

যাই হোক ডিম নিয়ে শিশুপুত্র বেশ খুশি। ওগুলো নিয়ে আনন্দের সাথে মায়ের হাতে দিয়ে বলল: এই নাও ডিম। এবার তো আর কোনো সমস্যা নেই? যাও আমার জন্য ওমলেট তৈরি কর।

মা তিন তিনটি ডিম ছেলে নিয়ে এসেছে দেখে খানিকটা বিস্মিতই হলো। ডিমগুলো হাতে নিয়ে মা ছেলেকে জিজ্ঞেস করলো: এ..ই! তুমি এই ডিমগুলো কোত্থেকে এনেছো?

শিশুপুত্র হাসল। তারপর শান্তভাবে মাকে বলল: আমাদের পাশের আঙ্কেলদের মুরগির খামার আছে না! ওখানে অনেক ডিম পড়ে ছিল। আমি সেখান থেকে এই তিনটা ডিম নিয়ে এসেছি।

মায়ের তখন মাথায় হাত দেয়ার কথা ছিল। ছেলেকে চুরির মতো একটা বাজে কাজ সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা দেয়ার প্রয়োজন ছিল। বলা উচিত ছিল: ‘কী অলক্ষুণে কাজ করেছিস তুই! ছি ছি! এটাকে চুরি বলে। কারও কোনো জিনিস তাকে না বলে নেয়াকে চুরি বলে। চুরি অত্যন্ত খারাপ কাজ। পাপ কাজ। তুই যেখান থেকে এই ডিমগুলো এনেছিস ঠিক সেখানে নিয়ে রেখে আয় যা। এক্ষুণি যা’।

কিন্তু না। মা সে রকম কিছু না বলে উল্টো কিছুক্ষণ কী যেন ভাবল। তারপর জিজ্ঞেস করলো: কেউ তোকে দেখে নি তো?

ছেলে বলল: না মা! কেউ আমাকে দেখতে পায় নি।

মা অত্যন্ত আদরের স্বরে ছেলেকে বলল: আচ্ছা! ঠিক আছে। তুই অপেক্ষা কর। আমি তোর জন্য ওমলেট তৈরি করে আনছি।

ছোট্ট শিশু মনে মনে বুঝল সে যে প্রতিবেশীর মুরগির খোঁয়াড় থেকে ডিম আনল সেটা যেন প্রতিবেশীরা কোনোভাবেই টের না পায়। ডিম আনা সমস্যা নয়, টের পাওয়াটাই সমস্যা।

 

এরপর কেটে গেল আরও কিছুদিন। আবারও একদিন শিশুপুত্র তার মাকে বলল: মা! আমার জন্য ডিমের ওমলেট তৈরি কর!

কিন্তু সেদিনও বাসার ডিম শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই মা বলল: এখন না বাবা! পরে ওমলেট করে দেব তোকে। আজ ডিম নেই বাসায়।

ছেলে আজও আগের মতোই বাসা থেকে বেরিয়ে সোজা চলে গেল প্রতিবেশীর মুরগির খামারে। তবে আজ সে পা টিপে টিপে সতর্কতার সাথে গেল যাতে কেউ টের না পায়। পাকা চোরের মতো আশেপাশে দেখে নিয়ে সাবধানে গেল খোঁয়াড়ে। যাবার পর দেখলো অনেক ডিম পড়ে আছে। সে কয়েকটা ডিম নিয়ে খুব দ্রুত চলে গেল তাদের বাসায়।

মায়ের হাতে ডিমগুলো দিয়ে বলল: এই নাও মা! অনেকগুলো ডিম এনেছি। এবার আমার জন্য ওমলেট তৈরি কর।

মায়ের হাতে ডিমগুলো দেয়ার পর মা কিন্তু কোনো প্রতিবাদ করল না। শুধু জিজ্ঞেস করল: 'প্রতিবেশীরা তোকে দেখেছে নাকি দেখে নি?'

ছেলে আজও বলল: 'না মা! কেউ আমাকে দেখতে পায় নি।'

মা আগের মতোই আদরমাখা কণ্ঠে বলল: 'বস বাবা! ওমলেট তৈরি করে আনছি।'

কয়েক মিনিট পরই ওমলেট তৈরি করে আনল মা। ছেলে আর মা মিলে ওই ওমলেট মজা করে খেতে লাগল।

এভাবেই কাটছিল মা এবং ছেলের। আস্তে আস্তে ছেলে বড় হলো। এবার আর ডিম চুরির মাঝেই সীমিত নেই ছেলের কারবার। বরং যখন যেখানে যার কাছ থেকে যা কিছুই চুরি করার সুযোগ হয়, ভুল করে না। চুরি করা এখন তার স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। চুরি করে যেসব জিনিস সংগ্রহ করে সেগুলো কখনো বাসায় নিয়ে যায়, কখনো তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে মজা করে কাটায়।

তারও ক’বছর পর এই শিশুপুত্র বেশ সুঠামদেহী যুবক হয়ে উঠল। যেমন লম্বা চওড়া তেমনি স্বাস্থ্য। এই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী যুবক একদিন গেল এই রাখালের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে দেখল অসংখ্য পশু। গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, মহিণ আর উট-সব রকমের পশুই আছে সেখানে। যুবক চোর এদিক ওদিক তাকিয়ে অভ্যাসবশত একটা উট চুরি করল।

কিন্তু বিধি বাম। চুরি করে পালাতে পারল না। ধরা পড়ে গেল। রাখালের প্রতিবেশীরা চোর চোর ধর ধর করে বেরিয়ে এসে ধরে ফেলল তাকে। সে কিন্তু ভুলেও ভাবে নি ধরা পড়বে। সবাই মিলে ধরে ফেলার পর বহু চেষ্টা করল তাদের হাত থেকে ছোটার। কিন্তু কোনো কাজই হলো না। বরং যতই ছুটতে চেষ্টা করল ততই মার খেল, লাথি-গুতা খেল। এক সময় হাল ছেড়ে দিল। কারণ জনগণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সহজ কাজ না। জনগণ এই চোরকে নিয়ে গেল কাজির দরবারে।

কাজি বহু জিজ্ঞাসাবাদ করল চোরকে। চোর তেমন কোনো মিথ্যাচারই করল না। সহজেই তার চুরির স্বীকারোক্তি পাওয়া গেল। সে চুরি করেছে-এ বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর কাজি চোরের হাতের আঙুল কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন। নির্দেশ বাস্তবায়ন করার জন্য যথারীতি জল্লাদও এসে হাজির। জল্লাদ যখন চোরের হাত কাটার জন্য প্রস্তুতি নিল হঠাৎ চোর চিৎকার করে বলে উঠল: একটু অপেক্ষা করুন। আমাকে একটু সময় দিন। আমি আমার মায়ের সাথে একটু দেখা করতে চাই।

 

চোরের চিৎকার শুনে কাজি শেষ পর্যন্ত তার আবেদন মঞ্জুর করলেন। চোরের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হলো। চোরের মাকে নিয়ে আসা হলো আদালতে। মাকে দেখে চোর কাজির উদ্দেশে বলল: হুজুর! চুরি করার অপরাধে যদি শাস্তি পেতেই হয় তাহলে সেই শাস্তি পাওয়া উচিত আমার মায়ের। কারণ এই চুরির জন্য দায়ী আমার মা, আমি নই। আমি যখন ডিম চুরি করার মতো ছোটোখাটো চুরি করতাম আমার মা আমাকে বাধা দিতেন না। আমি কটা ডিম চুরি করতে করতে এখন মহা চোরে পরিণত হয়েছি। আমার এই বড় চোর হবার জন্য আমার মা-ই দায়ী।

কাজি চোরের কথা শুনে চুপ করে রইলেন। মা স্বীকার করলেন যে এজন্য তিনিই দায়ী। চোরের জন্য কাজির মন কেঁদে উঠল এবং তিনি চোরকে মাফ করে দিলেন। কিন্তু চোরের মাকে কারাগারে বন্দী করার আদেশ দিলেন।

 

বন্ধুরা, ছোট্ট শিশুর ডিম চুরি থেকে উট চোর হয়ে ওঠার কাহিনী এবং এ কাজে তার মায়ের ভূমিকা ও শাস্তি সম্পর্কেও জানলে। আশা করি এ গল্পটি থেকে শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকরাও শিশুদের ব্যাপারে সচেতন হয়ে উঠবে।#

 

 

 

 

হামেদান শহরের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর অন্যতম হলো ‘হেগমাতানে বা বা হাগমাতানে’ টিলা। কেউ কেউ আবার ‘হাংমাতানে’ বলেও অভিহিত করেছেন। প্রাচীন হামেদানের মূল কেন্দ্র ছিল এই হাগমাতানেটিলা। স্বাভাবিকভাবেই প্রাচীনকাল থেকেই এই টিলাটি ছিল সবার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ এবং দর্শনীয় একটি স্থান। এ কারণেই বিদেশি যেসব পর্যটক ইরান সফর করতে আসতো তারাই এই ঐতিহাসিক স্থান অর্থাৎ হাগমাতানে টিলা পরিদর্শন করাকে তাদের দর্শনীয় স্থানের তালিকার প্রথম দিকে রাখতো। এই টিলায় সম্প্রতি যে গবেষণামূলক খননকাজ চালানো হয়েছে তাতে পাথরের পিলারগুলোর গোঁড়ায় শাসানি রাজবংশের দ্বিতীয় আর্দেশিরের নাম লক্ষ্য করা গেছে। প্রাচীন ইরান মিউজিয়ামে এই নিদর্শন এখন সংরক্ষিত আছে।

 

খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর হাখামানেশিয় শাসনামলের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোও এই খননকার্যের মাধ্যমে আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলো প্রমাণ করছে প্রাসাদটি হাখামানেশিয় শাসনামল কিংবা তারও আগের মাদ্‌দের সময়কার। এই টিলার আয়তন আনুমানিক ৩০ হেক্টরের মতো। তবে টিলার পরে যেসব আবাসিক ভবন গড়ে উঠেছে সেগুলোসহ চল্লিশ হেক্টরেরও বেশি হবে বর্তমান আয়তন। প্রাচীন ফার্সি ভাষায় হাগমাতানে বা হাংমাতানে বলা হতো জনসমাগমপূর্ণ এলাকাকে। এটি একটি যৌগিক শব্দ। হাং এবং মাতানে-এই দুটি শব্দের মিশ্রণে তৈরি হয়েছে হাংমাতানে। হাং শব্দের অর্থ হলো জায়গা আর মাতানে শব্দের অর্থ হলো সমাবেশ। গ্রিক ভাষায় এই শব্দটি একবাতানা হিসেবে উচ্চারিত হয়।

 

ইতিহাসবিদদের বর্ণনা অনুযায়ী এই শহরটি মাদ্‌দের সময়ে অর্থাৎ খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীর শেষ থেকে ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত তাদের সাম্রাজ্যের মূল কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। বেশ লম্বা সময় ধরে এই শহরটি ছিল মাদ্‌দের রাজধানী শহর। মাদ্‌দের পতনের পরও হাখামানেশিয় শাসনামলেও তাদের রাজধানী ছিল হাগমাতানে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন রাজধানী ছিল এই শহর। সম্ভবত হাগমাতানে শহরটি তাদের কোষাগার ছিল। গ্রিক ইতিহাসবিদ হিরোডটাস বলেছেন হাগমাতানে শহরটির গোড়াপত্তন হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৭২৮ বছর আগে মাদ্‌দের প্রথম বাদশা ‘দিয়াউকু’র হাতে। শাহি প্রাসাদে-যেটি নির্মিত হয়েছে ভেতরের সর্বশেষ কেল্লার মধ্যে-তাতে শত শত রুম ছিল। এসব কেল্লার বাইরে জনগণ তাদের নিজস্ব ঘরবাড়ি বানিয়েছিল। দিয়াউকু ছোট্ট এই শহরের মাদ বংশকে-যারা এখানেই বসবাস করতো-তাদেরকে ছেড়ে রাজধানীতে চলে আসেন এবং শাহি কেল্লার আশেপাশে বাসভবন তৈরি করেন।

 

আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ ইসহাক হামেদানি-যিনি ইবনে ফকিহ নামেই বিখ্যাত-তিনি তাঁর ‘আল-বুলদান’ নামক বইতে হামেদান সম্পর্কে লিখেছেন। এই বইটি রচিত হয়েছিল আনুমানিক ২৯০ হিজরির দিকে। পারস্যের বিখ্যাত এক মনীষীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি লিখেছেন: হামেদান সবচেয়ে বড়ো পার্বত্য শহর ছিল। বুখতুন নাস্‌র বাইতুল মুকাদ্দাস ধ্বংস ও বিজয়ের পর সাকলাব নামে একজন সেনাপতিকে পাঠিয়েছিলেন হামেদানে। তার উদ্দেশ্য ছিল হামেদান শহরটিকে দখল করা। কিন্তু সাকলাব হামেদানে এসে ব্যর্থ হয়েছিল এবং বুখতুন নাস্‌রকে একটি চিঠি লিখেছিল এরকম:

 

‘আমি এমন এক শহরে এসেছি যেখানে বিশাল বিশাল প্রাচীর দেওয়া কেল্লার পর কেল্লা রয়েছে। রয়েছে বিশাল বিশাল কোয়ার্টার অর্থাৎ আবাসিক এলাকা। আরও রয়েছে নদীর পর নদী’ ইত্যাদি। মাদ্‌দের পতনের পর যদিও এই হাগমাতানে শহরটি আগের মতো কেন্দ্রীয় শহরের মর্যাদা পায় নি তবে শাহি মহাসড়কের কাছে অবস্থিত হওয়ায় এই শহরের গুরুত্ব কখনোই কমে নি। শাহি মহাসড়কটি ঐতিহাসিক তাখতে জামশিদ বা পের্সপোলিস হয়ে প্রাচীন সার্দ বা সার্ডেনিয়া শহরে গিয়ে মিলেছে। শহরটির এই গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে হাখামানেশিয় শাসকরা তাদের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী হিসেবে এই হাগমাতানে শহরকেই বেছে নিয়েছিল। এ কারণেই শহরটি দ্রুত উন্নতি ও অগ্রগতি লাভ করে।

 

হাখামানেশিয় বাদশা তৃতীয় দারিউশের সময় আলেক্সান্দারের সাথে তাঁর সংঘর্ষ হয়েছিল। ওই সংঘর্ষের কারণে হাগমাতানে শহরটি আবারও তছনছ হয়ে যায়। তবে দারিউশ তার সঙ্গী সাথীদের পরামর্শে শহরটিকে আবারও গড়ে তোলেন এবং শহরের মাঝখানে একটা প্রাসাদ নির্মাণ করার আদেশ দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরাতত্ত্ব গবেষকগণ হাগমাতানে টিলায় যে খননকাজ চালিয়েছে, তাতে স্পষ্ট হয়েছে যে এই টিলাতেই ছিল সেই প্রাসাদ যেটি নির্মাণ করেছিলেন তৃতীয় দারিউশ। 

 

১৯৮৩ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত যে খননকাজ চালানো হয়েছিল, ওই খননকাজের মাধ্যমে ১৪ হাজার বর্গমিটারের মতো বৃহৎ একটি প্রাচীন শহরের সন্ধান মিলেছিল। ওই শহরকে মানবেতিহাসের বা বলা ভালো মানব সভ্যতার সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে মনে করা হয়। ওই শহরের অভ্যন্তরে আবার বড়ো বড়ো দুটি টাওয়ারেরও সন্ধান মিলেছে। এগুলোর বৈশিষ্ট্য, গঠন, প্রকৃতি সবই নজিরবিহীন।

 

ডক্টর মুহাম্মাদ রাহিম সার্‌রফের নেতৃত্বে ১৯৮৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত যত গবেষণামূলক খননকাজ চালানো হয়েছে সেসবের মাঝে হাগমাতানে আবিষ্কৃত এই বিশাল শহরটির অস্তিত্ব খুঁজে পাবার বিষয়টি অন্যতম।

  

হাগমাতানে মিউজিয়াম আরেকটি দর্শনীয় নিদর্শন হামেদান শহরের। মিউজিয়াম ভবনটি এক তলা। ৬০০ বর্গমিটারের মতো এর ফাউন্ডেশনের আয়তন। হাগমাতানে টিলার পূর্ব পাশে এই মিউজিয়ামটি অবস্থিত। এই ভবনটি আগে ছিল একটা স্কুল। এখন মিউজিয়াম উপযোগী করে তোলা হয়েছে। মিউজিয়ামের ভেতরে আলাদা দুটি বিভাগ রয়েছে। একটি ঐতিহাসিক বিভাগ অপরটি ইসলামী বিভাগ। খননকাজের মাধ্যমে যেসব জিনিসপত্র আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলোই এই দুই বিভাগে স্থান পেয়েছে।

সময় সুযোগ হলে দেখে আসতে ভুলবেন না।#