এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
মঙ্গলবার, 22 মার্চ 2016 13:06

মার্কিন নির্বাচন: ইসরাইলপন্থি হওয়ার প্রতিযোগিতায় প্রার্থীরা

মার্কিন নির্বাচন: ইসরাইলপন্থি হওয়ার প্রতিযোগিতায় প্রার্থীরা

২২ মার্চ (রেডিও তেহরান): আমেরিকান-ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা আইপ্যাকের সম্মেলনে বক্তব্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থীরা ইহুদিবাদী ইসরাইলকে নিঃশর্ত সমর্থনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। গতকাল (সোমবার) সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় প্রার্থীরা যেন কে কত বেশি ইসরাইলপন্থি তা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি তারা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে।

 

তবে দৃশ্যত ইসরাইলকে সমর্থন দেয়ার ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তার ভাষায় বলেছেন, “আমি নির্বাচিত হতে পারলে তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুলজালেম বা আল-কুদস শহরে নিয়ে যাব। কারণ এই শহর হচ্ছে ইসরাইলের সত্যিকার রাজধানী।” অবশ্য, ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান দলের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী সিনেটর টেড ক্রুজও একই কথা বলেছেন। ট্রাম্প ও ক্রুজ আইপ্যাক সম্মেলনে যখন এসব কথা বলেছিলেন তখন তার পাশেই ইসরাইল-বিরোধী বিক্ষোভ স্লোগান চলছিল।

 

সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতার আগে সিএনএন ট্রাম্পের কাছে জানতে চায়- তিনি জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী করবেন কিনা এবং সেখানে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেবেন কিনা। জবাবে রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ী ট্রাম্প বলেন, “হ্যা, আমি করব। বাস্তবতা হচ্ছে আমি দূতাবাস সরিয়ে নিতে চাই; মার্কিন দূতাবাসকে জেরুজালেমে দেখতে চাই।” তিনি আরো বলেন, ইসরাইল-ফিলিস্তিন যেকোনো আলোচনায় তিনি ইসরাইলের পক্ষ নেবেন। আমেরিকা ও ইসরাইলের মধ্যকার বন্ধন অবিচ্ছেদ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে ছয় জতিগোষ্ঠীর যে সমঝোতা হয়েছে তিনি ক্ষমতায় গেলে তা বাতিল করবেন। এ সমঝোতাকে তিনি তার ভাষায় আমেরিকা, ইসরাইল ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ‘বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, ক্ষমতায় গেলে তার এক নম্বর কাজ হবে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা বাতিল করা।

 

আইপ্যাক সম্মেলনে টেড ক্রুজও ইহুদিবাদী লবির সমর্থন পাওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে থাকতে চান নি। তিনি বলেছেন, ক্ষমতার প্রথম দিনেই তিনি ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিকে ছিন্নভিন্ন করে দেবেন। এর পাশাপাশি তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনবেন বলেও ঘোষণা করেন। টেক্সাস থেকে নির্বাচিত এ সিনটের বলেন, “আমি যদি ক্ষমতায় থাকতাম আর ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করত তাহলে আমি সে ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার নির্দেশ দিতাম।”

 

ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট দল থেকে মনোয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকা হিলারি ক্লিনটনও ইসরাইলকে খুশি করার জন্য বক্তব্য দিয়েছেন তবে এ দল থেকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স দৃশ্যত আইপ্যাক সম্মেলন বর্জন করেন।

 

ক্লিনটন বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ইসরাইল-মার্কিন সম্পর্ককে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যাবেন। আমেরিকায় ইসরাইলকে বর্জন ও তেল আবিবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার যে দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে তার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ক্লিনটন।

 

নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তিনি নিরপেক্ষ থাকবেন। তার এ বক্তব্যের সমালোচনা করেন ক্লিনটন। তিনি বলেন, “ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমেরিকা কখনো নিরপেক্ষ থাকতে পারে না। এটি এমন একটি বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা চলতে পারে না। এ বিষয়টি যিনি বুঝবেন না তাকে আমাদের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দরকার নেই।”#

 

রেডিও তেহরান/সিরাজুল ইসলাম/২২

 

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন