এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শনিবার, 02 জানুয়ারী 2016 12:12

‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতার চিঠি পশ্চিমা তরুণ সমাজের দৃষ্টি উন্মোচনে ভূমিকা রাখবে’

‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতার চিঠি পশ্চিমা তরুণ সমাজের দৃষ্টি উন্মোচনে ভূমিকা রাখবে’

২ জানুয়ারি(রেডিও তেহরান): ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সম্প্রতি পশ্চিমা যুব সমাজের উদ্দেশে যে চিঠি দিয়েছেন সে বিষয়ে রেডিও তেহরানের সাথে কথা বলেছেন, লন্ডন প্রবাসী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক জনাব শাহ আলম। তিনি বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার( রাহবার) চিঠি অত্যন্ত সময়পোযোগী উদ্যোগ।

 

হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর চিঠি পশ্চিমা তরুণ সমাজের দৃষ্টি উন্মোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পুরো সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।

 

রেডিও তেহরান: জনাব শাহ আলম, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী পশ্চিমা যুবসমাজকে উদ্দেশ করে একটি চিঠি দিয়েছেন। এটি কতটা সময়পোযোগী পদক্ষেপ এবং এর কী প্রভাব পড়বে বা পড়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

 

শাহ আলম: জ্বি এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী পশ্চিমা যুবসমাজকে উদ্দেশ করে যে চিঠি দিয়েছেন সেটি অবশ্যই একটি সময়পোযোগী উদ্যোগ।

 

পশ্চিমা তরুণসমাজ বা তাদের জনগণের একটা বড় অংশ এখনও সচেতন নয় যে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এখনও কত অনিরাপদ ও সার্বক্ষণিক হুমকির মধ্যে বসবাস করছে! আর এমন নিরাপত্তাহীন ও ভীতিকর পরিস্থিতিতে তাদের নিজেদের সরকার এবং রাজনীতিকদের কি ভূমিকা রয়েছে বা থাকা উচিত সে ব্যাপারেও ওইসব দেশের নাগরিকরা খোঁজখবর রাখে না। আর সেক্ষেত্রে হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর এই উদ্যোগ পশ্চিমা তরুণ সমাজের দৃষ্টি উন্মোচনে ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

 

রেডিও তেহরান: চিঠির শুরুর দিকেই সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, সন্ত্রাসী ঘটনার হোতাদের ওপর মুসলমানেরা ক্ষুব্ধ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- বহু মুসলিম দেশ ও শাসককে আজকের ভয়াবহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে প্রকাশ্য সমর্থন দিতে দেখা যাচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যের আলোকে এ বিষয়টি যদি একটু বিশ্লেষণ করেন।

 

শাহ আলম: এই প্রশ্নের জবাবের শুরুতে আমি বলতে চাই, ধারণাগতভাবে পশ্চিমাদের মুদ্রিত সন্ত্রাস বা সন্ত্রাসবাদকে ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যাখ্যান করি। কারণ তাদের দেয়া এই শব্দের সর্বসম্মত কোনো আইনি সংজ্ঞা নেই। একপক্ষ যাকে সন্ত্রাসী বলছে অন্যপক্ষের কাছে তারা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা। কিংবা আজ যারা সন্ত্রাসী হয়তো কাল তারা হয়ে যাবে বৈধ এবং স্বীকৃত কোনো কর্তৃপক্ষ। ইতিহাস এমনই স্বাক্ষ্য দিচ্ছে।

 

এছাড়াও জনঘৃণিত এবং নিকৃষ্ট শাসকরাও নিজ নিজ দেশে নিজেদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মী প্রতিবাদী নাগরিকদেরকে সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে থাকে। তো সে যাইহোক আমরা যে প্রেক্ষাপটে কথা বলছি তার মূলে রয়েছে জাতি-রাষ্ট্রের স্বার্থ।

 

মুসলিম দেশগুলো যদি জাতি-রাষ্ট্র চেতনার সংকীর্ণতা অতিক্রম করে প্রসারিত উম্মাহ চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হতে না পারে সেক্ষেত্রে এই সমস্যা থেকেই যাবে।

 

আর দুষ্ঠু স্বৈরাচারী গণবিরোধী শাসকদের কাছে আমরা হয়তো এমনটি আশা করতে পারি না। দুর্ভাগ্য হলো বেশিরভাগ মুসলিম দেশই এ ধরণের শাসকদের কবলে রয়েছে।

 

 

রেডিও তেহরান: সর্বোচ্চ নেতার চিঠিতে ফিলিস্তিনি সংকট নিয়ে বর্তমান ও ঐতিহাসিক একটা চিত্র ফুটে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

 

শাহ আলম: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী যথার্থই বলেছেন। প্রায় ৮ দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের অবস্থা অত্যন্ত মর্মান্তিক অবস্থায় রয়েছে। ফিলিস্তিনি নারী, শিশু বৃদ্ধসহ সব স্তরের মানুষ বছরের ৩৬৫ দিনের প্রতিটি মুহূর্তেই ইহুদিবাদী দখলদার ইসরাইলীদের বুলেট, বোমা ও বুলডোজার হামলার শিকারে পরিণত হচ্ছেন। ঘুমন্ত অবস্থায় ফিলিস্তিনীরা ইট সুড়কীর নিচে থেতলে যাচ্ছে। স্পিন্টারের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে বা বারুদের আগুনে ঝলসে গিয়ে তারা মারা যাচ্ছে। আর এর পেছনে রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো একথা কে না জানে। তাদের সমর্থন, সহযোগিতা এবং পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ইসরাইলিরা এসব করছে। ফলে যারা এসব দুর্ভোগের মোকাবেলা করছে এবং যারা এসব দেখছে পশ্চিমাদের প্রতি তাদের ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়া খুবই ন্যায্য।

 

 

রেডিও তেহরান: আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেছেন, পশ্চিমাদের চিন্তায় যতদিন দ্বৈতনীতি বজায় থাকবে, যতদিন সন্ত্রাসবাদ তার শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষকদের দৃষ্টিতে “ভালো এবং মন্দ” এই দুই ভাগে বিভক্ত থাকবে। চলমান প্রেক্ষাপটে এ বক্তব্য কতটা স্বার্থক?

 

শাহ আলম: দেখুন পশ্চিমাদের দ্বৈতনীতি হচ্ছে তাদের চিরন্তন ভণ্ডামি। পশ্চিমারা তাদের কথিত সন্ত্রাসের ক্ষেত্রেই ‘পিক অ্যান্ড চ্যুজ’ নীতি অনুসরণ করছে না। বিভিন্ন দেশের শাসকদের ক্ষেত্রে একইনীতি অনুসরণ করছে। যে কোনো একটি সরকার বা শাসন কর্তৃপক্ষ তার নিজ দেশের জনগণের জন্য যতই মন্দ হোক যদি সে পশ্চিমাদের স্বার্থরক্ষাকারী হয় এবং তাদের তুষ্টি লাভ করতে পারে তবে সেই শাসকদের রক্ষায় তারা সবরকমের ব্যবস্থা করে থাকে।

 

অন্যদিকে কোনো সরকার বা শাসক জনগণের জন্য যতই কল্যাণকর বা প্রিয় হোক না কেন তারা যদি পশ্চিমাদের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করে তাহলে তারা তাদের রক্ষা না করে বরং তাদেরকে উৎখাতের জন্য জন্য সব ব্যবস্থা করে থাকে। আর সেই কাজ করতে গিয়ে পশ্চিমারা তাদের কথিত সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক নিজেরাই হয়ে যায়। তারা তাদের কথিত গণতন্ত্র রফতানির চেস্টা করে থাকে সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে।

 

 

রেডিও তেহরান: সর্বোচ্চ নেতা চিঠির এক পর্যায়ে পশ্চিমা যুবসমাজকে প্রশ্ন করেছেন, “আমরা যদি পশ্চিমা সহিংস, অশ্লীল ও নিরর্থক সংস্কৃতি গ্রহণ করতে না চাই- সেটা কি আমাদের অপরাধ? এ প্রশ্ন সম্পর্কে আপনি কী বলবেন?

 

শাহ আলম: দেখুন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এ প্রশ্ন যথার্থ। এক্ষেত্রেও পশ্চিমারা সব সময় ভণ্ডামি নীতির অনুসরণ করে থাকে। পশ্চিমারা তাদের নিজ নিজ দেশের মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতি ও সংস্কৃতির অনুসরণ নিজেদের নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও পছন্দের প্রবক্তা হলেও অন্যদেশের ক্ষেত্রে প্রাচ্যের মুসলমানদের ক্ষেত্রে তারা তাদের নিজেদের সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করে থাকে। পশ্চিমারা তাদের এই চরিত্র না বদলালে মুসলমানদের সাথে তাদের দ্বন্দ্ব থেকেই যাবে। পশ্চিমা তরুণরা এটা উপলব্ধি করতে পারলে অবশ্যই এটা তাদের জন্য মঙ্গল হবে এবং পৃথিবীবাসীর নিরাপত্তার জন্যও মঙ্গল হবে। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর এই আহ্বান হয়তো তরুণদের চিন্তা উজ্জীবিত করতে পারে।#

 

রেডিও তেহরান/জিএআর/২৮

 

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন