এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 01 জুলাই 2014 19:29

মিশরে বিরোধীদের দমনে সরকারের পদক্ষেপে জাতিসংঘের উদ্বেগ

১ জুলাই (রেডিও তেহরান): মিশরের বর্তমান সরকার ইখওয়ানুল মুসলিমিনের সমর্থকদের ওপর দমন পীড়ন অব্যাহত রাখায় এবং তাদেরকে গ্রেফতার ও গণভাবে  মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় জাতিসংঘ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। আট সদস্যের জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষক দল মিশরে ইখওয়ান সমর্থক ১৮৩ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এতে করে দেশটির বিচারবিভাগের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তারা নিরপেক্ষভাবে ইখওয়ান সমর্থকদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

 

গত এক বছরে ইখওয়ানুল মুসলিমিনের সমর্থকদের ব্যাপারে দেশটির আদালতের আচরণ ও কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শাসক গোষ্ঠী নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন অজুহাতে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে ইখওয়ানকে পুরোপুরি নির্মূল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত মাসের প্রথম দিকে মিশরের আদালত ইখওয়ানের অন্যতম শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ বাদিয়িসহ দলটির ১৮৩জন নেতাকর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। যাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হল তাদেরকে আত্মপক্ষও সমর্থন করার সুযোগ দেয়া হয়নি। এ কারণে মিশরের আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

মিশর সরকার দাবি করেছে, দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট করায় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার অপরাধে ইখওয়ান সমর্থকদের বিচার করা হচ্ছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, ইখওয়ানের আন্দোলনকারীরা সম্পূর্ণ নিরস্ত্র।

 

মিশরে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত হতে চললো। মুরসির সমর্থকরা শান্তিপূর্ণভাবে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার ইখওয়ানের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি কঠোরভাবে দমন করছে এমনকি সরকার বিরোধী যে কোনো সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ করে ইখওয়ানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। বর্তমানে ইখওয়ানুল মুসলিমিন দলের শীর্ষ নেতারা জেলখানায় অবস্থান করছেন। প্রেসিডেন্ট মুরসিও এক বছর ধরে জেলখানায় রয়েছেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে তার বিচার চলছে। মুরসির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অবস্থায় গত এক বছরে মিশরের বর্তমান সরকার কি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেনি এমন প্রশ্নও উঠেছে।

 

বর্তমানে মিশরে গণহারে সাধারণ মানুষকে গ্রেফতারের ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বড় দৃষ্টান্ত। সরকারের এ পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। আমেরিকা মিশরের সিসি সরকারের প্রতি সমর্থন জানালেও সেদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিরোধীদের দমনে বিচারবিভাগের ভূমিকার সমালোচনা করে মিশরে মানবাধিকার রক্ষার আহবান জানিয়েছে।

 

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মিশরে সরকার বিরোধীদের দমনে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান দেশটির সংকটকে আরো জটিল করে তুলতে পারে এবং এতে করে দেশটির সমাজ বিভক্ত হয়ে পড়বে। সবাই এটা জানে যে একজন সামরিক ব্যক্তিত্ব মিশরে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি সবাইকে হোসনি মুবারকের শাসনামলের কথাই মনে করিয়ে দেয়। #

 

রেডিও তেহরান/আরএইচ/১                                        

 

 

 

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন