এই ওয়েবসাইটে আর আপডেট হবে না। আমাদের নতুন সাইট Parstoday Bangla
শুক্রবার, 15 জানুয়ারী 2016 18:54

'ওহাবিরা মনে করে রাসুল (সা.) বিশেষ কিছু নন; সাধারণ মানুষ'

'ওহাবিরা মনে করে রাসুল (সা.) বিশেষ কিছু নন; সাধারণ মানুষ'

১৫ জানুয়ারি (রেডিও তেহরান): সাম্রাজ্যবাদীরা সব সময় ষড়যন্ত্র করছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে এবং মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারই ধারাবাহিকতা আজও চলছে। আর বৃহৎ শক্তিগুলো সব ইহুদিবাদীদের কবলে। তারা কখনও চায় না যে শিয়া-সুন্নির মধ্যে ঐক্য হোক।

 

রেডিও তেহরানের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ড. মাওলানা এ. কে. এম মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ইরানে ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়ার পর যখন ইসলাম রাষ্ট্রীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় তখন থেকে সাম্রাজ্যবাদীদের জন্য আরো গাত্রদাহের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামি বিপ্লবের পর ঐক্যের ব্যাপারে ইমাম খোমেনী (রহ.)’র ম্যাসেজগুলো সারা বিশ্বে পৌঁছে গেছে। এখন সারা দুনিয়ায় আল কুদস দিবস পালিত হয়। আর এসব বিষয় সাম্রাজ্যবাদীদের হৃদয়ে আঘাত হেনেছে।

 

পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।

 

রেডিও তেহরান: ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতা মরহুম ইমাম খোমেনী (র.) ১২ রবিউল আউয়াল থেকে ১৭ রবিউল আউয়াল পর্যন্ত সময়কে ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ ঘোষণা করেছিলেন। সেই অনুযায়ী ঐক্য সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে- মুসলিম বিশ্বে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ইরানের এই উদ্যোগকে কীভাবে দেখেন আপনি?

 

ড. মাওলানা মাহবুবুর রহমান: দেখুন মুসলমানদের ঐক্যের প্রতীক হলেন রাহমাতুল্লিল আলামিন। রাসুল (সা.)কে কেন্দ্র করেই হতে পারে ঐক্য। এর বাইরে ঐক্যের কোনো প্লাটফর্ম হলে তা টেকে না এবং এটাই হচ্ছে ইতিহাস।

 

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী (র.) ১২ রবিউল আউয়াল থেকে ১৭ রবিউল আউয়াল পর্যন্ত সময়কে যে ইসলামি ঐক সপ্তাহ ঘোষণা করেছিলেন সেটা ছিল যুগান্তকারী এবং যুগপোযোগী ঘোষণা। যে মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানরা দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, ঐক্যের কোনো সম্ভাবনা যখন ছিল না ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি এই আহ্বান জানান। ফলশ্রুতিতে এখন ঐক্য সপ্তাহ পালিত হচ্ছে বিশ্বের দেশে দেশে ঐক্যের জন্য মুসলমানরা কাজ করছে।

যারা ঐক্য সপ্তাহ পালন করে না তারাও উপলব্ধি করছে যে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য হওয়া দরকার। আর এটি মরহুম ইমাম খোমেনী(র.)’র অবদান এবং ইসলামি বিপ্লবের অবদান।

 

রেডিও তেহরান: মুসলিম বিশ্বে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কতটা ভূমিকা রাখছে ঐক্য সপ্তাহ এবং ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আরো কী করা যায়?

 

ড. মাওলানা মাহবুবুর রহমান: আসলে মুসলিম বিশ্বে ঐক্য স্থাপন তো এমনিতে হবে না। বিভিন্ন দেশের সরকার বিশ্বের বড় বড় মোড়লদের কব্জার মধ্যে। ঐক্য হতে হবে আকিদার ভিত্তিতে। যারা রাসুল (সা.) কে মহব্বত করে, যারা আহলে বাইত (আ.)দের মহব্বত করে, আল্লাহর ওলিদের ভক্তি করে এবং ইসলামের মূলনীতি-ঈমান, রেসালাত এবং আখেরাত এই তিনটি ভিত্তির ওপর যারা প্রতিষ্ঠিত তাদের মধ্যে ঐক্য হতে পারে।

 

আর এই ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্যে প্রথমে মুসলিম উম্মাহ'র- উলামা মাশায়েখদের মধ্যে ঐক্য হওয়া দরকার। কারণ পীর মাসায়েকদের অধীনে রয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ এবং তারা তাদের ভক্তি শ্রদ্ধা করেন। আলেমরা ক্লাসে দারস দিচ্ছেন- তাদের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ছাত্র বের হচ্ছে। তাছাড়া আলেমরা ফতোয়া দিচ্ছেন। এছাড়া যারা মসজিদে জুমা নামাজের ইমামতি করছেন এবং ঈদের জামাতে ইমামতি করছেন, বড় বড় মাহফিলে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে যেসব আলেমরা ওয়াজ করছেন- তারা যদি ঐক্যের বিষয়টি তাদের উপলব্ধিতে আনতে পারেন তাহলে ঐক্য সম্ভব। আর সেক্ষেত্রে ছোটো খাটো যেসব মতভেদ আছে সেগুলো গুরুত্ব পাবে না। মৌলিকভাবে যারা মুসলমান এবং বদ আকিদার মধ্যে নেই তাদের মধ্যে অবশ্যই ঐক্য হওয়া দরকার। আর ইসলামি ঐক্যের জন্য প্রথম প্রয়োজন হচ্ছে আলেম-ওলামাদের মধ্যে ঐক্য।

 

রেডিও তেহরান: ২০০৪ সাল জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত The International Islamic Conference-এ ৫০টি দেশের ২০০'র বেশি ইসলামিক স্কলার মিলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সনদ প্রণয়ণ করেন। এতে পৃথিবীর সবগুলো মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান এবং মুসলিম ও অমুসলিম দেশের শীর্ষ ইসলামী স্কলাররা স্বাক্ষর করেন। সেই সনদ অনুযায়ী শিয়াদের জাফরি ও যাইদি মাহজাবের অনুসারিদের মুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। তারপরও মাঝেমধ্যেই ওহাবি আলেমরা শিয়াদেরকে কাফের বলে ফতোয়া দেন এবং শিয়া বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেন। কেন এই তৎপরতা?

 

ড. মাওলানা মাহবুবুর রহমান: দেখুন জর্ডান সম্মেলনের আগের একটি কথা আমাকে বলতে হচ্ছে- সেটি হচ্ছে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার সময় দেশটির মূলনীতি কি হবে এবং ইসলামি রাষ্ট্র করার জন্য শিয়া-সুন্নি আলেমদের পরামর্শ নেয়া হয়। সেখানে ২২ দফা মূলনীতি করা হয়েছিল। কয়েকদিন আগে আমি সেই ঘটনাটি পড়ে দেখলাম আলেমদের সেই দলে অন্তত ৪ জন শিয়া আলেম ছিলেন। পাকিস্তানে ইসলামি হুকুমাত হবে সেখানে সংবিধান তৈরিতে শিয়া আলেম থাকবে কেন এ প্রশ্ন কিন্তু কেউ তোলেন নি। সেখানে সবার মধ্যে ঐক্য ছিল। আর এভাবে যুগে যুগে ঐক্য হয়েছে।

 

মিশরের শেখ সালতুরও ঐক্যের জন্য আহবান জানিয়েছিলেন। আর সে আহ্বানে সারা দুনিয়া থেকে সাড়া এসেছিল। এরপর আপনারা জর্ডানের যে সম্মেলনের কথা বললেন সেটা ছিল খুবই ঐতিহাসিক এবং সাড়া জাগানো সম্মেলন। ওই সম্মেলনের প্রস্তাবনাগুলো ছিল খুবই ভালো।

 

কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো রাজনৈতিক দেশগুলোর সরকার প্রধান যারা গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচারি শাসন কায়েম রেখেছে তারা সবাই বৃহৎ শক্তিগুলোর হাতের মুঠোয়। তারা যখন দেখে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য হতে যাচ্ছে তখন তাদের ভয় থাকে যে আমাদের ক্ষমতা দখল হয়ে যাবে কিনা! তারা ভাবে হয়তো এরকমটি হলে তাদের রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে। আর সেজন্য তারা টাকা খরচ করে, মানুষকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে ষড়যন্ত্র করছে যাতে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য না হয়।

 

আপনারা জানেন বিশ্বের ইহুদিগোষ্ঠী সবসময় মুসলমানদের পেছনে লেগে আছে। কারবালার ময়দানে মুসলমানদের মধ্যে ফাটল ধরানোর জন্য এজিদের মুখ্য সচিব ছিলেন স্যার জন। তিনি ছিলেন ইহুদি। হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) কে হত্যার জন্য প্রথম যে চিঠির ড্রাফট করা হয় সেটি ইহুদি স্যার জন করেছিলেন। ফলে ইহুদিরা সব সময় ষড়যন্ত্র করছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে এবং মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারই ধারাবাহিকতা আজও চলছে। আর বৃহৎ শক্তিগুলো সব ইহুদিবাদীদের কবলে।

 

রেডিও তেহরান: মুসলিম বিশ্বে ঐক্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টিই সম্ভবত বড় বিষয়। প্রশ্ন হচ্ছে- দুই মাজহাবের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু?

 

ড. মাওলানা মাহবুবুর রহমান: দেখুন সুন্নিদের মধ্যে কিছু দল আছে তারা ইসলামের আসল যে মূলনীতি এবং আহলে সুন্নাতের মূলনীতি তা অনুসরণ করে না। আর আহলে সুন্নাতের পরিচয় দিয়েই আজ সারা বিশ্বে তাকফিরি, আহলে হাদিস, কাদিয়ানি হয়েছে। আবার শিয়াদের মধ্যে কিছু বাড়াবাড়ি ছিল। তাদের মধ্যে ২২ টি ফেরকা ছিল সেসব কিছুকে বাদ দিয়ে ইমাম খোমেনী (র.) শিয়া সুন্নিকে কাছাকাছি আনার চেষ্টা করেছেন। আর তার আহ্বানে সারা দুনিয়ার আহলে সুন্নাতের অনুসারীরা সাড়া দিয়েছে। শিয়াদের মধ্যে আকিদা রয়েছে, তারা কুরআন মানে, ঈমান আছে, রিসালাতকে তারা মানে এবং আখেরাতকে মানে। তবে ছোটোখাটো কিছু বিষয় নিয়ে মতোভিন্নতা থাকতে পারে। সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে। কিন্তু মৌলিক আকিদার যে বিষয় যেমন ধরুন কাদিয়ানিরা মনে করে রাসুলে পাক (সা.) শেষ নবী নন। ওহাবিরা মনে করে রাসুলে পাক(সা.) আমাদের মতো সাধারণ মানুষ। এসব বক্তব্য কেউ গ্রহণ করবে না। বর্তমান তাসাঈয়ু যারা আছেন তারা জাফরি ফেকাহকে অনুসরণ করে আর আমরা হানাফি আবার কেউ শাফেয়ী অনুসরণ করে। তবে আকিদা এবং মৌলিক দিক থেকে শিয়া-সুন্নির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

 

রেডিও তেহরান: শিয়া-সুন্নি ঐক্যের পেছনে প্রধান অন্তরায়গুলো কি? অনেকে বলে থাকেন শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্র রয়েছে। আপনি কী এই ষড়যন্ত্রের ধরণ সম্পর্কে একটু বলবেন?

 

ড. মাওলানা মাহবুবুর রহমান: দেখুন শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্র অবশ্যই আছে। তারা কখনও চায় না যে শিয়া-সুন্নির মধ্যে ঐক্য হোক।তাছাড়া ইরানে ইসলামি বিপ্লব হওয়ার পর যখন ইসলাম রাষ্ট্রীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তখন সাম্রাজ্যবাদীদের জন্য আরো গাত্রদাহের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইমামের ইসলামি বিপ্লবের পর ঐক্যের ব্যাপারে ইমাম খোমেনী(র.)’র ম্যাসেজগুলো সারা বিশ্বে পৌঁছে গেছে। এখন সারা দুনিয়ায় আল কুদস দিবস পালিত হয়। আর এসব বিষয় সামাজ্র্যবাদীদের হৃদয়ে আঘাত হেনেছে। আর সেজন্য তারা শিয়া-সুন্নির ঐক্যের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা এসব করছে কিছু আলেম, কিছু পীর-মাশায়েখসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মাধ্যমে। তবে বর্তমান অবস্থাটা আসলে জনগণ জানে না।

প্রতিটি মুসলমান আমরা যদি নিজ নিজ মাজহাবের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ঐক্য করতে পারি তাহলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বা পরাশক্তি বর্তমানে মুসলমানদের ওপর যেভাবে জুলুম করছে নির্যাতন করছে সেটি আর পারবে না।

 

দেখুন বর্তমানে সিরিয়ায়ে আইএসআইএলের সন্ত্রাস চলছে, আমেরিকার বোমা বর্ষণ হচ্ছে- সেখানেও মুসলমান মারা যাচ্ছে, ইরাকে যে বোম্বিং করা হচ্ছে সেখানেও মুসলমান মারা যাচ্ছে। আর এসব বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে আমরা যদি ছোটোখাটো বিষয়কে উপেক্ষা করে মৌলিক বিষয়ে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারি তাহলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এই সুযোগটা পাবে না। আর বর্তমানে তারা এই সুযোগটা নিচ্ছে শুধুমাত্র আমাদের অনৈক্যের কারণে।

 

রেডিও তেহরান: চার সুন্নি মাজহাবের আলেমরা পরস্পরের মাজহাবকে সঠিক বলে মনে করেন। তারা বলেন, এই চার মাজহাবের যে কোনো এক মাজহাব অনুসরণ করলেই পারলৌকিক মুক্তি আসবে। কিন্তু শিয়া মাজহাব- যাকে জাফরি মাজহাবও বলা হয় তাকে গ্রহণ করার ব্যাপারে সুন্নি মাজহাবগুলোর কোনো কোনো আলেমের আপত্তি দেখা যায়। এটি কেন? চার সুন্নি মাজহাবের মতো শিয়া মাজহাবের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গিকে খানিকটা উদার করলে কি মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠা আরো সহজ হতো না?

 

ড. মাওলানা মাহবুবুর রহমান: দেখুন চার মাজহাবের যে ইমাম এবং তাদের যে মূলনীতি তাতে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। তবে বর্তমানে আহলে সুন্নাত থেকে যেমন তাকফিরি গ্রুপ বের হয়েছে আকিদার ক্ষেত্রে, আর এরা চার মাজহাবের কোনোটাকেই তারা মানে না। ফলে বর্তমানের সংকটময় মুহূর্তকে উপলব্ধি করে ওলামায়ে-কেরামরাসহ মুসলমানদের ঐক্যের মধ্যে আসতে হবে। এখানে শিয়া-সুন্নির মধ্যে যেসব ছোটোখাটো মতভিন্নতা আছে সেসবকে উপেক্ষা করে বড় বড় বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে ঐক্য হওয়া দরকার। মুসলমানদের বাঁচার একমাত্র পথ হচ্ছে ঐক্য-ঐক্য এবং ঐক্য-এর বাইরে কোনো কথা নেই।#

 

রেডিও তেহরান/জিএআর/১৫

 

 

 

 

মাধ্যম

মন্তব্য লিখুন


Security code
রিফ্রেস দিন